Showing posts with label bd news. Show all posts
Showing posts with label bd news. Show all posts

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাসে রুটিন তৈরির ১১ নির্দেশনা জারি

 


দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠদান শুরু হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে শ্রেণি পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশনা অনুযায়ী রুটিন তৈরি করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) গতকাল বুধবার রুটিন তৈরির একটি নির্দেশনা জারি করেছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট শ্রেণিতে দুটি করে ক্লাস ধরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রুটিন তৈরি করবে।
 ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে প্রতিদিন। অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস সপ্তাহে এক দিন।  রুটিন তৈরির নির্দেশনাগুলো হলো—  
১. ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে;
২. প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এক দিন প্রতিষ্ঠানে আসবে;
৩. সপ্তাহে প্রতিদিন নির্দিষ্ট শ্রেণিতে দুটি করে ক্লাস ধরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রুটিন তৈরি করবে;
৪. রুটিনের সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ক্লাস নির্ধারণ করা যেতে পারে;
বিজ্ঞাপন
৫.যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর সংযুক্ত রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান ওই সব স্তরের জন্য নির্ধারিত ক্লাসগুলো সমন্বয় করে রুটিন করবে;
৬.জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চলমান ডিগ্রি, সম্মান ও মাস্টার্স পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে ২০২১ ও ২০২২ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য রুটিন প্রণয়ন করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করবে;
৭.রুটিন প্রণয়নের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, প্রস্থান ও অবস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের মতো ঘটনা না ঘটে;
৮.রুটিন এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়;
৯.শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপাতত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে; ১০. প্রতিদিন নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে হবে;
১১.পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে।

পরীমনি-হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ ছয়জনের বাসায় অভিযান

 

আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর, চিত্রনায়িকা পরীমনি ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ ছয়জনের বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ শনিবার বেলা তিনটা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ ওমর ফারুক প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হেলেনা জাহাঙ্গীর, পরীমনি, রাজ, কথিত মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার ও শরফুল হাসানের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চালানো এই অভিযানে প্রত্যেকের বাসা থেকে ল্যাপটপ, মোবাইলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

এর আগে সিআইডির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান প্রথম আলোকে জানান, হেলেনা জাহাঙ্গীর, পরীমনি, রাজ, ফারিয়া ও মরিয়ম সিআইডি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা পৃথক সাতটি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আসামি ও মামলার নথিপত্র সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে

গত ২৯ জুলাই মধ্যরাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে র‌্যাব। ওই দিন প্রায় সোয়া চার ঘণ্টার অভিযানে ওই বাসা থেকে বিদেশি মদ, বিদেশি মুদ্রা, হরিণ ও ক্যাঙারুর চামড়া, ক্যাসিনোর সরঞ্জাম ও ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়। হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন আইনে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়েছে।

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের পর গত রোববার রাজধানীর বারিধারা ও মোহাম্মদপুর থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার হন কথিত মডেল ফারিয়া ও মরিয়ম। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। ফারিয়া ও মরিয়মকে গ্রেপ্তারের পর রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে মাদক, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন শরফুল হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান।

এদিকে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসা থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার হন পরীমনি। একই দিন বনানীর নিজ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন প্রযোজক রাজ।

 

 

সেক্স কাকে বলে,কত প্রকার, কি কি?

সেক্স কাকে বলে,কত প্রকার, কি কি?

সেক্সের সময় এগুলো বলেন? একবার বলেই দেখুন, আনন্দ বেড়ে যাবে দ্বিগুণ

যৌনতা/সেক্স হলো জীবের বংশ বিস্তারের প্রথমিক মাধ্যম। যে মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে জীব তার বংশ বৃদ্ধি করে সেটাই সেক্স।

কিন্তু সাধারন মানুষের দৃষ্টিতে যৌনতার উদ্দেশ্য কেবল বংশবিস্তারের মধ্যে সিমাবদ্ধ নেই। যৌনতাকে/সেক্সকে মানুষ এখন প্রথমিক আরাম বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই মনে করে।

সহজ কথায় কোনো প্রানী যখন তার যৌন ইন্দ্রিয় (লিঙ্গ) দ্বারা তার বিপরিত লিঙ্গের প্রতি যৌনতার চাহিদা পূরণ করে, তাই হলো সেক্স বা যৌনতা।

আর এই সেক্স এর অনেক পজিশন আছে যেগুলোর নাম ভিন্য নামে পরিচিত এছাড়াও এনাল সেক্স আছে যা পায়ুপথে সেক্স করা যেটাকে বুঝায় এছাড়াও পজিশন ভেদে সেক্সের নাম আলাদা আলাদা হলেও সব পজিশনকেঈ সেক্স নামেই অবহিত করা হয়। 

তাছাড়া সেক্স সাধারনত দুই প্রকার। তবে একটি অপরটির সঙ্গে জড়িত।সেক্স করতে গেলে দুটি জিনিসের প্রয়োজন একটা সুন্দর মানসিকতা এবং সেক্সের জন্য প্রস্তুত একটা শরীর। তাই সেক্স কে দুই ভাগে ভাগ করা হচ্ছে । মানসিক সেক্স এবং শারীরিক সেক্স

।তবে সেক্সের পজিশন ভেদ রয়েছে। পরবর্তীতে সেক্স এর পজিশন এর ব্যাপারে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করুন চেস্টা করবো সেক্সের পজিশন গুলো বুঝিয়ে দিতে।

