Showing posts with label bangla love poem. Show all posts
Showing posts with label bangla love poem. Show all posts

আজকের গল্প - ভালোবাসার বিপদ

 কোনও সমস্যা ছিল না। দিব্যি শান্তিতে ছিলাম। সমস্যা বাধাল দিশা। আমাদের পত্রিকার অফিসে সবে ঢুকেছে। ওর দিকে তাকালেই বুকের মধ্যে কুর কুর করে। ইচ্ছে হয় নানা অছিলায় ওর সঙ্গে কথা বলি, একসঙ্গে চা খাই, রাস্তায় ঘুরে বেড়াই। তার সুযােগও এসে গেল। একদিন অফিসের একটা কাজে দিশাকে ডেকে পাঠালাম। দিশা হাসিমুখে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।


Click Here To Watch This Video

আমি বললাম, বসুন।

দিশা আমার সামনে বসল।

জিজ্ঞেস করলাম, চা খাবেন?

দিশা বলল, না।

কফি?

হরলিক্স?

না।-বলে দিশা হেসে ফেলল।

এবার আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী?

দিশা জোর দিয়ে বলল, অবশ্যই।

পুরুষের স্বাধীনতায়?

পুরুষের স্বাধীনতার দরকার নেই। পুরুষেরা তাে এমনিতেই স্বাধীন।

মােটেও না। পুরুষেরা নারীদের চেয়েও পরাধীন। এই আমার কথাই ধরুন। বাড়িতে আমার মা আছে, স্ত্রী আছে। তাদের অমতে কোনও কাজ করতে পারি না। তারা যা বলবে তাই আমাকে শুনতে হবে। না শুনলে অশান্তি। আমি কাউকে এখন ভালবাসতে চাইলে ভালবাসতে পারব না। আমার স্ত্রী বা মা যদি কথাটা জানতে পারে, তা হলে আমার দফারফা।

দিশা হেসে বলল, জানতে পারবে কেন?

আমিও হেসে বললাম, কী করে যে জেনে যায়, তা বলতে পারব না।

এরকম কি কখনও হয়েছে ?

হয়নি। তবে হতে কতক্ষণ? কারণ, পুরুষের মন ভালবাসার ব্যাপারে বড়ই চঞ্চল।

কখন যে কাকে ভালবেসে বসবে, তার ঠিক নেই। বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, এবার কাজের কথায় আসি। সামনের রবিবার একটা Cover Story বেরবে।

বিষয় : নারী স্বাধীনতা। আপনাকে এ নিয়ে সাড়ে তিন হাজার শব্দের মধ্যে একটা লেখা তৈরি করতে হবে। পারবেন তাে?

দিশা দৃঢ়তার সঙ্গে বলল, পারব।

আমি তা শুনে বললাম, তবে একটা কথা মনে রাখবেন, লেখা যেন সহজ-সরল হয়। পাঠকেরা যেন লেখা পড়ে বুঝতে পারে।

আচ্ছা।

তা হলে আজই লেখা শুরু করে দিন। পরশু দিন লেখাটা চাই।

এত তাড়াতাড়ি!

হ্যা।

চেষ্টা করব।-বলে দিশা চলে গেল।

এ কী হল আমার! এরকম তাে হওয়ার কথা নয়। ঘরে আমার সতীসাধ্বী স্ত্রী আছে।

সে আমাকে ভালবাসে। আমিও তাকে ভালবাসি। তবু কেন আমার এই মতিভ্রম? কেন দিশাকে ভুলতে পারছি না? অফিসের মধ্যে আমার এই বেসামাল অবস্থা গােপন রেখে কাজ করতে লাগলাম। তবে মনের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দের প্রেমের কবিতার পঙক্তি ঘুরে ঘুরে আসতে লাগল। কেন আসতে লাগল, তা জানি না। তারপর মনে হল,

একটা কবিতা লিখি। কিন্তু আমি কোনওদিন কবিতা লিখিনি, কী করে কবিতা লেখা হয়, তাও জানি না। যদি জানতাম একটা Premer Kobita লিখে ফেলতাম। কিন্তু তা সম্ভব নয়। আমি গদ্য লিখি। গদ্যে কি প্রেম জানানাে যায়? যায়, অবশ্যই যায়। সমস্যা হল। আমি আমার কাগজে যে-ধরনের গদ্য লিখি, তা দিয়ে আর যাই যােক প্রেম করা যায় না।

প্রেম করার জন্যে যে-ধরনের নরম নরম গদ্য লেখা হয়, তা লিখতে আমি জানি না।

যদি জানা থাকত তা হলে কোনও অসুবিধে হত না। আমি এখনই তা লিখে ফেলতাম। লিখে দিশার হাতে তুলে দিতাম। না, সেটা করা উচিত হত না। দিশা

আমাকে নির্লজ্জ ভাবত। শুধু তাই নয়, সেই লেখাটা নিয়ে দিশা হয়তাে সম্পাদকের হাতে তুলে দিত। দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নালিশ করত, আমার বিরুদ্ধে যা-নয়-তাই বলত। সম্পাদক তখন হয়তাে আমাকে ডেকে পাঠাতেন, দিশার কাছে ক্ষমা চাইতে বলতেন। আমার বেইজ্জতির শেষ থাকত না। তারপর আমার হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হত। রবিবারের পাতা থেকে আমাকে সরিয়ে অন্য কোনও দফতরে ঠেলে

দেওয়া হত। তারপর এই অফিসে আমার পক্ষে কাজ করাই সমস্যা হয়ে উঠত। অতএব কোনও ঝামেলায় যাওয়ার দরকার নেই। যেমন আছি, তেমনই থাকা ভাল। কিন্তু মনকে সংযত রাখা খুব মুশকিল। দিশাকে মন থেকে সরাতে পারলাম না।

অফিস থেকে বাড়ি ফিরলাম। জামা-প্যান্ট ছেড়ে পায়জামা পরলাম। তারপর হাতমুখ ধুয়ে টিভির সামনে এসে বসলাম, বসতেই হঠাৎ ভুল সুরে গাইতে লাগলাম, ঘরেতে ভ্রমর এল গুনগুনিয়ে...। 

সঙ্গে সঙ্গে বউ ছুটে এল, মা ছুটে এল।

বউ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার? হঠাৎ রবীন্দ্রসংগীত?

মা জিজ্ঞেস করল দীনেশ, এত খুশি কিসের ? মাইনে বেড়েছে?

বউ জিজ্ঞেস করল, তুমি কারও প্রেমে পড়নি তাে?

মা জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে সত্যি করে বল। 

বউমা যা বলছে তা কি সত্যি?

বউ বলল, মানুষ আনন্দে গান গায়। 

তােমার কিসের এত আনন্দ?

মা বলল, মানুষ দুঃখেও গান গায়। 

তাের কিসের এত দুঃখ?

আমি এবার বলতে গেলাম, তােমরা যা ভাবছ মােটেও তা নয়। আসলে...

বউ জিজ্ঞেস করল, আসলে কী? তােমার জ্বর হয়নি তাে? জ্বর হলেও মানুষ গান গায়। আমার কাকা জ্বর হলেই গান গাইত।

মা বলল, বউমা, থার্মোমিটারটা নিয়ে এস তাে।

বউ সঙ্গে সঙ্গে থার্মোমিটার নিয়ে এল। 

এসে আমাকে বলল, হাঁ করাে। 

মুখে থার্মোমিটার দেব।

আমি বললাম, তােমরা কিন্তু পাগলামি করছ। 

আমার কিছু হয়নি।

মা বলল, হয়েছে, তুই বুঝতে পারছিস না। 

তুই হাঁ কর। দেখব কত জ্বর হয়েছে।

আমি বললাম, দেখতে হবে না। আমার কিছু হয়নি।

বউ বলল, হয়নি বললে শুনব না। 

তােমার কিছু একটা হয়েছে।

লক্ষণ ভাল ঠেকছে না। তােমার মুখে কিন্তু একটা প্রেমের ভাব ফুটে উঠেছে।

বলে মাকে জিজ্ঞেস করল, আপনার কী মনে হয় মা?

মা বলল, আমি কিছু বুঝতে পারছি না। 

তােমার শ্বশুর তিন বছর হল মারা গেছে।

আমি কোনওদিন তােমার শ্বশুরকে প্রেমে পড়তে দেখিনি। আমিই ছিলাম তার ধ্যানজ্ঞান।

ফলে প্রেমে পড়লে পুরুষের মুখের ভাব কীরকম হয়, তা বলতে পারব না।

বউ বলল, আমি বলতে পারব। বিয়ের আগে একটা ছেলে আমার প্রেমে পড়েছিল।

সে আমাকে নিয়ে গুচ্ছের কবিতা লিখে আমাকে শােনাত। আমি কিছু বুঝতাম না। 

তবে তার মুখে কীরকম একটা ভাব ফুটে উঠত। 

আজ আপনার ছেলের মুখে সেইরকম ভাব দেখছি।

আমি এবার শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলাম, তুমি তাকে বিয়ে করলে না কেন?

বউ বলল, সারাজীবন কবিতা শুনতে হবে, এই ভয়ে তাকে ছেড়ে দিলাম। উহ! কী ভয়ংকর দিন গেছে আমার! সেসব ভাবলে আমার আজও আতঙ্ক হয়।


মা বলল, তুমি যখন বলছ বউমা, তখন এ নিশ্চয় কোনও কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছে। বলে।

মা আমাকে জিজ্ঞেস করল, সত্যি করে বল, তুই কোন মেয়ের পাল্লায় পড়েছিস?

বউ জিজ্ঞেস করল, মেয়েটি কি তােমাদের অফিসে কাজ করে?

মা জিজ্ঞেস করল, নাকি এই ফ্ল্যাটবাড়ির কোনও  মেয়ে? পাঁচতলার অর্চনা বলে একটি মেয়ের সঙ্গে তােকে অনেকদিন কথা বলতে দেখেছি। তুই তার পাল্লায় পড়েছিস?

বউ বলল, হতে পারে। আমি কি এখনই অর্চনাকে ডেকে পাঠাব?

এবার আর চুপ করে থাকা যায় না। অর্চনা এলে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।

আমি তাই ক্ষিপ্ত হয়ে বললাম, তােমাদের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? কী চাও তােমরা?

আমি কি বাড়ি থেকে চলে যাব, নাকি আত্মহত্যা করব? ঘরে বসে একটু রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারব না?

আমার কথায় দু'জনেই শান্ত হল।

মা বলল, আজ ওকে ছেড়ে দাও বউমা। আরও দু’দিন দেখাে।

বউ বলল, তাই দেখা যাক।

আমি বললাম, দেখে কী করবে?

মা বলল, যদি দেখি বাড়ি ফিরে আবার রবীন্দ্রসংগীত গাইছিস তা হলে ডাক্তার ডাকব।

বউ বলল, ডাক্তার না। আমি থানায় খবর দেব।

আমি থানার নাম শুনে ভয় পেয়ে চুপ করে গেলাম।

ঠিক করলাম ঘরে ফিরে আর কোনওদিন রবীন্দ্রসংগীত বা আধুনিক প্রেমের গান গাইব না। 

যদি গাইতে হয় তা হলে শ্যামাসংগীত গাইব। 

তা হলে আমার বউ বা মায়ের কিছু বলার থাকবে না। তবে ঘরের বাইরে গান গাইতে পারি। গাইতে কোনও অসুবিধে নেই। তাই বলে অফিসে গান গাওয়া চলবে না। তবু পরদিন অফিসে হঠাৎ গান এসে গেল। নিজেকে সামলাতে পারলাম না। খুব নিচু গলায় ভুল সুরে গাইতে লাগলাম:

আমার পরান যাহা চায়...

আর ঠিক তখনই দিশা ঘরে ঢুকল। আমার গান শুনে দিশা হেসে বলল, কী ব্যাপার দীনেশ বাবু।

অফিসের মধ্যে গান! কারওর প্রেমে পড়েছেন নাকি?

আমি গান থামিয়ে বললাম, হ্যা।

জানতে পারি কার প্রেমে পড়েছেন?

