Showing posts with label bengali jokes. Show all posts
Showing posts with label bengali jokes. Show all posts

ভালবাসার গল্প – দেনমোহরের অংক

 

আমার বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চুড়ান্ত হয়ে যাবার পর দেনমোহরের অংক নিয়ে ঝামেলা হওয়াতে ভেঙ্গে গিয়েছিল। বান্ধবীদের কারো কারো ক্ষেত্রে এরকম হতে শুনেছি কিন্তু কল্পনায়ও ভাবিনি আমার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটতে পারে। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রথমবার দেখা হবার পর হতে শাহেদের সাথে আমার মোবাইলে নিয়মিত কথা হত। দুই পরিবারের কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু সম্পর্কটা ভাঙ্গার আগে কেউ আমার মতামত জানার প্রয়োজনও বোধ করেনি৷
মোবাইলের এড্রেস বুক খুলে শাহেদ নামটার দিকে তাকিয়ে আছি। আঙুলের একটা চাপ দিলেই শাহেদ নামটা এড্রেস বুক হতে মুছে যাবে। আসলেই কি যাবে? প্রেমে পড়ার জন্য যথেষ্ট সময় হয়ত নয় কিন্তু ভাল লাগার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। বিয়ের পর কোথায় বেড়াতে যাব সেই পরিকল্পনাও হয়ে গিয়েছিল। ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি দেনমোহর নিয়ে ঝামেলা বাধবে।
আব্বু আম্মুকে কিছু বলতেও পারছি না। আমার বড় বোনের বিয়ে হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে। আব্বু আমার জন্য ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছিলেন। শাহেদের বাবা মা নাকি ৬ লাখ বলেছেন। এত কম অংক শুনে আমার মামা খালা, ফুপুরা সবাই ভেটো দিয়েছেন। এই বিয়ে হবে না ব্যস। বড় আপু এসে সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিয়ে গেল, আমাকে জিজ্ঞেসও করল না। এই সমাজে মেয়েদের মতামতের কোন মূল্য নেই।
মোবাইলটা বাজছে। একটা অপরিচিত নাম্বার। সাধারণত ধরিনা, আজ কি মনে করে ধরলাম। একজন ভদ্রমহিলার গলা ভেসে এলো,
– হ্যালো কে দিনা?
– জি, আপনি…
– আমি শাহেদের মা, তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাইছিলাম।
– জি বলেন, শুনছি…৷
– শাহেদ তো সহজে কাউকে পছন্দ করে না। তিন চারটা প্রস্তাব মানা করার পর তোমাকে পছন্দ করেছে। আসলে আমারও তোমাকে খুব ভাল লেগেছে মা। সমস্যা হয়েছে দেনমোহর নিয়ে, তুমি কিছু শুনেছ?
– জি আন্টি। আপুর দেনমোহর ১৫ লাখ তো, আব্বুরা বলছে অন্তত ২০ লাখ হতে হবে। এটা মুরুব্বিদের ব্যাপার, আমি আর কিছু জানি না।
– আচ্ছা, শুনো। তবুও তোমাকে একটু বুঝিয়ে বলি যেহেতু তোমার জীবনের ব্যাপার আর এই আর্থিক নিরাপত্তাটাও তোমার। এই যে ইদানিং সবার খুব উঁচু অংকে দেনমোহর ফিক্স হয়, এই টাকাগুলো কি আদায় হয়? বিয়ের আগে কি টাকাটা দেয়? অনেকে এমনকি বিয়ের পরেও দেয় না৷ অনেকে ডিভোর্স মামলা করেও এই উঁচু দেনমোহর আদায় করতে পারেনি, ঠিক না?
– আমার ঠিক জানা নেই আন্টি, তবে শুনিনি পেতে।
– শাহেদের বেতন হল ৬০ হাজার মত। ২০ লাখ টাকা হল ওর ৩ বছরের বেতন। এত টাকা ও চুরি না করলে কোথা থেকে পাবে? বয়স তো মাত্র ত্রিশ, চাকুরিতে ঢুকেছে বছর তিনেক হল। নিজের টাকায় বিয়ে করতে চায় তাই এতদিন টাকা জমিয়েছে। শুরুতে বেতনও কম ছিল। ও দেনমোহর পরিশোধ করবে বলে ৬ লাখ টাকা আলাদা করে রেখেছে, বাসর রাতে বউকে চেক দিয়ে দিবে। আমাদের কোন দাবী দাওয়া নেই মা। শাহেদ নিজের বেডরুম ফার্নিচারও কিনে ফেলেছে, ও শ্বশুরবাড়ি হতে কিছু নিবে না। বরযাত্রীও বেশী আসবে না, তাই তোমার আব্বুরও বেশী কষ্ট হবে না। তুমি নিশ্চয়ই চাও না, বিয়ে করে শাহেদ বিশাল একটা চাপ বা ঋণের মধ্যে পড়ে যাক? আর শাহেদের সম্ভবত প্ল্যান আছে আগামীবছর তোমাকে নিয়ে হজ করার। দেনমোহর হতে তোমার খরচ তুমি বহন করবে, অর্থাৎ নিজের টাকায় হজ করে আসবে। বাকিটুকু তোমার সেভিংস। হ্যালো দিনা, শুনছ? তোমাকে আমাদের খুব ভাল লেগেছে তাই এতকিছু শেয়ার করলাম। তোমার মামা ফোন করে মানা করে দেয়ার পরও কথাগুলো বললাম। ভাল থেক। নিজের যত্ন নিও।
মন্ত্রমুগ্ধের মত ভদ্রমহিলার কথা শুনছিলাম। কি সুন্দর প্ল্যান।
আধঘন্টা প্রায় অবশ হয়ে বসে রইলাম। মন স্থির করতে দশ মিনিট সময় লাগল। ড্রইং রুমে আব্বু, আম্মু, মামা, মামী, আপুসহ দশ বারোজন আড্ডা দিচ্ছেন। সবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার একটুও গলা কাঁপল না।
– আব্বু, আমি শাহেদকে বিয়ে করব। ৬ লাখ দেনমোহরে আমার আপত্তি নেই। তোমরা ব্যবস্থা কর।
সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। আমাকে কেউ কখনো এভাবে কথা বলতে দেখেনি। কেউ ভাবেনি, দিনা নিজের বিয়ের কথা নিজেই বলতে পারে। আমি আর কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রুমে চলে এলাম। অল্প করে আম্মুর গলা শুনলাম, বলছে নির্লজ্জ মেয়ে!
এর ঠিক তিন সপ্তাহ পর শাহেদের সাথে আমার বিয়েটা হয়ে গেল। পরে শুনেছি, অন্যদের বাধার মুখে আব্বু আমার পক্ষ নিয়েছিলেন। বলেছেন, আমার এই মেয়েটা কখনো কিছু চায় না। ওর এই ইচ্ছাটা আমি চাই না অপূর্ণ থাকুক। পরে অন্য সম্পর্কে কষ্ট পেলে সারাজীবন দোষারোপ করতে পারে। তাছাড়া ছেলেপক্ষের কোন দাবীদাওয়া নেই, শাহেদকেও যথেষ্ট ভাল লেগেছে সবার৷ শুধু দেনমোহরের জন্য ভেঙ্গে দেয়া ঠিক হবে না, যখন ওরা পুরো দেনমোহর অগ্রিম পরিশোধ করবে বলছে।