আশা করি বুঝতে পারছেন।

তামিম আর বোলারদের ভালো প্রস্তুতি, অস্বস্তি মোস্তাফিজকে নিয়ে

তামিম আর বোলারদের ভালো প্রস্তুতি, অস্বস্তি মোস্তাফিজকে নিয়ে

 https://images.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2021-05%2Fc5bda5c0-4a55-4c24-9e44-5bea0da89136%2FTamim.jpg?rect=0%2C0%2C3000%2C1688&auto=format%2Ccompress&fmt=webp&format=webp&w=900&dpr=1.0

ওয়ানডে সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে তামিম ইকবাল আর নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের অনুশীলন ভালো হয়েছে। প্রস্তুতিটা ভালো হলো বাংলাদেশ বোলারদেরও। আগে ব্যাটিং করে ২৯৬ রান তোলে বাংলাদেশ। তামিম করেছেন ৬২ বলে ৬৬ রান। জিম্বাবুয়ে ৪০.১ ওভারে করেছে ৭ উইকেটে ১৮৯ রান তোলার পর আলোকস্বল্পতায় খেলা হয়নি আর।

ডি/এল পদ্ধতিতে ম্যাচ বাংলাদেশই জিতেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, কত রানের ব্যবধানে এল সেই জয়, সেটি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলও জানতে পারেনি। ম্যাচ কর্মকর্তারা নাকি তাদের কিছু জানাননি।

এদিন ব্যাটিং করলেও বোলিং করেননি সাকিব, খেলেননি তাসকিন আহমেদ। কিন্তু এই ‘ভালো’র ভিড়ে একটা অস্বস্তিও থেকে গেছে বাংলাদেশের। বোলিংয়ের সময় প্রথম ওভারেই উঠে গেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

হারারের হাইফিল্ডের তাকাশিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাবে বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে নেমেছিলেন মোহাম্মদ নাঈম। শুরুটা ধীরগতির করেছিলেন দুজনই। প্রথম ৩৫ বলে ২৩ রান করেছিলেন তামিম, নাইমের প্রথম ৩১ বলে রান ছিল ২০। 

 ৩০ বলে ৩৬ রান করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন।

১২তম ওভারে গিয়ার বদলেছেন তামিম, চড়াও হয়েছিলেন ফারাজ আকরামের ওপর। সে ওভারে তিন চারের সঙ্গে এক্সট্রা কাভার দিয়ে তামিম মেরেছেন একটি ছয়, একলাফে পৌঁছে যান ৪০ বলে ৪১ রানে। তামিম পারলেও গিয়ার বদলাতে পারেননি নাইম। চিভাঙ্গাকে তুলে মারতে গিয়েছিলেন নাইম, বল তাঁর ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে হলো ক্যাচ! আউট হওয়ার আগে করতে নাইম পেরেছেন ৫২ বলে ২৫ রান। ৮১ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙেছে তাতেই।

তানাকা চিভাঙ্গাকে মারা দুই চারে তামিম ফিফটি পূর্ণ করেছেন ৪৬ বলে। ফিফটির পর মেরেছিলেন আরও দুই চার। ওয়েসলি মাধেভেরের বলে আলগা শটে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। শটটা খেলার পর প্রায় মাথায় হাত দিয়েছিলেন, যেন বুঝতেই পারেননি সেখানে ফিল্ডার আছে অথবা তাঁর শটটা সেখানে যাবে!

এরপর দ্রুতই ফিরেছেন লিটন দাস, ৬ বলে ২ রান করে মাধেভেরের বলে ক্রিজ ছেড়ে খেলতে এসে স্টাম্পড হয়েছেন। মোহাম্মদ মিঠুন ৪২ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৩৯ রান করে স্বেচ্ছা অবসরে গেলেও তিনে নামা সাকিব ছিলেন ধীরগতির, শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৩৯ রানের ইনিংসে তিনি মেরেছেন শুধু একটি চার।

ছয়ে নামা মোসাদ্দেক হোসেন করেছেন ৩০ বলে ৩৬, ৩ চার ও ২ ছয়ে। স্বেচ্ছায় অবসরে গেছেন তিনিও। আর চিভাঙ্গার বলে এলবিডব্লু হওয়ার আগে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২৩ বলে ২৮ রান করেছেন আফিফ হোসেন। শেষ দিকে নুরুল হাসানের ১২ বলে ১৮ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অপরাজিত ১০ বলে ১২ রানে ৩০০-এর কাছাকাছি গেছে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারেই উঠেছে ৯৪ রান।

বোলিংয়ে অবশ্য শুরুতেই অস্বস্তিই হলো বাংলাদেশের সঙ্গী। প্রথম ওভার করতে এসে অ্যাঙ্কেলে অস্বস্তি নিয়ে উঠে গেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, এর আগে করেছিলেন ৫ বল। এরপর বরফ দেওয়া হয়েছে তাঁর পায়ে।

অন্য প্রান্তে বোলিংয়ে এসেছিলেন সাইফউদ্দিন, প্রথম উইকেটও পেয়েছেন তিনিই। মাধেভেরে (১৩ বলে ১৪ রান) তাঁর বলে হয়েছেন কট-বিহাইন্ড। পরের ওভারে তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে ফিরিয়েছেন শরীফুল ইসলাম।