ইয়ার্কির ছলে বললাম, আপনার।

সে আমার সৌভাগ্য।-বলে দিশা বলল, একটা কথা বলতে এসেছিলাম।

কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী কথা?

আমার দ্বারা লেখা হবে না। আপনি অন্য কাউকে বলুন।

সে তাে বলতেই পারি। কিন্তু আপনি লিখতে পারবেন না কেন?

লেখার ক্ষমতা আমার নেই।

কী করে বুঝলেন ?

কাল বাড়িতে লিখতে বসেছিলাম। কিন্তু একটা লাইনও মাথায় এল না।

তা হলে থাক। দেখি, অন্য কাউকে দিয়ে প্রবন্ধটা লেখানাে যায় কি না। বলে

বললাম, ঠিক আছে। আপনি এখন আসুন।

দিশা চমকে উঠে বলল, আসব মানে? আপনার সঙ্গে একটু গল্প করতে এলাম।

বললাম, গল্প করার সময় আমার নেই। আমি এখন খুব ব্যস্ত।

ব্যস্ত কোথায়? আপনি তাে গান গাইছিলেন। আমি যদি এখনই কথাটা সম্পাদককে গিয়ে বলি, তা হলে আপনার কি অবস্থা হবে বুঝতে পেরেছেন?

আমি ভিতু মানুষ। তাই ভয় পেয়ে বললাম, না-না, একথা বলতে যাবেন না।

দিশা বলল, বলব না, যদি আপনি আমার কথা শুনে চলেন।

আপনার কথা আমাকে শুনতে হবে কেন?

শুনতে আপনি বাধ্য। কারণ, এই পত্রিকার মালিক আমার মেশোমশাই হন।

আমি প্রায় আঁতকে উঠলাম, তাই নাকি!

হ্যা।-বলে দিশা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

দিশার মেশোমশাই আমাদের পত্রিকার মালিক। এটা জানার পর থেকে আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। বুঝতে পারলাম, এবার দিশা যা বলবে, তাই আমাকে শুনতে হবে। না বলার উপায় নেই। তাই বাড়ি এসে ভুল সুরে শ্যামাসংগীত গাইতে শুরু করলাম: 

বল্ মা তারা দাঁড়াই কোথা। 

সঙ্গে সঙ্গে বউ এবং মা ছুটে এল।

বউ জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার! আজ যে শ্যামাসংগীত।

আমি বললাম, উহ। তােমাদের জ্বালায় গান গাইতে পারব না?

মা বলল, ওর মতিগতি ভাল ঠেকছে না। একটা ভাল ডাক্তার দেখাও বউমা।

তাই দেখাতে হবে। বলে বউ চলে গেল। মাও আর কথা না বলে চলে গেল।

আমি গান থামিয়ে চুপ করে বসে রইলাম। বসে বসে ভাবতে লাগলাম ভবিষ্যতে আমার সামনে কী কী বিপদ আসতে পারে। দিশাকে ভাল লাগার ফলে যে এমন সমস্যা হবে, তা কে জানত! এখন আর করার কিছু নেই। দিশা যা বলবে তাই শুনতে হবে?

এই বয়সে আমি চাকরি খােয়াতে চাই না।

পরদিন অফিসে ঢুকে সবে কাজে বসেছি, এমন সময় দিশা ঘরে ঢুকে বলল, আজ দুটো সিনেমার টিকিট রেখেছি। আমার সঙ্গে যেতে হবে।

কখন?

সন্ধেবেলা।

কিন্তু বউ জানতে পারলে...

জানতে পারলে কী হবে? বড়জোর ডিভাের্স। 

তার বেশি কিছু নয়।

সম্ভব নয়।

খুব সম্ভব। মনে রাখবেন আপনি ঘরে বদ্ধপুরুষ। কিন্তু বাইরে মুক্তপুরুষ। আপনি বাইরে যা খুশি করতে পারেন। 

আমার স্বামী আমার কাজে বাধা দিতে এসেছিল, আমি ডিভাের্স করে দিয়েছি।

আপনি ডিভাের্সি?

হ্যা। দুদিন পরে আপনিও ডিভাের্সি হবেন। ক্ষতি কী?

আমি বিস্মিত হয়ে দিশার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। এবার আমি কী গান গাইব?

এক পাতিল দই || Bangla love story

 


মিষ্টির দোকান থেকে দই কিনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি এমন সময় এক গাড়ী পুলিশ এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। গাড়ী থেকে নেমেই কয়েকটা পুলিশ সোজা বন্দুক আমার দিকে করে বললো, এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে এক্ষুনি বের করুন নাহলে আপনাকে গুলি করতে বাধ্য হবো। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। সকাল সকাল এ কি বিপদে পড়লাম রে বাবা। ভয়ে ভয়ে বললাম, স্যার এর মধ্যে বগুড়ার দই আছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে বললাম, স্যার আমার বিয়েশাদি হয়নাই। আপনি দয়া করে বন্দুকটা বুকের দিকে অথবা মাথার দিকে তাক করে ধরুন। ওখানে গুলি লাগলে আমি আর এই জীবনে বিয়ে করতে পারবো না। ছোটবেলা থেকে আমার বিয়ে করার খুব ইচ্ছে।

পিছন থেকে এসআই সাহেব এগিয়ে এসে বললো, মানুষের এতো ইচ্ছে থাকতে তোর এই বিয়ে করার ইচ্ছের কারণ টা কি? আমি বললাম, বিয়ের পর অনেকগুলো বাচ্চাকাচ্চা হবে। তারপর শিশুপার্কে গিয়ে এক ব্যাটার উপর প্রতিশোধ নিবো। সেদিন প্রেমিকার সাথে শিশুপার্কে গেছিলাম। এক ব্যাটা আমাদের ঢুকতে দেয়নাই। বলছে ওখানে শিশু ছাড়া ঢোকা নিষেধ।

এসআই আমার কানমলা দিয়ে বললো, পরিবার পরিকল্পনার শ্লোগান শুনিস নাই? দুইটি বাচ্চার বেশি নয়৷ একটি হলেই ভালো হয়। আমি কাচুমাচু হয়ে বললাম, স্যার বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি। সেইখানে আমার ৩-৪ বাচ্চাকাচ্চা আপনাদের কাছে বেশি হয়ে গেলো? এসআই ধমক দিয়ে বললো ,অই তুই চুপ থাক। বেশি কথা বলিস। ঐ কেউ একজন এর প্যাকেট খুলে দেখ ভিতরে কি আছে।

একজন এগিয়ে এসে প্যাকেট খুলে দেখে বললো, স্যার ভিতরে দই ছাড়া কিচ্ছু নাই।

এসআই বললো, দইটাও চেক করে দেখ। গাড়ির ভিতরে দেখ চামুচ আছে সেটা নিয়ে আয়।

কনস্টেবল একটা চামুচ এনে দই থেক এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার ফার্স্টক্লাস দই। জীবনে এমন দই খাইনাই।এসআই বললো, কি তাই নাকি? সত্যি ভালো তো?কনস্টেবল বললো, জ্বী স্যার। একদম খাটি দই।এবার আমার বিশেষ যায়গায় দিকে বন্দুক তাক করে থাকা কনস্টেবল এসআইকে বললো, স্যার বউয়ের যন্ত্রণায় বাসায় মিষ্টি খাইতে পারি না। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে ওখান থেকে এক চামুচ দই খাই? খুব খাইতে ইচ্ছে করতেছে।আরো পড়ুনঃ চুমু খাওয়ার সাতটি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন এসআই বললো, ঠিক আছে খা। তবে এক চামুচের বেশি খাবি না।এরপর সেই কনস্টেবল এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার দই খেয়ে মুখের চুলকানি বেড়ে গেছে। আরেক চামুচ খাই স্যার?

এসআই বললো, ঠিক আছে খা।এবার খেয়াল করে দেখলাম, সব পুলিশ সদস্যরাই এসআইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্থাৎ এরাও খেতে চায়।আমি দৌড়ে গিয়ে সেই কনস্টেবলের হাত থেকে দইয়ের হাঁড়ি দুইটি কেড়ে নিয়ে বললাম, স্যার আর দই দেওয়া যাবে না। আপনার দুই কনস্টেবল আমার এক হাঁড়ির অর্ধেক দই শেষ করছে। আমি আর দই দিবো না।এবার আরেক কনস্টেবল বলে উঠলো, ও ভাই আমারে এক চামুচ দই দেন না। এমন করেন কেন?আমি রেগে গিয়ে বললাম, দেখেন ভাই। আমার আব্বা আমাকে এমনেই বিশ্বাস করে না। ভাববে আমি রাস্তায় দই খেয়ে হাঁড়ি খালি করেছি। আপনারা থাকেন আমি চালালাম।এসআই সাহেব বললেন, “আজ নির্বাচন” জানো না?এসব প্যাকেট নিয়ে ঘুরলে পুলিশ সন্দেহ করবেই।যাইহোক, এটা কোথাকার দই?আমি বগুড়ার দই বলে বাসার দিকে হাঁটতে লাগলাম। একবার পিছন ফিরে দেখি সবাই আমার হাতের দইয়ের প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবছি বাসায় গিয়ে আব্বারে কি জবাব দিমু।বাসার প্রায় সামনে চলে এসেছি। দেখি গলির মোড়ে কয়েকজন পুলিশ সমস্যা দাঁড়িয়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম শেষ। এবার আর আমার দই নিয়ে বাসায় যাওয়া হবে না। কোনো চিন্তা না করেই দইয়ের প্যাকেট দুইহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে দিলাম ভৌ-দৌড়।আমি দৌড়াচ্ছি পুলিশ সদস্যরা আমার পিছে পিছে দৌড়াচ্ছে। আমি আরো জোরে দৌড়াচ্ছি। ওরাও আমার পিছু আরো জোরে দৌড়াচ্ছে। বেশকিছু দূর দৌড়ানোর পর হাল ছেড়ে দিলাম। ইতিমধ্যে উনারা আমাকে ধরে ফেললো। আবার বন্দুক আমার দিকে তাক করে বললো, সত্যি করে বল এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে?আমি বললাম, আমার জীবন থাকতে বলবো না।। এর আগেরবার যে ভুল করছি সেটা আর করবো না।একজন পুলিশ সদস্য এসে আমার কাছে থেকে দইয়ের প্যাকেট কেড়ে নিয়ে খুলে দেখে বললো, আরে এর মধ্যে তো দই।আমি বললাম, হ্যাঁ দই।উনি বললেন, তাহলে তুই দৌড়াচ্ছিলি কেন?আমি রাগ নিয়ে বললাম, আপনারা মানুষের হাতে দই দেখলেই খাওয়া শুরু করেন। এই ভয়ে দৌড় দিছি।হঠাৎ একজন পুলিশ সদস্য বললো, তোর কথা আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। চল থানায় চল।আমি থানায় দইয়ের প্যাকেট নিয়ে বসে আছি। এরমধ্যে আব্বা এসে হাজির।আব্বা- তুমি কি করছ? পুলিশ তোমাকে ধরছে কেন?আমি- আব্বা আমি পুলিশকে দই খাইতে দেই নাই। তাই আমাকে ধরে নিয়ে আসছে।আব্বা – জেলে বইসা আমার সাথে মজা করো?

