Valobashar Golpo - পর্দার আড়ালে - Bengali Love Story
-আজ সাতদিন হয়ে গেলো,তোমার কোনো খবর নেই,ফোন করলে ধরছো না!মেসেজ সিন করে রিপ্লাই দিচ্ছ না,কি ব্যাপার জয়া?
-প্লিজ আকাশ,আমি আর আমাদের সম্পর্কটাকে বয়ে নিয়ে যেতে পারছি না!কেন বুঝতে পারছো না তুমি!সম্পর্কে যখন উষ্ণতা হারিয়ে যায়,তখন তাকে অহেতুক বয়ে বেড়াবার কোনো মানে হয় না!আই,আই জাস্ট ওয়ান্ট টু ব্রেক আপ উইথ ইউ...
-ওহ!তাহলে অফিস ফ্লোরে যেসব কথা শুনতে পাচ্ছি,সেটাই সত্যি!
-তুমি ফ্লোরে কি শুনেছো আমি জানি না,জানতেও চাই না,শুধু প্লিজ আমায় ছেড়ে দাও।আই ক্যান্ট হ্যান্ডেল দিস রিলেশন এনি মোর....
-হাউ কুড ইউ?
-ও কাম অন আক্কী,ভাবটা তো এমন দেখাচ্ছ,যেন ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানো না,তোমার যা সেক্স অ্যাপীল,তোমার যা ইম্প্রেশন,একটা এক্স-ফ্যাক্টর তো তোমার মধ্যে আছেই বস!এন্ড মোস্ট ইম্পরট্যান্ট,(ফিসফিসিয়ে,আকাশের কানের কাছে এসে)ইউ আর জাস্ট অসাম ইন বেড ডার্লিং!দেখো,ক্লিয়ারলি বলে দেওয়াই ভালো,হ্যাঁ ফ্লোরে তুমি কানাঘুষোতে যা শুনছো,সেটাই ঠিক!গত মাসে বসের সঙ্গে যখন বিজনেস ট্রিপে ইউরোপ গিয়েছিলাম,হি প্রোপোসড মি!আর কোনো বোকাই এই সুযোগ হাতছাড়া করবে!রাইট?!ডোন্ট ওয়ারি ডার্লিং,বসের পি এ থেকে আমি যখন এই গোটা অফিসের এম ডি হবো,তখন তুমি থাকবে আমার প্রায়োরিটি লিস্টে সবার ওপরে!আফটার অল তুমি তো আমায় কম আনন্দ দাওনি,তাই তোমাকে...
সপাটে একটা চড় এসে পড়লো জয়ার গালে..
-ব্লাডি প্রস্টিটিউট!গো টু হেল....
ক্যাফেটেরিয়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো ওরা দুজন।জয়া বোধহয় ভাবতেও পারেনি,দু-টাকার একটা সাধারণ এমপ্লয়ী তাকে এমনভাবে সাঁটিয়ে থাপ্পড় মারতে পারে!রাগের চোটে দু-চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরে পড়লো ওর....
রাগে-ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে আকাশ গটমট করে বেরিয়ে গেলো ওর সামনে দিয়ে....
-ওকে!কাট ইট!এক্সিলেন্ট শট স্যার!
-প্যাক আপ?
-ইয়েস স্যার,প্যাক আপ!
-হেই বেবি!ইউ ডিড আন ওয়ান্ডারফুল জব!
-এস.আর. আই উইল কিল ইউ!এত্ত জোরে মেরেছ,কান গরম হয়ে গেছে আমার!গাল জ্বালা করছে!
-সরি ডার্লিং,আমি পুরোপুরি আকাশের ক্যারেক্টারে ঢুকে গিয়েছিলাম!বাই দা ওয়ে,হোয়াটস ইওর প্ল্যান ফর টুনাইট?
-প্ল্যান বলতে ইভনিং এ জিম,রাতে একটা ক্যালেন্ডারের ফটোশুট আছে,প্যাক আপ হবার পর দেন.....
-দেন?
-দেন....উমমমম,ফ্রি!
-গুড!
-গুড!হোয়াই?
-রাতে চলো আমার সঙ্গে,আমার একটা বন্ধুর ছেলের জন্মদিন,ফ্যামিলি ফাংশন!আমায় এটেন্ড করতেই হবে!
-হোয়াট!হোয়াট!হোয়াট!উ!সুপারস্টার এস.আর,তার কো-আর্টিস্ট-এর সঙ্গে ফ্লোরের বাইরে ঘুরে বেড়াবে?কাল তো পেজ থ্রির ফ্রন্ট পেজে চলে আসবে...
-আই কেয়ার আ ড্যাম!ইউ জাস্ট টেল মি,ইউ আর কামিং ওর নট!ইউ নো,আই ডোন্ট ফোর্স এনিওয়ান!
-চিল বেবি!অফ কোর্স আই এম কামিং....
-ওকে দেন,সি ইউ এট নাইন শার্প!
-ওকে....
-বাই হানি.....
সুপারস্টার এস.আরের সুদৃশ্য অডিটা চোখের সামনে দিয়ে সাঁ করে বেরিয়ে গেলো।
-কি করছিস গুবলু?
-হোয়াট?!
-আজ আবার নতুন একজন?
-ইসন্ট সি সো বিউটিফুল?!
-জীবনের চৌত্রিশটা বসন্ত তো পেরিয়ে এলি,এবার এসব ছাড়!লাইফে সেটেল হ!রোজ-রোজ এভাবে এক-একজনকে...
-আমি তো কাউকে ফোর্স করছি না,রিকুয়েস্টও করি না,এক্সপ্লয়েট করি না,কেউ যদি আগে আমার সঙ্গে ফ্লার্ট করতে শুরু করে,তো আমার আর একটু এগোলে প্রবলেম কি বলতো!সে দিলে আমার নিতে প্রবলেম কোথায়?ইন্ডাস্ট্রির কেউ বলতে পারবে না,কারোর অমতে আমি হাতটুকুও কোনোদিন ধরেছি বলে....
-বাট গুবলু,দিস ইস নট লাইফ আফটার অল!
-প্লিজ মলি!মায়ের মতো জ্ঞান দিস না তো!ওদিকে মা ফোন করে বলতে থাকে,এদিকে তুই!সেই ছোট্ট থেকে তোকে দেখে আসছি।গ্রো আপ লেডি,এবার তো আমার গার্জেন না হয়ে আমার বন্ধু হ....
-আমি আর আন্টি,আমরা দুজনেই তো তোর ভালো চাই বল...
-ওক্কে মেরি মা,এবার থাম!আই রিয়েলি ডোন্ট নো,তোর বর কি করে তোকে সহ্য করে মলি!এত্ত জ্ঞান দিস....
-হে হ্যান্ডসাম!
-কামিং ডার্লিং!মলি,বাই-বাই-বাই!আজ রাতের প্রচুর প্ল্যান!কাল ইভনিং এ ফোন করবো!
-বাই মল্লিকা!ফুড ওয়াজ অসাম ডিয়ার!গুড নাইট.
এস.আরের বাংলো বাড়িতে সেই রাতটা দুজনে একে-অপরের মধ্যে ডুবে রইলো।এস.আর বর্তমান সিনে-ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার!আর মিস লিলি একজন স্ট্রাগলিং মডেল!হ্যাঁ,গত বছর পর্যন্তও ছিল,কিন্তু তারপর এস.আরের ছত্রছায়ায় এসে এই বছরই প্রথম বড়ো ছবিতে কাজ করছে তারই বিপরীতে।কাজটুকু পাইয়ে দেবার জন্যই,লিলি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে এস.আরকে নিভৃতে সঙ্গ দিয়ে...
চিলড বিয়ারের তলানিটুকু এক সিপে শেষ করে ফেললো এস.আর।গলাটা শুকিয়ে কাঠ...
-স্ক্রিপ্টের ডায়লগ বলতে ইচ্ছে করছে এস.আর!লিলি বললো....
-হোয়াট!
-সিরিয়াসলি!ইউ আর জাস্ট অসাম ইন বেড....
-রিয়েলি!টেল মি সামথিং দ্যাট আই ডোন্ট নো বেবি!
-হা হা!ইউ আর সুপারকুল!
-এন্ড ইউ নো হোয়াট লিলি,ইউ আর সো বিউটিফুল!
মিষ্টি করে হেসে এস.আরের বুকের মধ্যে মুখ গুঁজলো লিলি।
-তোমার নেক্সট প্রজেক্ট কি?আমি তোমার সঙ্গে পরের প্রজেক্টেও স্ক্রিন শেয়ার করতে চাই....
-লেটস সি বেব!প্রোডিউসারের এন্ড থেকে লাস্ট ডিসিশন আসে!
-কাম অন হানি!কে না জানে,ইউ আর ইন্ডাস্ট্রি!তুমি যা বলবে তাই-ই...
ফোনটা বেজে ওঠে এস.আরের!নম্বর দেখেই ফোনটা নিয়ে কাঁচটা সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় ও...
