Showing posts with label love sms bangla. Show all posts
Showing posts with label love sms bangla. Show all posts

এক পাতিল দই || Bangla love story

 


মিষ্টির দোকান থেকে দই কিনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি এমন সময় এক গাড়ী পুলিশ এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। গাড়ী থেকে নেমেই কয়েকটা পুলিশ সোজা বন্দুক আমার দিকে করে বললো, এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে এক্ষুনি বের করুন নাহলে আপনাকে গুলি করতে বাধ্য হবো। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। সকাল সকাল এ কি বিপদে পড়লাম রে বাবা। ভয়ে ভয়ে বললাম, স্যার এর মধ্যে বগুড়ার দই আছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে বললাম, স্যার আমার বিয়েশাদি হয়নাই। আপনি দয়া করে বন্দুকটা বুকের দিকে অথবা মাথার দিকে তাক করে ধরুন। ওখানে গুলি লাগলে আমি আর এই জীবনে বিয়ে করতে পারবো না। ছোটবেলা থেকে আমার বিয়ে করার খুব ইচ্ছে।

পিছন থেকে এসআই সাহেব এগিয়ে এসে বললো, মানুষের এতো ইচ্ছে থাকতে তোর এই বিয়ে করার ইচ্ছের কারণ টা কি? আমি বললাম, বিয়ের পর অনেকগুলো বাচ্চাকাচ্চা হবে। তারপর শিশুপার্কে গিয়ে এক ব্যাটার উপর প্রতিশোধ নিবো। সেদিন প্রেমিকার সাথে শিশুপার্কে গেছিলাম। এক ব্যাটা আমাদের ঢুকতে দেয়নাই। বলছে ওখানে শিশু ছাড়া ঢোকা নিষেধ।

এসআই আমার কানমলা দিয়ে বললো, পরিবার পরিকল্পনার শ্লোগান শুনিস নাই? দুইটি বাচ্চার বেশি নয়৷ একটি হলেই ভালো হয়। আমি কাচুমাচু হয়ে বললাম, স্যার বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি। সেইখানে আমার ৩-৪ বাচ্চাকাচ্চা আপনাদের কাছে বেশি হয়ে গেলো? এসআই ধমক দিয়ে বললো ,অই তুই চুপ থাক। বেশি কথা বলিস। ঐ কেউ একজন এর প্যাকেট খুলে দেখ ভিতরে কি আছে।

একজন এগিয়ে এসে প্যাকেট খুলে দেখে বললো, স্যার ভিতরে দই ছাড়া কিচ্ছু নাই।

এসআই বললো, দইটাও চেক করে দেখ। গাড়ির ভিতরে দেখ চামুচ আছে সেটা নিয়ে আয়।

কনস্টেবল একটা চামুচ এনে দই থেক এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার ফার্স্টক্লাস দই। জীবনে এমন দই খাইনাই।এসআই বললো, কি তাই নাকি? সত্যি ভালো তো?কনস্টেবল বললো, জ্বী স্যার। একদম খাটি দই।এবার আমার বিশেষ যায়গায় দিকে বন্দুক তাক করে থাকা কনস্টেবল এসআইকে বললো, স্যার বউয়ের যন্ত্রণায় বাসায় মিষ্টি খাইতে পারি না। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে ওখান থেকে এক চামুচ দই খাই? খুব খাইতে ইচ্ছে করতেছে।আরো পড়ুনঃ চুমু খাওয়ার সাতটি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন এসআই বললো, ঠিক আছে খা। তবে এক চামুচের বেশি খাবি না।এরপর সেই কনস্টেবল এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার দই খেয়ে মুখের চুলকানি বেড়ে গেছে। আরেক চামুচ খাই স্যার?

এসআই বললো, ঠিক আছে খা।এবার খেয়াল করে দেখলাম, সব পুলিশ সদস্যরাই এসআইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্থাৎ এরাও খেতে চায়।আমি দৌড়ে গিয়ে সেই কনস্টেবলের হাত থেকে দইয়ের হাঁড়ি দুইটি কেড়ে নিয়ে বললাম, স্যার আর দই দেওয়া যাবে না। আপনার দুই কনস্টেবল আমার এক হাঁড়ির অর্ধেক দই শেষ করছে। আমি আর দই দিবো না।এবার আরেক কনস্টেবল বলে উঠলো, ও ভাই আমারে এক চামুচ দই দেন না। এমন করেন কেন?আমি রেগে গিয়ে বললাম, দেখেন ভাই। আমার আব্বা আমাকে এমনেই বিশ্বাস করে না। ভাববে আমি রাস্তায় দই খেয়ে হাঁড়ি খালি করেছি। আপনারা থাকেন আমি চালালাম।এসআই সাহেব বললেন, “আজ নির্বাচন” জানো না?এসব প্যাকেট নিয়ে ঘুরলে পুলিশ সন্দেহ করবেই।যাইহোক, এটা কোথাকার দই?আমি বগুড়ার দই বলে বাসার দিকে হাঁটতে লাগলাম। একবার পিছন ফিরে দেখি সবাই আমার হাতের দইয়ের প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবছি বাসায় গিয়ে আব্বারে কি জবাব দিমু।বাসার প্রায় সামনে চলে এসেছি। দেখি গলির মোড়ে কয়েকজন পুলিশ সমস্যা দাঁড়িয়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম শেষ। এবার আর আমার দই নিয়ে বাসায় যাওয়া হবে না। কোনো চিন্তা না করেই দইয়ের প্যাকেট দুইহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে দিলাম ভৌ-দৌড়।আমি দৌড়াচ্ছি পুলিশ সদস্যরা আমার পিছে পিছে দৌড়াচ্ছে। আমি আরো জোরে দৌড়াচ্ছি। ওরাও আমার পিছু আরো জোরে দৌড়াচ্ছে। বেশকিছু দূর দৌড়ানোর পর হাল ছেড়ে দিলাম। ইতিমধ্যে উনারা আমাকে ধরে ফেললো। আবার বন্দুক আমার দিকে তাক করে বললো, সত্যি করে বল এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে?আমি বললাম, আমার জীবন থাকতে বলবো না।। এর আগেরবার যে ভুল করছি সেটা আর করবো না।একজন পুলিশ সদস্য এসে আমার কাছে থেকে দইয়ের প্যাকেট কেড়ে নিয়ে খুলে দেখে বললো, আরে এর মধ্যে তো দই।আমি বললাম, হ্যাঁ দই।উনি বললেন, তাহলে তুই দৌড়াচ্ছিলি কেন?আমি রাগ নিয়ে বললাম, আপনারা মানুষের হাতে দই দেখলেই খাওয়া শুরু করেন। এই ভয়ে দৌড় দিছি।হঠাৎ একজন পুলিশ সদস্য বললো, তোর কথা আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। চল থানায় চল।আমি থানায় দইয়ের প্যাকেট নিয়ে বসে আছি। এরমধ্যে আব্বা এসে হাজির।আব্বা- তুমি কি করছ? পুলিশ তোমাকে ধরছে কেন?আমি- আব্বা আমি পুলিশকে দই খাইতে দেই নাই। তাই আমাকে ধরে নিয়ে আসছে।আব্বা – জেলে বইসা আমার সাথে মজা করো?