আমি- আব্বা বিশ্বাস করেন আমি মজা করতেছি না।হঠাৎ সেই এসআই এসে বললো, আরে তুই এইখানে কেন? এসআই আর আব্বাকে পরের ঘটনা সব খুলে বলতেই এসআই বললো, তোকে মুক্তি দিতে পারি এক শর্তে।।আব্বা বললেন, কি শর্ত এসআই সাহেব?এসআই বললেন, দইয়ের হাঁড়ি দুটো আমাকে দিতে হবে। নাহলে সাতদিন জেল খাটতে হবে।আব্বারে বললাম, আব্বা আমার সাতদিন জেল খাটতে কোনো সমস্যা নাই। আপনি দইয়ের হাঁড়ি দুইটা নিয়ে যান।

আব্বা আমাকে ধমক দিয়ে বললো, তুই চুপ থাক হারামজাদা। এসআই সাহেব হাঁড়ি দুইটা আপনি রাখেন। তবুও আমার ছেলেরে ছাইড়া দেন।আমি আর আব্বা থানা থেকে বের হচ্ছি। এমন সময় এসআই সাহেব বললেন, কিছুদিন ধরে বউ রাগ করে শ্বশুর বাড়ি গেছে। আমার বউয়ের রাগ আবার বগুড়ার মিষ্টি দই ছাড়া ভাঙ্গানো যায় না।

থানার বাইরে আইসা আব্বাকে বললাম, আব্বা জোরে হাঁটেন। আব্বা বললেন, কেন? আমি বললাম, আপনি না বলছিলেন একটা টক দই আর একটা মিষ্টি দই নিতে। এরা তো মিষ্টি দইটা খাইছে টক দইটা নিচে আছে। এসআইয়ের বউ যখন টক দইয়ে মুখে দিবে তখন কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন?হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম আশেপাশে আব্বা নাই। কিন্তু একটু দূরে চোখ রাখতেই টের পেলাম আব্বার মতো একটা লোক দৌড়ে পালাচ্ছে।

আমিও আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দিলাম দৌড়

Valobashar Golpo - পর্দার আড়ালে - Bengali Love Story


 -আজ সাতদিন হয়ে গেলো,তোমার কোনো খবর নেই,ফোন করলে ধরছো না!মেসেজ সিন করে রিপ্লাই দিচ্ছ না,কি ব্যাপার জয়া?
-প্লিজ আকাশ,আমি আর আমাদের সম্পর্কটাকে বয়ে নিয়ে যেতে পারছি না!কেন বুঝতে পারছো না তুমি!সম্পর্কে যখন উষ্ণতা হারিয়ে যায়,তখন তাকে অহেতুক বয়ে বেড়াবার কোনো মানে হয় না!আই,আই জাস্ট ওয়ান্ট টু ব্রেক আপ উইথ ইউ...
-ওহ!তাহলে অফিস ফ্লোরে যেসব কথা শুনতে পাচ্ছি,সেটাই সত্যি!
-তুমি ফ্লোরে কি শুনেছো আমি জানি না,জানতেও চাই না,শুধু প্লিজ আমায় ছেড়ে দাও।আই ক্যান্ট হ্যান্ডেল দিস রিলেশন এনি মোর....
-হাউ কুড ইউ?
-ও কাম অন আক্কী,ভাবটা তো এমন দেখাচ্ছ,যেন ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানো না,তোমার যা সেক্স অ্যাপীল,তোমার যা ইম্প্রেশন,একটা এক্স-ফ্যাক্টর তো তোমার মধ্যে আছেই বস!এন্ড মোস্ট ইম্পরট্যান্ট,(ফিসফিসিয়ে,আকাশের কানের কাছে এসে)ইউ আর জাস্ট অসাম ইন বেড ডার্লিং!দেখো,ক্লিয়ারলি বলে দেওয়াই ভালো,হ্যাঁ ফ্লোরে তুমি কানাঘুষোতে যা শুনছো,সেটাই ঠিক!গত মাসে বসের সঙ্গে যখন বিজনেস ট্রিপে ইউরোপ গিয়েছিলাম,হি প্রোপোসড মি!আর কোনো বোকাই এই সুযোগ হাতছাড়া করবে!রাইট?!ডোন্ট ওয়ারি ডার্লিং,বসের পি এ থেকে আমি যখন এই গোটা অফিসের এম ডি হবো,তখন তুমি থাকবে আমার প্রায়োরিটি লিস্টে সবার ওপরে!আফটার অল তুমি তো আমায় কম আনন্দ দাওনি,তাই তোমাকে...
সপাটে একটা চড় এসে পড়লো জয়ার গালে..
-ব্লাডি প্রস্টিটিউট!গো টু হেল....

ক্যাফেটেরিয়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো ওরা দুজন।জয়া বোধহয় ভাবতেও পারেনি,দু-টাকার একটা সাধারণ এমপ্লয়ী তাকে এমনভাবে সাঁটিয়ে থাপ্পড় মারতে পারে!রাগের চোটে দু-চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরে পড়লো ওর....
রাগে-ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে আকাশ গটমট করে বেরিয়ে গেলো ওর সামনে দিয়ে....

 -ওকে!কাট ইট!এক্সিলেন্ট শট স্যার!
-প্যাক আপ?
-ইয়েস স্যার,প্যাক আপ!
-হেই বেবি!ইউ ডিড আন ওয়ান্ডারফুল জব!
-এস.আর. আই উইল কিল ইউ!এত্ত জোরে মেরেছ,কান গরম হয়ে গেছে আমার!গাল জ্বালা করছে!
-সরি ডার্লিং,আমি পুরোপুরি আকাশের ক্যারেক্টারে ঢুকে গিয়েছিলাম!বাই দা ওয়ে,হোয়াটস ইওর প্ল্যান ফর টুনাইট?
-প্ল্যান বলতে ইভনিং এ জিম,রাতে একটা ক্যালেন্ডারের ফটোশুট আছে,প্যাক আপ হবার পর দেন.....
-দেন?
-দেন....উমমমম,ফ্রি!
-গুড!
-গুড!হোয়াই?
-রাতে চলো আমার সঙ্গে,আমার একটা বন্ধুর ছেলের জন্মদিন,ফ্যামিলি ফাংশন!আমায় এটেন্ড করতেই হবে!
-হোয়াট!হোয়াট!হোয়াট!উ!সুপারস্টার এস.আর,তার কো-আর্টিস্ট-এর সঙ্গে ফ্লোরের বাইরে ঘুরে বেড়াবে?কাল তো পেজ থ্রির ফ্রন্ট পেজে চলে আসবে...
-আই কেয়ার আ ড্যাম!ইউ জাস্ট টেল মি,ইউ আর কামিং ওর নট!ইউ নো,আই ডোন্ট ফোর্স এনিওয়ান!
-চিল বেবি!অফ কোর্স আই এম কামিং....
-ওকে দেন,সি ইউ এট নাইন শার্প!
-ওকে....
-বাই হানি.....

সুপারস্টার এস.আরের সুদৃশ্য অডিটা চোখের সামনে দিয়ে সাঁ করে বেরিয়ে গেলো।

-কি করছিস গুবলু?
-হোয়াট?!
-আজ আবার নতুন একজন?
-ইসন্ট সি সো বিউটিফুল?!
-জীবনের চৌত্রিশটা বসন্ত তো পেরিয়ে এলি,এবার এসব ছাড়!লাইফে সেটেল হ!রোজ-রোজ এভাবে এক-একজনকে...
-আমি তো কাউকে ফোর্স করছি না,রিকুয়েস্টও করি না,এক্সপ্লয়েট করি না,কেউ যদি আগে আমার সঙ্গে ফ্লার্ট করতে শুরু করে,তো আমার আর একটু এগোলে প্রবলেম কি বলতো!সে দিলে আমার নিতে প্রবলেম কোথায়?ইন্ডাস্ট্রির কেউ বলতে পারবে না,কারোর অমতে আমি হাতটুকুও কোনোদিন ধরেছি বলে....
-বাট গুবলু,দিস ইস নট লাইফ আফটার অল!
-প্লিজ মলি!মায়ের মতো জ্ঞান দিস না তো!ওদিকে মা ফোন করে বলতে থাকে,এদিকে তুই!সেই ছোট্ট থেকে তোকে দেখে আসছি।গ্রো আপ লেডি,এবার তো আমার গার্জেন না হয়ে আমার বন্ধু হ....
-আমি আর আন্টি,আমরা দুজনেই তো তোর ভালো চাই বল...
-ওক্কে মেরি মা,এবার থাম!আই রিয়েলি ডোন্ট নো,তোর বর কি করে তোকে সহ্য করে মলি!এত্ত জ্ঞান দিস....
-হে হ্যান্ডসাম!
-কামিং ডার্লিং!মলি,বাই-বাই-বাই!আজ রাতের প্রচুর প্ল্যান!কাল ইভনিং এ ফোন করবো!
-বাই মল্লিকা!ফুড ওয়াজ অসাম ডিয়ার!গুড নাইট.

এস.আরের বাংলো বাড়িতে সেই রাতটা দুজনে একে-অপরের মধ্যে ডুবে রইলো।এস.আর বর্তমান সিনে-ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার!আর মিস লিলি একজন স্ট্রাগলিং মডেল!হ্যাঁ,গত বছর পর্যন্তও ছিল,কিন্তু তারপর এস.আরের ছত্রছায়ায় এসে এই বছরই প্রথম বড়ো ছবিতে কাজ করছে তারই বিপরীতে।কাজটুকু পাইয়ে দেবার জন্যই,লিলি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে এস.আরকে নিভৃতে সঙ্গ দিয়ে...

চিলড বিয়ারের তলানিটুকু এক সিপে শেষ করে ফেললো এস.আর।গলাটা শুকিয়ে কাঠ...
-স্ক্রিপ্টের ডায়লগ বলতে ইচ্ছে করছে এস.আর!লিলি বললো....
-হোয়াট!
-সিরিয়াসলি!ইউ আর জাস্ট অসাম ইন বেড....
-রিয়েলি!টেল মি সামথিং দ্যাট আই ডোন্ট নো বেবি!
-হা হা!ইউ আর সুপারকুল!
-এন্ড ইউ নো হোয়াট লিলি,ইউ আর সো বিউটিফুল!

মিষ্টি করে হেসে এস.আরের বুকের মধ্যে মুখ গুঁজলো লিলি।
-তোমার নেক্সট প্রজেক্ট কি?আমি তোমার সঙ্গে পরের প্রজেক্টেও স্ক্রিন শেয়ার করতে চাই....
-লেটস সি বেব!প্রোডিউসারের এন্ড থেকে লাস্ট ডিসিশন আসে!
-কাম অন হানি!কে না জানে,ইউ আর ইন্ডাস্ট্রি!তুমি যা বলবে তাই-ই...
ফোনটা বেজে ওঠে এস.আরের!নম্বর দেখেই ফোনটা নিয়ে কাঁচটা সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় ও...
-ইয়েস মাম্মি ডিয়ার!

প্যাডেড ব্রা-টা পরতে-পরতে লিলির চোখ চলে যায় নিজের ফোনের দিকে।ফোনটা বাংলোতে ঢোকার সময়ই সাইলেন্ট করে রেখেছিলো ও।এখন দেখলো ফোনটা রিং হয়ে কেটে গেলো।তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো,একুশটা মিসড কল হয়ে আছে।সবকটা অভির নম্বর।ছেলেটার কি কিছু হলো!পর্দাটা একটু সরিয়ে লিলি দেখলো,এস.আর. সুইমিং পুলের পাশে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত।আবার ফোনটা রিং হওয়ায় তাড়াতাড়ি ধরলো ও....
-কি হয়েছে কি!কতবার বলেছি না,শুট চলাকালীন আমায় ফোন করবে না!
-তুই কোথায় সালি!তোর ক্যালেন্ডারের ফটোশুট যেখানে হবার কথা ছিল,আমি সেই ষ্টুডিওর বাইরেই দাঁড়িয়ে আছি!কোথায় তুই!
-শিট!
-তুই নিশ্চয়ই ওই হিরো ব্যাটার বিছানা গরম করছিস?
-নইলে তোর মাল গেলার টাকা কোথা থেকে দেবো বল!শুধু একটা সিনেমায়,ক্যামেরার সামনে দুটি ডায়লগ বলে তো আর সারাজীবন পেট চলবে না!আমার আরও কাজ দরকার!আর তার জন্য যদি....
-তুই আজ বাড়ি আয় হতভাগী!তোর টাকায় আমি...
-বেশি কথা বোলো না,আমি ডিভোর্স দিয়ে দিলে তো রাস্তায় নেমে দাঁড়াতে হবে!নিজের পেট চালাবার মুরোদও তো নেই!নেহাৎ ছেলেটার কথা ভেবেই....