-ইয়েস মাম্মি ডিয়ার!
প্যাডেড ব্রা-টা পরতে-পরতে লিলির চোখ চলে যায় নিজের ফোনের দিকে।ফোনটা বাংলোতে ঢোকার সময়ই সাইলেন্ট করে রেখেছিলো ও।এখন দেখলো ফোনটা রিং হয়ে কেটে গেলো।তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো,একুশটা মিসড কল হয়ে আছে।সবকটা অভির নম্বর।ছেলেটার কি কিছু হলো!পর্দাটা একটু সরিয়ে লিলি দেখলো,এস.আর. সুইমিং পুলের পাশে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত।আবার ফোনটা রিং হওয়ায় তাড়াতাড়ি ধরলো ও....
-কি হয়েছে কি!কতবার বলেছি না,শুট চলাকালীন আমায় ফোন করবে না!
-তুই কোথায় সালি!তোর ক্যালেন্ডারের ফটোশুট যেখানে হবার কথা ছিল,আমি সেই ষ্টুডিওর বাইরেই দাঁড়িয়ে আছি!কোথায় তুই!
-শিট!
-তুই নিশ্চয়ই ওই হিরো ব্যাটার বিছানা গরম করছিস?
-নইলে তোর মাল গেলার টাকা কোথা থেকে দেবো বল!শুধু একটা সিনেমায়,ক্যামেরার সামনে দুটি ডায়লগ বলে তো আর সারাজীবন পেট চলবে না!আমার আরও কাজ দরকার!আর তার জন্য যদি....
-তুই আজ বাড়ি আয় হতভাগী!তোর টাকায় আমি...
-বেশি কথা বোলো না,আমি ডিভোর্স দিয়ে দিলে তো রাস্তায় নেমে দাঁড়াতে হবে!নিজের পেট চালাবার মুরোদও তো নেই!নেহাৎ ছেলেটার কথা ভেবেই....
কাঁচটা সরানোর শব্দ পেয়ে তাড়াতাড়ি ফোনটা কেটে দেয় লিলি।ঘরে ঢুকে এস.আর. গেঞ্জিটা গায়ে চড়ায়।
তারপর একটু হেসে লিলির দিকে চেয়ে বলে,
-সরি ডিয়ার!মা ফোন করেছিলো!তাই....
-নো নো,ইটস ওকে!
-আর তোমায়?
মুহূর্তেই রক্তশুন্য হয়ে গেলো মিস লিলির মুখ!
-আই মাস্ট সে,খুব ভালো মেনটেইন করেছো নিজেকে।তোমার পেটে মুখ ডোবানোর সময়ই আমি বুঝতে পেরেছি,তোমার বেবি আছে।মেকআপের তীব্র গন্ধ মাথা ধরিয়ে দিচ্ছিলো।স্ট্রেচ মার্কের দাগ কি এত সহজে ঢাকা যায় লিলি!তবে তুমি মিস না মিসেস জানতাম না!কিন্তু কেন এসব?অবশ্য বলতে না চাইলে,আমি জোর করবো না...
-হি ইস এ মনস্টার এস.আর!ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলাম,রোজ রাতে নেশা করে আমায় মারতো!ছেলেটা পেটে থাকতেও।থিয়েটার করার শখ ছিল বিয়ের আগেও।বিয়ের পরও একটু-আধটু মডেলিং করতে শুরু করলাম।প্রথমে ছোট পর্দা,তারপর বড়ো পর্দায় তোমার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিলে তুমি!আর একটু সেটেলড হয়ে ছেলেটাকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে চাই এস.আর!
-ইউ আর আ মাদার লিলি!আর আমি জানি মায়ের লড়াইটা কতটা কঠিন!কিন্তু এভাবে তোমার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে,আমি তোমাকে অসম্মানিত করতে পারবো না।বন্ধু হিসেবে তুমি যখনই চাইবে,আমায় পাশে পাবে।আমি ভেবেছিলাম তুমি ইচ্ছাকৃতই আমার সঙ্গে,কিন্তু আর সম্ভব না ডিয়ার,কোনোদিন তোমার বেবি প্রিন্সের সঙ্গে দেখা হলে,তার সামনে দাঁড়াতে পারবো না যে...
-এস.আর.....
-ডোন্ট ওয়ারি!পরের প্রজেক্টে আমার সঙ্গে তুমিই থাকবে।মিস্টার দেশাইয়ের সঙ্গে কথা চলছে।আমি তোমার কথা বলে দেবো!তুমি ট্যালেন্টেড এক্টরেস।আমি জানি,এটাও ব্লকবাস্টার হিট হবে।কিন্তু এরপর কারোর সামনে মাথা নিচু করে নয়,নিজের দক্ষতায় কাজ করবে তুমি।প্রয়োজনে সবসময় আমায় পাশে পাবে।কিন্তু বিনিময়ে কিছু চাই না!প্লিজ....
লাল রঙের প্যাডেড ব্রা-টা পরে,ধবধবে সাদা ডিভানে মাথাটা নিচু করে বসে আছে লিলি।
-ইউ নো হোয়াট এস.আর...
-টেল মি ডার্লিং,হোয়াট আর ইউ থিংকিং?আজকের পর হয়তো এভাবে সেটের বাইরে আর কোনোদিন আমাদের দেখা হবে না,তো আজ বলো তুমি,আমি শুনবো...
-আজ এখানে আসার আগে পর্যন্ত ভেবেছিলাম,তুমি নাম্বার ওয়ান পারভার্ট!কিন্তু এখন বুঝতে পারছি,ইন্ডাস্ট্রির নাম্বার ওয়ান প্লেবয় হওয়া সত্ত্বেও,একটা মেয়েও তোমার বিরুদ্ধে মুখ খোলে না কেন?
-প্লেবয়!!হা হা হা!দ্যাটস ট্রু বাই দা ওয়ে....
-নো,দ্যাটস নট ট্রু!ইউ আর আ ম্যান,প্রপার....
-বেবি,এত ভারী-ভারী কথা বলে নেশাটা চটকে দিও না প্লিজ!লিসেন ডিয়ার!তুমি কার সামনে নিজেকে নগ্ন করবে,নিজের বুকের কাপড় সরাবে,সেটা সম্পূর্ণই তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার!বাট নট ইন ফ্রন্ট অফ মি,নট এনিমোর।এটা পরে নাও....
সারা সন্ধ্যে যে লাল রঙের ব্যাকলেস ড্রেসটা পরে লিলিকে দেখে,এস.আর মুগ্ধ হয়েছিল,ড্রেসটা খুলে নগ্ন শরীরটা পাবার জন্য উৎসুক হয়েছিল,সেই ড্রেসটাই এখন সযত্নে ওর হাতে ফিরিয়ে দিলো....
-আর হ্যাঁ,পিঠটা ভীষণ জ্বালা করছে,তোমার ম্যানিকিওর করা নখগুলো বেশ ভালোভাবেই বসিয়ে দিয়েছো!ড্রয়ারে এন্টিসেপটিক আর কটন আছে,লাগিয়ে দাও একটু.....
-সরি!
এস.আরের চওড়া খোলা পিঠটায় অজস্র নখের দাগ।জ্বালা করারই কথা!জামাটা পরে নিয়ে তুলোয় করে একটু ওষুধ লাগিয়ে পিঠে মাথা রাখলো লিলি...
-এস.আর!
-হুম!
-ক্যান আই হাগ ইউ?
ঘুরে বসে লিলিকে বুকে জড়িয়ে ধরলো এস.আর।ওকে জড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো লিলি।লিলির মুখটা তুলে কপালে আলতো করে চুমু খেলো এস.আর...
-একটাই জিনিস তোমার প্রাপ্য এস.আর!হিউজ রেস্পেক্ট!ইউ আর আ গুড হিউম্যান বিয়িং...
-চল ঝুটি!
-আমি বেরোই।কাল সেটে দেখা হবে!কাল তো লেট নাইট শুট,পার্টি সিকোয়েন্স।ডিস্কোতে...
-ইয়েস ডিয়ার!কাল সকালে জিম,সুইমিং,ব্রেকফাস্ট,তারপর হেব্বি ঘুম!রাজা কে জিজ্ঞেস করতে হবে,আর কোনো কিছু সিডিউলে আছে কিনা!ওহো,আর একটা শুট আছে কাল স্টুডিওতে,তাও শেষরাতে।জানলা দিয়ে সানরাইজটা নেবার কথা!তোমায় ছেড়ে আসবো লিলি?
-না থ্যাঙ্কু,তোমার ড্রাইভারকে বলে দাও,তা হলেই হবে...
-ওকে!