বাংলাদেশের নাঈমের মতোই এক ইনিংস এরপর খেলেছেন জিম্বাবুয়ের শেষ ওয়ানডে সিরিজের অধিনায়ক চামু চিবাবা। সাইফউদ্দিনের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৫১ বলে তিনি করেছেন ১৭ রান। এর আগেই পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়েছিলেন ইবাদত হোসেন। ওয়ানডে স্কোয়াডে না থাকলেও টেস্ট ম্যাচের পর দলের সঙ্গে থেকে গেছেন এই পেসার। প্রথমে ২৯ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলা ডিওন মায়ার্সকে ফেরান ইবাদত, পরের বলে বোল্ড করেন তিনাশে কামুনহুকামওয়েকে। এরপর সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্লকে ফিরিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন।

অষ্টম উইকেটে অবশ্য ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোই করেছেন টিমাইসেন মারুমা ও রিচমন্ড মুতুম্বামি। মারুমা অপরাজিত ছিলেন সমানসংখ্যক বলে ৫৯ রানে, ৩১ বলে ১৬ রান করে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন মুতুম্বামি।

২টি করে উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ইবাদত হোসেন। একটি নিয়েছেন শরীফুল ইসলাম। মোসাদ্দেক ৬.১ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৬ রান, ৭ ওভারে যথাক্রমে ৩৩ ও ৩৯ রান দিয়েছেন সাইফউদ্দিন ও শরীফুল। ৭.১ ওভারে ইবাদত খরচ করেছেন ৩৭ রান। ৮ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তাইজুল ইসলাম। আর ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়েছেন আফিফ হোসেন।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে শুক্রবার। এ সিরিজের পর তিনটি টি-টোয়েন্টিও খেলবে বাংলাদেশ।

 

 

 

ড্রেসিংরুমে আড্ডায় মাতলেন নেইমার-মেসি, আবেগে আলোড়িত ফুটবলবিশ্ব

 


কোপা আমেরিকা ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ মেনে নিতে পারছিলেন না এই ব্রাজিল তারকা। অন্যদিকে, কান্না করতে দেখা গেল লিওনেল মেসিকেও। এ কান্না আনন্দের, নিজের জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের। তবে নেইমারকে কাঁদতে দেখে এসে জড়িয়ে ধরেন মেসি। ফুটবলের দুই বর্ণময় চরিত্রের এই মিলন দেখে আবেগে আলোড়িত ফুটবলবিশ্ব।

দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে রবিবার কোপা আমেরিকা জিতল আর্জেন্টিনা। শেষ বার জিতেছিল ১৯৯৩ সালে। দেশের হয়ে প্রথম ট্রফি জিতলেন মেসি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেই সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ভাসছিলেন তিনি।

মাঠের এককোণে তখন কাঁদছিলেন নেইমার। রিচার্লিসন এসে জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু শান্ত করতে পারেননি। নেইমার কাঁদতে কাঁদতে একসময় মাঠে বসে পড়েন। উঠে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পরেই তাঁকে জড়িয়ে ধরেন মেসি। অনেকক্ষণ জড়িয়ে থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

ড্রেসিংরুমে ফিরে অবশ্য দুই তারকা বেশ উৎফুল্লই ছিলেন। মেসির সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা গেছে নেইমারকে। সেই ছবি পোস্ট করেছে কোপা আমেরিকার টুইটার হ্যান্ডল।

চার বছর বার্সেলোনার জার্সিতে মেসির পাশে খেলেছেন নেইমার। পিএসজি'তে গেলেও বন্ধুত্ব হালকা হয়নি। বরং বার্সেলোনাকে বার বার চাপ দিয়ে নেইমারকে ক্লাবে ফেরানোর অনুরোধ করেছেন মেসি। বিরাট অর্থের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

 

সম্পর্কের অবনতি ঘটলেই ধর্ষণের অভিযোগ, হয়রানির শিকার পুরুষরা

 একই প্রতিষ্ঠানে কাজের সূত্রে পরিচয় পবন গুপ্ত এবং রিয়া সেনের। প্রথমদিকে একসঙ্গে কফি খেতে যেতেন তারা। একপর্যায়ে নিজেদের বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করে দেয়া শুরু হয় তাদের। পরে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে।

ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা, একপর্যায়ে এক সঙ্গে বসবাস শুরু করেন তারা। তবে শুরু থেকেই পবন গুপ্ত রিয়া সেনকে বলে আসছিলেন, তার বাবা-মায়ের আর কোনো সন্তান নেই। সে ক্ষেত্রে বাবা-মা যদি রিয়াকে পছন্দ করেন, কেবল সে ক্ষেত্রেই তাদের বিয়ে হবে, অন্যথায় সম্পর্কের ইতি টেনে নিতে হবে তাদের। 

এভাবেই একবছর পার হয়ে গেছে তাদের। একবার বাড়ি ফেরার পর পবন জানান, তার পরিবার থেকে বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বিয়ে। অন্যদিকে রিয়া সোজা দিল্লি পুলিশের কাছে গিয়ে পবনের নামে অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পবন তাকে গত এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন। পবন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েছিল বলেই তিনি পবনের সঙ্গে বিছানায় গেছেন, অন্যথায় যেতেন না।

তবে পবনের দাবি, আমি এ ধরনের প্রতিশ্রুতি কখনোই দেয়নি। আর সম্মতির ভিত্তিতে ধর্ষণ হয় কীভাবে? সেটাও আবার এক বছর ধরে!