কাঁচটা সরানোর শব্দ পেয়ে তাড়াতাড়ি ফোনটা কেটে দেয় লিলি।ঘরে ঢুকে এস.আর. গেঞ্জিটা গায়ে চড়ায়।
তারপর একটু হেসে লিলির দিকে চেয়ে বলে,
-সরি ডিয়ার!মা ফোন করেছিলো!তাই....
-নো নো,ইটস ওকে!
-আর তোমায়?
মুহূর্তেই রক্তশুন্য হয়ে গেলো মিস লিলির মুখ!
-আই মাস্ট সে,খুব ভালো মেনটেইন করেছো নিজেকে।তোমার পেটে মুখ ডোবানোর সময়ই আমি বুঝতে পেরেছি,তোমার বেবি আছে।মেকআপের তীব্র গন্ধ মাথা ধরিয়ে দিচ্ছিলো।স্ট্রেচ মার্কের দাগ কি এত সহজে ঢাকা যায় লিলি!তবে তুমি মিস না মিসেস জানতাম না!কিন্তু কেন এসব?অবশ্য বলতে না চাইলে,আমি জোর করবো না...
-হি ইস এ মনস্টার এস.আর!ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলাম,রোজ রাতে নেশা করে আমায় মারতো!ছেলেটা পেটে থাকতেও।থিয়েটার করার শখ ছিল বিয়ের আগেও।বিয়ের পরও একটু-আধটু মডেলিং করতে শুরু করলাম।প্রথমে ছোট পর্দা,তারপর বড়ো পর্দায় তোমার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিলে তুমি!আর একটু সেটেলড হয়ে ছেলেটাকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে চাই এস.আর!
-ইউ আর আ মাদার লিলি!আর আমি জানি মায়ের লড়াইটা কতটা কঠিন!কিন্তু এভাবে তোমার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে,আমি তোমাকে অসম্মানিত করতে পারবো না।বন্ধু হিসেবে তুমি যখনই চাইবে,আমায় পাশে পাবে।আমি ভেবেছিলাম তুমি ইচ্ছাকৃতই আমার সঙ্গে,কিন্তু আর সম্ভব না ডিয়ার,কোনোদিন তোমার বেবি প্রিন্সের সঙ্গে দেখা হলে,তার সামনে দাঁড়াতে পারবো না যে...
-এস.আর.....
-ডোন্ট ওয়ারি!পরের প্রজেক্টে আমার সঙ্গে তুমিই থাকবে।মিস্টার দেশাইয়ের সঙ্গে কথা চলছে।আমি তোমার কথা বলে দেবো!তুমি ট্যালেন্টেড এক্টরেস।আমি জানি,এটাও ব্লকবাস্টার হিট হবে।কিন্তু এরপর কারোর সামনে মাথা নিচু করে নয়,নিজের দক্ষতায় কাজ করবে তুমি।প্রয়োজনে সবসময় আমায় পাশে পাবে।কিন্তু বিনিময়ে কিছু চাই না!প্লিজ....

লাল রঙের প্যাডেড ব্রা-টা পরে,ধবধবে সাদা ডিভানে মাথাটা নিচু করে বসে আছে লিলি।
-ইউ নো হোয়াট এস.আর...
-টেল মি ডার্লিং,হোয়াট আর ইউ থিংকিং?আজকের পর হয়তো এভাবে সেটের বাইরে আর কোনোদিন আমাদের দেখা হবে না,তো আজ বলো তুমি,আমি শুনবো...
-আজ এখানে আসার আগে পর্যন্ত ভেবেছিলাম,তুমি নাম্বার ওয়ান পারভার্ট!কিন্তু এখন বুঝতে পারছি,ইন্ডাস্ট্রির নাম্বার ওয়ান প্লেবয় হওয়া সত্ত্বেও,একটা মেয়েও তোমার বিরুদ্ধে মুখ খোলে না কেন?
-প্লেবয়!!হা হা হা!দ্যাটস ট্রু বাই দা ওয়ে....
-নো,দ্যাটস নট ট্রু!ইউ আর আ ম্যান,প্রপার....
-বেবি,এত ভারী-ভারী কথা বলে নেশাটা চটকে দিও না প্লিজ!লিসেন ডিয়ার!তুমি কার সামনে নিজেকে নগ্ন করবে,নিজের বুকের কাপড় সরাবে,সেটা সম্পূর্ণই তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার!বাট নট ইন ফ্রন্ট অফ মি,নট এনিমোর।এটা পরে নাও....

সারা সন্ধ্যে যে লাল রঙের ব্যাকলেস ড্রেসটা পরে লিলিকে দেখে,এস.আর মুগ্ধ হয়েছিল,ড্রেসটা খুলে নগ্ন শরীরটা পাবার জন্য উৎসুক হয়েছিল,সেই ড্রেসটাই এখন সযত্নে ওর হাতে ফিরিয়ে দিলো....
-আর হ্যাঁ,পিঠটা ভীষণ জ্বালা করছে,তোমার ম্যানিকিওর করা নখগুলো বেশ ভালোভাবেই বসিয়ে দিয়েছো!ড্রয়ারে এন্টিসেপটিক আর কটন আছে,লাগিয়ে দাও একটু.....
-সরি!
এস.আরের চওড়া খোলা পিঠটায় অজস্র নখের দাগ।জ্বালা করারই কথা!জামাটা পরে নিয়ে তুলোয় করে একটু ওষুধ লাগিয়ে পিঠে মাথা রাখলো লিলি...
-এস.আর!
-হুম!
-ক্যান আই হাগ ইউ?
ঘুরে বসে লিলিকে বুকে জড়িয়ে ধরলো এস.আর।ওকে জড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো লিলি।লিলির মুখটা তুলে কপালে আলতো করে চুমু খেলো এস.আর...
-একটাই জিনিস তোমার প্রাপ্য এস.আর!হিউজ রেস্পেক্ট!ইউ আর আ গুড হিউম্যান বিয়িং...
-চল ঝুটি!
-আমি বেরোই।কাল সেটে দেখা হবে!কাল তো লেট নাইট শুট,পার্টি সিকোয়েন্স।ডিস্কোতে...
-ইয়েস ডিয়ার!কাল সকালে জিম,সুইমিং,ব্রেকফাস্ট,তারপর হেব্বি ঘুম!রাজা কে জিজ্ঞেস করতে হবে,আর কোনো কিছু সিডিউলে আছে কিনা!ওহো,আর একটা শুট আছে কাল স্টুডিওতে,তাও শেষরাতে।জানলা দিয়ে সানরাইজটা নেবার কথা!তোমায় ছেড়ে আসবো লিলি?
-না থ্যাঙ্কু,তোমার ড্রাইভারকে বলে দাও,তা হলেই হবে...
-ওকে!
ব্যাগটা হাতে নিয়ে বেডরুম থেকে বেরোনোর আগে,লিলি আর একবার জাপটে ধরলো এস.আর. কে।
এস.আর. ও আলতো করে লিলির মাথার চুলগুলো একটু এলোমেলো করে দিলো।পুরুষের স্পর্শ একজন নারীর চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না।একটু আগে এই মানুষটাই বিছানায় ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফালাফালা করেছে ওর শরীরটাকে,কিন্তু এখন লিলি খুব ভালো করেই বুঝতে পারলো,এ স্পর্শে কোনো যৌনতা নেই,নেই কোনো অশালীন চাহিদা!আছে শুধু বন্ধুত্বের ভরসাটুকু....

লিলি বেরিয়ে যাবার পর,ফোনের গ্যালারি খুলে নিজের মায়ের ছবিটায় পরম ভালোবাসায় চুমু খেলো এস.আর...
-দিইনি মা,হারতে দিইনি।আজ একজন মাকে জিতিয়ে দিয়েছি!লাভ ইউ...

পরদিন ফ্লোরে প্যাক আপের পর....

লেট নাইট শুট ছিল সেদিন এস.আরের!তারপর আবার স্টুডিওতে।পরপর দুটো শুটের পর প্যাক আপ হতে-হতে সকাল হয়ে গেছে।লিলি অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে।মাথাটা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছিলো।স্পট বয় কড়া করে এক মগ কফি দিয়ে গেলো তাড়াতাড়িই।গ্রীনরুমে মেকআপ রিমুভ করতে-করতে মনে হচ্ছিলো ওর দমটাই বন্ধ হয়ে যাবে।কোনোরকমে কিছুটা মেকআপ তুলে টিস্যু পেপার হাতে নিয়েই বাইরের লম্বা ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালো এস.আর!ভেবেছিলো একটু খোলা হাওয়ায় দাঁড়াবে,কিন্তু দেখলো এদিকেও সব জানলাগুলো বন্ধ।বাইরের আলোটুকু পর্যন্ত আসছে না।নিশ্চয়ই পাশের ফ্লোরে কোনো শুটিং চলছে।কিন্তু এত আর্লি মর্নিং!কৌতূহলবশত একটু এগিয়ে গেলো ও....

-বুকের আঁচলটা আর একটু নামবে,আর একটু ঝুঁকবেন,ক্লিভেজটা ঠিকঠাক দেখা যাচ্ছে না।চিন স্লাইটলি ডাউন!কলার বোনটা আর একটু,চোখের পাতাটা নামাবেন!স্পট লাইট!রেডি!
খচাৎ করে ফটো তোলার শব্দ হলো,কিন্তু বিহাইন্ড দা ক্যামেরা আর মনিটরের সামনে বসা প্রত্যেকের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে,ছবি মনঃপূত হয়নি।হলোও তাই।আবারও পোজ দিতে হচ্ছে মেয়েটিকে...
-ফাক ম্যান,সি ইস ড্যাম হট!
-শাট আপ এন্ড কনসেনট্রেট ডুড!লেট মি ফোকাস!
-ওয়ান মিনিট!এক্সকিউজ মি লেডি,আই ডোন্ট নো,হোয়াটস ইয়োর নেম বাট...
-ঋদ্ধি,ড্রেসারকে ডাক!ড্রেসার,মেকআপ...
-নো ম্যান,লেট মি হ্যান্ডেল দিস....
-এই শাড়ির আঁচলটা আর একটু নামিয়ে,আর একটু এভাবে পেটের কাছ থেকে সরিয়ে...কিছুটা ইচ্ছাকৃতভাবেই ঋদ্ধির অবাধ্য হাতটা বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছে মেয়েটির কোমরের ভাঁজ আর অর্ধঅনাবৃত স্তন!কিন্তু মেয়েটাও বুকের বাঁদিকের শাড়ির আঁচলটা প্রাণপণে আঁকড়ে রয়েছে।লো-কাট ব্লাউজ,একপাশের আঁচল সরিয়ে হালকা ক্লিভেজ দেখানোর কথা!এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী এই শর্তেই রাজি হয়েছে সে।কিন্তু এখন বুক থেকে পুরোপুরি শাড়ি নামিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন ইনি।মেয়েটাও কিছুতেই বুকের বাঁ-দিক থেকে শাড়ির আঁচলটাকে নামাতে দেবে না....

-ফাক ম্যান!দাঁতে-দাঁত চেপে মৃদু ধমকে ওঠেন এস.আর!
-স্যার আ-আপনি!
-হোয়াট দা হেল আর ইউ ডুইং ঋদ্ধি?ইউ ক্যান্ট টাচ ইওর অবজেক্ট!ডোন্ট ইউ নো দ্যাট?এন্ড সি ইস আনকম্ফোর্টেবল উইথ ইউ ঋদ্ধি,নিখিল ক্যান্ট ইউ সি দ্যাট?এবার চেঁচিয়ে ওঠেন এস.আর...
-স্যার,সরি স্যার,আমি জাস্ট মেকআপ আর ড্রেসারকেই ডাকছিলাম....
-কাজটাকে আগে সম্মান করতে শেখো ঋদ্ধি,তারপর কাজ করবে!ব্লাডি লুজারস....
-এক্সট্রিমলি সরি স্যার!
মেয়েটার দিকে একবার তাকালো এস.আর।মেয়েটা তখনও মাথা নিচু করেই বসে আছে।হয়তো ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন।যদিও দুদিনের মধ্যেই চালচলন বদলে যাবে।এসব মেয়েদের খুব ভালো করেই জানা আছে ওর।কিন্তু তবু মেয়েটার এমন অপমান ও মেনে নিতে পারলো না কিছুতেই!কফি মগটায় চুমুক দিতে-দিতে নিজের গ্রীনরুমের দিকে চলে গেলো এস.আর....