ব্যাগটা হাতে নিয়ে বেডরুম থেকে বেরোনোর আগে,লিলি আর একবার জাপটে ধরলো এস.আর. কে।
এস.আর. ও আলতো করে লিলির মাথার চুলগুলো একটু এলোমেলো করে দিলো।পুরুষের স্পর্শ একজন নারীর চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না।একটু আগে এই মানুষটাই বিছানায় ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফালাফালা করেছে ওর শরীরটাকে,কিন্তু এখন লিলি খুব ভালো করেই বুঝতে পারলো,এ স্পর্শে কোনো যৌনতা নেই,নেই কোনো অশালীন চাহিদা!আছে শুধু বন্ধুত্বের ভরসাটুকু....
লিলি বেরিয়ে যাবার পর,ফোনের গ্যালারি খুলে নিজের মায়ের ছবিটায় পরম ভালোবাসায় চুমু খেলো এস.আর...
-দিইনি মা,হারতে দিইনি।আজ একজন মাকে জিতিয়ে দিয়েছি!লাভ ইউ...
পরদিন ফ্লোরে প্যাক আপের পর....
লেট নাইট শুট ছিল সেদিন এস.আরের!তারপর আবার স্টুডিওতে।পরপর দুটো শুটের পর প্যাক আপ হতে-হতে সকাল হয়ে গেছে।লিলি অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে।মাথাটা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছিলো।স্পট বয় কড়া করে এক মগ কফি দিয়ে গেলো তাড়াতাড়িই।গ্রীনরুমে মেকআপ রিমুভ করতে-করতে মনে হচ্ছিলো ওর দমটাই বন্ধ হয়ে যাবে।কোনোরকমে কিছুটা মেকআপ তুলে টিস্যু পেপার হাতে নিয়েই বাইরের লম্বা ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালো এস.আর!ভেবেছিলো একটু খোলা হাওয়ায় দাঁড়াবে,কিন্তু দেখলো এদিকেও সব জানলাগুলো বন্ধ।বাইরের আলোটুকু পর্যন্ত আসছে না।নিশ্চয়ই পাশের ফ্লোরে কোনো শুটিং চলছে।কিন্তু এত আর্লি মর্নিং!কৌতূহলবশত একটু এগিয়ে গেলো ও....
-বুকের আঁচলটা আর একটু নামবে,আর একটু ঝুঁকবেন,ক্লিভেজটা ঠিকঠাক দেখা যাচ্ছে না।চিন স্লাইটলি ডাউন!কলার বোনটা আর একটু,চোখের পাতাটা নামাবেন!স্পট লাইট!রেডি!
খচাৎ করে ফটো তোলার শব্দ হলো,কিন্তু বিহাইন্ড দা ক্যামেরা আর মনিটরের সামনে বসা প্রত্যেকের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে,ছবি মনঃপূত হয়নি।হলোও তাই।আবারও পোজ দিতে হচ্ছে মেয়েটিকে...
-ফাক ম্যান,সি ইস ড্যাম হট!
-শাট আপ এন্ড কনসেনট্রেট ডুড!লেট মি ফোকাস!
-ওয়ান মিনিট!এক্সকিউজ মি লেডি,আই ডোন্ট নো,হোয়াটস ইয়োর নেম বাট...
-ঋদ্ধি,ড্রেসারকে ডাক!ড্রেসার,মেকআপ...
-নো ম্যান,লেট মি হ্যান্ডেল দিস....
-এই শাড়ির আঁচলটা আর একটু নামিয়ে,আর একটু এভাবে পেটের কাছ থেকে সরিয়ে...কিছুটা ইচ্ছাকৃতভাবেই ঋদ্ধির অবাধ্য হাতটা বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছে মেয়েটির কোমরের ভাঁজ আর অর্ধঅনাবৃত স্তন!কিন্তু মেয়েটাও বুকের বাঁদিকের শাড়ির আঁচলটা প্রাণপণে আঁকড়ে রয়েছে।লো-কাট ব্লাউজ,একপাশের আঁচল সরিয়ে হালকা ক্লিভেজ দেখানোর কথা!এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী এই শর্তেই রাজি হয়েছে সে।কিন্তু এখন বুক থেকে পুরোপুরি শাড়ি নামিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন ইনি।মেয়েটাও কিছুতেই বুকের বাঁ-দিক থেকে শাড়ির আঁচলটাকে নামাতে দেবে না....
-ফাক ম্যান!দাঁতে-দাঁত চেপে মৃদু ধমকে ওঠেন এস.আর!
-স্যার আ-আপনি!
-হোয়াট দা হেল আর ইউ ডুইং ঋদ্ধি?ইউ ক্যান্ট টাচ ইওর অবজেক্ট!ডোন্ট ইউ নো দ্যাট?এন্ড সি ইস আনকম্ফোর্টেবল উইথ ইউ ঋদ্ধি,নিখিল ক্যান্ট ইউ সি দ্যাট?এবার চেঁচিয়ে ওঠেন এস.আর...
-স্যার,সরি স্যার,আমি জাস্ট মেকআপ আর ড্রেসারকেই ডাকছিলাম....
-কাজটাকে আগে সম্মান করতে শেখো ঋদ্ধি,তারপর কাজ করবে!ব্লাডি লুজারস....
-এক্সট্রিমলি সরি স্যার!
মেয়েটার দিকে একবার তাকালো এস.আর।মেয়েটা তখনও মাথা নিচু করেই বসে আছে।হয়তো ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন।যদিও দুদিনের মধ্যেই চালচলন বদলে যাবে।এসব মেয়েদের খুব ভালো করেই জানা আছে ওর।কিন্তু তবু মেয়েটার এমন অপমান ও মেনে নিতে পারলো না কিছুতেই!কফি মগটায় চুমুক দিতে-দিতে নিজের গ্রীনরুমের দিকে চলে গেলো এস.আর....
-সালা,সকালে একটা বিকেলে আর একটা মেয়ে নিয়ে ফূর্তি না করলে যার নাকি দিন গড়ায় না,সে আমায় জ্ঞান মাড়াতে আসছে!সকাল-সকাল নতুন ঝাক্কাস একটা মেয়ের সামনে প্রেস্টিজের মা-বোন এক করে ছেড়ে দিলো মাইরি!
-ছাড় না,তাড়াতাড়ি শটগুলো নে।বিকেলেই স্যারকে এডিট করে পাঠাতে হবে।আর্জেন্ট!ম্যাগাজিনের কভারের কাজ।সময় লাগবে।
-ব্লাডি...
-ঋদ্ধি!শুনতে পেলে না,আর করে খেতে হবে না....
-সালা!কি আছে বলতো বালটার মধ্যে!সব প্রোডিওসাররা একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে!
-তোর চেয়ে আমি ইন্ডাস্ট্রিতে বেশি সময় কাটিয়েছি।যতটা খেয়াল করেছি,বেশ কয়েকটা জিনিস আছে। হিরোইনরা ওনার সঙ্গে কাজ করতে খুব কম্ফোর্টেবল!
-সে তো সালা সারারাত ন্যাংটো হয়ে বিছানায় জাপটে শুয়ে এসে,পরদিন স্ক্রিনে যদি সামান্য একটু ইন্টিমেট হতে বলে সবাই পারবে!এ আর কি এমন ব্যাপার!
-বিছানায় উনি তাদের সঙ্গেই যায়,যারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়,তুই খেয়াল করিস কিনা জানি না,ইভেন ফটো তোলার সময় সামনে থেকে দেখলে মনে হবে,দুদিকে দুটো মেয়ের কোমর ধরে রয়েছে,কিন্তু পিছনে দুটো হাত কোমর থেকে অন্তত এক ইঞ্চি দূরে রেখে ফটো তোলেন উনি।আমি নিজে দেখেছি।এমনকি কোনোদিনও শুট চলাকালীন ওনাকে অ্যাডভান্টেজ নিতে দেখিনি।
এবার চুপ করে গেলো ঋদ্ধি....
-আর তার থেকেও বড়ো কথা,একটা ভিডিও বা সিনেমার একটা ক্লিপিংকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ভাইরাল করে দিয়ে,একটা লিমিটেড ক্রাউডকে সাময়িক পাগল করে,জোয়ারে গা ভাসিয়ে কিছুদিনের জন্য,যে কোনো কাউকে সুপারস্টার বানিয়ে দেওয়া যায়।কিন্তু এক্টর তৈরী করা যায় না।ওই এক্স-ফ্যাক্টরটা ভিতরে থাকতে হয়।কিন্তু একইসাথে এক্টর আর সুপারস্টার,এট দা সেম টাইম,ইস ডেডলি কম্বিনেশন!আর সেটা হলেন স্যার এস.আর!
-হুম!
-তাই ওনাকে কাঠি করে,ইন্ডাস্ট্রিতে করে খেতে পারবি না বস।তার চেয়ে মন দিয়ে কাজটা কর,মেয়েছেলে দেখলেই ওসব মাগীবাজি বাদ দে.....