এরমধ্যে আমার হবু শাশুড়ি বেশ কবার কল দিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি আন্টি ডেকে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম।
বিয়ের দিন আমাকে শাহেদের হাতে তুলে দেয়ার সময় হঠাৎ কোথা থেকে প্রচন্ড আবেগ ভর করেছিল। অশ্রুতে মুখের মেকাপ লেপ্টে গিয়েছিল। আম্মুকে জড়িয়ে ধরে ছাড়তে চাইনি একদম। আমি আম্মুর আদরের ছোট মেয়ে, কখনো আম্মুকে ছাড়া থাকিনি। এখন হতে কিভাবে থাকব তাও জানি না। শুধু মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে যেতে হবে, কে যে এই অদ্ভুত নিয়ম করেছে। উল্টোটাও তো হতে পারত। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে প্রতিদিনই একবার করে বাসায় চলে আসব।
বিয়ের পরদিন, আমার শাশুড়ি ডেকে বললেন,
– দেখ দিনা, আমি চাই না আমাদের সম্পর্ক গতানুগতিক বউ শাশুড়ি টাইপ হোক। এই বাসায় মানুষ মাত্র ৪ জন। তোমার শ্বশুর, আমি, তোমার ননদ মিলি আর শাহেদ। আমি তোমাকে বাকি তিনজনের দুর্বলতাগুলো শিখিয়ে দিব। ওগুলো একটু যত্ন নিয়ে ফলো করলে কয়েক মাসে দেখবে তুমি সবার খুব প্রিয় হয়ে গিয়েছ, পারবে না?
– জি আন্টি।
উনি অদ্ভুত চোখে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর হাসলেন,
– আন্টি ডাকতে পার, সমস্যা নেই। আম্মা ডাক মন হতে না এলে অপরিচিত কাউকে জোর করে ডাকার দরকার নেই।
শুরুর কয়েকদিন, মেহমান আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবদের ভিড়ে কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। আর প্রতি সপ্তাহজুড়ে অন্তত তিনটা দাওয়াত। বাবার বাড়ির দূরত্ব মাত্র আধঘন্টার, প্রতি সপ্তাহেই অন্তত দুবার মায়ের কোলে গিয়ে শুয়ে থাকতাম।
ফেসবুকে শাশুড়িদের নিয়ে ভয়াবহ সব গল্প আর অভিজ্ঞতা পড়েছি। কয়েকটা পড়ে তো আতংকে আমার হাত-পা কাঁপত। না জানি কপালে কি দুর্দশা লেখা আছে। আমার শাশুড়ির কয়েকটা দিক আমার খুব ভাল লেগেছে। গল্পেগুলোর সাথে উনার কোন মিল নেই। উনি আমাদের রুমে কখনো নক না করে আসেন না। আর ছুটির দিনে দুপুরে যখন শাহেদকে জড়িয়ে ধরে একটু ঘুমাই, উনি কখনো নক করেন না। বিকেলে আমরা বাইরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।
আমাকে কিছু বুদ্ধি শিখিয়ে দিয়েছেন। শ্বশুর কিরকম চা- বিস্কিট পছন্দ করেন, সকাল দশটার পর পত্রিকা পড়ার সময় মনোযোগ দিয়ে উনার রাজনৈতিক এনালিসিস শুনে কিভাবে মাথা নাড়তে হবে বাধ্য ছাত্রীর মত, মাথায় কাপড় দিয়ে সামনে গেলে আদর বেশী পাব, মিলির জামা কাপড় স্ত্রি করে পরার অভ্যাস, ছুটির দিন সকালে মশলা দিয়ে চা খেতে ভালবাসে, পাশের মার্কেটে ফুড কোর্টে গিয়ে দই ফুচকা খাওয়া প্রিয় আউটিং আর প্রিয় শপিং হল পার্স কেনা৷ মিলির সংগ্রহে অন্তত ৪৭ টা পার্স আছে বিভিন্ন রঙ আর ডিজাইনের। আর শাহেদ নিজে অগোছালো হলেও চারপাশে সবকিছু গোছালো দেখতে ভালবাসে। এই কাজটা এতদিন আমার শাশুড়ি করে এসেছেন। সপ্তাহে দুইদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া অভ্যাস। এই আড্ডা নিয়ে বিরক্ত করা কিংবা মানা করা যাবে না৷ নিজ হতে ছেড়ে দিলে ভিন্ন কথা।
শুধু মাথা নেড়ে বললেন,
– শাহেদের সিগারেট খাওয়া আমি ছাড়াতে পারিনি। তুমি দেখ পার কিনা। তবে শুরুতেই এটা নিয়ে ঝামেলা বাধিও না। সময় নিয়ে সম্পর্ক আরো মজবুত হলে তারপর।
বললাম,
– আন্টি অন্যদেরগুলো তো শুনলাম। আপনার দুর্বলতা কি?
আন্টি হেসে উড়িয়ে দিলেন,
– পারলে তুমি খুঁজে বের কর। দেখি কেমন মেয়ে তুমি।
রান্নাঘরের আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখে একদিন বললেন,
– দেখ মা, আমি জানি তোমার পছন্দের কিছু রান্না করতে ইচ্ছা করে। আমি কিন্তু তোমাদের বাসার রান্না খেয়েছি। হলুদ, মরিচ বেশী দেয়, একটু ঝাল। আমাদের বাসার স্টাইল কিন্তু আলাদা। শাহেদ আর ওর বাবা খেতে পারবেন না। তুমি আপাতত চা নাস্তা বানাও, কয়েক মাসে বাসার রান্নার স্বাদ বুঝে গেলে তখন করতে পারবে।
শাহেদ অফিসে গেলে সময় কাটে না। ছাদ হতে আসা বাসার কাপড়্গুলো ভাঁজ করে রাখতে দেখে আন্টি বললেন,
– এগুলা করার জন্য মানুষ আছে। তোমার হাতে এখন সময় আছে। মাস্টার্স এ ভর্তি হয়ে যাও, একবার মা হয়ে গেলে আর মেয়েদের নিজের জন্য সময় থাকে না, তখন শুধুই অন্যদের জন্য বাঁচতে ইচ্ছা করে। পড়ালেখাটা একটানে শেষ করে ফেল। এই ভুলটা আমি করেছিলাম, মাস্টার্স আর করা হয়নি। পড়া শেষ করে কিছুদিন জব এক্সপেরিয়েন্সও নিতে পার। মেয়েদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত হওয়া জরুরী। এই যে দেখ আমি পরনির্ভরশীল, উপার্জনের কোন ক্ষমতা নেই। তবে আমি যতদিন শক্ত আছি ঘরের দায়িত্ব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। নাতি নাতনিও বড় করতে পারব, তোমার মায়ের হেল্প লাগবে না। ও মা, নাতি নাতনির কথা শুনে মেয়ের গাল দেখি লাল নীল বেগুনি হয়ে যাচ্ছে হিহিহি। আরে এক্ষুনি নিতে হবে বলিনি তো…।