আমি- আব্বা বিশ্বাস করেন আমি মজা করতেছি না।হঠাৎ সেই এসআই এসে বললো, আরে তুই এইখানে কেন? এসআই আর আব্বাকে পরের ঘটনা সব খুলে বলতেই এসআই বললো, তোকে মুক্তি দিতে পারি এক শর্তে।।আব্বা বললেন, কি শর্ত এসআই সাহেব?এসআই বললেন, দইয়ের হাঁড়ি দুটো আমাকে দিতে হবে। নাহলে সাতদিন জেল খাটতে হবে।আব্বারে বললাম, আব্বা আমার সাতদিন জেল খাটতে কোনো সমস্যা নাই। আপনি দইয়ের হাঁড়ি দুইটা নিয়ে যান।

আব্বা আমাকে ধমক দিয়ে বললো, তুই চুপ থাক হারামজাদা। এসআই সাহেব হাঁড়ি দুইটা আপনি রাখেন। তবুও আমার ছেলেরে ছাইড়া দেন।আমি আর আব্বা থানা থেকে বের হচ্ছি। এমন সময় এসআই সাহেব বললেন, কিছুদিন ধরে বউ রাগ করে শ্বশুর বাড়ি গেছে। আমার বউয়ের রাগ আবার বগুড়ার মিষ্টি দই ছাড়া ভাঙ্গানো যায় না।

থানার বাইরে আইসা আব্বাকে বললাম, আব্বা জোরে হাঁটেন। আব্বা বললেন, কেন? আমি বললাম, আপনি না বলছিলেন একটা টক দই আর একটা মিষ্টি দই নিতে। এরা তো মিষ্টি দইটা খাইছে টক দইটা নিচে আছে। এসআইয়ের বউ যখন টক দইয়ে মুখে দিবে তখন কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন?হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম আশেপাশে আব্বা নাই। কিন্তু একটু দূরে চোখ রাখতেই টের পেলাম আব্বার মতো একটা লোক দৌড়ে পালাচ্ছে।

আমিও আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দিলাম দৌড়

Bangla love sms || Bangla romantic sms bd

 


ভালোবাসা তো যায়না টাকা দিয়ে কেনা,
ভালোবাসা তো যায়না হীরা মুক্তা দিয়ে গড়া।
দুটি মনের আকুলতায় যে বন্ধন হয়,
তাকেই তো ভালোবাসা কয় ।
@@@@@@@@@@@

তুমি আমার রঙিন স্বপ্ন শিল্পীর রঙে ছবি,
তুমি আমার ছাঁদের আলো, সকাল বেলার রবি,
তুমি আমার নদীর মাঝে একটি মাত্র কূল,
তুমি আমার ভালোবাসার শিউলি বকুল ফুল ।

মানুষ মানুষের জন্য,
পাখি আকাশের জন্য,
সবুজ প্রকিতির জন্য,
পাহাড় ঝর্নার জন্য,
ভালোবাসা সবার জন্য,
আর তুমি শুধু আমার জন্য ।

 

রাতের আকশে তাকালে দেখি লক্ষ তারার মেলা,
এক চাঁদকে ঘিরেই যেন তাদের যত খেলা,
বন্ধু অনেক পাওয়া যায় বাড়ালেই হাত,
আমার কাছে তুই যে বন্ধু ওই আকাশের চাঁদ ।

তোমার জন্য রইলো আমার সপ্নে ভেজা ঘুম
একলা থাকা শান্ত দুপুর রাত্রি নিঝুম
তোমার জন্য রইলো আমার দুস্টু চোখের ভাষা,
মনের মাঝে লুকিয়ে রাখা অনেক ভালোবাসা ।

আবার যদি বৃষ্টি নামে
আমিই তোমার প্রথম হবো,
লেপটে যাওয়া শাড়ির মত
অঙ্গে তোমার জড়িয়ে যাবো ।

যতো ভালোবাসা পেয়েছি তোমার কাছ থেকে,
দুষ্টু এই মন চায় আরো বেশী পেতে,
কি জানি তোমার মধ্যে কি আছে,
এই মন চায় তোমাকে আরো বেশী কাছে পেতে ।

আজকের এই দিন গুলো কাল সৃতি হয়ে যাবে,
মনের খাতায় কোন পাতায় লেখা হয়ে যাবে,
কালকে এই পাতা গুলো একটু উল্টে দেখো-
আবসা সব সৃতির মাঝে আমায় খুঁজে পাবে ।

সপ্নে তুমি আসো কেনো দেখা দাও না
তোমায় আমি ভালোবাসি তুমি কেনো বুঝো না,
একবার বলোনা তোমায় আমি ভালোবাসি
তাহলে স্বর্গের সুখ এনে দিতে পারি ।