এদিকে গত মাসে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রুল জারি করে যে, কোনো নারী সম্মতির ভিত্তিতে এক সঙ্গে বসবাসের পর ওই পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করতে পারবেন না। এমনকি ওই পুরুষ যদি তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়, সে ক্ষেত্রেও এ ধরনের অভিযোগ করার সুযোগ নেই।

অথচ পবন গুপ্তের ইতোমধ্যেই ক্ষতি হয়ে গেছে অপূরণীয়। ছেলে ধর্ষণে অভিযুক্ত হওয়ার খবর শুনে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন পবনের মা। চাকরিটাও চলে গেছে পবনের। তার বাগদত্তাও বিয়েতে না করে দিয়েছেন। পরিচিতজনরাও তার দিকে বাঁকা চোখে তাকায়।

ভারতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, ২০১৬ সালে ৩৮ হাজার ৯ শত ৪৭টি ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তার মধ্যে ১০ হাজারের বেশি অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণের।

আইনজীবী বিনয় শর্মা বলেন, কোনো সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেই নারীরা ধর্ষণের অভিযোগ করছেন। কেউ কেউ আবার টাকার লোভে অভিযোগ করছেন। কিছুদিন আগেই পাঁচ লাখ রুপির বিনিময়ে এক নারী এ ধরনের অভিযোগ তুলে নিয়েছেন।

ভুয়া অভিযোগের কারণে, পারিবারিকভাবে সম্মানহানি যেমন হয়, বিপুল পরিমাণ অর্থও ধসে যায় অভিযুক্তের। একজন গবেষক ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ২০১৩ সালে গবেষণা করেছেন, তিনি দেখেছেন, এক তৃতীয়াংশ নারী সম্পর্কের অবণতি ঘটে যাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।

পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করা দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পুরুষরা যদি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও থাকেন , দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে বসবাসের পর তারা কি সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন না?

দ্য গার্ডিয়ান

স্ত্রীর লাথিতে স্বামীর মৃত্যু

 


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় স্ত্রীর লাথিতে স্বামী আবুল হাশেমের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ব্যাপারে হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ হাশেমের স্ত্রী লাইলী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, হাশেম ও তাঁর স্ত্রী লাইলীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।

নিঃসন্তান এ দম্পতি গত মঙ্গলবারও ঝগড়ায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীর স্পর্শকাতর অঙ্গে সজোরে লাথি মারেন স্ত্রী। এতে হাশেম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, ‘আমরা লাইলী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছি।’

লাইলি বেগমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজ চরকায় তেল দাও—হাফিজকে পাকিস্তানের বোর্ডের সিইও



স্পট ফিক্সিংয়ের কারণে নিষিদ্ধ শারজিল খানকে আবার ক্রিকেটে ফেরানো পিসিবির উচিত হয়েছে কি না, এ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ।

নীতিগত দিক থেকে ভাবলে হয়তো মোহাম্মদ হাফিজের প্রশ্ন তোলাটা যৌক্তিকই। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যে ব্যাপারে অনুমতি দিয়ে রেখেছে, পিসিবিরই চুক্তিবদ্ধ একজন ক্রিকেটার হয়ে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সে কারণেই পিসিবির রোষের মুখে হাফিজ।
স্পট ফিক্সিংয়ের কারণে নিষিদ্ধ শারজিল খানকে আবার যেভাবে ক্রিকেটে ফিরিয়েছে পিসিবি, সেটি পছন্দ হয়নি হাফিজের। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তান অলরাউন্ডার। কিন্তু হাফিজের ওভাবে প্রশ্ন তোলা আবার পছন্দ হয়নি পিসিবির। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওয়াসিম খান তাই হাফিজকে বলছেন, নিজের চরকায় তেল দাও, মনোযোগ দাও নিজের খেলায়।
২০১৭ সালের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে শারজিল খানকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে পিসিবি। কিন্তু গত বছরের আগস্টে শারজিল ‘শর্তহীন ক্ষমা প্রার্থনা’ করায় পিসিবি এই ৩০ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের শাস্তি স্থগিত করে। এবারের পিএসএলে করাচি কিংস তাঁকে কিনে নেয়। ব্যাট হাতে অবশ্য খুব একটা ভালো করেননি শারজিল, ১০ ম্যাচে করেছেন ১৯৯ রান। সর্বশেষ তিন ইনিংসের দুটিতে অবশ্য দারুণ ব্যাটিং করেছেন। একটিতে ৭৪, অন্যটিতে ১৪ বলে ৩৭। তাতেই এরই মধ্যে আগামী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাকিস্তান দলে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
এ নিয়েই আপত্তি হাফিজের। টুইটারে এক ভক্তের প্রশ্নে তাঁর জবাব বুঝিয়ে দিল, শারজিল পাকিস্তান দলে ফিরলে খুশি হবেন না হাফিজ।
শারজিলকে এত দ্রুত পাকিস্তান দলে কেন নেওয়া উচিত হবে না, তা বোঝাতে কদিন আগে পাকিস্তানের বোলিং কোচ ও কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনুস বলেছিলেন, ‘এক-দুটি ইনিংস দিয়ে শারজিলকে বিবেচনা করা যাবে না। ওর ফিটনেসে অনেক উন্নতি করতে হবে। না হলে অস্ট্রেলিয়ায় ওকে মাঠের কোন জায়গায় লুকাব?’
এ নিয়েই এক ভক্ত টুইটারে হাফিজকে প্রশ্ন করেন, ‘শারজিলের ব্যাপারে ওয়াকারের মন্তব্যে আপনি একমত? নাকি আপনার মনে হয় (শারজিলের মতো) ভালো দক্ষতা আছে কিন্তু ফিটনেস কম এমন খেলোয়াড়কে নেওয়া যায়?’ জবাবে হাফিজ লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে এরকম ‘দারুণ প্রতিভা’র চেয়ে আমাদের মর্যাদা ও গর্বের সীমাটা আরও উঁচুতে বাঁধা উচিত নয় কি?’’
ইঙ্গিত পরিষ্কার, শারজিল যতই প্রতিভাবান হোন, এমন একজনকে দলে দেখতে চান না হাফিজ। কিন্তু তাঁর এমন মন্তব্য খেপিয়েছে পিসিবির সিইও ওয়াসিমকে। হাফিজকে বলেছেন, ‘নিজের খেলায় মনোযোগ দাও।’
ক্রিকইনফোতে ওয়াসিম বলেছেন, ‘এখনো খেলছেন এমন খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য খেলোয়াড়দের সমালোচনা করা, বা ক্রিকেট বোর্ডের কোনো কাজ ঠিক কি ভুল, কাজটা করা উচিত হয়েছে কি হয়নি এসব ব্যাপারে মন্তব্য করা উচিত নয়। বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে, ক্রিকেট খেলাটা নিয়ে তাঁদের মনের সব কথাই বলতে পারেন। কিন্তু খেলোয়াড় বা বোর্ডের ভুল-শুদ্ধের ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলার কাজটা বোর্ডের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
হাফিজের সঙ্গে তিনি নিজেই এ নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন ওয়াসিম।