লজ্জা পেয়ে পালিয়ে বাঁচলাম। আন্টি কিন্তু মুখে বলেই ভুলে যাননি, সত্যিই মাস্টার্স ভর্তির ফর্ম আনিয়ে শাহেদকে দিয়ে জমাও করিয়ে দিলেন। নাহ, এই মহিলা ছাড়ার পাত্র না একেবারেই। বছরখানেক বিয়ের আনন্দে কাটাবো ভেবেছিলাম। বেড়াবো, ঘুরব, হইচই করব। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস পেরিয়েছে আর নতুন সেমিস্টারে ক্লাস শুরু হবে এক মাস পরেই। আবার বই নিয়ে বসতে হবে ভাবলেই গায়ে জ্বর আসছে।
ইদানিং ভাবলে অবাক লাগে, আম্মুর কাছে যাওয়া অনেক কমে গিয়েছে। শুরুর দিকে সপ্তাহে দুবার, কমতে কমতে এখন মাসে দুবারও যাওয়া হয় না। কথাবার্তা ফোনেই সেরে নেই। প্রতিদিনই আম্মুর কল আসে তবে আমাদের সংসার নিয়ে কিছুই জানতে চান না। বলেছেন, এদিকের কথা ওদিকে আর ওদিকের কথা এদিকে যাতে না করি। আমার মাঝে মাঝে বলার জন্য পেট ফুলে যায় কিন্তু কিছু একটা বলতে চাইলেই আম্মু থামিয়ে দেন। বলেন, বড় হয়েছে এবার তুমি ম্যানেজ কর। বিয়ের আগে অনেক শিখিয়েছি। আমাকে বাধ্য হয়ে অনেক কিছু আন্টির কাছে জানতে চাইতে হয়।
মাঝে অবশ্য দুই তিনবার উনার সাথে তর্ক বেঁধে গিয়েছিল। রাগ করে আম্মুর কাছে চলে গিয়েছিলাম। আম্মু ঘন্টাখানেক পাশে বসিয়ে আদর করে দিয়ে আবার ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। কদিন থাকতে চাইলেও পাত্তা দেননি। শাহেদ ফ্রি থাকলে এসে নিয়ে গিয়েছে আর ব্যস্ত থাকলে আব্বু এসে নামিয়ে দিয়ে গেছে। এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসায় লজ্জা লাগছিল কিন্তু আন্টির আচরণে ভুলে যেতেও সময় লাগেনি।
দুপুরে আমরা কেউ ঘুমাই না। আন্টি একটা টার্কিশ সিরিয়াল দেখেন। দেখতে দেখতে আমিও সেই সিরিয়ালের ভক্ত হয়ে গেলাম। বেডরুমে টিভি থাকলেও আন্টির সাথে ড্রইংরুমে বসেই দেখি। অনেক বিষয়ে তখন আন্টির সাথে আলাপ হয়। পরিবার, সমাজ, সম্পর্ক নিয়ে উনার অভিজ্ঞতা আর ব্যাখ্যা আমাকে মুগ্ধ করে।
কদিনের জন্য আমাদের বাসায় গিয়েছিলাম, আব্বুর প্রেশারটা বেড়েছে। শাহেদ এসে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে, থাকেনি। সেদিন রাতে ফোনে বলল, আন্টির বেশ জ্বর। সমস্যা নেই, প্যারাসিটামল দিয়েছে ঠিক হয়ে যাবে। পরদিন রাত এগারোটার দিকে জানাল, আন্টির ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। ক্লিনিকে ভর্তি করেছে, শরীর বেশ দুর্বল। প্লাটিলেট এক লাখের নিচে চলে এসে এসেছে, আরো নামলে হয়ত লাইফ সাপোর্ট আছে এমন হসপিটালে ট্রান্সফার করাতে হবে।
আমার বুকটা মুচড়ে উঠল। আব্বু পাশেই ছিলেন। কথাবার্তা উনার কানেও গিয়েছে কিছুটা। আমার মুখভঙ্গি দেখেই আব্বু উঠে গায়ে শার্ট চড়ালেন।
– চল মামনি, তোমাকে হসপিটালে নামিয়ে দিয়ে আসি।
আমাকে ব্যাগসহ নামিয়ে আব্বু আর দাঁড়ালেন না। বললেন, তোমার আম্মুকে নিয়ে সকালে আসব। শরীর বেশী ভাল নেই।
কেবিনে ঢুকে ব্যাগ রেখে শাহেদের পাশে বসলাম। এর আগে এতরাতে কখনো হাসপাতালে আসিনি। কারো জন্য রাত জাগিনি। আব্বু আম্মু হাসপাতালে ভর্তি থাকলে খালা, আপু আর অন্যরা সামলেছে। আমি দিনে ডিউটি করে বাসায় চলে যেতাম। শাহেদের হাত ধরে মিনতি করে বললাম,
– তোমার অফিস আছে সকালে। রাতে আমি থাকব আন্টির পাশে। তুমি এখন যাও। সকালে অফিসে যাবার সময় নাস্তা আর আমার কিছু কাপড় নামিয়ে দিও। মিলি প্যাক করে দিবে, ওকে বুঝিয়ে বলব কল করে।
আন্টি ঘুমাচ্ছেন। সাদা চাদরে শরীরটা গলা পর্যন্ত আবৃত। উনার ডান হাত ধরে পাশে চেয়ার টেনে বসলাম। অন্য হাতে স্যালাইন চলছে।
বিয়ের দিন হতে সব স্মৃতি মনে পড়ছে। কিভাবে মায়ের মত আগলে রেখেছেন শুরু হতেই। নতুন সংসার কিছুই জানতাম না, কিছুই বুঝতাম না। উনার বুদ্ধি পরামর্শ মত চলে আমি এখন শাহেদের প্রিয় ওয়াইফ, মিলির প্রিয় ভাবী আর শ্বশুরের প্রিয় বৌমা। মনে হতে লাগল এই ভদ্রমহিলা ছাড়া এই সংসারে আমি চোখে পুরোই অন্ধকার দেখব। উনাকে আমার আরো বহুবছর পাশে দরকার, আমার অভিভাবক হয়ে, মা হয়ে ছায়া দেয়ার জন্য।
কখন আমার কপোল বেয়ে অশ্রুর ধারা নেমেছে টের পাইনি। ফোঁটায় ফোঁটায় সেগুলো আন্টির হাতের উপর পড়ছিল। আমি কখনো ভাবিনি, এত অল্প পরিচয়ে মাত্র কয়েক মাসে, রক্তের সম্পর্ক নেই এমন কোন মহিলা আমার অস্তিত্ব, পরিচয় আর আবেগকে এমনভাবে ছাপিয়ে যাবেন।
উনি কখন চোখ খুলেছেন তাও দেখিনি। মৃদু হাসলেন আমাকে দেখে,
– কি রে মা, কাঁদছ কেন…
– আম্মা, আপনি আমাদের ফেলে এত তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন না। আমি আপনাকে কোথাও যেতে দিব না।
– আমি কোথাও যাব না রে পাগলী মেয়ে। আরো অনেক বছর এই মেয়েটার সেবা নেয়া বাকি। আমার দুর্বলতা জিজ্ঞেস করেছিলে না? তোমরাই আমার দুর্বলতা। তুমি কি খেয়াল করেছ তুমি আজ প্রথম আমাকে “আম্মা” ডেকেছ। এইদিনটার জন্য আমার অনেক অপেক্ষা ছিল। ডেঙ্গুটা দেখি শাপে বর হল।
অশ্রুসিক্ত চোখে হেসে ফেললাম,
– নিয়েন সেবা দেখি কত বছর পারেন।
চারদিন পর আম্মা কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেন, ব্যাগ গুছিয়ে একসাথে আম্মাকে নিয়েই বাসায় ফিরলাম