যত দূরে যাওনা কেনো আছি তোমার পাশে,
তাকিয়ে দেখো আকাশ পানে, ঘুম যদি না আসে ।
কাছে আমায় পাবে তুমি হাত বাড়াবেই যেই,
যদি না পাও জানবে সেদিন আমি যে আর নেই ।

রাতে চাঁদ দিনে আলো,
কেনো তোমায় লাগে ভালো ?
গোলাপ লাল কোকিল কালো
সবার চেয়ে তুমি ভালো ।
আকাশ নীল মেঘ সাদা
গোয়াল ঘরে তুমি বাঁধা ।

তুমি যদি ৮০ বছর বাঁচো, তবে ৭২০ টা পূর্ণিমা পাবে, ১৬০ টা ঈদ পাবে,
৮০ টা জন্মদিন পাবে, ২/৩ টা সূর্য গ্রহন ও পাবে,
তবে আমার মত লাভার পাবে না ।

আমি মেঘের মত চেয়ে থাকি
চাঁদের মত হাসি
তারার মত জ্বলে থাকি
বৃষ্টির মত কাঁদি
দূর থেকে বন্ধু শুধু
তোমার কথাই ভাবি…

প্রেম মানে হৃদয়ের টান
প্রেম মানে একটু অভিমান
দুটি পাখির একটি নীড়
একটি নদীর দুটি তীর
দুটি মনের একটি আশা
তার নাম ভালোবাসা

সপ্ন আমার অনেক ছিলো বন্ধু তোমায় ঘিরে
সপ্ন দিয়ে কেনো তুমি আসলে না আর ফিরে
মন যে আমার অচিন পাখি নেই তার কোন খোঁজ
বন্ধু তোমায় মনে পড়ে সকাল সন্ধ্যা রোজ ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আবর্তন !! লেখাঃ তাজরীন খন্দকার

 আবর্তন


 

অরুণ আমার পেটে তোমার বাচ্চা,অথচ তুমি আমার জীবনটা নষ্ট করে আবার বিয়ে করতে চলেছো?
কীভাবে ভুলে গেলে আমাদের তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক এবং এক বছর আগে কোর্টে বিয়ে হওয়ার কথা?
অরুণের বিয়ের আসরে হঠাৎ দৌঁড়ে এসে হাঁফাতে হাঁফাতে কথাগুলো বললো একটা অচেনা মেয়ে। যাকে কিনা এখানে উপস্থিত কেউই চিনেনা।
কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে বরের সামনে বসেছিলেন ,ঠিক সেসময় সেখানে এই অচেনা মেয়ের আগমন, যার দাবি হলো এই বর তার স্বামী হয় এবং তাদের একবছর আগে বিয়ে হয়েছে৷ অপরিচিত সেই মেয়েটা হাতে বিয়ের কাগজপত্র নিয়ে জোরে জোরে চিৎকার করে সামনে যারা আছে সবাইকে দেখাচ্ছে,আর বলছে ___এই বিয়ে যেভাবেই হোক যেন ভেঙে দেন প্লিজ। বুঝার চেষ্টা করুন, এখানে যদি কোনো রকম বিয়ে হয় তাহলে আমার এবং আমার বাচ্চার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আমার জানা ছিল না অরুণ আমাকে এভাবে ঠকাতে পারে। সে আমাকে বলেছিল তার পরিবারকে ৬ মাসের মধ্যে যেভাবেই হোক রাজী করিয়ে আমাকে তার ঘরে তুলবে,কিন্তু তার আগেই সে আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করার জন্য চলে এসেছে। আমি ভাবতে পারছিনা কিছু!
মেয়েটা রীতিমতো সবার হাতেপায়ে ধরে হাউমাউ করে অনুরোধ করতেছে। অরুণের পরিবারের লোকজন পারছেনা এই মূহুর্তে এই অসম্মান থেকে বাঁচতে মাটির নিচে লুকিয়ে যায়! তাদের ছেলে তাদের না জানিয়ে কি করে এমন একটা জগণ্য কাজ করতে পারে!
ইতোমধ্যে এই ব্যপারটা সারাময় রটে গেলো।
সেটা এই বিয়ের কণেবেশে অন্তপুরে বসে থাকা চন্দ্রার কানে পৌঁছাতেই তার গা হিম হয়ে এলো, কিছুক্ষণের জন্য সে একদম স্থির হয়ে ছিল, আর তার চোখ দুটো মূহুর্তেই লাল হয়ে পানিতে টলমল করছে, মুখে কোনো শব্দ বেরুচ্ছেনা, হাত একটা আরেকটার হালকা উপর নড়ছে । হঠাৎই সে লাল বেনারসি শাড়ী আর ঘোমটা টেনে এক দৌঁড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো ।