ডিরেক্টরের সঙ্গে বসে কিছু শটস দেখে রোদ-চশমাটা চোখে দিয়ে সবে ষ্টুডিও থেকে বেরোচ্ছিল এস.আর!খোলা চুলে হালকা হলুদ রঙের চুড়িদারে,কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে সেই মেয়েটিও বেরোলো।ব্যাগ থেকে একটা ব্যান্ড বের করে চুলটা আটকে নিলো।তারপর রোদ-চশমাটা বের করে চোখে পরতে যাবে,এমন সময় সামনের দিকে চেয়ে স্থির হয়ে গেলো তার দৃষ্টি...
কিন্তু পরমুহূর্তেই চোখটা নামিয়ে,রোদ-চশমাটা পরে বেরিয়ে গেলো সে।
এতদিন যে কেউ,যে কোনোভাবে এস.আরের সঙ্গে কথা বলার জন্য ব্যস্ত হয়ে থাকতো।ও নিজেও সেই ব্যাপারটাতেই অভ্যস্ত।কিন্তু এই ব্যাপারটা কি হলো!এস.আর.ভেবেছিলো,মেয়েটি হয়তো তার সঙ্গে কথা বলবে,সকালের জন্য অন্তত একবার থ্যাঙ্কু বলবে।কিন্তু কথা বলা দূরে থাক,মেয়েটি মাথা নিচু করে সোজা বেরিয়ে গেলো....
বেশ অবাক হয়ে গেলো এস.আর।ও গাড়িতে উঠে পড়লো,স্টুডিওর একেবারে গেটের বাইরে এসে দেখলো,মেয়েটি ক্যাবে উঠে বেরিয়ে যাচ্ছে..
জিম করতে-করতে চোখের সামনে হলুদ রং ভাসছে।কাল সারারাত ঘুম নেই,সকাল থেকে কিছু খাওয়া নেই।টেকনিক্যালি কাল রাত থেকে প্রায় না খাওয়া।বেশি এক্সসারসাইজে ব্ল্যাক-আউট হবার কথা।কিন্তু চারদিকে সর্ষেফুল দেখছে কেন ও!সুইমিং করতে গিয়েও নীল জলের মধ্যে হলুদের আভা ভেসে উঠছে বারেবারে!
-ফাক ম্যান!হোয়াট দা হেল ইস হ্যাপেনিং!
নাঃ,আজ আর হবে না।জল থেকে উঠে পড়লো এস.আর!
-ও হিরো!আজ তাড়াতাড়ি উঠে পড়লি?অল ওকে?ওপরের ব্যালকনি থেকে আওয়াজ দিলো রাজা।এস.আরের ক্লোজ ফ্রেন্ড এন্ড সেক্রেটারি!
-ইয়া বাডি,ইভরিথিং ইস ফাইন!ডোন্ট ওয়ারি!
শাওয়ার নিয়ে প্রোটিন শেকটুকু গলায় ঢেলে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো এস.আর।বিকেলে একটা মিউজিক চ্যানেলে একটা মুভির প্রমোশন আছে,একটু ঘুমিয়ে নিতে হবে এখনই।একরকম জোর করেই চোখদুটো বন্ধ করলো ও।কিন্তু চোখের সামনে আবার ভেসে উঠছে সেই একজোড়া চোখ।কত প্রশ্ন যেন আবদ্ধ রয়েছে ওই চোখের গভীরে।তা ঢাকতেই যেন তড়িঘড়ি রোদ-চশমায় চোখদুটো আড়াল করলো মেয়েটি।কিন্তু কেন এত পর্দা!হলুদ ওড়নাটা অবাধ্য হাওয়ায় বেসামাল হয়ে যাচ্ছে বারেবারে।কি সুন্দর নরম একটা গন্ধ আসছে না!ওড়নাটা থেকেই কি!উগ্র পারফিউমের গন্ধে আজকাল দমবন্ধ হয়ে আসে এস.আরের।এই গন্ধটা বেশ আবিষ্ট করে রাখে।মনে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি আসে।ওড়নাটায় মুখ ডুবিয়ে পরম শান্তিতে ওই নরম গন্ধটা নিতে ইচ্ছে করে।চোখদুটো জড়িয়ে আসছে ওর।ওড়নার বদলে বেডকভারটাকেই টেনে মাথার ওপর দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো এস.আর..
আক্কেল কখন গুড়ুম হয় || Bangla Funny Jokes
কলকে পাওয়া
নারকেলের খোল, মাটির পাত্র ও কাঠের নল দিয়ে তৈরি তামাক খাওয়ার বিশেষ উপকরণকে বলা হয় হুঁকা বা কলকে। গ্রামগঞ্জে অবসরে তামাক খাওয়ার সময় একটি কলকেই এক হাত থেকে আরেক হাতে ঘুরতে থাকে। কারও হাতে কলকে না এলে মনে করা হয়, সে সম্মান পেল না বা উপেক্ষিত থেকে গেল। তাই কলকে পাওয়া বাগ্ধারার অর্থ সম্মান পাওয়া বা উপেক্ষিত না হওয়া।
কাকতালীয়
পরস্পর সম্পর্কহীন দুটি ঘটনা একসঙ্গে ঘটলে তাকে বলা হয় কাকতালীয় ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে মনে হয়, একটির কারণে যেন আরেকটি ঘটনা ঘটেছে! কাকতালীয় শব্দের মধ্যে আছে ‘কাক’ ও ‘তাল’—এই দুটি শব্দ। ধরা যাক, একটি কাক উড়ে এসে তালগাছে বসল; আর তখনই তালগাছ থেকে তাল পড়ল। এই আকস্মিক ঘটনা দুটির মধ্যে আদৌ কোনো সম্পর্ক বা কার্যকারণ নেই। একইভাবে, কাকতালীয় ব্যাপারেও দুটি ঘটনা সম্পর্ক ছাড়াই একত্রে ঘটে।
আক্কেল গুড়ুম
আরবি ‘আকল’ থেকে আক্কেল শব্দটি এসেছে। এর অর্থ বুদ্ধি, বিবেচনা, কাণ্ডজ্ঞান। আর ‘গুড়ুম’ হলো কামান থেকে গোলা বের হওয়ার শব্দ। আকস্মিক কোনো ঘটনায় আমাদের বুদ্ধি, বিবেচনা মাঝেমধ্যে লোপ পায় বা হারিয়ে যায়। হতবুদ্ধি হয়ে যাওয়ার এই পরিস্থিতিকে বলা হয় আক্কেল গুড়ুম অবস্থা। কামানের গোলা লেগে বুদ্ধি হঠাৎ উড়ে গেলে যে অবস্থা হয়, আরকি!
ভালবাসার গল্প – দেনমোহরের অংক
আমার বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চুড়ান্ত হয়ে যাবার পর দেনমোহরের অংক নিয়ে
ঝামেলা হওয়াতে ভেঙ্গে গিয়েছিল। বান্ধবীদের কারো কারো ক্ষেত্রে এরকম হতে
শুনেছি কিন্তু কল্পনায়ও ভাবিনি আমার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটতে পারে। সপ্তাহ
দুয়েক আগে প্রথমবার দেখা হবার পর হতে শাহেদের সাথে আমার মোবাইলে নিয়মিত কথা
হত। দুই পরিবারের কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু সম্পর্কটা ভাঙ্গার আগে কেউ আমার
মতামত জানার প্রয়োজনও বোধ করেনি৷
মোবাইলের এড্রেস বুক খুলে শাহেদ নামটার দিকে তাকিয়ে আছি। আঙুলের একটা চাপ
দিলেই শাহেদ নামটা এড্রেস বুক হতে মুছে যাবে। আসলেই কি যাবে? প্রেমে পড়ার
জন্য যথেষ্ট সময় হয়ত নয় কিন্তু ভাল লাগার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। বিয়ের পর
কোথায় বেড়াতে যাব সেই পরিকল্পনাও হয়ে গিয়েছিল। ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি দেনমোহর
নিয়ে ঝামেলা বাধবে।
আব্বু আম্মুকে কিছু বলতেও পারছি না। আমার বড় বোনের বিয়ে হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা
দেনমোহরে। আব্বু আমার জন্য ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছিলেন। শাহেদের বাবা
মা নাকি ৬ লাখ বলেছেন। এত কম অংক শুনে আমার মামা খালা, ফুপুরা সবাই ভেটো
দিয়েছেন। এই বিয়ে হবে না ব্যস। বড় আপু এসে সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিয়ে গেল,
আমাকে জিজ্ঞেসও করল না। এই সমাজে মেয়েদের মতামতের কোন মূল্য নেই।
মোবাইলটা বাজছে। একটা অপরিচিত নাম্বার। সাধারণত ধরিনা, আজ কি মনে করে ধরলাম। একজন ভদ্রমহিলার গলা ভেসে এলো,
– হ্যালো কে দিনা?
– জি, আপনি…
– আমি শাহেদের মা, তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাইছিলাম।
– জি বলেন, শুনছি…৷
– শাহেদ তো সহজে কাউকে পছন্দ করে না। তিন চারটা প্রস্তাব মানা করার পর
তোমাকে পছন্দ করেছে। আসলে আমারও তোমাকে খুব ভাল লেগেছে মা। সমস্যা হয়েছে
দেনমোহর নিয়ে, তুমি কিছু শুনেছ?