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়

 

 

হায়রে আমার সিদ্ধান্ত

গরুর মাংসের কেজি যখন ৮০ টাকা ছিল, তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ২০০ টাকা হলে খাওয়া বাদ দিয়ে দেব! গরুর মাংসের কেজি এখন ৫২০ টাকা, এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি পাঁচ হাজার টাকা কেজি হলে খাওয়া বাদ দিয়ে দেব!

রোহিত হাসান কিসলু

 

 

একটি সিঙ্গেল ছেলের আত্মকাহিনি

আমাদের ব্যাচের মেয়েরা বড়ভাইদের সঙ্গে প্রেম করত। তাই ভাবতাম, যেদিন বড়ভাই হব সেদিন হয়তো প্রেম হবে। কিন্তু আফসোস, জুনিয়র মেয়েরা পলিসি চেঞ্জ করেছে! তারা এখন ক্লাসমেটদের সঙ্গেই প্রেম করে। তাই বড়ভাইরা সিঙ্গেল রয়ে গেল।

কানন শূন্য

 

 

বিসিএস ক্যাডার

কয়েকটা ঐর দেওয়ার পরও রিপ্লাই না করা জুনিয়র মেয়েটাও আজ ঈড়হমত্ধঃঁষধঃরড়হং জানাচ্ছে সদ্য ইঈঝ ক্যাডারে মনোনীত ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়াকে।

মনে মনে আক্ষেপ, ইস্ কেন যে আগে থেকেই ইনবক্সে ভাব-ভালোবাসা আরেকটু জমাইনি!

সাদিক খান

 

সমাধান

অথচ সিনেমার শেষে ছোট করে ‘কালেক্টেড’ লিখে দিলেই কত সমস্যার সমাধান হয়ে যেত!

অনুপম হোসাইন পূর্ণম

 

পৌরসভা

মিটিং না ডাইকাও যে সংস্থায় ১২ মাসই সভা থাকে তারেই পৌরসভা বলে।

জগলুল হায়দার

 

বাংলা কৌতুক ক্লাব এর কৌতুক || ভাবি vs দেবর

ভাবি vs দেবর

ভাবিঃ কিরে তোর মাইয়া পছন্দ হইছে?
দেবরঃ না ভাবি, হল না তো ...........
ভাবিঃ কি হইছে রে......?
দেবরঃ সবই ঠিক আছে কিন্তু একটু খাটো আর কি।
ভাবিঃ আরে বোকা, মোবাইল ছোট হোক আর বড় হোক, মেমোরি ঢুকানোর জায়গা কিন্তু সব সময় সমান। এবার বুঝলি?!!

যুবতি মেয়ে ও যুবক দৈত্য



এক যুবতি মেয়ে বেড়াতে গেছে এক নির্জন কেল্লায়। 
ঘুরে ঘুরে একটা ঘরে ঢুকে যুবতি দেখলো পাশে এক দৈত্যের পোশাকে যুবক দাঁড়িয়ে।
যুবকটি বললোঃ “স্বাগতম আমার মালিক! আমি এই চেরাগের দৈত্য। আপনার তিনটি ইচ্ছা আমি পূরণ করতে চাই!”
যুবতি এক নিঃশ্বাসে বললোঃ ‘কোটি কোটি টাকা, বিশটা বাড়ির দলিল বিশটা গাড়ি!’
যুবক দৈত্যটি বললোঃ ‘জো হুকুম। আপনি বাড়ি ফিরেই আপনার টাকা, বাড়ির দলিল আর গাড়ির লাইসেন্স তৈরি পাবেন। কিন্তু আমার মালিক আমি দীর্ঘদিন এই কেল্লায় একা বন্দি ছিলাম। আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আমি আপনার ইচ্ছা পূরণের আগে আমার একটি ইচ্ছা পূরণ করতে চাই!’
যুবতি বললোঃ ‘বলে ফেলো তোমার কি চাই?’
 যুবক দৈত্যটি বললোঃ ‘আপনার সাথে কয়েক বার আদর সোহাগ করতে চাই!’
যুবতিটি ভাবলোঃ ‘এতো কিছু পাবো সাথে আবার আদর সোহাগও? মন্দ কি?’ 
তাই যুবতিটি সানন্দে রাজি হলো। অতঃপর সারা রাত তারা আদর সোহাগ করলো! 
পরদিন ভোরে যুবক দৈত্যটি বললোঃ আমার মালিক, আপনার বয়স কত?’ 
যুবতিটিজবাব দিলোঃ ‘আমার বয়স ২৫!’
যুবক দৈত্যটি হাসতে হাসতে বললোঃ ‘এই বয়সেও আপনি চেরাগের দৈত্য/ ভূতে বিশ্বাস করেন?
মেয়েটি আরো বেশি জোরে হেসে বললঃ
- আপনার বয়স কত?
- ৩৫ 
- ৩৫ বছর হয়ে গেছে আপনার। তারপরও আপনাকে একটি মেয়ের সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় এই জংলা বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দৈত্যের অভিনয় করতে হচ্ছে দেখে আমার মায়া লাগলো। তাছাড়া আজ একমাস হল আমার বয়ফ্রেন্ড ব্যবসার কাজে সিঙ্গাপুর গেছে।
অতএব, মেয়েদের ২৫= ছেলেদের ৩৫। তাই নয় কি?