একদম বাইরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালো, আর দেখলো এক জায়গায় সবাই জড়ো হয়ে আছে এবং সেখান থেকে তর্কাতর্কির খুব জোরে জোরে শব্দ আসছে, চন্দ্রা বুঝতে পারলো সেই মেয়েটার সাথেই হয়তো কথা বলছে সবাই। চন্দ্রা সামনে এগুনোর জন্য যে-ই পা বাড়াবে তখনি তাকে পেছন থেকে কেউ আটকে ফেললো। পেছনে তাকানোর আগেই সামনে একজনের চোখে আর চোখবিদ্ধ হলো, সবার ভীড় থেকে যে চোখজোড়া তার দিকে অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে। চন্দ্রা পেছনে আটকানো হাতটাকে ছিটকে সরিয়ে দরজার একদম বাইরে চলে আসলো। ততক্ষণে সেখানের সবার দৃষ্টি এসে পড়লো চন্দ্রার দিকে। আবর্তন
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে অরুণের চোখ ভিজে আছে কিন্তু সেখানে এই মূহুর্তে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো কোনো শক্তি তার নেই। চন্দ্রা ডান হাতের আঙুলটা উপরে সামনে ধরে ঠিক অরুণের দিকে লক্ষ্য করে কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে, ভাঙা স্বরে জোরে জোরে বলতে লাগলো,,
___ একটা মানুষ এতো নিচ কীভাবে হয়? কীভাবে পারে এতো নিখুঁতভাবে প্রতারণা করতে?
এই এই! আপনিই না সেদিন বলেছিলেন, চন্দ্রা তোমার আর আমার নামের মধ্যে একটা দারুণ মিল আছে, অরুণ নামের অর্থ সূর্য, আর আমার নামের অর্থ চাঁদ! চাঁদ যেমন সূর্যের আলোয় নিজেকে আধারে আলোকিত করে, তেমনি আপনার ভালোবাসায় আমাকেও সারাজীবন আলোকিত করে রাখবেন! বলেছিলেন না? কেন বলেছিলেন এগুলো, কেন ? কেন আমার এতো স্বপ্ন আশাকে ভেঙে চুরমার করে দিলেন! কি দোষ ছিল আমার?
বিয়ের আসর থেকে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরে একটা মেয়ের জীবনে কেমন ধ্বস নেমে আসতে পারে, আপনার ধারণা আছে? আমি আপনাকে কখনোই ক্ষমা করবোনা,কখনোই না।
চন্দ্রার কথা শুনে এখানে সবাই মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে রইলো, কেউ কেউ চোখ মুছতেছে, শুধু অরুণ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে শুনে যাচ্ছে। চন্দ্রা এখান থেকে ভেতরে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েও আবার অরুণের দিকে তাকালো, অরুণ হাত নাড়িয়ে বলতে চাচ্ছে এসবের কিছুই সে জানেনা,কিন্তু চন্দ্রা তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চেঁচিয়ে বললো, ___আপনার এই পাপী মুখ আমাকে দেখাবেন না। আমি আপনাকে আর কখনোই দেখতে চাইনা। ঘৃণা করি আপনাকে! বলেই এক দৌঁড়ে চন্দ্রা ভেতরে চলে গেলো। বিয়েটা ভেঙে গেলো, অরুণ কোনো একটা মুখের কথাও বলতে পারলোনা। চারপাশ থেকে মানুষজন ছি ছি কর‍তে লাগলো। তার পরিবারের লোকজন তাকে যাচ্ছেতাই বকে যাচ্ছে। কোনো রকম সেখান থেকে মাফ চেয়ে বরপক্ষ কণেবিহীন গাড়ী নিয়ে খালি হাতে ফেরত যাচ্ছে। অরুণের তখনি মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো, কাউকে বিশ্বাস করাতে পারছেনা সত্যিই সে নির্দোষ! এমন গন্ডগোলের ভীড়ে অরুণ সেই মেয়েটাকেও আর খুঁজে পেলোনা আর।
কারো চোখের দিকে তাকাতে পারছেনা, খুব ক্ষেপে আছে সবাই। আবর্তন
গাড়ীতে বসে অরুণ উপরে তাকিয়ে নিজেকে শক্ত করলো। চন্দ্রার সাথে বিয়ের তারিখ হওয়ার পরে মাত্র তিনবার ফোনে কথা হয়েছে, এর আগে অসংখ্য পাত্রী দেখেছে অরুণ কিন্তু কাউকেই তার জীবনসঙ্গী হিসেবে যোগ্য মনে করতে পারেনি। কিন্তু চন্দ্রাকে দেখার পর পরই তার মনে হয়েছিল তারা একে অপরের জন্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ কাঙ্খিত সেই চাওয়াকে পাওয়ার শুরুতেই হারানোর ভয়াবহ ব্যথার পাথর বেঁধে ফিরতে হচ্ছে। সে জানেনা এটা কেমন চক্রান্ত ছিল! সত্যিই কি চন্দ্রাকে সে হারাবে এটা ভাবতেই অরুণের বুক কেঁপে ওঠছে।

কিন্তু নাহ তাকে হেরে গেলে চলবেনা,সেতো জানে সে সত্যিই কিছু করেনি। তাকে এখানে ফাঁসানো হয়েছে। আর এটা তাকে যেভাবেই হোক প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু কে এমন করতে পারে? যে মেয়েটা আসছিল তাকেও তো অরুণ চিনেনা, আবার সে যে কাবিনপত্র নিয়ে আসলো সেখানেও অরুণের সাক্ষর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো। অরুণের জানামতে তার কোনো শত্রু থাকতে পারেনা, আবার এমনো নয় যে তার কোনো প্রাক্তন প্রেমিকা ছিল। সে কখনো প্রেম করার সুযোগই পায়নি। বছরের পর বছর একগাদা বই নিয়ে তার জীবনের এতগুলো সময় নির্বাহিত হয়েছে। আর সেই জন্যই আজ তার ভালো একটা চাকরি আছে,সম্মান আছে। তবে আজকের কান্ডে তার সারাজীবনের সঞ্চিত সম্মানটা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। সে জানেনা কি থেকে এখন কি শুরু করবে, আর সবার ভুল ভাঙাবে! তবে সে হাল ছাড়বেনা। মনে মনে শপথ করেছে যে করেই সত্যটা সবার সামনে আনবে এবং সে চন্দ্রাকেই বিয়ে করবে। আবর্তন