ভালোবাসারও যত্ন চাই

৫০ বছরের দাম্পত্যজীবনে আবদুল হাই খান ও আয়েশা খানমের যে ঝগড়াঝাঁটি হয়নি, তা নয়। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে কত চড়াই-উতরাই যে পেরোতে হয়েছে। কখনো মনোমালিন্য, আর্থিক কষ্ট, কখনো কর্মসূত্রে দূরে থাকা, পাওয়া না পাওয়ার হিসাবটা অনেক সময়ই মেলেনি। তবে একটা সুতা যেন শক্ত করে গিঁট বেঁধে ছিল সম্পর্কটাতে। তাই এত বছর পার হলেও ঘরভর্তি নাতিনাতনির মধ্যেও আলাদা করে মমতা দেখান দুজন দুজনকে। এখনো প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গাছের সবচেয়ে ডাসা ও পাকা দুটো বরই তুলে এনে ঘুমন্ত স্ত্রীর খাটের পাশে রেখে দেন আবদুল হাই খান—সবার অলক্ষ্যে। একবার দুষ্টু নাতনি দেখে ফেলল ঘটনাটি। ‘নানাভাই আমাদের না দিয়ে নানিকে কেন দিলেন’—জানতে চাইলে একগাল হেসে আবদুল হাই বলেন, ‘ছোট্ট খুকিকে ঘরে এনেছিলাম। পাকা বরই খেতে ভালোবাসত।’

এভাবেই যত্নে রাখতে হয় ভালোবাসাগুলো। ঘরের সবচেয়ে দামি জিনিসটি যেমন যত্নে রাখা হয়, তেমনি মনের সবচেয়ে দামি জিনিস ভালোবাসারও একটু যত্নের প্রয়োজন পড়ে। আসলে সম্পর্ক হচ্ছে গাছের চারার মতো। চারার যেমন যত্ন নিতে হয়, সম্পর্কেরও তেমনি। না হলে গাছের মতো সম্পর্কও মরে যায়। ইংলিশ লেখক টমাস ফুলারের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে, ‘ভালোবাসতে শেখো, ভালোবাসা দিতে শেখো, তাহলে তোমার জীবনে ভালোবাসার অভাব হবে না।’ অনেকেই বলেন, ‘ব্যস্ত জীবনে পরিবার, সংসার, সন্তান পালন, আয়ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে ভালোবাসা দৌড়ে পালায়। ভালোবাসি বলেই তো সব করি। আলাদা করে ভালোবাসার সময় কই?’ আসলে সারা দিন ভালোবাসি-ভালোবাসি বলার প্রয়োজন পড়ে না, ছোট ছোট কাজ দিয়েই প্রকাশ করা যায় সঙ্গীকে কতটা ভালোবাসি। ছোট ছোট ভালো-মন্দ অনুভূতির গুরুত্ব দেওয়া, প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও অল্প একটু সময় বের করে সঙ্গীর খোঁজ নেওয়া, ছুটির দিন ঘরের সব কাজ শেষে একসঙ্গে বসে চা খাওয়া, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ছোট্ট করে বিদায় জানানো, বিপদে শুধু চুপ করে পাশে থাকাটাও অনেক কিছু প্রকাশ করে।
একে অপরকে শ্রদ্ধা
সঙ্গীকে শ্রদ্ধা করুন। দুজন মানুষ আলাদা সত্তা, এক করে মেলানো ঠিক নয়। সঙ্গীর মতের সঙ্গে সব সময় আপনার মতের মিল না–ও হতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকা হোক, স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু এমনকি মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যেও মতবিনিময়ে অমিল হতে পারে। তাই বলে নিজের মতামত সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। পরামর্শ দিতে পারেন, হয়তো ঠিক মনে হচ্ছে না, সেটাও সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে পারেন। তবে তিরস্কার করবেন না কখনোই। 
রায়হান ও সোমা দুজনই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ব্যস্ততার সীমা নেই। আজকাল কেবল সন্তানের দরকার-অদরকার নিয়েই কথা হয় এই দম্পতির মধ্যে। কীভাবে যে দূরত্ব আসছে, নিজেরাও টের পাচ্ছেন না। প্রায়ই কাজের সময় হঠাৎ করে রায়হানকে ফোন দেন সোমা। ব্যস্ত রায়হান বেশির ভাগ সময়ই ফোনটা কেটে দেন। এ ক্ষেত্রে বলতে হয় সঙ্গীর কথা শুনুন। হয়তো সে প্রয়োজনীয় কথা বলছে না, সব সময়ই যে কথা প্রয়োজনেই হবে, এমনটা কিন্তু ভালোবাসার নিয়ম নয়। যে অনুভূতিটি তিনি প্রকাশ করতে চাইছেন, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। 