বিয়ের আগে প্রেম



স্বামী : আমাকে সত্যি করে বলো, বিয়ের আগে তুমি কয়জনের সাথে প্রেম করেছো?
স্ত্রী : ঠিক আছে দাঁড়াও। এই যে ড্রামটা দেখ। আমি যত ছেলেদের সাথে প্রেম করতাম, ততটি চাল এটাতে ফেলেছিলাম।
স্বামী গিয়ে দেখল ওটাতে মাত্র দু’টি চাল আর ২শ’ টাকা আছে। দেখে এসে বলল-
স্বামী : ও! মাত্র দু’জনের সাথে প্রেম করেছো? এই যুগে এগুলো কিছু না।
স্ত্রী : তাই?
স্বামী : কিন্তু এই দুইশ’ টাকা কিসের?
স্ত্রী : টাকাটা কিসের বুঝলে না?
স্বামী : না তো!
স্ত্রী : গত সপ্তায় এই ড্রাম থেকে চার কেজি চাল বিক্রি করেছিলাম। এটা তারই টাকা।

অতিথি নারায়ণ || হাস্যরসাত্মক গল্প পরে মজা পাবেন


একটি স্কুলে চাকরি করি। সেই সুবাদে প্রায় অপ্রত্যাশিত ছুটিছাঁটা পাওয়া হয়ে যায়। এই যেমন গরমের ছুটি, শীতের ছুটি, বর্ষার ছুটি, বসন্তের ছুটি লেগেই আছে। করপোরেট জগতের অন্য বন্ধুরা আমার ছুটির এহেন বহর দেখে হিংসার আগুনে জ্বলতে জ্বলতে প্রায়ই গালিগালাজ করে। স্কুলে মিড টার্মের পরেই এ রকম ১০ দিনের একটা ছুটি পাওয়া গেল। আমিও বেশ কিছু মুভি নামিয়ে, কিছু গল্পের বই কিনে কোমরে লুঙ্গি বেঁধে ছুটি উপভোগের জন্য প্রস্তুত হলাম। ছুটির প্রথম দিনে ঘুম ভাঙল তীক্ষ কলিংবেলের শব্দে। কানে বালিশচাপা দিয়েও রক্ষা নেই, বেল বেজেই চলছে। মোবাইলে দেখি সকাল ৭টা। ‘এই ৭টা বাজে কোন হালায় এলো’—গজগজ করতে করতে দরজা খুলতেই আমার শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। গ্রাম থেকে গেদু চাচা এসেছেন। পান খাওয়া লাল দাঁত দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘বাজান আছ কেমুন?’

আমি ঢোক গিলে বললাম, ‘ভালোই ছিলাম চাচা।’
তিনি বাসার ভেতরে পা দিয়েই বিশাল দুটি হাঁস কার্পেটের ওপর রেখে দিলেন। ওরা দুজনই মনে হয় অনেকক্ষণ ধরে টয়লেট চেপে রেখেছিল। আমাদের লাল রাজকীয় কার্পেট দেখে ওরা পিচিক পিচিক করে কাজ সেরে ফেলল। এরই মধ্যে আমাদের কাজের ছেলে মতি চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে এলো। কার্পেটের ওপর হাঁস আর হাঁসের মল দেখে সে আঁতকে উঠল, ‘আরে করছেন কী বাইজান? আম্মায় দেখলে তো সাড়ে সর্বনাশ!’

চাচা বললেন, ‘এই বেডা তুই কেডা? এইসব ভিত্রে নিয়া যা, আর এক গেলাস ঠাণ্ডা ফানি আন। ভ্যানভ্যান করস ক্যান?’

মতি আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাল। আমি হাঁসগুলোর দিকে তাকালাম। হাঁসগুলো আমাদের বিশাল টিভি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকল।

আমি রুমে ঢুকে ফেসবুক থেকে আমার স্ট্যাটাস সরিয়ে ফেললাম। নিশ্চয়ই সবার নজর লাগছে। না হলে এই সময় ‘গোঁদের উপর বিষফোঁড়া’ গেদু চাচা কেন এলো! এর আগে একবার তিনি সাত দিনের জন্য এসেছিলেন। জীবন ছেড়াবেড়া করে দিয়ে গেছেন।

আমি বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছি। এপাশ থেকে ওপাশ ফিরতেই দেখি গেদু চাচা এসে হাজির, ‘কী ব্যাপার ভাতিজা। এই অবেলায় ঘুমাইতেছ ক্যান? অবেলায় ঘুমাইলে তো স্বাস্থ্য খারাপ হইয়া যাইব। আমারে দেখো! এই বয়সেই ভোর চাইরডায় উঠি। মনে রাখবা, স্বাস্থ্যই হইলো ধন।’

আমি ধন আর সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে উঠে পড়লাম। আব্বা-আম্মার রুমে গিয়ে বললাম, ‘গেদু চাচা আসছে কেন?’



আম্মা দাঁত দিয়ে জিহ্বা কেটে বলল, ‘এইসব কী কথা! উনি চিকিত্সা করাতে আসছেন।’ ‘ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা করাতে বলো। টাকা যা লাগে আমি দেব।’

আব্বা রেগে গিয়ে বলল, ‘কী উল্টাপাল্টা কথা বলতেছস? উনি এখানে থাকবে ওনার মতো। তোর সমস্যা কী? যা, রুমে যা।’

আমি রুমে গিয়ে বিষণ্ন বদনে বসে আছি। সকাল বাজে সাড়ে ৭টা। গভীর রাত পর্যন্ত মুভি দেখছি। ভাবছিলাম, দুপুর পর্যন্ত ঘুমাব। মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। রুমে মতি এসে বলল, ‘ভাই, কাম সারছে!’