অন্যদিকে চন্দ্রা নিজের ঘরে সেই দুপুর থেকে দরজা লাগিয়ে বসে আছে। তাকে এভাবে ঘরে দরজা লাগিয়ে রাখতে দেখে সবাই চিন্তায় পড়ে গেলো। শুধুমাত্র তার ভাবী ছাড়া সবাই-ই কেমন জানি ছুটাছুটি করছে, চন্দ্রার মা তো পুরো পাগল প্রায় অবস্থা। এভাবে মেয়েটার বিয়ে ভেঙে গেলো, কে জানে তার মেয়ের ভবিষ্যৎে কি অপেক্ষা করছে! কিন্তু চন্দ্রার সেই ভাবীটা উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করছে কিছুই হবেনা। যা হয়েছে হয়তো মঙ্গলের জন্যই হয়েছে। নাহলে এমন একটা ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে বিষয়টা জানলে কতোই না দেরি হয়ে যেতো।
চন্দ্রার মা বিষয়টা বুঝতে পেরে কিছুটা আশ্বস্ত হলেন। আবর্তন
এদিকে সবাইকে বুঝাতে বুঝাতে চন্দ্রার ভাবী প্রায় হাঁফিয়ে উঠেছে।
এতকিছু হয়ে যাওয়ার পরে কেউ চন্দ্রার সাথে কথা বলতে যায়নি। কারণ সেটার সুযোগই পায়নি কেউ। অবশেষে ভাবী গিয়ে চন্দ্রার দরজার উপর কড়া নাড়লেন।
পুরো তিন মিনিট পর চন্দ্রা একটা গম্ভীর ভাব নিয়ে দরজা খোলে সামনে নিজের ভাবীকে দেখে জোরে হেসে উঠে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বললো,
___ভাবী তুমি? আমি তো ভাবছি অন্য কেউ!
চন্দ্রার ভাবী মুখ বাঁকিয়ে বললো, আবর্তন

___কেন আমি না হলে কি শুরু করে দিতে অভিনয়? তুমিও পারো বোন। আচ্ছা মানলাম এসব সংলাপ দেওয়া সহজ কিন্তু চোখে পানি আসে কীভাবে বুঝাবে?
চন্দ্রা তার ভাবীর মুখ চেপে ধরে বললো, ___ আস্তে ভাবী আস্তে, কেউ শুনে ফেলবে তো!
চলবে…

পিশাচ || bangla story



- খালাম্মা, কাইল রাইতে খালু আমারে.... 

- তুই যাবি এখান থেকে!! 

অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালাম সালমার দিকে। সকাল থেকে এই নিয়ে চারবার শুনলাম কথাটা। ভেবেছে কি ওর কথা বিশ্বাস করবো?? আমার সহজ সরল স্বামীটাকে ফাঁসাতে চাইছে। সোসাইটিতে একটা বদনাম হওয়ার আগেই বেতন দিয়ে বিদায় করে দিলাম সালমাকে। বের করে দেয়ার সময় ওর করুণ মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়াই লাগলো। তারপরও নিষ্ঠুরের মতো মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলাম। 

অনেক কষ্টে একটা কাজের মেয়ে পেয়েছিলাম। বুঝিনা কেন আমার বাসায় কাজের বুয়া বেশিদিন টিকে না ?? অথচ অন্যান্য ফ্ল্যাটের ভাবিদের থেকে আমি বেশি টাকা বেতন দেই। 

দুইমাস আগে হাসনা নামের একজন কাজের মেয়ে ছিল। খুব ভাল কাজ করতো মেয়েটা। কিছুদিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছিলাম, মামাতো ভাইয়ের বিয়েতে। আসিফ যেতে পারেনি,অফিসে অনেক কাজ ছিল তো তাই। এসে দেখি মেয়েটা নেই। অাসিফ বললো, মেয়েটা নাকি মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করেছিলো তাই সে তাকে বাসা থেকে বের করে। তা বেশ করেছে। আমার স্বামী অনেক নীতিবান, অন্যায় সে সহ্যই করে না। কিন্তু পাশের ফ্ল্যাটের ভাবিদের এসব সহ্য হয় না, তাইতো শুধু আমার স্বামীর নামে কুৎসা রটিয়ে বেড়ায়। বলে কিনা, যেদিন আমি বাসায় ছিলাম না সেই রাতে তারা আমাদের বাসায় চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দরজা খুলে দেখে এলোমেলো কাপড়ে হাসনা আমাদের ঘর থেকে দৌড়ে বেরোচ্ছে আর আসিফকে শাসাচ্ছে, "খালাম্মারে সব কইয়া দিমু আপনে আমার লগে কি করছেন... " আসিফ ওকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা তখন আসিফের নামে প্রতিবেশীদের কাছে যতসব আজেবাজে কথা বলতে থাকে। যদিও আমি ওসব মোটেও বিশ্বাস করিনি, কারণ আমার স্বামী ফেরেশতার মতো। 

সেদিন ছেলেদেরকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখি এক জায়গায় মহিলাদের জটলা। মহুয়ার আম্মুকে দেখলাম মুখ থমথমে। উনার সাথে আমার অনেক দিনের ভাব। গিয়ে জিগ্যেস করলাম, "কি হয়েছে ভাবি??" উনি আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেন, লবণ শেষ হয়ে গিয়েছিল তাই আমাদের বাসায় তার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মহুয়াকে পাঠিয়েছিলেন একবাটি লবণের জন্য। বাসায় তখন আসিফ ছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন নাকি আসিফ মহুয়াকে.... 

আমি রাগে ক্ষোভে চিৎকার করে উঠলাম, "থামেন!! আর একটা কথা ও বলবেন না। আমাদের দুটি ছেলে কোন মেয়ে নাই এজন্য আসিফ মেয়ে বাচ্চাদের অনেক আদর করে। মহুয়াকে ও নিজের মেয়ের মতোই আদর করে। আর আপনি কিনা ওর নামে এমন নোংরা কথা বলছেন!!... "

সেই থেকে মহুয়ার আম্মুর সাথে আমার মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আমার চরিত্রবান স্বামীর নামে এত বড় অপবাদ!! 

আমার ছোট বোন দিবা ভার্সিটি এডমিশনের জন্য ঢাকা এসেছে। আমার বাসায় থেকেই পরীক্ষা দিবে। সেদিন কিচেনে রান্না করার সময় দিবা এসে ইতস্তত করতে থাকে। 

- কিরে কিছু বলবি?? 

- আপু দুলাভাইর আচরণ কেমন যেন, আমার ভালো লাগে না। যখন তখন শুধু গায়ে হাত দেয়, জড়িয়ে ধরে... 

আমি হেসে উড়িয়ে দিলাম, 

- আরে ধুর, তুই না কিসব ভাবিস!!! আসিফ তোকে ছোট বোনের মত ভাবে তাই একটু জড়িয়ে ধরে। তুই অত নেগেটিভ ভাবে নিস না তো!! 