সুন্দর ব্যবহার
সব সম্পর্কেরই ঝগড়াঝাঁটি হয়। এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রায়ই দেখা যায়, রেগে গিয়ে একে অপরকে কঠিন কথা শুনিয়ে ফেলে মানুষ। উল্টোপাল্টা আচরণ করে বসে। এটাই মনে একটা দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। এসব ক্ষেত্রে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে পরে সঙ্গীর ভুলটা বুঝিয়ে ধরিয়ে দেওয়া যায়। 
আচরণে কৃত্রিমতা নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব প্রকাশ করছি ভালোবাসা, একসঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ছবি। অথচ দুজনের সম্পর্কে যোজন যোজন দূরত্ব। মানুষের সামনে হয়তো বলছি সঙ্গীকে ছাড়া চলেই না, অথচ সঙ্গীর সামান্য চাওয়াটাও পূরণ করছি না। বাইরের মানুষের সামনে ভালোবাসার উদাহরণ অথচ ভেতরে একে অপরের আবেগে দিই না মর্যাদা, জীবনে এসব কৃত্রিমতা না থাকাই ভালো। 
একান্তে কিছু সময় কাটান
ব্যস্ত জীবনে একে অন্যকে দেওয়ার সময় কোথায় আমাদের। সন্তান, সংসারের জাঁতাকলে জীবন অতিষ্ঠ। তবে এর মধ্যেই প্রিয়জনের জন্য কিছু সময় আলাদা করে বরাদ্দ রাখতে হবে। হতে পারে সকালে দুজন একসঙ্গে কফি খাওয়া। নয়তো রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিটের আলাপন। সে যে আপনার জীবনের বিশেষ কেউ, এটা সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিন। অবসর সময়ে মুঠোফোনে চোখ আটকে না রেখে পাশে থাকা মানুষটার সঙ্গে কোনো কিছু নিয়ে কথা বলুন। আপনি আছেন সব সময়, এই ভরসাটুকু যেন সঙ্গী আপনার কাছ থেকে পায়। 
ঘুরতে যাওয়া যায় বাইরে কোথাও
জীবনে টেনশন থাকে, ক্লান্তি থাকে—সবকিছু নিয়েও পরিবারের সঙ্গে অসাধারণ সময় কাটানো যায়, দায়িত্ব পালন করা যায়, বাচ্চাদের শখ পূরণ করা যায়, আনন্দ করা যায়। ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে আলাদা করে ঘুরতে যাওয়া যায়। এ সবকিছুই যত্নে রাখে সম্পর্ককে। 
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন
সঙ্গী আপনাকে খুশি করতে কোনো উদ্যোগ নিলে হাসিমুখে তাকে স্বাগত জানান। বিশেষ কোনো খাবার রান্না করলে, কোনো কিছু উপহার দিলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তবে কখনোই সঙ্গীকে কারও সঙ্গে তুলনা করবেন না। অমুক এটা করে, তমুক তো তোমার মতো না। ও পারে তুমি কেন পারো না বলে সঙ্গীকে দোষারোপ করতে যাবেন না। সব সময়ই সঙ্গীর সহযাত্রী হওয়ার চেষ্টা করুন। শুধু সুখে নয়, দুঃখের দিনেও তাঁর পাশে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে দাঁড়ান। 
অলক্ষ্যে বদনাম নয়
সঙ্গীর নেতিবাচক দিকটি অন্যের কাছে তুলে ধরবেন না। হয়তো গল্পে গল্পেই কাউকে বলছেন। তবে সেটা সে জানতে পারলে যে কষ্ট পাবেন, তা সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। সেই সঙ্গে আজ যা বর্তমান, কাল তা–ই অতীত। তাই অতীতের ভুলত্রুটি আঁকড়ে ধরে রাখবেন না। সঙ্গীর অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করাই ভালো। বর্তমানের মানুষটাকে ভালোবাসুন। 
শাহেদ ও রিতুর ১০ বছরের সংসার। জানালেন, এই ১০ বছরে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য খুব কষ্ট করে কিছু করার প্রয়োজন পড়েনি তাঁদের। এই দম্পতি মনে করেন, দামি উপহার দিয়ে যা হয় না, হয়তো ছোট্ট একটা অনুভূতিই তা প্রকাশ করে দেয়। যেমন যখনই শাহেদ ঘর থেকে বের হন বারান্দায় দাঁড়ান রিতু। শাহেদ বোঝেন, তাই সব সময় পেছন ফিরে তাকান, হাত নেড়ে একটু হাসেন। ছোট এই আদান-প্রদান চমৎকার করে দেয় তাঁদের জীবনটাকে।
 করোনাভাইরাসে প্রভাবিত কে–পপ

করোনাভাইরাসে প্রভাবিত কে–পপ

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়াতে এখন কোভিড–১৯ নামের ভাইরাসটি উদ্বেগজনক হারে ছড়াচ্ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট সাতজন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬০ জন। আর ৭ হাজার ৭০০ কোরীয় আছে কোয়ারেন্টাইনে। এই দুর্যোগের সময় বের হলো বিশ্বখ্যাত কে–পপ ব্যান্ড বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ম্যাপ অব দ্য সোল: সেভেন। এমন এক অবস্থায় অ্যালবামটি নিয়ে বিটিএস–ভক্তদের কাছাকাছি যেতে পারছে না, বাতিল করছে জনসমাগমে প্রচার–প্রচারণা। শুধু বিটিএস নয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্য কে–পপ শিল্পী ও ব্যান্ডগুলো এড়িয়ে চলছে জনসমাগম। সবাই কনসার্ট ও অন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে।

শিল্পী থাকবে, শ্রোতা নয়!