‘কী হইছে?’

‘গেদু চাচা নাকি আপনার গোসলখানা ব্যবহার করব।’



‘ক্যান, গেস্টরুমেরটা কী হইছে?’

‘ওইটার কল নষ্ট।’

‘কল নষ্ট, এত দিন ঠিক করাস নাই ক্যান?’ আমি চেঁচিয়ে বললাম। খানিক বাদেই গেদু চাচা হাজির। গামছা, লুঙ্গি, সাবান, তেল—বিশাল আয়োজন, ‘বাজান, তোমার কাছে গ্যাস্ট্রিকের দাবাই আছে? প্যাটে কিমুন গ্যাস হইছে।’

এই বলে গেদু চাচা আমার বাথরুমে ঢুকে পড়ল। আর তার পেটে যে আসলেই গ্যাস হইছে, সেটা নানা শব্দ করে বোঝাতে লাগল।

‘বুইড়া বেডা করে কী?’ এই সব শব্দ শুনে অবাক মতিও।

গেদু চাচা বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর বাথরুমে গোটা অর্ধেক এয়ার ফ্রেশনার দিয়ে তবে রক্ষা।

নাশতার টেবিলে গেদু চাচা গোটা চারেক পরোটা, এক বাটি মাংস, একটি সিদ্ধ ডিম, দুই পিস সাগর কলা খেয়ে বলল, ‘বয়স হইয়া গেছে, আগের মতো খাইতে আর পারি না।’ এই শুনে মতি হাত থেকে গ্লাস ফেলে দিল।

‘এই বেডা করছ কী? সাবধানে চল।’

এর মধ্যেই পাশের বাসার তিন্নি এলো। তিন্নি মেয়েটার সঙ্গে আমি একটা সম্পর্ক ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। মেয়েটা ভার্সিটিতে পড়ে। আমার থেকে প্রায়ই গল্পের বই নিতে আসে। এভাবে বই আদান-প্রদানের মধ্যেই সম্পর্ক করার চেষ্টা। এর মধ্যেই সে এলে গেদু চাচা দরজা খুলে দিল।

‘রায়হান ভাইয়া আছে?’ গেদু চাচাকে তিন্নি জিজ্ঞেস করল।

‘রায়হান তো টাট্টিখানায়। মনে হয় হাগতাছে। তুমি কে গো মা?’

পুরো ঘটনা দেখে মতি দৌড়ে গিয়ে আমার বাথরুমের দরজায় নক করল, ‘বাইজান তুরন্ত বাইর হন। গেদু চাচা তিন্নি আফারে কী কয় দেইখা যান।’

আমি কোনোভাবে কাজ সেরে বের হয়ে গেদু চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মেয়েটা কই?’
‘চইলা গেছে। আমি কইছি তুমি টাট্টিখানায়!’
আমি রুমে গিয়ে মতির থেকে সব শুনে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। তিন দিনের মাথায় যখন গেদু চাচার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লাম, তখনই আমি আর মতি এক প্ল্যান করলাম। গভীর রাতে ওনাকে ভূতের ভয় দেখাতে হবে। গত পহেলা বৈশাখে মেলা থেকে কেনা ভূতের মুখোশটা বের করলাম। মতিকে সব বুঝিয়ে বলতেই মতি বলল, ‘বাইজান, বুইড়া বেডা। ফট কইরা মইরা গেলে?’


‘তাহলে তো বেঁচেই গেলাম, মতি। যা, কথা বাড়াইস না।’


রাত ৩টায় মোবাইলে একটা মেয়ের কান্নার সুর গেদু চাচার রুমে গিয়ে বাজাতে লাগলাম। একটু পর চাচা উঠে ‘এই কেডা, এই কেডা’ বলে লাইট জ্বালাতে গেল। কিন্তু লাইট আগেই খুলে নেওয়া হয়েছে। বারান্দার জানালায় মতি সেই মুখোশ পরে ছোট্ট একটি টর্চ জ্বালিয়ে নিজের মুখ দেখাতে লাগল। চাচা জোরে জোরে কী যেন পড়ছে। আমরা সরে পড়লাম। যথেষ্ট হয়েছে। পরদিন সকালে নাশতার টেবিলে চাচাকে দেখেই বুঝলাম সারা রাত ঘুমাতে পারেনি। আমি আর মতি একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছি, এর মধ্যেই কলিংবেল। উঠে দেখি এক হুজুর টাইপ ছেলে।


‘গেদু চাচা আছে?’
‘তয়োব আইছ?’ এই বলে গেদু চাচা সেই ছেলেকে ঘরে নিয়ে এলো।
গেদু চাচা আব্বাকে বলল, ‘এইটা আমাগো গেরামের পোলা। তোমাদের এই বাসায় খারাপ জিনিসের আছর আছে। তয়োব এইসব ব্যাপারে ওস্তাদ। সে আগামী কয়েকটা দিন আমার লগে থাকব।’
মতি বিড়বিড় করল, ‘কাম সারছে!’



আব্বা বলল, ‘সমস্যা নাই।’
ঠিক সেই সময় হকার পেপার দিয়ে গেল। হেডলাইন বলছে, ‘রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চাইছে না!’

একটা চুমো


বান্ধবীকে রাতের বেলা বাড়ি পৌঁছে দিতে এসেছে বাবু। দরজার পাশে দেয়ালে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে বললো সে, একটা চুমো খেতে দাও আমাকে।’ ‘কী? তুমি পাগল হলে? এখানে দাঁড়িয়ে না না না!’ ‘আরে কেউ দেখবে না। এসো, একটা চুমো।’ ‘না না, খুব ঝামেলা হবে কেউ দেখে ফেললে।’ ‘আরে জলদি করে খাবো, কে দেখবে?’ ‘না না, কক্ষণো এভাবে আমি চুমো খেতে পারবো না।’ ‘আরে এসো তো, আমি জানি তুমিও চাইছো — খামোকা এমন করে না লক্ষ্মী!’ এমন সময় দরজা খুলে গেলো, বান্ধবীর ছোট বোন ঘুম ঘুম চোখে দাঁড়িয়ে। চোখ ডলতে ডলতে সে বললো, ‘আপু, বাবা বলেছে, হয়তুমি চুমো খাও,নয়তো আমি চুমো খাই, নয়তো বাবা নিজেই নিচে নেমে এসে লোকটাকে চুমো খাবে —
কিন্তু তোমার বন্ধু যাতে আল্লার ওয়াস্তে ইন্টারকম থেকে হাতটা সরায়।’

আজকের কৌতুক : স্বামীর অতীত জানার উপায়


স্বামীর অতীত জানার উপায় এক নারী জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে স্বামীর বিষয়ে জানতে চাইলেন- নারী: আমার স্বামী সম্পর্কে কিছু বলুন। জ্যোতিষী: আপনি কি আপনার স্বামীর ভবিষ্যৎ জানতে ইচ্ছুক? নারী: রাবিশ! ওর ভবিষ্যৎ তো আমি ঠিক করব। জ্যোতিষী: তাহলে কী জানতে চাইছেন? নারী: তার অতীত জানতে চাইছি!