সেদিন রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। দেখি আসিফ পাশে নেই। বেডরুমের সাথেই এটাচড বাথরুম, সেখানে ও নেই। এত রাতে ও কোথায় যাবে??  আসিফের নাম ধরে ডাকলাম। ও হন্তদন্ত হয়ে রুমে ঢুকলো। 

- কোথায় গিয়েছিলে?? 

- পা.. পানি খেতে.... 

- পানি খেতে মানে?? সাইড টেবিলেই তো জগ গ্লাস রাখা।

- খেয়াল করিনি

বলে ও কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়লো। 

কিচেনের লাইট অন নাকি দেখার জন্য রুম থেকে বেরিয়ে দেখি কিচেনের লাইট অফ কিন্তু দিবার রুমের লাইট অন। ও কি পড়ছে এখনও?? 

দিবার রুমে গিয়ে দেখলাম ও খাটে বসে আছে। 

- কিরে এখন ও ঘুমাসনি?? 

বলে ওর কাঁধে হাত রাখলাম। থরথর করে কাঁপছে ও। কোন কথা বলছে না, আমার দিকে চেয়ে ও দেখলো না। লাইট অফ করে দিয়ে চলে এলাম আমি। 

সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। আজকে দিবার অবস্থা দেখে সুমাইয়ার কথা মনে পড়ে গেল।  বছর দুয়েক আগের কথা। ৭/৮ বছরের সুমাইয়া নামের একটা কাজের মেয়ে ছিল। কিচেনের ফ্লোরে ঘুমাতো ও। প্রতিরাতেই পানি খাওয়ার নাম করে আসিফ কিচেনে যেতো। ওর কষ্ট হয় ভেবে বেডের পাশে সাইড টেবিলে জগ গ্লাস রেখে দিলাম। একদিন ঘুম ভেঙে দেখি আসিফ পাশে নেই। কিচেনের লাইট জ্বলছে বলে দেখতে গেলাম। গিয়ে দেখি সুমাইয়া গুটিসুটি মেরে বসে আছে, কাঁদছে। সামনে আসিফ দাঁড়িয়ে। আমাকে দেখে চমকে গেল। আমি সুমাইয়ার মাথায় হাত রাখলাম, 

- কি হয়েছে কাঁদছিস কেন?? 

ও থরথর করে কাঁপছিল দিবার মতো। কথা বলল না, শুধু অঝোরে কাঁদছে। আমি আসিফের দিকে তাকালাম। 

- কি হয়েছে ওর?? 

- ফ্রিজ থেকে কেক চুরি করে খাচ্ছিল। দিয়েছি এক থাপ্পড়। ওকে সকালে বিদায় করে দিও। আমি যেন অফিস থেকে এসে ওকে না দেখি। 

বলে আসিফ রুমে চলে গেল। 

সকালে উঠেই একজন লোক দিয়ে সুমাইয়াকে ওর গ্রামে পাঠিয়ে দিলাম। যদিও খুব মায়া লাগছিল, কিন্তু আসিফ বলেছে। না পাঠালে ও মাইন্ড করবে। সবাই বলে আমি নাকি স্বামী ভক্ত, অন্ধের মতো ওকে বিশ্বাস করি। যে যা বলুক, আমার কি!! 

এতদিন আমার মনে কোন প্রশ্ন জাগেনি। কিন্তু আজকে মাথায় হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সারা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি। 

সকালে ছেলেদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম আসিফ, দিবা যার যার রুমে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। তাই আর কাউকে ডিস্টার্ব করলাম না। বাইরে থেকেই মেইন ডোর লক করে দিলাম। 

সাধারণত আমি চার ঘন্টা পর স্কুল ছুটি হলে একবারেই ছেলেদের নিয়ে বাসায় ফিরি। কিন্তু আজকে আসার সময় বাচ্চাদের বেতন বই ভুলে নিয়ে আসিনি। তাই বাচ্চাদেরকে স্কুলে দিয়েই চলে এলাম বাসায়। চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুলে যেই ভেতরে ঢুকবো অমনি দিবার চিৎকার শুনতে পেলাম। জুতো সহ দৌড়ে গেলাম দিবার রুমে। ঢুকে যা দেখলাম, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। 

আসিফ আমাকে দেখে আঁতকে উঠলো। ততক্ষণে আমার রক্ত মাথায় চড়ে গেছে। পায়ের স্যান্ডেলটা খুলে ওকে এলোপাতাড়ি পেটাতে লাগলাম। যতক্ষণ না স্যান্ডেলটা ছিঁড়লো ততক্ষণ পর্যন্ত ওকে পেটাতে থাকলাম। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের সব মানুষ ছুটে এলো। মহুয়ার আম্মু এসে আমার হাত থেকে ছেঁড়া স্যান্ডেলটা ফেলে দিলেন, 

- ভাবি, শান্ত হয়ে বসেন। কি হয়েছে আমাদেরকে বলেন। 

আমি মহুয়ার আম্মুর গায়ে ঢলে পড়লাম, 

- ভাবি, আমি আপনার প্রতি অন্যায় করেছি, আমাকে মাফ করে দিয়েন। এই জানোয়ারটাকে অন্ধ বিশ্বাস করে কত বড় পাপই না আমি করেছি!! ওরে আমি ছাড়বো না... 

বলে ছেঁড়া স্যান্ডেলটা তুলে নিয়ে আবার ওর নাকে মুখে পেটাতে লাগলাম। থানায় ফোন করে পুলিশ আনলাম। ওর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করলাম। যতজনকে ও নির্যাতন করেছে সবার পক্ষ হয়ে আমি লড়বো। 

দিবাকে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য হসপিটালে আনা হয়েছে। সাথে মহুয়ার বাবা মা ও আছেন। উনারা না থাকলে আমি এতকিছু করতে পারতাম না। তাঁদের মুখের দিকে তাকাতেও আমার লজ্জা করছে। 

পেছন থেকে কেউ একজন সালাম দিলো। ঘুরে তাকিয়ে দেখি সালমা। ও এই হসপিটালে আয়ার কাজ করে। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম, 

- আমাকে মাফ করে দিস, আমি তোর প্রতি অনেক অন্যায় করেছি। 

- আমি কিছু মনে রাখি নাই গো খালাম্মা... 