-সালা,সকালে একটা বিকেলে আর একটা মেয়ে নিয়ে ফূর্তি না করলে যার নাকি দিন গড়ায় না,সে আমায় জ্ঞান মাড়াতে আসছে!সকাল-সকাল নতুন ঝাক্কাস একটা মেয়ের সামনে প্রেস্টিজের মা-বোন এক করে ছেড়ে দিলো মাইরি!
-ছাড় না,তাড়াতাড়ি শটগুলো নে।বিকেলেই স্যারকে এডিট করে পাঠাতে হবে।আর্জেন্ট!ম্যাগাজিনের কভারের কাজ।সময় লাগবে।
-ব্লাডি...
-ঋদ্ধি!শুনতে পেলে না,আর করে খেতে হবে না....
-সালা!কি আছে বলতো বালটার মধ্যে!সব প্রোডিওসাররা একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে!
-তোর চেয়ে আমি ইন্ডাস্ট্রিতে বেশি সময় কাটিয়েছি।যতটা খেয়াল করেছি,বেশ কয়েকটা জিনিস আছে। হিরোইনরা ওনার সঙ্গে কাজ করতে খুব কম্ফোর্টেবল!
-সে তো সালা সারারাত ন্যাংটো হয়ে বিছানায় জাপটে শুয়ে এসে,পরদিন স্ক্রিনে যদি সামান্য একটু ইন্টিমেট হতে বলে সবাই পারবে!এ আর কি এমন ব্যাপার!
-বিছানায় উনি তাদের সঙ্গেই যায়,যারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়,তুই খেয়াল করিস কিনা জানি না,ইভেন ফটো তোলার সময় সামনে থেকে দেখলে মনে হবে,দুদিকে দুটো মেয়ের কোমর ধরে রয়েছে,কিন্তু পিছনে দুটো হাত কোমর থেকে অন্তত এক ইঞ্চি দূরে রেখে ফটো তোলেন উনি।আমি নিজে দেখেছি।এমনকি কোনোদিনও শুট চলাকালীন ওনাকে অ্যাডভান্টেজ নিতে দেখিনি।
এবার চুপ করে গেলো ঋদ্ধি....
-আর তার থেকেও বড়ো কথা,একটা ভিডিও বা সিনেমার একটা ক্লিপিংকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ভাইরাল করে দিয়ে,একটা লিমিটেড ক্রাউডকে সাময়িক পাগল করে,জোয়ারে গা ভাসিয়ে কিছুদিনের জন্য,যে কোনো কাউকে সুপারস্টার বানিয়ে দেওয়া যায়।কিন্তু এক্টর তৈরী করা যায় না।ওই এক্স-ফ্যাক্টরটা ভিতরে থাকতে হয়।কিন্তু একইসাথে এক্টর আর সুপারস্টার,এট দা সেম টাইম,ইস ডেডলি কম্বিনেশন!আর সেটা হলেন স্যার এস.আর!
-হুম!
-তাই ওনাকে কাঠি করে,ইন্ডাস্ট্রিতে করে খেতে পারবি না বস।তার চেয়ে মন দিয়ে কাজটা কর,মেয়েছেলে দেখলেই ওসব মাগীবাজি বাদ দে.....

ডিরেক্টরের সঙ্গে বসে কিছু শটস দেখে রোদ-চশমাটা  চোখে দিয়ে সবে ষ্টুডিও থেকে বেরোচ্ছিল এস.আর!খোলা চুলে হালকা হলুদ রঙের চুড়িদারে,কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে সেই মেয়েটিও বেরোলো।ব্যাগ থেকে একটা ব্যান্ড বের করে চুলটা আটকে নিলো।তারপর রোদ-চশমাটা বের করে চোখে পরতে যাবে,এমন সময় সামনের দিকে চেয়ে স্থির হয়ে গেলো তার দৃষ্টি...
কিন্তু পরমুহূর্তেই চোখটা নামিয়ে,রোদ-চশমাটা পরে বেরিয়ে গেলো সে।
এতদিন যে কেউ,যে কোনোভাবে এস.আরের সঙ্গে কথা বলার জন্য ব্যস্ত হয়ে থাকতো।ও নিজেও সেই ব্যাপারটাতেই অভ্যস্ত।কিন্তু এই ব্যাপারটা কি হলো!এস.আর.ভেবেছিলো,মেয়েটি হয়তো তার সঙ্গে কথা বলবে,সকালের জন্য অন্তত একবার থ্যাঙ্কু বলবে।কিন্তু কথা বলা দূরে থাক,মেয়েটি মাথা নিচু করে সোজা বেরিয়ে গেলো....

বেশ অবাক হয়ে গেলো এস.আর।ও গাড়িতে উঠে পড়লো,স্টুডিওর একেবারে গেটের বাইরে এসে  দেখলো,মেয়েটি ক্যাবে উঠে বেরিয়ে যাচ্ছে..

জিম করতে-করতে চোখের সামনে হলুদ রং ভাসছে।কাল সারারাত ঘুম নেই,সকাল থেকে কিছু খাওয়া নেই।টেকনিক্যালি কাল রাত থেকে প্রায় না খাওয়া।বেশি এক্সসারসাইজে ব্ল্যাক-আউট হবার কথা।কিন্তু চারদিকে সর্ষেফুল দেখছে কেন ও!সুইমিং করতে গিয়েও নীল জলের মধ্যে হলুদের আভা ভেসে উঠছে বারেবারে!
-ফাক ম্যান!হোয়াট দা হেল ইস হ্যাপেনিং!

নাঃ,আজ আর হবে না।জল থেকে উঠে পড়লো এস.আর!
-ও হিরো!আজ তাড়াতাড়ি উঠে পড়লি?অল ওকে?ওপরের ব্যালকনি থেকে আওয়াজ দিলো রাজা।এস.আরের ক্লোজ ফ্রেন্ড এন্ড সেক্রেটারি!
-ইয়া বাডি,ইভরিথিং ইস ফাইন!ডোন্ট ওয়ারি!

শাওয়ার নিয়ে প্রোটিন শেকটুকু গলায় ঢেলে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো এস.আর।বিকেলে একটা মিউজিক চ্যানেলে একটা মুভির প্রমোশন আছে,একটু ঘুমিয়ে নিতে হবে এখনই।একরকম জোর করেই চোখদুটো বন্ধ করলো ও।কিন্তু চোখের সামনে আবার ভেসে উঠছে সেই একজোড়া চোখ।কত প্রশ্ন যেন আবদ্ধ রয়েছে ওই চোখের গভীরে।তা ঢাকতেই যেন তড়িঘড়ি রোদ-চশমায় চোখদুটো আড়াল করলো মেয়েটি।কিন্তু কেন এত পর্দা!হলুদ ওড়নাটা অবাধ্য হাওয়ায় বেসামাল হয়ে যাচ্ছে বারেবারে।কি সুন্দর নরম একটা গন্ধ আসছে না!ওড়নাটা থেকেই কি!উগ্র পারফিউমের গন্ধে আজকাল দমবন্ধ হয়ে আসে এস.আরের।এই গন্ধটা বেশ আবিষ্ট করে রাখে।মনে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি আসে।ওড়নাটায় মুখ ডুবিয়ে পরম শান্তিতে ওই নরম গন্ধটা নিতে ইচ্ছে করে।চোখদুটো জড়িয়ে আসছে ওর।ওড়নার বদলে বেডকভারটাকেই টেনে মাথার ওপর দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো এস.আর..

Bengali Hot Story With Photo | বড়দের গল্প | একান্ত গোপনে

 আজকের গল্প - একান্ত গোপনে


শিলিগুড়িতে কালই পৌছনাের খুব দরকার প্রিয়ব্রতর, ব্যবসা সংক্রান্ত একটা ব্যাপারে। কিন্তু এসপ্লানেডের দূরপাল্লার বাসগুমটিতে এসে যখন সে জানতে পারলাে শিলিগুড়িগামী শেষ রকেট বাসে একটা আসনও ফাঁকা নেই, আর শেষ রকেট বাস ছাড়তে তখন মাত্র পাঁচ মিনিট বাকী ছিল। প্রিয়ব্রত মাথায় হাত দিয়ে বসলাে, নির্ঘাত নতুন কন্ট্রাক্টটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। এখন উপায়! ঠিক এই সময়ে যেন পরিত্রাতার ভূমিকায় এসে হাজির হলাে বছর চব্বিশ-পঁচিশের এক সুন্দরী যুবতী।
টিকিট রিটার্ন কাউন্টারের সামনে এসে মেয়েটি ব্যস্ত হয়ে বলে উঠলাে, দেখুন আমার নাম মণীষা মজুমদার, আমার স্বামী দীপক বিশেষ একটা জরুরী কাজে এখানে আটকে পড়ায় শিলিগুড়ি যেতে পারছেন না। তাই ওঁর টিকিটটা ফেরত নিতে হবে। ‘শেষ মুহূর্তে টিকিট ফেরত? বুকিং ক্লার্ক রমেন খাস্তগীর একটু ইতস্তত করলাে, হঠাৎ প্রিয়ব্রতর কথা মনে পড়তেই সে কাউন্টারের সামনে তাকালো। প্রিয়ব্রতকে দেখতে পেয়ে সে চিৎকার করে বলে উঠলাে, “মশাই, এই যে মশাই শুনছেন। একটু আগে আপনি না শিলিগুড়ির একটা টিকিট চাইছিলেন? যােগাড় হয়ে গেছে। ভাড়ার টাকাটা দিয়ে টিকিটটা নিয়ে যান।
টিকিটের নাম, শুনে প্রিয়ব্রত হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলাে বটে কিন্তু টিকিটটা অন্য এক ভদ্রলােকের, ফেরত দেওয়া হচ্ছে, তবে তার স্ত্রী যাচ্ছে। প্রিয়ব্রতর আপত্তি এখানেই, বাসে মেয়েটি সারারাত তার পাশেই থাকবে। প্রবাদ আছে, ‘পথে নারী বর্জিতা!’ তাই কি করবে ভেবে পাচ্ছে না সে।
তাকে ইতস্তত করতে দেখে বুকিং ক্লার্ক এবার অস্বস্তি গলায় বলে উঠলাে, “ঠিক আছে, আপনি না নিলে অন্য ইচ্ছুক যাত্রীকে টিকিটটা দিয়ে দিচ্ছি। অন্যযাত্রী মানে বছর চল্লিশ বয়সের ষণ্ডমার্কা একটা লােককে দেখে মণীষা ঘাবড়ে যায়। সে এবার প্রিয়ব্রতর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালাে, আপনার তাে আজই শিলিগুড়ি যাওয়া খুবই জরুরী। তাহলে যাচ্ছেন না কেন? এখানে একটু থেমে মেয়েটি আবার বললাে, “ঠিক আছে, টিকিটের দাম বাসে উঠে দিলেও চলবে। এখন আমার সঙ্গে আসুন তাে। বাস এখনই ছেড়ে দেবে।
প্রিয়ব্রত আপত্তি করার আগেই মণীষা তার হাত ধরে একরকম জোর করেই তাকে টানতে টানতে বাসে নিয়ে গিয়ে তুললাে। টু-সিটেড আসন। মেয়েটি জানালার ধারে বসে প্রিয়ব্রতকে আহবান জানালাে বসুন!
“আপনার টিকিটের দামটা?
“আরে, পালিয়ে তাে যাচ্ছেন না, সামনে সারাটা রাত পড়ে রয়েছে, মণীষা হাসতে হাসতে প্রিয়ব্রতর হাত ধরে তাকে তার পাশে বসিয়ে দিলাে একরকম জোর করেই। মেয়েটির মধ্যে কি জাদু ছিল কে জানে, এবারেও সে কোনাে আপত্তি করতে পারলাে না।
কাটায় কাটায় ঠিক ন'টায় রকেট বাস ছেড়ে দিলাে।