– জি আন্টি। আপুর দেনমোহর ১৫ লাখ তো, আব্বুরা বলছে অন্তত ২০ লাখ হতে হবে। এটা মুরুব্বিদের ব্যাপার, আমি আর কিছু জানি না।
– আচ্ছা, শুনো। তবুও তোমাকে একটু বুঝিয়ে বলি যেহেতু তোমার জীবনের ব্যাপার
আর এই আর্থিক নিরাপত্তাটাও তোমার। এই যে ইদানিং সবার খুব উঁচু অংকে দেনমোহর
ফিক্স হয়, এই টাকাগুলো কি আদায় হয়? বিয়ের আগে কি টাকাটা দেয়? অনেকে এমনকি
বিয়ের পরেও দেয় না৷ অনেকে ডিভোর্স মামলা করেও এই উঁচু দেনমোহর আদায় করতে
পারেনি, ঠিক না?
– আমার ঠিক জানা নেই আন্টি, তবে শুনিনি পেতে।
– শাহেদের বেতন হল ৬০ হাজার মত। ২০ লাখ টাকা হল ওর ৩ বছরের বেতন। এত টাকা ও
চুরি না করলে কোথা থেকে পাবে? বয়স তো মাত্র ত্রিশ, চাকুরিতে ঢুকেছে বছর
তিনেক হল। নিজের টাকায় বিয়ে করতে চায় তাই এতদিন টাকা জমিয়েছে। শুরুতে বেতনও
কম ছিল। ও দেনমোহর পরিশোধ করবে বলে ৬ লাখ টাকা আলাদা করে রেখেছে, বাসর
রাতে বউকে চেক দিয়ে দিবে। আমাদের কোন দাবী দাওয়া নেই মা। শাহেদ নিজের
বেডরুম ফার্নিচারও কিনে ফেলেছে, ও শ্বশুরবাড়ি হতে কিছু নিবে না। বরযাত্রীও
বেশী আসবে না, তাই তোমার আব্বুরও বেশী কষ্ট হবে না। তুমি নিশ্চয়ই চাও না,
বিয়ে করে শাহেদ বিশাল একটা চাপ বা ঋণের মধ্যে পড়ে যাক? আর শাহেদের সম্ভবত
প্ল্যান আছে আগামীবছর তোমাকে নিয়ে হজ করার। দেনমোহর হতে তোমার খরচ তুমি বহন
করবে, অর্থাৎ নিজের টাকায় হজ করে আসবে। বাকিটুকু তোমার সেভিংস। হ্যালো
দিনা, শুনছ? তোমাকে আমাদের খুব ভাল লেগেছে তাই এতকিছু শেয়ার করলাম। তোমার
মামা ফোন করে মানা করে দেয়ার পরও কথাগুলো বললাম। ভাল থেক। নিজের যত্ন নিও।
মন্ত্রমুগ্ধের মত ভদ্রমহিলার কথা শুনছিলাম। কি সুন্দর প্ল্যান।
আধঘন্টা প্রায় অবশ হয়ে বসে রইলাম। মন স্থির করতে দশ মিনিট সময় লাগল। ড্রইং
রুমে আব্বু, আম্মু, মামা, মামী, আপুসহ দশ বারোজন আড্ডা দিচ্ছেন। সবার সামনে
গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার একটুও গলা কাঁপল না।
– আব্বু, আমি শাহেদকে বিয়ে করব। ৬ লাখ দেনমোহরে আমার আপত্তি নেই। তোমরা ব্যবস্থা কর।
সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। আমাকে কেউ কখনো এভাবে কথা বলতে দেখেনি। কেউ
ভাবেনি, দিনা নিজের বিয়ের কথা নিজেই বলতে পারে। আমি আর কাউকে কিছু বলার
সুযোগ না দিয়ে রুমে চলে এলাম। অল্প করে আম্মুর গলা শুনলাম, বলছে নির্লজ্জ
মেয়ে!
এর ঠিক তিন সপ্তাহ পর শাহেদের সাথে আমার বিয়েটা হয়ে গেল। পরে শুনেছি,
অন্যদের বাধার মুখে আব্বু আমার পক্ষ নিয়েছিলেন। বলেছেন, আমার এই মেয়েটা
কখনো কিছু চায় না। ওর এই ইচ্ছাটা আমি চাই না অপূর্ণ থাকুক। পরে অন্য
সম্পর্কে কষ্ট পেলে সারাজীবন দোষারোপ করতে পারে। তাছাড়া ছেলেপক্ষের কোন
দাবীদাওয়া নেই, শাহেদকেও যথেষ্ট ভাল লেগেছে সবার৷ শুধু দেনমোহরের জন্য
ভেঙ্গে দেয়া ঠিক হবে না, যখন ওরা পুরো দেনমোহর অগ্রিম পরিশোধ করবে বলছে।
এরমধ্যে আমার হবু শাশুড়ি বেশ কবার কল দিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি আন্টি ডেকে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম।
বিয়ের দিন আমাকে শাহেদের হাতে তুলে দেয়ার সময় হঠাৎ কোথা থেকে প্রচন্ড আবেগ
ভর করেছিল। অশ্রুতে মুখের মেকাপ লেপ্টে গিয়েছিল। আম্মুকে জড়িয়ে ধরে ছাড়তে
চাইনি একদম। আমি আম্মুর আদরের ছোট মেয়ে, কখনো আম্মুকে ছাড়া থাকিনি। এখন হতে
কিভাবে থাকব তাও জানি না। শুধু মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে যেতে হবে, কে যে এই
অদ্ভুত নিয়ম করেছে। উল্টোটাও তো হতে পারত। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে
প্রতিদিনই একবার করে বাসায় চলে আসব।
বিয়ের পরদিন, আমার শাশুড়ি ডেকে বললেন,
– দেখ দিনা, আমি চাই না আমাদের সম্পর্ক গতানুগতিক বউ শাশুড়ি টাইপ হোক। এই
বাসায় মানুষ মাত্র ৪ জন। তোমার শ্বশুর, আমি, তোমার ননদ মিলি আর শাহেদ। আমি
তোমাকে বাকি তিনজনের দুর্বলতাগুলো শিখিয়ে দিব। ওগুলো একটু যত্ন নিয়ে ফলো
করলে কয়েক মাসে দেখবে তুমি সবার খুব প্রিয় হয়ে গিয়েছ, পারবে না?
– জি আন্টি।
উনি অদ্ভুত চোখে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর হাসলেন,
– আন্টি ডাকতে পার, সমস্যা নেই। আম্মা ডাক মন হতে না এলে অপরিচিত কাউকে জোর করে ডাকার দরকার নেই।
শুরুর কয়েকদিন, মেহমান আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবদের ভিড়ে কিভাবে কেটে গেল
বুঝতেই পারলাম না। আর প্রতি সপ্তাহজুড়ে অন্তত তিনটা দাওয়াত। বাবার বাড়ির
দূরত্ব মাত্র আধঘন্টার, প্রতি সপ্তাহেই অন্তত দুবার মায়ের কোলে গিয়ে শুয়ে
থাকতাম।
ফেসবুকে শাশুড়িদের নিয়ে ভয়াবহ সব গল্প আর অভিজ্ঞতা পড়েছি। কয়েকটা পড়ে তো
আতংকে আমার হাত-পা কাঁপত। না জানি কপালে কি দুর্দশা লেখা আছে। আমার শাশুড়ির
কয়েকটা দিক আমার খুব ভাল লেগেছে। গল্পেগুলোর সাথে উনার কোন মিল নেই। উনি
আমাদের রুমে কখনো নক না করে আসেন না। আর ছুটির দিনে দুপুরে যখন শাহেদকে
জড়িয়ে ধরে একটু ঘুমাই, উনি কখনো নক করেন না। বিকেলে আমরা বাইরে আসা পর্যন্ত
অপেক্ষা করেন।
আমাকে কিছু বুদ্ধি শিখিয়ে দিয়েছেন। শ্বশুর কিরকম চা- বিস্কিট পছন্দ করেন,
সকাল দশটার পর পত্রিকা পড়ার সময় মনোযোগ দিয়ে উনার রাজনৈতিক এনালিসিস শুনে
কিভাবে মাথা নাড়তে হবে বাধ্য ছাত্রীর মত, মাথায় কাপড় দিয়ে সামনে গেলে আদর
বেশী পাব, মিলির জামা কাপড় স্ত্রি করে পরার অভ্যাস, ছুটির দিন সকালে মশলা
দিয়ে চা খেতে ভালবাসে, পাশের মার্কেটে ফুড কোর্টে গিয়ে দই ফুচকা খাওয়া
প্রিয় আউটিং আর প্রিয় শপিং হল পার্স কেনা৷ মিলির সংগ্রহে অন্তত ৪৭ টা পার্স
আছে বিভিন্ন রঙ আর ডিজাইনের। আর শাহেদ নিজে অগোছালো হলেও চারপাশে সবকিছু
গোছালো দেখতে ভালবাসে। এই কাজটা এতদিন আমার শাশুড়ি করে এসেছেন। সপ্তাহে
দুইদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া অভ্যাস। এই আড্ডা নিয়ে বিরক্ত করা কিংবা
মানা করা যাবে না৷ নিজ হতে ছেড়ে দিলে ভিন্ন কথা।
শুধু মাথা নেড়ে বললেন,
– শাহেদের সিগারেট খাওয়া আমি ছাড়াতে পারিনি। তুমি দেখ পার কিনা। তবে
শুরুতেই এটা নিয়ে ঝামেলা বাধিও না। সময় নিয়ে সম্পর্ক আরো মজবুত হলে তারপর।
বললাম,
– আন্টি অন্যদেরগুলো তো শুনলাম। আপনার দুর্বলতা কি?