 ****

এটিএম বুথের সিকিউরিটি গার্ড বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে পিন্টুর একান্ত ইচ্ছা ছিল কয়েকটি- প্রথমত, সঙ্গে থাকবে টাকাভর্তি বাক্স। দ্বিতীয়ত, একটি মোটামুটি ঝামেলা ছাড়া চাকরি। তৃতীয়ত, শান্তির ঘুম। চতুর্থত, কাজ করার স্থানটা হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। পিন্টুর সব ইচ্ছাই আজ পূরণ হয়েছে। সে এখন এটিএম বুথের সিকিউরিটি গার্ড।

****

স্বামীর এসএমএসে ক্ষেপে গেল স্ত্রী স্বামী-স্ত্রী ইংরেজি চর্চা শুরু করেছে। যখন-তখন ইংরেজিতে এসএমএস করছে তারা। ফোন করে বলছে, তাড়াতাড়ি উত্তর দিতে। একদিন স্বামী এসএমএস করেছে স্ত্রীকে- স্বামী: হাই! হোয়াট আর ইউ ডুয়িং ডার্লিং? স্ত্রী: আই অ্যাম ডায়িং… স্বামী: সুইট হার্ট, ডোন্ট ডাই, প্লিজ! হাউ ক্যান, আই লিভ উইদাউট ইউ? স্ত্রী: ইউ ডাফার, ইডিয়ট! আই অ্যাম ডায়িং মাই হেয়ার।

হাফ ডজন মজার কৌতুক!


০১.

বাবা ছেলেকে নতুন জুতা কিনে দিয়ে বলল সিড়ি দিয়ে উঠার সময় দুইটা করে উঠবি। এতে জুতার উপর চাপ কমবে। জুতা বেশিদিন টিকবে।
কিছু ছেলে বাবার চেয়ে আরো এক ডিগ্রি উপরে। সে বাবাকে খুশি করার জন্য তিনটা সিড়ি করে উঠছে। উপরে উঠার পর বাবা ছেলের গালে মারল জোড়ে এক চড়। ছেলের চিৎকারের শব্দে পাশের বাসার মহিলা এসে বলল এতটুকু বাচ্চাকে কেউ এভাবে মারে? কেন মেরেছেন?
বাবা: ওকে বলেছি দুইটা সিড়ি করে উঠবি তাহলে জুতা বেশিদিন টিকবে আর ও উঠলো তিনটা করে।
মহিলা: ও তো ঠিকই করেছে। আপনার তো খুশি হওয়ার কথা।
বাবা: খুশি হব কিভাবে বলেন, ও ২০০ টাকার জুতার তলা বাঁচাতে গিয়ে ৮০০ টাকার প্যান্টের তলা ছিঁড়ে ফেলেছে।

০২.

পাত্রী পক্ষের লোক: তো, তুমি আমাদের মেয়েকে বিয়ে করে আমাদের জামাই হতে চাও?
পাত্র: আসলে ঠিক তা নয়। তবে বিয়ে না করে অন্য ভাবে জামাই হওয়ার উপায় থাকলে বলতে পারেন।

০৩.

সদ্য বিবাহিত এক তরুণীকে তার বান্ধবী জিজ্ঞেস করল, কিরে, নতুন দাম্পত্য-জীবন কেমন লাগছে?
তরুণী জবাবে বলল, আমি তো বিয়ের আগে আর বিয়ের পরের অবস্থার মধ্যে তেমন কিছুই পার্থক্য দেখছি না।
আগেও আমাকে অর্ধেক রাত জেগে কাটাতে হতো, যতক্ষণ না ও বাড়ি যাওয়ার জন্য ওঠে; এখনো আমাকে অর্ধেক রাত জেগে অপেক্ষায় থাকতে হয়, কখন ও ফেরে।

০৪.

স্বামীর মৃত্যুর কয়দিন পরেই এক মহিলা তার দেবরকে বিয়ে করে ফেললেন। তার বান্ধবীদের অনেকেই ব্যাপারটা মনঃক্ষুন্ন হলো। একদিন মহিলার বাড়িতে বাড়িতে এসে তার বান্ধবীরা লক্ষ করল, শোবার ঘরের দেওয়ালে তার মৃত স্বামীর বিশাল একটা ছবি টানানো।
সবাই খুব খুশি হলো ছবি দেখে। এদের মধ্যে একজন মহিলার স্বামীকে চিনত না।
ছবি দেখে তাই সে জানতে চাইল, ছবিটা কার?
মহিলা বললেন, আমার ভাশুরের। কয়েকদিন আগে মারা গেছেন!

০৫.

রাতে মলি শাওনকে ফোন করে ফিসফিস করে বলল, কেউ বাসায় নেই, ইচ্ছা হলে আসতে পারো।
শাওন দ্রুত দৌড়ে গিয়ে দেখল আসলেই কেউ নেই বাসায়! বাসার ফটকে বড় তালা দেওয়া।

০৬.

হাবলু রাস্তা দিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে যাচ্ছে। একসময় রাস্তার লাল বাতি জ্বলে উঠল। কিন্তু হাবলুর থামার কোনো নামগন্ধ নেই। লাল বাতি পেরোতেই ট্রাফিক পুলিশ হাবলুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, রাস্তায় লাল বাতি জ্বলে উঠেছে, দেখতে পারছেন না? লাল বাতি জ্বলে উঠলে যে থামতে হয় তাও জানেন না, নাকি?
হাবলু: লাল বাতি জ্বলে ওঠা তো দেখেছি, কিন্তু আপনি যে দাঁড়িয়ে ছিলেন এটা দেখতে পারিনি, স্যার।

ভবিষ্যতে বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের যোগ্যতা যেসব বিষয়ে চাওয়া হবে

1
ভবিষ্যতে বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের যোগ্যতা যেসব বিষয়ে চাওয়া হবে       