বলে ও অঝোরে কাঁদতে লাগলো। 

সালমাকে রাজি করালাম আসিফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে। হাসনাকে ও খুঁজে বের করবো। সুমাইয়ার বাড়িতে ও যাবো। আমি ওদের সবাইকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিবো। যত যাই হোক, আমি ওদের পক্ষে লড়বো। 

আল্লাহর কাছে শুধু অভিযোগ করতাম, কেন আল্লাহ আমাকে একটা মেয়ে সন্তান দিলো না। কিন্তু আজকে আমি আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া জানাই যে তিনি আমাকে কোন মেয়ে সন্তান দেননি। কারণ এসব মানুষরূপী পিশাচদের কাছে অন্যের মেয়ে কেন নিজের মেয়ে ও নিরাপদ নয়!!

( সমাপ্ত )

লেখা : আফরিন শোভা

পুরুষকে পাগলের মতো ভালবাসতে চায় যেসব নারীরা!

ডেস্ক রিপোর্ট : সময়ের সাথে সাথে বেড়ে চলেছে প্রেম করার প্রবণতাও। আর এজন্য প্রয়োজন একজনকে অন্যজনের মন জয় করা। এক্ষেত্রে পুরুষের মন জয় করা যতটা সোজা ততটায় যেন কষ্ট নারীর মন জয় করা। তবে কাজটা কিন্তু মোটেও কঠিন নয়। এজন্য প্রয়োজন কিছু টেকনিক। এক নজরে দেখে নিন ৫টি টিপস যেটা মেনে চললে পছন্দের নারী সঙ্গিনী পাগলের মত ভালবাসতে চায়-

১) ফিটফাট থাকুন:
নারীরা দীর্ঘদেহী পুরুষ পছন্দ করেন বটে, তবে উচ্চতাই শেষ কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। আসল বিষয় হলো নারী বুঝতে চায় আপনি নিজের যত্ন নিতে, ফিটফাট থাকতে পারছেন কি না। তাঁরা ভাবেন, যে পুরুষ নিজের দেখভাল করতে পারেন না, তিনি আমার দেখভাল করবেন কী করে?
সুতরাং, আলুথালু পোশাক, এলোমেলো চুল, নখ না কাটা বা ময়লা থাকা, মোজায় গন্ধ, ময়লা শার্ট বা জিনসের উদাসীনতার দিন শেষ। হালের নারীরা এসব একেবারেই পছন্দ করেন না। নারীর মন পেতে হলে এসব খামখেয়ালিপনা আজই ছাড়ুন।
২) নিজের রুচি তুলে ধরুন:
দামি ব্র্যান্ডের জামা-জুতো হতে হবে বিষয়টা মোটেও এমন নয়। আর যদি একটার সঙ্গে বেমানান আরেকটা এই ব্র্যান্ডের শার্ট, ওই ব্র্যান্ডের জুতো, সেই ব্র্যান্ডের জিনস হয় তাহলে তা আপনাকে দেখেই দৌড়ে পালাতে পারে যে কেউ। তাই সাধারণ দোকান থেকে কেনা হলেও পোশাকে-আশাকে নিজের রুচি পছন্দটা তুলে ধরুন। আর খেয়াল রাখুন তা যেন আপনার শারীরিক গড়ন আর গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই হয়। নিজের একটা স্টাইল গড়ে তুলুন।আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি যেমন নারীদের ‘সন্ন্যাসিনী’ সেজে থাকা পছন্দ করেন না, ঠিক তেমনি আধুনিক নারীরাও ‘অফিস টাইপ’ পোশাকের পুরুষদের পছন্দ করেন না।
৩) মুখে হাসি ফোটান:
রসবোধ থাকাটা যে কারও জন্যই উঁচুমানের গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কাঙ্ক্ষিত পুরুষের চরিত্রে নারীরা এটা খোঁজেন। প্রাত্যহিক জীবনে এমনিতেই বহু ঝুট-ঝামেলা নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে থাকার মতো যথেষ্টই কারণ থাকে নারীদের। তাই একজন মনমরা টাইপ সঙ্গী তাঁদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তাই নিজে হাসুন, তাঁর মুখেও হাসি ফোটাতবে খেয়াল রাখতে হবে ঠাট্টা-তামাশা করতে গিয়ে সব সময়ই অন্য কাউকে খাটো করা, আঘাত করা মোটেই কাজের কথা না। অনেক নারীই এটা রীতিমতো অপছন্দ করেন। আর যে পুরুষ হাসিমুখে নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন, নিজেকে নিজেই মশকরা করতে পারেন, তাঁর প্রতি নারীদের আকর্ষণ কতটা তীব্র সে বিষয়ে আমরা কিছু বলব না, আপনি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখুন।
৪) তাঁকে বুঝতে দিন যে আপনি যত্নবান:
নারীরা সব সময়ই বারবারই এটা নিশ্চিত হতে চান যে তাঁকে কেউ ভালোবাসছেন, তাঁর খেয়াল রাখছেন। তাঁর হাত ধরে হাঁটা, সুযোগ পেলে একসঙ্গে সূর্যাস্ত দেখা—হোক তা বারান্দায় দুই মিনিটের জন্য, মাঝেমধ্যেই জড়িয়ে ধরা, রাস্তা পেরোনোর সময় তাঁর খেয়াল রাখার মতো কাজগুলোকে মোটেই অবহেলা করবেন না। আপনার এসব ছোট ছোট অভ্যাস থেকে অনেক কিছুই বোঝা যায়। কখনো কখনো রাস্তায়, বেড়াতে গিয়ে সবার সামনে তাঁর হাত ধরে হাঁটা মানে আপনি তাঁকে নিয়ে গর্বিত। তবে এ চর্চা যেন হয় জড়তাহীন, সাবলীল আর আতিশয্য বর্জিত।
৫) চোখে চোখ পড়েছে:
যখনই তাঁর চোখে চোখ রেখে তাকান। মিষ্টি করে একবার হাসুন। ভালোবাসার চোখে সরাসরি তাঁর চোখে তাকালে একজন নারী যে অনুভূতি পান তার তুলনা করা দুষ্কর। আপনার ওই চাহনিতে নিজেকে লাখে একজন মনে হতে পারে তাঁর। আর মাঝেমধ্যেই চোখে চোখ রেখে তাকানোটা জরুরি। কেননা, অনেক কথায় যা হয় না, চোখের ভাষায় সেটা বলা হয়ে যেতে পারে।