আন্টি হেসে উড়িয়ে দিলেন,
– পারলে তুমি খুঁজে বের কর। দেখি কেমন মেয়ে তুমি।
রান্নাঘরের আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখে একদিন বললেন,
– দেখ মা, আমি জানি তোমার পছন্দের কিছু রান্না করতে ইচ্ছা করে। আমি কিন্তু
তোমাদের বাসার রান্না খেয়েছি। হলুদ, মরিচ বেশী দেয়, একটু ঝাল। আমাদের বাসার
স্টাইল কিন্তু আলাদা। শাহেদ আর ওর বাবা খেতে পারবেন না। তুমি আপাতত চা
নাস্তা বানাও, কয়েক মাসে বাসার রান্নার স্বাদ বুঝে গেলে তখন করতে পারবে।
শাহেদ অফিসে গেলে সময় কাটে না। ছাদ হতে আসা বাসার কাপড়্গুলো ভাঁজ করে রাখতে দেখে আন্টি বললেন,
– এগুলা করার জন্য মানুষ আছে। তোমার হাতে এখন সময় আছে। মাস্টার্স এ ভর্তি
হয়ে যাও, একবার মা হয়ে গেলে আর মেয়েদের নিজের জন্য সময় থাকে না, তখন শুধুই
অন্যদের জন্য বাঁচতে ইচ্ছা করে। পড়ালেখাটা একটানে শেষ করে ফেল। এই ভুলটা
আমি করেছিলাম, মাস্টার্স আর করা হয়নি। পড়া শেষ করে কিছুদিন জব
এক্সপেরিয়েন্সও নিতে পার। মেয়েদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত হওয়া জরুরী। এই যে
দেখ আমি পরনির্ভরশীল, উপার্জনের কোন ক্ষমতা নেই। তবে আমি যতদিন শক্ত আছি
ঘরের দায়িত্ব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। নাতি নাতনিও বড় করতে পারব, তোমার
মায়ের হেল্প লাগবে না। ও মা, নাতি নাতনির কথা শুনে মেয়ের গাল দেখি লাল নীল
বেগুনি হয়ে যাচ্ছে হিহিহি। আরে এক্ষুনি নিতে হবে বলিনি তো…।
লজ্জা পেয়ে পালিয়ে বাঁচলাম। আন্টি কিন্তু মুখে বলেই ভুলে যাননি, সত্যিই
মাস্টার্স ভর্তির ফর্ম আনিয়ে শাহেদকে দিয়ে জমাও করিয়ে দিলেন। নাহ, এই মহিলা
ছাড়ার পাত্র না একেবারেই। বছরখানেক বিয়ের আনন্দে কাটাবো ভেবেছিলাম।
বেড়াবো, ঘুরব, হইচই করব। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস পেরিয়েছে আর নতুন সেমিস্টারে
ক্লাস শুরু হবে এক মাস পরেই। আবার বই নিয়ে বসতে হবে ভাবলেই গায়ে জ্বর
আসছে।
ইদানিং ভাবলে অবাক লাগে, আম্মুর কাছে যাওয়া অনেক কমে গিয়েছে। শুরুর দিকে
সপ্তাহে দুবার, কমতে কমতে এখন মাসে দুবারও যাওয়া হয় না। কথাবার্তা ফোনেই
সেরে নেই। প্রতিদিনই আম্মুর কল আসে তবে আমাদের সংসার নিয়ে কিছুই জানতে চান
না। বলেছেন, এদিকের কথা ওদিকে আর ওদিকের কথা এদিকে যাতে না করি। আমার মাঝে
মাঝে বলার জন্য পেট ফুলে যায় কিন্তু কিছু একটা বলতে চাইলেই আম্মু থামিয়ে
দেন। বলেন, বড় হয়েছে এবার তুমি ম্যানেজ কর। বিয়ের আগে অনেক শিখিয়েছি। আমাকে
বাধ্য হয়ে অনেক কিছু আন্টির কাছে জানতে চাইতে হয়।
মাঝে অবশ্য দুই তিনবার উনার সাথে তর্ক বেঁধে গিয়েছিল। রাগ করে আম্মুর কাছে
চলে গিয়েছিলাম। আম্মু ঘন্টাখানেক পাশে বসিয়ে আদর করে দিয়ে আবার ফেরত পাঠিয়ে
দিয়েছেন। কদিন থাকতে চাইলেও পাত্তা দেননি। শাহেদ ফ্রি থাকলে এসে নিয়ে
গিয়েছে আর ব্যস্ত থাকলে আব্বু এসে নামিয়ে দিয়ে গেছে। এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসায়
লজ্জা লাগছিল কিন্তু আন্টির আচরণে ভুলে যেতেও সময় লাগেনি।
দুপুরে আমরা কেউ ঘুমাই না। আন্টি একটা টার্কিশ সিরিয়াল দেখেন। দেখতে দেখতে
আমিও সেই সিরিয়ালের ভক্ত হয়ে গেলাম। বেডরুমে টিভি থাকলেও আন্টির সাথে
ড্রইংরুমে বসেই দেখি। অনেক বিষয়ে তখন আন্টির সাথে আলাপ হয়। পরিবার, সমাজ,
সম্পর্ক নিয়ে উনার অভিজ্ঞতা আর ব্যাখ্যা আমাকে মুগ্ধ করে।
কদিনের জন্য আমাদের বাসায় গিয়েছিলাম, আব্বুর প্রেশারটা বেড়েছে। শাহেদ এসে
নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে, থাকেনি। সেদিন রাতে ফোনে বলল, আন্টির বেশ জ্বর।
সমস্যা নেই, প্যারাসিটামল দিয়েছে ঠিক হয়ে যাবে। পরদিন রাত এগারোটার দিকে
জানাল, আন্টির ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। ক্লিনিকে ভর্তি করেছে, শরীর বেশ দুর্বল।
প্লাটিলেট এক লাখের নিচে চলে এসে এসেছে, আরো নামলে হয়ত লাইফ সাপোর্ট আছে
এমন হসপিটালে ট্রান্সফার করাতে হবে।
আমার বুকটা মুচড়ে উঠল। আব্বু পাশেই ছিলেন। কথাবার্তা উনার কানেও গিয়েছে কিছুটা। আমার মুখভঙ্গি দেখেই আব্বু উঠে গায়ে শার্ট চড়ালেন।
– চল মামনি, তোমাকে হসপিটালে নামিয়ে দিয়ে আসি।
আমাকে ব্যাগসহ নামিয়ে আব্বু আর দাঁড়ালেন না। বললেন, তোমার আম্মুকে নিয়ে সকালে আসব। শরীর বেশী ভাল নেই।
কেবিনে ঢুকে ব্যাগ রেখে শাহেদের পাশে বসলাম। এর আগে এতরাতে কখনো হাসপাতালে
আসিনি। কারো জন্য রাত জাগিনি। আব্বু আম্মু হাসপাতালে ভর্তি থাকলে খালা, আপু
আর অন্যরা সামলেছে। আমি দিনে ডিউটি করে বাসায় চলে যেতাম। শাহেদের হাত ধরে
মিনতি করে বললাম,
– তোমার অফিস আছে সকালে। রাতে আমি থাকব আন্টির পাশে। তুমি এখন যাও। সকালে
অফিসে যাবার সময় নাস্তা আর আমার কিছু কাপড় নামিয়ে দিও। মিলি প্যাক করে
দিবে, ওকে বুঝিয়ে বলব কল করে।
আন্টি ঘুমাচ্ছেন। সাদা চাদরে শরীরটা গলা পর্যন্ত আবৃত। উনার ডান হাত ধরে পাশে চেয়ার টেনে বসলাম। অন্য হাতে স্যালাইন চলছে।
বিয়ের দিন হতে সব স্মৃতি মনে পড়ছে। কিভাবে মায়ের মত আগলে রেখেছেন শুরু
হতেই। নতুন সংসার কিছুই জানতাম না, কিছুই বুঝতাম না। উনার বুদ্ধি পরামর্শ
মত চলে আমি এখন শাহেদের প্রিয় ওয়াইফ, মিলির প্রিয় ভাবী আর শ্বশুরের প্রিয়
বৌমা। মনে হতে লাগল এই ভদ্রমহিলা ছাড়া এই সংসারে আমি চোখে পুরোই অন্ধকার
দেখব। উনাকে আমার আরো বহুবছর পাশে দরকার, আমার অভিভাবক হয়ে, মা হয়ে ছায়া
দেয়ার জন্য।
কখন আমার কপোল বেয়ে অশ্রুর ধারা নেমেছে টের পাইনি। ফোঁটায় ফোঁটায় সেগুলো
আন্টির হাতের উপর পড়ছিল। আমি কখনো ভাবিনি, এত অল্প পরিচয়ে মাত্র কয়েক মাসে,
রক্তের সম্পর্ক নেই এমন কোন মহিলা আমার অস্তিত্ব, পরিচয় আর আবেগকে এমনভাবে
ছাপিয়ে যাবেন।
উনি কখন চোখ খুলেছেন তাও দেখিনি। মৃদু হাসলেন আমাকে দেখে,
– কি রে মা, কাঁদছ কেন…
– আম্মা, আপনি আমাদের ফেলে এত তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন না। আমি আপনাকে কোথাও যেতে দিব না।
– আমি কোথাও যাব না রে পাগলী মেয়ে। আরো অনেক বছর এই মেয়েটার সেবা নেয়া
বাকি। আমার দুর্বলতা জিজ্ঞেস করেছিলে না? তোমরাই আমার দুর্বলতা। তুমি কি
খেয়াল করেছ তুমি আজ প্রথম আমাকে “আম্মা” ডেকেছ। এইদিনটার জন্য আমার অনেক
অপেক্ষা ছিল। ডেঙ্গুটা দেখি শাপে বর হল।
অশ্রুসিক্ত চোখে হেসে ফেললাম,
– নিয়েন সেবা দেখি কত বছর পারেন।
চারদিন পর আম্মা কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেন, ব্যাগ গুছিয়ে একসাথে আম্মাকে নিয়েই বাসায় ফিরলাম
মোমের ব্যবহার
মোমের ব্যবহার
মহিলা হোষ্টেলে হঠাৎ বিদ্যুৎ নষ্ট হয়ে গেলে, ওয়ার্ডেন বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলো, ”হ্যালো বিদ্যুৎ অফিস? আপনার লোকজন কেশিগ্গির পাঠিয়ে দিন, মেয়েরা সবাই মোমবাতি ব্যবহার করছে!”