আজকের Golpo "একান্ত গোপনে" গল্পের প্রধান চরিত্রে প্রিয়ব্রত ও মণীষা, গল্পের বিষয় - Bengali hot story আরও Bangla love story এবং Bangla jokes অথবা Bengali Shayari পড়ার জন্য আমাদের ব্লগ টিকে সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথে থাকুন, গল্পটি পড়িয়া যদি আপনার ভালো লাগিয়া থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট এবং শেয়ার করিতে ভুলিবেন না।

Bengali hot story with photo


Bangla Hot Story With Photo - বাংলা বড়দের গল্প
আজকের গল্প - একান্ত গোপনে
শিলিগুড়িতে কালই পৌছনাের খুব দরকার প্রিয়ব্রতর, ব্যবসা সংক্রান্ত একটা ব্যাপারে। কিন্তু এসপ্লানেডের দূরপাল্লার বাসগুমটিতে এসে যখন সে জানতে পারলাে শিলিগুড়িগামী শেষ রকেট বাসে একটা আসনও ফাঁকা নেই, আর শেষ রকেট বাস ছাড়তে তখন মাত্র পাঁচ মিনিট বাকী ছিল। প্রিয়ব্রত মাথায় হাত দিয়ে বসলাে, নির্ঘাত নতুন কন্ট্রাক্টটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। এখন উপায়! ঠিক এই সময়ে যেন পরিত্রাতার ভূমিকায় এসে হাজির হলাে বছর চব্বিশ-পঁচিশের এক সুন্দরী যুবতী।

টিকিট রিটার্ন কাউন্টারের সামনে এসে মেয়েটি ব্যস্ত হয়ে বলে উঠলাে, দেখুন আমার নাম মণীষা মজুমদার, আমার স্বামী দীপক বিশেষ একটা জরুরী কাজে এখানে আটকে পড়ায় শিলিগুড়ি যেতে পারছেন না। তাই ওঁর টিকিটটা ফেরত নিতে হবে। ‘শেষ মুহূর্তে টিকিট ফেরত? বুকিং ক্লার্ক রমেন খাস্তগীর একটু ইতস্তত করলাে, হঠাৎ প্রিয়ব্রতর কথা মনে পড়তেই সে কাউন্টারের সামনে তাকালো। প্রিয়ব্রতকে দেখতে পেয়ে সে চিৎকার করে বলে উঠলাে, “মশাই, এই যে মশাই শুনছেন। একটু আগে আপনি না শিলিগুড়ির একটা টিকিট চাইছিলেন? যােগাড় হয়ে গেছে। ভাড়ার টাকাটা দিয়ে টিকিটটা নিয়ে যান।

টিকিটের নাম, শুনে প্রিয়ব্রত হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলাে বটে কিন্তু টিকিটটা অন্য এক ভদ্রলােকের, ফেরত দেওয়া হচ্ছে, তবে তার স্ত্রী যাচ্ছে। প্রিয়ব্রতর আপত্তি এখানেই, বাসে মেয়েটি সারারাত তার পাশেই থাকবে। প্রবাদ আছে, ‘পথে নারী বর্জিতা!’ তাই কি করবে ভেবে পাচ্ছে না সে।

তাকে ইতস্তত করতে দেখে বুকিং ক্লার্ক এবার অস্বস্তি গলায় বলে উঠলাে, “ঠিক আছে, আপনি না নিলে অন্য ইচ্ছুক যাত্রীকে টিকিটটা দিয়ে দিচ্ছি। অন্যযাত্রী মানে বছর চল্লিশ বয়সের ষণ্ডমার্কা একটা লােককে দেখে মণীষা ঘাবড়ে যায়। সে এবার প্রিয়ব্রতর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালাে, আপনার তাে আজই শিলিগুড়ি যাওয়া খুবই জরুরী। তাহলে যাচ্ছেন না কেন? এখানে একটু থেমে মেয়েটি আবার বললাে, “ঠিক আছে, টিকিটের দাম বাসে উঠে দিলেও চলবে। এখন আমার সঙ্গে আসুন তাে। বাস এখনই ছেড়ে দেবে।

প্রিয়ব্রত আপত্তি করার আগেই মণীষা তার হাত ধরে একরকম জোর করেই তাকে টানতে টানতে বাসে নিয়ে গিয়ে তুললাে। টু-সিটেড আসন। মেয়েটি জানালার ধারে বসে প্রিয়ব্রতকে আহবান জানালাে বসুন!
“আপনার টিকিটের দামটা?
“আরে, পালিয়ে তাে যাচ্ছেন না, সামনে সারাটা রাত পড়ে রয়েছে, মণীষা হাসতে হাসতে প্রিয়ব্রতর হাত ধরে তাকে তার পাশে বসিয়ে দিলাে একরকম জোর করেই। মেয়েটির মধ্যে কি জাদু ছিল কে জানে, এবারেও সে কোনাে আপত্তি করতে পারলাে না।
কাটায় কাটায় ঠিক ন'টায় রকেট বাস ছেড়ে দিলাে।

রাত ন'টা শীতের রাত, রাস্তা প্রায় ফাকা। রকেট বাস, রকেটের মতাে দ্রুত গতিতে ছুটে চললাে তার গন্তব্যস্থলের দিকে। ফাকা বি টি রােডে আসতেই বাসের গতি দ্বিগুণ হয়ে গেলাে। ডানলপ ব্রীজের সামনে হঠাৎ ট্রাফিকের আলােটা লাল হয়ে উঠতেই বাসের চালক দ্রুত ব্রেক কষতেই যাত্রীরা হুড়মুড়িয়ে এ ওর ঘাড়ে লুটিয়ে পড়লাে।
এদিকে প্রিয়ব্রত ও মণীষার অবস্থা তথৈবচ। দু'হাত দিয়ে প্রিয়ব্রতর গলা জড়িয়ে ধরে থরথর করে কাঁপছে মণীষা। তার বুকের কাপন তখন আছড়ে পড়ছে প্রিয়ব্রতর বুকে। ওরা কতক্ষণ যে ওভাবে জড়িয়ে বসেছিল কেউ তা জানে না।

পিছনের আসন থেকে এক ছােকরা টিপ্পনী কাটল, কি দাদা, খুব লেগেছে?
এমন একটা নােংরা মন্তব্যের উত্তর দিতে ইচ্ছে হলাে না প্রিয়ব্রতর। তার বদলে অস্ফুটে মণীষার উদ্দেশ্যে বলে উঠলাে, আরে ছাড়ুন এবার। বাসের যাত্রীরা যে দেখছে...। দেখুকগে! মণীষা আরও নিবিড় করে প্রিয়ব্রতকে জড়িয়ে ধরে কপট অভিমান করে বললাে, বাসের ঝাকুনিতে আমার লাগলাে, আর ওরা রঙ্গ-রসিকতা করছে? না ওদের কথায় কান দেবেন না।
আঘাত পেয়েছে শুনে প্রিয়ব্রতর কেমন যেন একটু মায়া হলাে মেয়েটির ওপর। তাই সে মণীষার মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলাে, কোথায় লেগেছে?
এইখানে, এই বলে প্রিয়ব্রতর ডানহাতটা ধরে নিজের বুকজোড়ার মাঝখানে চেপে ধরলাে মণীষা, ছাড়তে চাইল না।
প্রিয়ব্রত ঘাবড়ে গেলাে। বাস তখন রকেটের গতিতে আবার ছুটতে শুরু করেছিল। ওদিকে বাসের যাত্রীরা আবার আগের মতাে ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছিল তখন। প্রিয়ব্রত হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ওরা এমন রসালাে দৃশ্য দেখলে আর রক্ষে ছিল না। রাতের জার্নি বলে বাসে মাত্র দুটি আলাে জ্বলছিল, একটা গেটের মুখে, আর একটা ঠিক ওদের আসনের পেছনে। কম পাওয়ারের আলাে হলেও মেয়েটির মুখটা বেশ স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল। অন্য আসনগুলাে প্রায় অস্পষ্ট আলােয় ডুবেছিল, তাতে একটা বাড়তি সুবিধে হলাে এই যে, দূর থেকে ওদের গতিবিধি অন্য যাত্রীদের চোখেই পড়ছে না।

তবু সাবধানের মার নেই, প্রিয়ব্রত তার হাতটা মেয়েটির বুকের ওপর থেকে তুলে নিতে গেলে মণীষা এবার আরাে জোরে চেপে ধরলাে ওর পাখীর মতাে নরম বুকের ওপরে অনুভবে বুঝলাে প্রিয়ব্রত অজান্তে তখন সে মণীষার বুকে হাত দিয়ে ফেলেছে। ব্ৰাহীন বুক। মেয়েটির স্বাস্থ্য ভীষণ ভালাে। তার ওপর বিশাল বুকের চাপে মনে হচ্ছিল ব্লাউজ না ফেটে যায়। সামনের দিকে বােতাম ব্লাউজের। ওপরের দুটি বােতাম খুলে গেছে, বুকের উপরের অনেকখানি উন্মুক্ত, আলােয় উদ্ভাসিত। সংকোচ হচ্ছিল, তাই প্রিয়ব্রত বােতাম দুটো লাগাবার চেষ্টা করতেই মণীষা তার হাত চেপে ধরে অস্ফুটে বলে উঠলাে, থাক না, আমার ও দুটো দেখতে কি তােমার খুব খারাপ লাগছে? এই দেখাে আমি তােমাকে তুমি বলে ফেললাম।

“ঠিক আছে, ও কিছু নয়।
‘না ঠিক নেই। তুমিও তাহলে আমাকে তুমি করে ডাকবে বলাে?”
মণীষা তার মনের কথাটাই বলেছিল। সেও যেন কেমন একটু একটু করে মেয়েটির প্রতি আসক্ত হয়ে উঠছিল। তাই সে আর আপত্তি করলাে না, বললাে “ঠিক আছে, তাই বলবাে। এই বলে প্রিয়ব্রত অবিন্যস্ত শালটা একহাতে তার বুকের ওপর গুছিয়ে বিছিয়ে দিলাে। ওপর হাতটা মেয়েটির বুকের ওপরেই তেমনি রাখা ছিল। এর ফলে বাসের অন্য যাত্রীরা জেগে উঠে তাদের দিকে তাকালেও তার হাতের কাজকর্ম তারা আর দেখতে পাবে না, এই ভাবে আশ্বস্ত হলাে সে। তার গতিবিধি দেখে মেয়েটি হাসলাে, স্থির চোখে তাকালাে প্রিয়ব্রতর দিকে। তুমি তাহলে এতক্ষণে সাবালক হলে?
“কি করে বুঝলে।
‘শালটা দিয়ে আমার বুক ঢেকে দিলে কেন?’ মণীষা কপট গম্ভীর মুখে বললাে, ‘একবার আমার অনুমতি নেবার প্রয়ােজন মনে করলে না?
প্রিয়ব্রত তার ব্লাউজের অবশিষ্ট বােতামগুলাে খুলতে খুলতে তেমনি রহস্য করে বললাে, এর পরেও কি তােমার অনুমতি নিতে হবে?
‘না গাে না’, মণীষা ঠোট ফোলালাে, তুমি কি ঠাট্টাও বােঝাে না?
এতে প্রিয়ব্রতর সাহস আরও বেড়ে গেলাে। ততক্ষণে ব্লাউজের সব বােতামগুলাে তার খােলা হয়ে গেছলাে। বুক পুরুষ্ট, সুগঠিত এবং সুডৌল। প্রিয়ব্রত ভালাে করে বুক দুটি তার হাতের মুঠোয় চেপে ধরে মৃদু চাপ দিতে শুরু করলাে। মণীষা হাত সরিয়ে দিলাে না।