দয়া করে এই Post পড়বেন. না হলে হয়তো জীবনে অনেক কিছু Miss করবেন

bangla love poem

দয়া করে এই status পড়বেন.
না হলে হয়তো জীবনে অনেক কিছু
Miss করবেন.......
দশ বছর বয়সী এক ছেলে ১৫ দিন
আগে আনারস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল,
ঠিক ঐদিন থেকেই।
পরবর্তীতে ছেলেটিকে যখন
ডাক্তারের
কাছে নিয়ে গিয়ে পরিক্ষা করা হলো,
তখন তার শরীরে এইডস ধরা পড়ল।
ছেলেটির বাবা-মা তো বিশ্বাসই
করতে পারছিল না। তারপর
তারা পুরো পরিবার পরিক্ষা করাল
কিন্তু কারো দেহেই এইডস
খুজে পাওয়া গেল না। তাই ডাক্তার
পুনরায় পরিক্ষা করল
ছেলেটিকে এবং সে এরকম কিছু
খেয়েছিল কিনা জিজ্ঞেস করায়
ডাক্তারকে ছেলেটি বলল, সেদিন
সন্ধ্যায় আনারস খেয়েছিল।
সাথে সাথে হাসপাতাল থেকে এক
দল চিকিৎসক গেল সেই আনারস
বিক্রেতার কাছে এবং তারা সেই
আনারস
বিক্রেতার হাতে ক্ষতস্থান
খুজে পেল,
যেখান থেকে রক্ত বের হয় আনারসের
সাথে মিশতেছিল।
তারা বিক্রেতার রক্ত
পরিক্ষা করে তার
শরীরে এইডসের জিবানু খুজে পেল,
কিন্তু লোকটা জানত না। দূর্ভাগ্যবসত
ছোট্ট ছেলেটি এখন এইডস
রোগে ভুগছে!
দয়া করে রাস্তার খাবার খাওয়ার
পূর্বে অতিরিক্ত
শতর্ক হবেন এবং এই
সংবাদটি ছড়িয়ে দিন
আপনার প্রিয়জনদের কাছে।
কে যানে আপনার একটি শেয়ার
হয়তোবা একটি জীবন
রক্ষা করতে পারে ।।।
...........................(সংগৃহীত)

bangla jokes,bangla koutuk,bangla comedy,bangla funny sms,jokes bangla, bangle jokes 18+, bangla sad sms,sms bangla,bangla romantic sms,bangla love sms,bangla sms,কৌতক,মজার কৌতুক,বল্টুর নতুন জোকস,বল্টুর মজার জোকস,বল্টুর জোকস,বল্টু জোকস

আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে জাগাতে পারিনি ভালোবাসা

ভালবাসার কবিতা

bangla love poem

আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে
জাগাতে পারিনি ভালোবাসা,
ঢালতে পারিনি কোনো বন্ধুত্বের
শিকড়ে একটু জল-
ফোটাতে পারিনি কারো একটিও আবেগের ফুল
আমি তাই অন্যের বন্ধুকে চিরদিন বন্ধু বলেছি;
আমার হয়তো কোনো প্রেমিকা ছিলো না,
বন্ধু ছিলো না,
ঘরবাড়ি, বংশপরিচয় কিচ্ছু ছিলো না,
আমি ভাসমান শ্যাওলা ছিলাম,
শুধু স্বপ্ন ছিলাম;
কারো প্রেমিকাকে গোপনে বুকের মধ্যে
এভাবে প্রেমিকা ভেবে,
কারো সুখকে এভাবে বুকের মধ্যে
নিজের অনন্ত সুখ ভেবে,
আমি আজো বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ।
তোমাদের সকলের উষ্ণ ভালোবাসা, তোমাদের
সকলের প্রেম
আমি সারি সারি চারাগাছের মতন আমার বুকে
রোপণ করেছি,
একাকী সেই প্রেমের শিকড়ে আমি
ঢেলেছি অজস্র জলধারা।
সকলের বুকের মধ্যেই একেকজন নারী আছে,
প্রেম আছে,
নিসর্গ-সৌন্দর্য আছে,
অশ্রুবিন্দু আছে
আমি সেই অশ্রু, প্রেম, ও নারী ও স্বপ্নের জন্যে
দীর্ঘ রাত্রি একা জেগেছি;
সকলের বুকের মধ্যে যেসব শহরতলী আছে,
সমুদ্রবন্দর আছে
সাঁকো ও সুড়ঙ্গ আছে, ঘরবাড়িআছে
একেকটি প্রেমিকা আছে, প্রিয় বন্ধু আছে,
ভালোবাসার প্রিয় মুখ আছে
সকলের বুকের মধ্যে স্বপ্নের সমুদ্রপোত আছে,
অপার্থিব ডালপালা আছে।
আমি সেই প্রেম, সেই ভালোবাসা, সেই স্বপ্ন
সেই রূপকথার
জীবন্তমানুষ হয়ে আছি;
আমি সেই স্বপ্নকথা হয়ে আছি, তোমাদের
প্রেম হয়ে আছি,
তোমাদের স্বপ্নের মধ্যে ভালোবাসা হয়ে আছি
আমি হয়ে আছি সেই রূপকথার স্বপ্নমানুষ।
:::বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ :::
bangla love poem, bangla love sms, love sms bangla, love poem bangla