বিয়ের পর শশুরবাড়িতে নতুন বউকে
শাশুড়ি বলছে: মা আজ থেকে তুমি এ বাড়িরই একজন সদস্য। আমার
মেয়ে তুমি, আমাকে তুমি মা ডাকবে।
নতুন বউ : আচ্ছা মা।
সারা দিনের কাজ শেষে জামাই বাসায় আসছে কলিংবেল বেজে উঠলো।
শাশুড়ি : এই কে এলো, দেখোতো বউ মা ?
নতুন বউ : মা! মা!! ভাইয়া এসেছে।
দুঃখিত সুভাষ আফিসে নেই
বড় বাবু টেলিফোন ধরে শুনলেন , অন্য দিক খুব বয়স্ক একজন লোক কাঁপা কাঁপা
গলায় বলছেন – মাফ করবেন আপনাদের অফিসের সুভাষকে একটু ডেকে দেবেন?
কে বলেছেন ?- বড় বাবু জিজ্ঞেস করলেন
আমি ওর ঠাকুদা বলছি – জবাব এলো
বড় বাবু এবার গম্ভীর ভাবে বললেন- দুঃখিত সুভাষ আফিসে নেই । সে আপনাকে পোড়াতে গিয়েছে।
Surprised
Romantic bangla love sms
ভালোবাসা তো যায়না টাকা দিয়ে কেনা,
ভালোবাসা তো যায়না হীরা মুক্তা দিয়ে গড়া।
দুটি মনের আকুলতায় যে বন্ধন হয়,
তাকেই তো ভালোবাসা কয় ।
@@@@@@@@@@@
Tumi amar rongin sopno, shilpir ronge chobi,
Tumi amar chader alo, sokal belar robi.
Tumi amar nodir maje ekti matro kul,
Tumi amar valobashar sheuli bokul full.
তুমি আমার রঙিন স্বপ্ন শিল্পীর রঙে ছবি,
তুমি আমার ছাঁদের আলো, সকাল বেলার রবি,
তুমি আমার নদীর মাঝে একটি মাত্র কূল,
তুমি আমার ভালোবাসার শিউলি বকুল ফুল ।
Manush manusher jonno, paki akasher jonnyo.
sobujh prokritir jonnyo, paharr jhornaar jonnyo,
valobasa shobar jonnyo,
ar tumi shudhu amar jonyo.
মানুষ মানুষের জন্য,
পাখি আকাশের জন্য,
সবুজ প্রকিতির জন্য,
পাহাড় ঝর্নার জন্য,
ভালোবাসা সবার জন্য,
আর তুমি শুধু আমার জন্য ।
>>> আরো ভালোবাসার এসএমএস <<<
Rater akashe takale dekhi lokkho tarar mela,
Ek chadke ghirei jeno tader joto khela.
bondhu onek paoa jay baralei hat,
amar kache tui je bondhu oi akasher chad.
রাতের আকশে তাকালে দেখি লক্ষ তারার মেলা,
এক চাঁদকে ঘিরেই যেন তাদের যত খেলা,
বন্ধু অনেক পাওয়া যায় বাড়ালেই হাত,
আমার কাছে তুই যে বন্ধু ওই আকাশের চাঁদ ।
tomar jonnyo roilo amar sopne vejha ghum,
ekla thaka santho dhupur, raatri nijum.
tomar jonnyo roylo amardusthu chokher bhasha,
mooner maje lukiye rakha onek valobasa.
তোমার জন্য রইলো আমার সপ্নে ভেজা ঘুম
একলা থাকা শান্ত দুপুর রাত্রি নিঝুম
তোমার জন্য রইলো আমার দুস্টু চোখের ভাষা,
মনের মাঝে লুকিয়ে রাখা অনেক ভালোবাসা ।
শিক্ষক ও বল্টুর জোকস
✅✅✅✅✅✅
শিক্ষক : কিরে এত দেরী হল কেন? স্কুল কয়টায় শুরু হয়?
বল্টু: স্যার , আমি তো আগেই বাইর হইছিলাম , আব্বা বলল গরুটারে চেয়ারম্যান বাড়ির ষাঁড়টার কাছে দিয়া আসতে ,তাই দেরী হইয়া গেল।
শিক্ষক: তো এই কাজটা তোমার বাবা করতে পারল না?
.
.
.
বল্টু: না স্যার ,
এইটা.……… ষাঁড়েরই করা লাগে
😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆😆
এক ম্যাডাম ছাত্রকে কিছু প্রশ্ন করছে ।
ম্যাডাম :- বল, তোর পেন্টের ভিতর কী আছে যা আমার শারির ভেতর নাই? | ছাত্র :- পকেট । |
ম্যাডাম:- বল, গাভীর 4টা আর আমার দুইটা কী ? |
ছাত্র :- পা |
ম্যাডাম:- বল, কোন কাজটা খাটে শুয়ে মজাও আরাম ? |
ছাত্র:-ঘুম । |
ম্যাডাম:- বল, কোন জিনিষ যার আছে সে হাত দিয়ে নারে চারে যার নাই সে আঙ্গুল দিয়ে করে ? |
ছাত্র:- ট্রুথব্রাশ । |
ম্যাডাম :- বল, কোন জিনিষ কারো ভিতর ডুকে শক্ত হয় আর বের হয় নরমও আঠালো হয়ে ? |
ছাত্র:- চুইংগাম । |
ম্যাডাম:- বল, ছেলেরা উত্তেযিত হলে তাদের শরিরের কোন অঙ্গ ছোট থেকে বড় হয় ? |
ছাত্র:- হৃদপিন্ড । |
ম্যাডাম:- বল, মেয়েরা জুরে শ্বাস নিলে কি ফুলে যায় ? |
ছাত্র:- ফুশফুশ ।
~~ ম্যাডাম তো বে হুশ
--------------------
জোকস:
এক লোক খুব লাজুক।
সারাদিন বই পড়ে।
... বিয়ের ২ মাস পর ও সে তার বৌ এর সাথে কিছুই না করায় বৌ হতাশ।
এক রাতে লোকটি পড়ছে।
বৌ তাকে আকর্ষন করতে সব কাপড় খুলে খাটেশুয়ে পড়লো।
লোকটি লজ্জা পেয়ে বৌ এর ঐ জায়গা বই দিয়ে ঢেকে বাইরে চলে গেল . . .
ঠিক তখনই ছোট ভাই ঘরে ঢুকে এই অবস্থা দেখে চিত্কার করে বলতে থাকলো . . .
“ মা . . . . . . . . . . . !