র‌্যাপার স্টোর্মজি বাতিল করেছেন তাঁর কনসার্টর‌্যাপার স্টোর্মজি বাতিল করেছেন তাঁর কনসার্টবিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়াতে এখন কোভিড–১৯ নামের ভাইরাসটি উদ্বেগজনক হারে ছড়াচ্ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট সাতজন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬০ জন। আর ৭ হাজার ৭০০ কোরীয় আছে কোয়ারেন্টাইনে। এই দুর্যোগের সময় বের হলো বিশ্বখ্যাত কে–পপ ব্যান্ড বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ম্যাপ অব দ্য সোল: সেভেন। এমন এক অবস্থায় অ্যালবামটি নিয়ে বিটিএস–ভক্তদের কাছাকাছি যেতে পারছে না, বাতিল করছে জনসমাগমে প্রচার–প্রচারণা। শুধু বিটিএস নয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্য কে–পপ শিল্পী ও ব্যান্ডগুলো এড়িয়ে চলছে জনসমাগম। সবাই কনসার্ট ও অন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে।
শিল্পী থাকবে, শ্রোতা নয়!
নিজেদের পরের কনসার্টে শ্রোতাদের আসতে বারণ করে দিয়েছে বিটিএস। এমনকি তারা সর্বশেষ অ্যালবাম ম্যাপ অব দ্য সোল: সেভেন–এর মুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনও করেছে জনশূন্য মিলনায়তনে। ভার্চ্যুয়ালি সেই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দিয়েছেন। নতুন অ্যালবাম প্রচারের জন্য কোরিয়ার সিওলে বেশ কিছু টিভি অনুষ্ঠানে বিটিএস সদস্যদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সে অনুষ্ঠানে বিটিএস–আর্মি, অর্থাৎ বিটিএসের ভক্তদেরও থাকার কথা। তবে এক আনুষ্ঠানিক মেইলের মাধ্যমে বিটিএস সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে, কোভিড–১৯–এর সংক্রমণ এড়াতে ভক্তদের স্টুডিওতে না আসার অনুরোধ রইল। বিটিএস আরও জানায়, নিরাপত্তার কারণে কোনো দর্শক ছাড়াই প্রচারণার অনুষ্ঠানগুলোর দৃশ্য ধারণ হবে।
ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলন
সোমবার ম্যাপ অব দ্য সোল: সেভেন–এর মুক্তি উপলক্ষে কোরিয়ায় একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিটিএস, তবে সেটা ভার্চ্যুয়ালি। আগে থেকেই সাংবাদিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রশ্নের উত্তর দেন বিটিএসের সদস্যরা। সেখানে তাঁরা জানান, কোনোভাবেই নিজেদের বা ভক্তদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিটিএস।
‘আমরা এখন স্বাস্থ্যকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখছি। আর আমরা সব সময় নিজের সত্তা ও নিজেকে ভালোবাসার যে বার্তা সবাইকে দিয়েছি, সেটা করার জন্য আপনাকে অবশ্যই সুস্থ থাকতে হবে।’ ভক্তদের উদ্দেশে বিটিএসের সদস্য জিমিন এসব কথা বলেন।

এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার দেশটির নাগরিকদের বাড়ির বাইরে বের হওয়ার ব্যাপারে এবং করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে বেশ কিছু নিয়ম আরোপ করেছে। বিটিএস সরকারের নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা করছে এবং মানুষের ভিড়ে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে নিজেদের ও ভক্তদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে।
সংকটে দক্ষিণ কোরীয় বিনোদনমাধ্যম
দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সংকটে পড়েছে দেশটির বিনোদনমাধ্যম। শুধু বিটিএস নয়, কোরিয়ার বিভিন্ন টিভি চ্যানেল তাদের নিজস্ব অনুষ্ঠানে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক কে–পপ দল বাতিল করে দিয়েছে কনসার্ট ও ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান।
এশীয় বিনোদনে করোনার প্রভাব
শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদনমাধ্যমই নয়, করোনাভাইরাসের কারণে আক্রান্ত হচ্ছে পুরো এশিয়ার বিনোদন ব্যবসা। সংগীতের অনেক বড় তারকারা তাঁদের আসন্ন এশীয় কনসার্ট করোনাভাইরাসের ভয়ে বাতিল করে দিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মার্কিন র​্যাপার স্টোর্মজি। সাংহাই, হংকং, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় তাঁর গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ভয়ে ট্যুর বাতিল করে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি চীনে জেমস বন্ডের নতুন চলচ্চিত্র নো টাইম টু ডাই–এর উদ্বোধনী প্রদর্শনীও বাতিল করা হয়েছে। বাদ যায়নি খেলার আয়োজনও। বাতিল করা হয়েছে টোকিও ম্যারাথন।
বিটিএসের নতুন অ্যালবাম
করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে পুরো পৃথিবী। তবে এত কিছুর পরেও বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ঠিকই আলোচনার ঊর্ধ্বে আছে। অ্যালবাম প্রকাশ পাওয়ার আগেই রেকর্ড পরিমাণে অগ্রিম বিক্রি হয় অ্যালবামটি। এ বছর ‘কোরিয়ান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’–এর পক্ষে তাদের বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় কারণে সেটিও বাতিল হয়ে গেছে। তবে তাতে দুঃখ নেই ব্যান্ডটির। ভক্তরা ভালো থাকলেই খুশি বিটিএস। ‘বর্তমানে বাইরে উন্মুক্ত জায়গায় যাওয়া যেহেতু বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, আমরা আশা করব, আপনি আপনার খেয়াল রাখবেন।’ ভক্তদের উদ্দেশে বলেন দলটির শিল্পীরা।