বরং আবেগকম্পিত গলায় ফিসফিসিয়ে বললাে, আরও আরও জোরে, খুব ভাল লাগছে।” এই বলে মণীষা হঠাৎ একটা অদ্ভুত কাজ করে বসলাে, প্রিয়ব্রতর মাথাটা নিচে নামিয়ে এনে তার ঠোঁটজোড়া নিজের তপ্ত ওষ্ঠ দ্বয়ের কাছে নিয়ে এলাে। চুম্বনের জন্য মুখ তুললাে মণীষা। প্রিয়ব্রত তার মনের কথা জেনে গেছে ততক্ষণে। তাই সে তার শালটা নিজের মাথার ওপর টেনে বাকী অংশটুকু মণীষার শরীরের ওপরের অংশটুকু ঢেকে দিলাে। এখন প্রকাশ পাওয়ার মতাে ওদের শরীরের কোনাে অংশই খােলা পড়ে রইলাে না। নিশির ডাকে সম্মােহিত নারীর মতাে দেখাচ্ছিল মণীষাকে। মৃদু হাসলাে প্রিয়ব্রত, হঠাৎ আকাঙ্খিত কিছু পেয়ে যাওয়ার হাসি যেন।

এখানে এই চলন্ত বাসের মধ্যে যাত্রীরা সবই যেখানে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঘটনার এমন উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশে হঠাৎ কেমন যেন মণীষাকে ভাল লেগে গেল প্রিয়ব্রতর মণীষাকে সে আরও নিবিড় করে জড়িয়ে ধরলাে। হাতের স্পর্শে সংবহনের আরাম দিতে চাইলাে মণীষাকে। অকপট হাসিতে প্রিয়ব্রত যেন ওকে অবশ করতে চাইছে। মণীষা চুম্বনের জন্যে মুখ তুলতেই প্রিয়ব্রত ওকে ওর সেই ছােট্ট আসনে শুইয়ে ওর কোমর জড়িয়ে ধরলাে সজোরে, পােশাকের ওপর থেকেই চাপ দিলাে মণীষার তলপেটে, আর সেই অবস্থাতেই আলাে আঁধারির ছায়াঘন অবস্থায় দুটি ছায়ামূর্তি চুম্বিত হয়ে রইল।

মণীষার মনে হলাে, এই তার স্বামী। ওদিকে প্রিয়ব্রত হয়তাে কল্পনা করলাে তার বিবাহিত স্ত্রী অনুসূয়াকে, এই মুহূর্তে যাকে সে চাইছে কিন্তু পাচ্ছে না । আর এভাবেই দুটি দেহে দুটি অন্য মন তরঙ্গায়িত হলাে। বাসের সেই স্বল্পালােকে প্রিয়ব্রত মণীষার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাে, ও এখন ওর তপ্ত ঠোটে চুম্বনের প্রত্যাশী।



প্রিয়ব্রত বাসের সেই স্বল্প পরিসরে ঠেস দিয়ে নিজের শরীরের নিচে মণীষাকে শােয়ালাে, তার দেহের ওপর নিজের দেহটাকে কোনােরকমে বিছিয়ে দিয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরলাে সজোরে, শাড়িতে আবৃত মণীষার জঙঘায় এবং তলপেটে চাপ দিতে থাকলাে, আর সেই অবস্থাতেই সেই আলাে আঁধারিতে দুটি ছায়ামূর্তি চুম্বিত হয়ে রইলাে, চুম্বন যতক্ষণ না বিস্বাদ ঠেকলাে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কারাের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইলাে না। মণীষার মনে হলাে, এই তার স্বামী বিজন, যাকে সে শরীরী সম্পর্কে পেতে চায় কিন্তু পায় না কোনাে এক কারণে। দুটি দেহে দুটি অন্য মন তরঙ্গায়িত হতে থাকলে তাদের এতদিনের না পাওয়া আকাঙক্ষা হঠাৎ ক্ষণিকের এই প্রাপ্তিযােগ তারা এখন ভরিয়ে নিতে চাইলাে কানায় কানায়।

কিন্তু তারা এও জানে যে, এই চলন্ত বাসের মধ্যে তাদের সব আকাঙ্খার পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঘটতে পারে না, সম্ভবও নয়। তবে যেটুকু পাওয়া যায় তাই যথেষ্ট, আর যা না পাবে পথের কামনা বাসনা সব পথেই ফেলে রেখে যেতে হবে। অনেকক্ষণ পরে মণীষার চোখে-মুখে একটা সুখ-তৃপ্তির ভাবফুটে উঠতে দেখা গেলাে। এবং প্রিয়ব্রতরও। প্রিয়ব্রতই প্রথমে মণীষার কমলালেবুর কোয়ার মতাে রসসিক্ত ওষ্ঠ দ্বয় থেকে নিজের ঠোটজোড়া বিচ্ছিন্ন করে শান্ত স্নিগ্ধ গলায় মিষ্টি সুরে বললাে, ‘এবার ছাড়।

‘আর একটু প্লিজ’, মণীষা এবার নিজের থেকে সক্রিয় হয়ে দু'হাতে প্রিয়ব্রতর গলা জড়িয়ে ধরে তার ঠোটজোড়া নিজের ওষ্ঠ দ্বয়ের মধ্যে পুরে চোষণে ব্রত হলাে। চোষণ অতি দ্রুত হলাে এবার, যেন চুম্বনে রসনার শেষ ফোটা সে চুষে নিতে চাইছে প্রিয়ব্রতর ওষ্ঠ দ্বয় থেকে। তারপর তখনকার মতাে একেবারে নিঃশেষ হয়ে যেতেই সে বিচ্ছিন্ন হলাে প্রিয়ব্রতর থেকে।

“কেমন লাগলাে?’ প্রিয়ব্রতর দিকে লােলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে মণীষা জিজ্ঞেস করলাে।
তােমার রসালাে ঠোট, নাকি চুম্বন!’
‘দুটোই। এই বলে হাসলাে প্রিয়ব্রত। কপট অনুযােগ করে আবার বললাে, তবে মন ভরলেও দেহ কিন্তু অপূর্ণই রয়ে গেলাে।

এখন এ পর্যন্তই থাক, পথ চলা এখনও শেষ হয়নি দীর্ঘ পথ এখনও বাকী রয়েছে। মাঝেমধ্যে সুযােগ পেলে টুকটাক প্রাপ্তিযােগ ঘটলেও ঘটতে পারে, তার বেশি কিছু নয়। যেমন এই মুহূর্তে আমি তােমাকে তােমাদের অতি প্রিয় জিনিসটা খাওয়াতে পারি। ‘সেটা কি, থামলে কেন?' প্রিয়ব্রত অধীর হয়ে বললাে, “বলাে কি সেটা? আমি কি সেটা চোখে দেখতে পারি?
“না অনুভবে বুঝে নিতে হবে,' মণীষা রহস্য করে বলে তার শালের নিচে প্রিয়ব্রতর মাথাটা আড়াল করে চেপে ধরলাে নিজের বুকের ওপর। ব্লাউজের বােতাম খােলা মণীষার বুক। শালের আড়াল হলেও মণীষার লক্ষ্য কিন্তু স্থির ছিল, প্রিয়ব্রতর মুখটা সে তার আকাঙ্খিত একটা বুকের ওপর চেপে ধরলাে।

হ্যা, মণীষার খুবই প্রিয়। চোষণে দারুণ মজা। 

 এই অভ্যাসটা পুরুষরা তাদের জন্মলগ্ন থেকে শেখে তাদের মায়েদের কাছ থেকে। মণীষার বুকে দুধ নেই, তাতে কি হয়েছে? বাড়িতে তার র-চা খাওয়ার অভ্যাস আছে, র-চায়ে চায়ের ফ্লেভারটা ভাল পাওয়া যায়। সেই রকম বুকেও বেশ মাদী মাদী গন্ধ থাকে, হাত দিতে ভাল লাগে, শুকতে ভালাে লাগে আর চুষতে সে তাে স্বর্গসুখ লাভের মতাে। প্রিয়ব্রত আর অপেক্ষা করতে পারছিল না, পালা করে মণীষার দুটি বুক বেশ আয়েস করে চুষতে শুরু করলাে। স্ফুরিতক চুম্বনে ও চোষণে রক্তবর্ণ হলাে ওষ্ঠদ্বয়, মণীষা বুক আরও চেপে ধরলাে প্রিয়ব্রতর মুখে, চোষণে বৃষ্টি পড়া। কদমের মতাে কণ্টকিত হলাে বুকযুগল।
‘আঃ, কি চমৎকার তােমার বুকজোড়া। একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রিয়ব্রত বলে উঠলাে। ‘ভাল লাগছে?' মণীষা জিজ্ঞেস করলাে।
“দারুণ!’

‘কলেজে ইকোনােমিক্সে পড়েছিলাম ‘ল অব ডিমিনিশিং-এর কথা। ভালাে জিনিষ বেশি খেলেই তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। আর নয়, ওঠো এখন, উঃ তােমার শরীরটা কি ভারি!
এই সময় পিছনের আসনের এক যাত্রীর ঘুম ভেঙে গেলাে। তার আড়মােড়া ভাঙার শব্দ হতেই মণীষা প্রিয়ব্রতকে ঠেলা দিলাে, ‘এই ওঠো, কেউ বােধহয় জেগে উঠেছে। প্রিয়ব্রত দ্রুত মণীষার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উঠে বসলাে। ‘স্যরি!’ মণীষা মুখ টিপে হাসলাে। “দুঃখ করাে না প্রিয়, পরে আমি তােমাকে সুদে আসলে পুষিয়ে দেবাে।
‘প্রমিস?
প্রিয়ব্রতর হাতে মৃদু চাপ দিয়ে মণীষা বললাে, “হ্যা, শপথ নিলাম!” মাঝরাতে বাস এসে থামলাে মালদায়। অনেকক্ষণ থামবে এখানে।
“কিছু খাবে?’ প্রিয়ব্রত জিজ্ঞেস করলাে।

‘যা খাইয়েছ, এরপর অন্য আর কিছু খাওয়ার ইচ্ছে নেই’, রহস্যময় হাসি হেসে মণীষা বললাে, এত সব খাওয়ার পরেও তােমার খিদে পেয়েছে। ‘তেমন করে খেতে দিলে কই?’ প্রিয়ব্রতও কপট অনুযােগ করতে ছাড়লাে না। “সে তােমার দুর্ভাগ্য’, পিছনের আসনের দিকে তাকিয়ে অর্থপূর্ণ হাসি হাসলাে মণীষা। মণীষা কি বলতে চাইছে তা বুঝতে অসুবিধে হলাে না প্রিয়ব্রতর। “বেশ, অন্তত এক কাপ কফি?
‘তা মন্দ হয় না, যা শীত পড়েছে, শরীরটা একটু গরম না করে নিলে নয়!

“সে কি তুমি গরম হওনি?’ মণীষার একটু আগের রসিকতার বদলা হিসেবে বললাে, ‘এত গরম খাওয়ার পরেও ‘এ গরম সে গরম নয়। মণীষাও রসিকতা করতে ছাড়লাে না। তাছাড়া কি এমন গরম করতে পারলে তুমি?
‘সুযােগ পেলে দেখাে তােমার মধ্যে কেমন আমি আগুন জ্বালিয়ে দিই। হাসতে হাসতে বললাে প্রিয়ব্রত।
তার আগে আমিই তােমার মধ্যে আগুন ছড়িয়ে দেবাে।

না তুমি তা পারবে না, প্রিয়ব্রত এবার একটা মােক্ষম রসিকতা করলাে, “দেশলাই কাঠিটা কেবল আমার কাছেই আছে, তােমার কাছে নয়!

‘দুষ্টু কোথাকার’, মণীষা কপট ধমক দিয়ে প্রিয়ব্রতর প্যান্টের ওপর মৃদু চাপ দিয়ে বললাে, এই দেশলাইকাঠির জন্য এতাে দেমাক তােমার?
‘হ্যা অবশ্যই! আর একটা কাঠিই যথেষ্ট, তােমার সারা অঙ্গে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে আমার এই দেশলাইকাঠিটা। তা জ্বালবাে নাকি?
‘না, না, দোহাই তােমার’, মণীষা তাকে থামিয়ে দিয়ে অনুরােধ করলাে, লক্ষ্মীটি, এখানে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে বসাে না, শিলিগুড়িতে চলাে, সেখানে তুমি যত খুশি আগুন জ্বালাও, আমার দেহ পুড়িয়ে ছাই করে দাও না কেন আমি কোনাে ভাবেই আপত্তি করবাে না।

‘কথা দিচ্ছ?
‘কেন, একটু আগেই তাে আমি তােমাকে কথা দিয়েছি। মণীষা বললাে।
‘ঠিক আছে, আমি তাহলে কফি আনতে চললাম,
‘হ্যা, তাই যাও।
কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে প্রিয়ব্রত এই প্রথম মণীষার পারিবারিক প্রসঙ্গে আলােচনা শুরু করতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাে, “তােমার বাড়িতে কে কে আছেন?