ও . . . . . মা !!
দেইখা যাও . . . !!
ভাইজান তো পুরা ভিতরে ঢুইকা গেছে খালি বই টা বাকী !! ”
এক কবুতর একটু নিচু হয়ে উড়ছিল.. হঠাৎ এক গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলো , এক লোক তাকে নিয়ে গিয়ে খাঁচায় রাখল। যখন কবুতরের জ্ঞান ফিরল., তখন সে খাঁচার ভিতর নিজেকে দেখে বলল, .. .. ...
"হায় আল্লাহ! আমি জেলে...!! গাড়িওয়ালা কি মারা গেছে নাকি.😂🤣😂
-----------------------
চরম জোকস,,না পড়লে চরম মিসঃ
১) প্রশ্নঃ কোন জিনিসটা করলে, ভিতর থেকে বাচ্চা বের হয়ে আসে ??
উত্তরঃএইটা হচ্ছে স্কুলের ছুটির ঘন্টা।
২) প্রশ্নঃ একটা মেয়ে তার পরনের সব কাপড় ফেলে দিলে এরপর কি হয় ??
উত্তরঃ কি আর হবে ,খালি আলমারি থাকবে ! আপনে কি ভাবছিলেন ?
৩) প্রশ্নঃ বলা হয় , মেয়েদের হাতে নাকি অনেক জাদু আছে ! আসলেই , দেখেন না , ক্যামনে দুই ইঞ্চি জিনিসটারে ছয় ইঞ্চি বানায়া ফেলে !! বলেন তো জিনিসটা কি??
উত্তরঃ এই যে হ্যালো , আমি রুটি বানানোর কথা বলছিলাম।
৪) এমন কি জিনিস যেটা টিপতে যুবক ছেলেরা মজা পায়??
উত্তরঃ কি আর হবে!!! মোবাইল
৫) এমন কি জিনিস যেটা মেয়েদের খুব পছন্দ??
উত্তরঃ টাকারে মামা টাকা। টাকা আছে তো জি.এফ আছে,, টাকা নাই জি.এফও নাই।
৬) এমন কি জিনিস আছে যেটার সামনে মেয়েরা গেলে গরম হয়ে যায়??
উত্তরঃ রান্নাঘরের চুলা। আপনে কি চিন্তা করছিলেন !😂🤣😂
--------------------
চরম জোকস,,না পড়লে চরম মিসঃ
এক বাচ্চা ছেলে তার
চাচাকে জিগ্গেস
করছেঃ চাচু,
প্রতিদিন রাত এ
কি চাচী মুরগীদের
খাবার
দিতে যায়?
চাচাঃ না তো,
কেনো?
বাচ্চার উত্তরঃ " প্রতিদিন রাত এ
আমি শুনি যে চাচী
আহ্,উহ্,আহ্,আহ.
করে, তাই
মনে হলো যে তিনি
মুরগীদের
এভাবে ডাকে, খাবার
দেয়ার জন্য.😂🤣😂
অফিস অফিস
অফিসে নানা রকম মজার ঘটনা ঘটে। তেমনই কিছু ঘটনা দেখে নিন। আইডিয়া মেহেদী আল মাহমুদ
বস : হাসান সাহেব, কাল নাকি আপনি অফিস টাইমে মিস ডলিকে নিয়ে সিনেমায় গিয়েছিলেন? ওকে আমার সঙ্গে একবার দেখা করতে বলুন।
হাসান : কিন্তু স্যার, ও কি আপনার সঙ্গে সিনেমা দেখতে যেতে রাজি হবে?
♦ বস : আলম, কাল যে তোমাকে বলেছিলাম ফাইলটা দিতে, দাওনি কেন?
আলম : স্যার, আলমারির চাবিটা যে আপনার কাছে ছিল।
বস : তা থাক, দ্যাটস নট দি পয়েন্ট, তুমি ফাইলটা দাওনি কেন?
♦ কর্মচারী : ডেকেছিলেন স্যার?
বস : আপনি এত ভালো কাজ করেন যে আমি ভাবতেও পারি না, আপনাকে ছাড়া কী করে অফিস চলবে! সোমবার থেকে চেষ্টা করে দেখব, আপনাকে ছাড়াও অফিস চলে কি না!
♦ কর্মচারী : স্যার, আজ দুপুরের পর আমাকে কিছুক্ষণের জন্য ছুটি দেবেন? আমার স্ত্রীকে নিয়ে একটু শপিংয়ে যেতে হবে।
বস : না, কোনো ছুটি নেই।
কর্মচারী : আপনি আমাকে বাঁচালেন স্যার। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
♦ প্রথম বন্ধু : তোকে এত খুশি দেখাচ্ছে কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু : জানিস, কাল থেকে আমার দুই সপ্তাহের ছুটি। কাল থেকে আমি এক সপ্তাহের ছুটিতে যাচ্ছি। তার পরের সপ্তাহে যাচ্ছেন আমার বস।
♦ বস : কাল অফিসে আসোনি কেন?
কর্মচারী : আমার বাবা মারা গেছেন গতকাল।
বস : তোমার বাবা তো আমাদের অফিসের স্টাফ নয়, তিনি না এলেও কিছু যায়-আসে না। তুমি আসোনি কেন?
♦ বস : তুমি Wife dying বলে অফিস কামাই দিলে, অথচ আমি দেখলাম তোমার স্ত্রী একটি বিউটি পার্লার থেকে বেরোচ্ছে!
কর্মচারী : স্যার, ঠিকই দেখেছেন, আমি ‘হেয়ার ডাইং’-এর কথাই বলতে চেয়েছিলাম।
♦ মহিলা সেক্রেটারি : স্যার, আপনার স্ত্রী সব সময় আমাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে কেন দেখে?
বস : কারণ তোমার আগে সে আমার সেক্রেটারি ছিল।
ছেলেকে ১০ কেজি পেঁয়াজ দিতে হবে
১৯৯০ সাল।
ছেলে বিয়েতে যৌতুক হিসেবে সাইকেল চাইত।
২০০০ সাল।
ছেলে বিয়েতে যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল চাইত।
.
.
.
২০৩০ সাল।
ঘটক আর মেয়ের বাবার মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে।
‘ছেলেপক্ষের একটা আবদার আছে…’
মেয়ের বাবা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন।
‘ছেলেকে ১০ কেজি পেঁয়াজ দিতে হবে। ছেলের অনেকদিনের শখ।’
‘১০ কেজি?’ মেয়ের বাবা আকাশ থেকে পড়লেন।
‘একটু কমানো যায় না? দরকার হলে আমাদের একটা টয়োটা করলা দিয়ে দিলাম।’ মেয়ের বাবা মিন মিন করে বলল।
‘নাহ ভাই। বললাম না ছেলের অনেক দিনের শখ।’
মেয়ের বাবা নিমরাজী হলেন। কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
বিয়ের দিন।
কাজী বিয়ে পড়াতে শুরু করতেই ছেলের বাবা উঠে দাঁড়ালেন।
‘দাঁড়ান কাজী সাহেব। আগে পেঁয়াজ বুঝে নিই। পরে বিয়ে।’
সবাই থমকে গেল। একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে সবাই।
মেয়ের বাবা ঘর হতে একটা বাজারের ব্যাগ নিয়ে আসলেন।
‘ভাইসাহেব, এইখানে ৮ কেজি পেঁয়াজ আছে। বাকীটা আগামী সপ্তাহেই দিয়ে আসব।’
ছেলের বাবা রাগী ভঙ্গিতে তাকালেন। [ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন ঝড়ের মিউজিক]
‘নাহ। এই বিয়ে হবে না। আরো দুই কেজি পেঁয়াজ ছাড়া এই বিয়ে সম্ভব না।’ বলেই
ছেলের বাবা মেয়েদের সাততলা বাড়ি থেকে নেমে যেতে উদ্যত হলেন। ‘চলে আয়
কুদ্দুস। এই বিয়ে হবে না।’
অন্দরমহলে কান্নার আওয়াজ।
মেয়ে এসে দাঁড়াল ঘরে। চোখে জল।
‘চৌধুরী সাহেব, পেঁয়াজের লোভে মানুষকে আর মানুষ মনে হয় না? মনে রাখবেন
পেঁয়াজ থাকলেই বড়লোক হওয়া যায় না। বড়লোক হতে হলে দরকার সুন্দর একটা ফেইসবুক
একাউন্ট। যা আপনাদের নেই। চলে যান। আমি এখুনি স্ট্যাটাস দিচ্ছি।’
কুদ্দুস উঠে দাঁড়াল। তার চোখ খুলে গেছে। এই মেয়ে আবার তার ফেসবুক ফ্রেন্ড।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। ‘না বাবা। এই বিয়ে হবেই।
পেঁয়াজ তোমাকে অন্ধ করে দিয়েছে বাবা।’
অবশেষে বিয়ের সানাই। আকাশে তারাবাত্তি।

