১। ছেলে এভারেস্টে ঊঠেছে কিনা ?
২। ছেলের ফ্ল্যাশ মব করার অভিজ্ঞতা আছে কিনা ?
৩। ডি এস এল আর ছিলো কিনা ?
৪। ফেসবুকে ফলোয়ার ১০,০০০+ ছিলো কি ?
৫। স্ট্যাটাসে লাইক কত হাজার আসত ?
৬। কয়টি পেজের এডমিন ছিল?
৭। আরেফিন রুমির চেতনায় বিশ্বাসী কি ?
৮। শাহবাগে গিয়েছিল কিনা ?
৯। মেহজাবীনের "তুমি এত্তগুলি পচা স্ট্যাটাসে লাইক ছিল কিনা ?
১০। ২০১৪ নির্বাচনে মিনিটে কয়টি ভোট দেওয়ার রেকর্ড আছে ?
সহ প্রমুখ
2
ফুচকা চটপটি কিংবা চাওমিন ততটা 

ভালোবাসি না যতটা তোমায় বাসি,
বিকেলের রোদে নদীর ধারে হাঁটতে                       
কিংবা আকাশে বিহঙ্গের মতো উড়ে যেতে 
ততটা ভালো লাগবে না যতটা না তোমাকে লাগে , 
মনের ভিন্নতায় প্রেমাসক্ত চোখে অন্য কিছুকে দেখিনি কখনো
যতটা না তোমাকে দেখি নিখুত ভাবে , আমার এলো চুলে
বিলি কাটতে কাউকে কখনো বলিনি যতটা না মন থেকে চাই 
তুমি হাত বুলিয়ে দেও ... হাতভরা কাঁচের চুড়ি চাইনি ততটা
তোমার দেওয়া কাঠের চুড়ি যতটা না প্রিয় . 
3

 প্রতিটি মানুষের

জীবনেই একজন
বিশেষ মানুষ আসে।
সেই
মানুষটি জীবনে এসে হয়
অগোছালো জীবন
গুছিয়ে দেয়,
না হয়
গোছালো জীবনকে অগোছালো করে দেয়
4
 মিথ্যে ভালোবাসা দিয়ে কখনো জীবন

চলেনা,
সময় আবেগের
বশবর্তি হয়ে
অনেকেই প্রেম
করে তবে
সেই প্রেম
বেশী দিন
টিকে না,
অল্প ঝড়েই
সেটা ভেঙ্গে যায় l
 6
 ~ভালোবাসা~
ভালোবাসা চিরদিন
বেঁচে থাকে,,
কখনো কবিতা হয়ে,,
কখনো গল্প
হয়ে,,
কখনো স্মৃতি হয়ে,,
কখনো আবার
কারো চোখের জল
হয়ে !!!
7

 অদ্ভুত হলেও

কথা টা সত্যিই!
আমাদের
ভালোবাসার
মানুষটা আমাদের
কাছ
থেকে হারিয়ে গেলেও
আমরা
তাকেই
ভালোবাসি কেন
জানেন ??
কারণ,
হয়তো ভালোবাসার
মানুষটা হারাতে পারে ,
কিন্তু মন
থেকে সেই মানুষ
টার জন্য
ভালোবাসা কোন
দিনও হারায় না ...
bangla comedy, কৌতক, কৌতুক, বাংলা ভালোবাসার কবিতা, মজার কৌতুক, bangla valobasar golpo, bengali jokes
 8
পারবো না তোমায়,

কষ্ট দিতে ।
পারবো না তোমায়,
ভুলে যেতে ।
পারবো না তোমায়,
বিদায় জানাতে ।
শুধু
পারবো সারা জীবন
তোমায়
ভালোবাসতে....
9
 কখনো কাউকে

অযোগ্য বলে
অবহেলা করো না ..
ভেবে দেখো তুমিও,
কারো না কারো কাছে অযোগ্য ..
মনে রেখো,
কেউ কারো যোগ্য নয়
যোগ্য করে নিতে হয়
10
যদি তুমি কাউকে পাওয়ার জন্য
আল্লাহর কাছে দোয়া করে না পাও,
তবে মনে করবে অন্য
কেউ তোমাকে পাওয়ার
জন্য দোয়া করছে,
যার দোয়া তোমার
চেয়েও সত্যি..
 11

পা না ভিজিয়ে হয়তো সাগর

পাড়ি দেওয়া সম্ভব,
কিন্তু চোখের জল
না ঝরিয়ে জীবন
পাড়ি দেওয়া টা অসম্ভব।
মানুষকে একটি বার
হলেও কাঁদতে হয়, এটাই
জীবনের সত্যতা।
  12

 একা থাকলে বোঝা যায়,

একাকীত্ব কি। দুঃখ
পেলে বোঝা যায়,
সুখ মানে কি। যুদ্ধ
করলে বোঝা যায়,
বাস্তবতা কি। আর
মন থাকলে বোঝা যায়,
ভালোবাসা কি।
bangla comedy, কৌতক, কৌতুক, বাংলা ভালোবাসার কবিতা, মজার কৌতুক, bangla valobasar golpo, bengali jokes, 

সাংবাদিক পেটাই! বাংলা মজার কৌতুক

love story bangla

- হ্যালো আমি সাংবাদিক! আপনার নামটা? আপনার সাক্ষাতকার নিচ্ছি আরকি!
- জি! আমার নাম ক্রেজি বয় মফিজ!!
- ও!তো আপনি কি করেন?
- সাংবাদিক পেটাই!
-  (কেশে নিয়ে) আচ্ছা আচ্ছা! কি পছন্দ করেন?
- সাংবাদিক পেটাতে!
- কি অপছন্দ করেন?
-
সাক্ষাতকার!
- আপনার ভাল গুন?
- সাংবাদিক কে কম কষ্ট দিয়ে পেটাই!
- খারাপ গুন?
- আজ পর্যন্ত কোনো সাংবাদিক কেই ছাড় দেই নাই!
- তাদের উপর এতো ক্ষোভ কেনো?
- তাদের উপর ক্ষোভ নাই। ক্ষোভ তো লাঠির উপরে! যেটা দুই বারি দিলেই ভাইংগা যায়!
- আচ্ছা আমার পরিচয় টা আপনার মনে আছে?
- হ্যা! সংখ্যাবিদ!
- (উফ তাহলে তো মনে হয় এবারের মত বাচা গেল ! সাংবাদিক শোনে নাই।
শুনছে সংখ্যাবিদ) আচ্ছা তাদের উপর
ক্ষোভ না থাকলে, তাদের পেটান কেনো?
- কারন আমি যখন তাদের সংখ্যাবিদ
বলে ডাকি, তখন তারা ভুল ধরে দেয়
না এইজন্যে! 

 সাংবাদিক :::: ইয়ে মানে ::::::::::::::