‘স্বামী আর দত্তক নেওয়া একটি ছেলে।
‘দত্তক নেওয়া ছেলে?’ প্রিয়ব্রত একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলাে, “কেন, তােমাদের বিবাহিত জীবনের কোনাে ফসল তুলতে পারােনি?
‘অনেক দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমার স্বামী ইমপােটেন্ট, বাবা হওয়ার অযােগ্য। “তাই বুঝি? প্রিয়ব্রত দুঃখ প্রকাশ করলাে, ‘আমি দুঃখিত।
“না, না এতে দুঃখ পাওয়ার কি আছে?' বিষগ্ন গলায় মণীষা বললাে, “এ আমার দুর্ভাগ্য। আর তাই তাে তােমার মতাে একজন ভাল বন্ধু পেয়ে আমি লােভ সামলাতে পারিনি। আমার কথা থাক, এখন তােমার কথা বলাে। তােমার বিবাহিত জীবন কি রকম বলাে।

স্ত্রীও একটি বছর তিনেকের ছেলে নিয়ে আমার সংসার বেশ সুখেই কাটছিল, কিন্তু ভগবান বােধহয় সব সুখ একসঙ্গে দেন না। তা না হলে আমার স্ত্রী হঠাৎ পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে পড়বে কেন বলনা? প্রায় এক বছর হলাে, স্ত্রীর সঙ্গে আমার শারীরিক কোনাে সংযােগ নেই। আর তাই বােধহয় আজ হঠাৎ তােমার এমন মধুর সঙ্গ পেয়ে আমি একটু বেহিসেবিপনা করে ফেলেছি।

‘না, না এটাইতাে প্রকৃতির ধর্ম, নারী পুরুষ একত্রিত হলে এমনি হয়। তুমি এমন কিছু বেহিসেবিপনা করােনি। আমার বিশ্বাস, শিলিগুড়িতে গিয়ে আমি অতৃপ্ত জীবনে আরও বেশি করে তৃপ্তি আনতে পারবাে। স্বামী নেই, ওখানে গিয়ে তুমি আমার বাড়িতেই উঠবে। আমার ছেলে বেলা এগারােটায় ফিরে আসে, আশা করি তার আগেই তােমাকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিয়ে ফেরাতে পারবাে 

সকাল হতেই রকেট বাস এসে পৌঁছলাে শিলিগুড়িতে। কালবিলম্ব না করে বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রিয়ব্রতকে সঙ্গে নিয়ে মণীষা সােজা তাদের হিলকার্ট রােডের বাড়িতে। ফিরে এলাে। তখন বেলা প্রায় নটা বাড়ি ফাকা। ছেলেকে স্কুলে নিয়ে গেছে কাজের মেয়ে শান্তি, তাকে একবারে নিয়েই ফিরবে এগারােটার পর। এই দু'ঘণ্টা, ন'টা থেকে এগারােটা তাদের মিলনের স্বর্গরাজ্য বলে মনে করলাে মণীষা।

এত বড় বাড়িতে তারা দু’ জন এখন। টয়লেট থেকে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিলাে তারা। টয়লেট থেকে বেরিয়ে এসে মৃদু হাসলাে প্রিয়ব্রত, বিজয়ীর হাসি। আর এখানে এই নির্জন বাড়ির মধ্যে হঠাৎ কেমন যেন ভালাে লেগে গেলাে মণীষার প্রিয়ব্রতকে। ওর কাছে গিয়ে ওর খােলা প্রশস্ত বুকে হাত রাখলাে, কাধের পেশীতে হাত বােলালাে, তারপর গলা জড়িয়ে ধরলাে। বাহাতের স্পর্শে সংবাহনের আরাম দিতে চাইলাে প্রিয়ব্রতকে।

প্রিয়ব্রত হাসছে। কপট হাসিতে প্রিয়ব্রত যেন ওকে অবশ করে দিতে চাইছে। মণীষা ভাবছে, এই সময় হঠাৎ যদি ওর স্বামী এসে হাজির হয় ওদের এভাবে মিলিত হতে দেখে দেখুক। একটা ক্লীবকে ও আর ভয় পাবে না, ও এখন ওর মনের মানুষের সন্ধান পেয়ে গেছে। প্রিয়ব্রতকে কথা দিয়েছে ও। কথা রাখতে উদ্যোগী হলাে মণীষা। যেন ওর পুরুষ কৌমার্য হরণ করছে এমনভাবে প্রিয়ব্রতকে সজোরে নিজের দিকে অকর্ষণ করলাে মণীষা, ওকে ঘর্ষণ করলাে নিজের দেহে, তারপর প্রিয়ব্রতর পরনের পােশাক টেনে খুললাে, হাত দিয়ে অনুভব করলাে ওর উদ্যতা রিরংসার ফলা, ছাড়লাে না মুঠোয় ধরে রইলাে।
প্রিয়ব্রত অস্ফুটে বলে উঠলাে, “কি সুন্দর বুক তােমার মণীষা!” আর তােমার এই সােনারকাঠিটাও কম সুন্দর নয় প্রিয়ব্রত, দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে আমার স্বামীরটার থেকে দ্বিগুণ, যেকোনাে মেয়ের কাছে এটা লােভনীয়।

প্রিয়ব্রতর সারা শরীর টান-টান হয়ে উঠেছে। সত্যিকার পুরুষমানুষ। উপযুক্ত শৃঙ্গার আবিষ্কার করতে চায় প্রিয়ব্রত। টের পেয়েছে মণীষার তৃপ্তি-সাধন খুব সহজ নয়। তাই শৃঙ্গারে ওকে অবশ না করলে শুধু সােনারকাঠির স্পর্শে ওর রাগমােচন হবে না। ওর দেহ বেয়ে খানিকটা নামলাে প্রিয়ব্রত মণীষার বুকের অগ্রভাগে মণ্ডলীকার কালাে দাগযুক্ত জায়গায় মুখ রাখলাে, লেহন করলাে বুক, উৎফুল্ল বুকের খানিকটা মাংস দুই পাটির সবগুলাে দাঁত দিয়ে বৃত্তাকারে গ্রহণ করে মৃদু চাপ দিলাে।

এক বুক থেকে প্রিয়ব্রতর মাথাটা তুলে আর এক বুকে আনলাে মণীষা এবং বললাে, এটাকেও একুট দেখাে! মণীষার নিঃশ্বাসে হাল্কা, নাকের পাটা ফুলছে, কথা জড়িয়ে আসছে, কোমল নীচের অংশ আদ্র হচ্ছে। মণীষার নাভিমূলে হাত বুলােলাে প্রিয়ব্রত। একটু একটু করে আরও নিচে উরুসন্ধিতে উত্তাপ অনুভব করলাে, হাতের স্পর্শে দুই উরু প্রসারিত করলাে মণীষা।

আবেগকম্পিত গলায় বললাে, আর পারছিনে। নিতম্ব ওপর দিকে বার বার ঠেলে তুলতে মণীষা ওর ত্রিভুজে বিদ্ধ করাতে চাইছে প্রিয়ব্রতর সােনার কাঠি, দু'হাতে ওর পুরুষকঠিন পশ্চাদভাগ টেনে আনছে নিজের কাকালের দিকে। প্রিয়ব্রত বেশ বুঝতে পারছে মণীষার চোখ মুখ উগ্র সঙ্গমেচ্ছায় বিস্তারিত, স্নায়ুমণ্ডলী উত্তেজিত। উত্তুঙ্গ উত্তেজনার মুহূর্তে দু’হাত মণীষার কোমর জড়িয়ে ধরেচাপ দিয়ে ওকে ওপরের দিকে টানলাে প্রিয়ব্রত, যুক্ত হলাে দেহে দেহে প্রবিষ্ট হলাে মণীষার মধ্যে। মণীষা অধীর আনন্দে বলে উঠলাে, ‘আ’!
কি সুন্দর তােমার ত্রিভুজ মণীষা।
ভাল লাগছে? আরও জোরে...।

কিন্তু প্রিয়ব্রত তাড়াহুড়াে করছে না, দেহে দেহে দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে নিস্ক্রিয় প্রিয়ব্রত আবেশে চোখ বুজে উপভােগ করছে। ওদিকে মণীষা আর স্থির থাকতে পারছে না। কেমন নির্লজ্জের মতাে বললাে, “ওঃ আর একটু, আর একটু...'

এবার সক্রিয় হলাে প্রিয়ব্রত এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই ওর উত্তাপে জারকরস বিন্দু বিন্দু হয়ে ঝরে পড়তে থাকলাে মণীষার দেহের অভ্যন্তরে। দুজনেরই এক সঙ্গে রাগমােচন হলাে। আর অবসন্ন দুটি দেহে ওই অবস্থায় পড়ে রইলাে আরও কিছুক্ষণ। মণীষার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টয়লেট গিয়ে ঢুকলাে প্রিয়ব্রত, মণীষাও অনুসরণ করলাে ওকে। এ ওর মিলনজনিত সমস্ত ক্লেদ, ময়লা ধুয়ে মুছে সাফ করে দিলাে। টয়লেট থেকে বেরিয়ে এসে প্রিয়ব্রত ঘড়ির দিকে তাকালাে, সাড়ে দশটা। বললাে, ‘তােমার ছেলের ফেরার সময় হয়ে এলাে, এবার যাই।

‘আবার কবে দেখা হবে?’ মণীষার চোখে আকুতির ছায়া পড়ে।
‘আবার দেখা কেন, এই তাে ভালাে, মৃদু হেসে প্রিয়ব্রত বললাে, পথের দেখা পথেই তো শেষ হলে ভালাে হয়, তাই না।
মণীষা ফ্যালফ্যাল করে প্রিয়ব্রতর গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলাে। কি উত্তর দেবে ও? এই মুহূর্তে ওর সারা দেহ-মনে প্রিয়ব্রতর সুখ-স্মৃতি জড়িয়ে আছে, অন্য কথা ভেবে সেটা ও মুছে দিতে চাইলাে না।

 

বর্তমানে অধিকাংশ সংসারে সুখ নেই !! সুখ নামের শব্দ’টা কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে !!

 


বর্তমানে অধিকাংশ সংসারে সুখ নেই !!
সুখ নামের শব্দ’টা কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে !!

স্ত্রী তার স্বামীর কাছে শারীরিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে !!
স্বামী তার স্ত্রীকে প্রতিটা মুহূর্তে অবহেলা অপমান করছে !!
স্ত্রী তার শ্বশুর শাশুড়ী ননদের কাছে নির্যাতিত হচ্ছে !!

স্ত্রী তার স্বামী সহ্য করতে পারে না !!
স্ত্রী তার স্বামীর কথার মূল্য দিচ্ছে না !!
স্ত্রী তার শ্বশুর শাশুড়ী ননদকে দেখতে বা সহ্য করতে পারছে না !!

আসলে অনেক সময় এসব মানসিক সমস্যার কারণে হয় !!
একজন স্বামী তার স্ত্রীকে পর করে দেয় !!
একজন স্ত্রী তার স্বামীকে পর করে দেয় !!
তারা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না !!

একটা সম্পর্কের মাঝে সুখ ফিরিয়ে আনতে হলে দুজনকে সেক্রিফাইস করতে হবে !!
একে অপরের কথা সহ্য করতে হবে !!
একে অপরের বিশ্বাস করতে হবে !!
তবেই একটা সম্পর্ক সুখ ফিরে আসবে !!

আর যদি সেক্রিফাইস না করে !!
একে অপরের বিশ্বাস না করে !!
কেউ কারোর কথা সহ্য করতে না পারে !!
সুখ নাম শব্দটা মরীচিকা হয়ে থাকবে!!
একটা সময় স্বামী+স্ত্রী পবিত্র সম্পর্কটা বিচ্ছেদে রুপ নেয় !!