ফেসবুকের কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক

facebook real news jachai

উৎপত্তি চীনে হলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চীনে ভাইরাসটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে এবং চীনের বাইরেও একজনের মৃত্যুসংবাদ আমরা পেয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে রয়েছে তীব্র শঙ্কা। সেটা বিশ্বের সব প্রান্তেই। আর এই সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা। করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতেই একদিকে হিমশিম খাওয়ার জোগাড়, তার সঙ্গে জুটেছে ভুল তথ্যের প্রসার।
আর শুধু করোনাভাইরাস কেন, মাঝেই মাঝেই কিছু বিষয় নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বুঝতে পারেন না মূল ঘটনা কোনটা, আর কোনটা গুজব। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিব্রত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। কারণ, ফেসবুকেই সব সময় বেশি গুজব ছড়াতে আমরা দেখেছি। আর তাই এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। পাশাপাশি নিউজফিডে ভুয়া সংবাদ চিহ্নিত করার গোটা কয়েক টিপসও দিয়েছে।
শুরুতেই শিরোনাম যাচাই করুন
শিরোনাম নিয়ে সন্দেহপ্রবণ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ফেসবুক। ভুয়া সংবাদের শিরোনাম সচরাচর রগরগে হয়। ইংরেজিতে হলে বড় হাতের অক্ষর এবং বিস্ময় চিহ্নের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। তা ছাড়া শিরোনামে অবিশ্বাস্য কোনো দাবি করা হলো—কিন্তু সেটা বিশ্বাস করার মতো নয়।
ওয়েব ঠিকানায় গোলমাল নেই তো?
ফেসবুকে শেয়ার করা কোনো খবর নিয়ে সন্দেহ হলে ওয়েব ঠিকানা (লিংক) ভালো করে দেখুন। জনপ্রিয় কোনো ওয়েবসাইটের ঠিকানার মতো দেখতে মেকি কোনো লিংক পেলে ধরে নেবেন, সেটা ভুয়া সংবাদ। কৃত্রিম ওয়েবসাইটগুলো নিজেদের অকৃত্রিম হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। প্রথম আলোর ওয়েব ঠিকানা সামান্য পরিবর্তন করেও এমন চেষ্টা আমরা আগে দেখেছি।
প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র দেখুন
সংবাদের তথ্যসূত্র যাচাই করুন। প্রতিবেদনটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের কি না, নিশ্চিত হোন। সংবাদমাধ্যমটির সুনাম নিয়েও মনে প্রশ্ন রাখুন। তথ্যসূত্র অচেনা হলে তাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন, ‘অ্যাবাউট’ পাতা দেখুন। ভুয়া সংবাদে উপযুক্ত প্রমাণের ঘাটতি কিংবা এমন বিশেষজ্ঞের উক্তি দেওয়া হয়, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সর্বোপরি, সন্দেহ হলে এড়িয়ে যাওয়া ভালো।
ভুলে ভরা ওয়েবসাইটেই ভুল তথ্য
জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে আলাদা বিভাগে অনেক মানুষ কাজ করেন। আর ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরির পেছনে থাকে অল্পসংখ্যক দুর্বৃত্ত। তাদের লেখাগুলোর বানান ভুলে ভরা থাকে। ঘটনার তারিখ নিয়ে গোলমাল পাকিয়ে ফেলে। ওয়েবসাইটের নকশাও হয় অদ্ভুত। লক্ষণগুলো পেলে সতর্ক থাকুন।
ছবিও পরীক্ষা করুন
ভুয়া সংবাদের সঙ্গে ভুয়া ছবি বা ভিডিও জুড়ে দেওয়ার প্রবণতা আছে। অনেক সময় ছবি আসল হলেও অন্য কোনো ঘটনার ছবি বর্তমান ইস্যুর বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। সন্দেহ হলে গুগলের ইমেজ সার্চে গিয়ে ছবিটি আপলোড করে তার উৎস খুঁজে দেখুন।
একাধিক সংবাদমাধ্যমে দেখুন
ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হলে সাধারণত একাধিক সংবাদমাধ্যম তা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে। টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দেখানো হয়। কোনো সংবাদ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে নির্ভরযোগ্য অন্যান্য সংবাদমাধ্যম ঘেঁটে দেখুন ওই বিষয়ে সংবাদ পেশ করা হয়েছে কি না।
মজা করে লেখা নয় তো?
অনেক সময় গুরুতর ঘটনা নিয়ে কৌতুক করা হয় বা ব্যঙ্গাত্মক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ফেসবুকে এমন অনেক পেজ আছে। স্যাটায়ার ঘরানার অনেক ওয়েবসাইটও আছে। লেখা পড়ে বোঝার চেষ্টা করুন, তা মজা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না। কিংবা দেখুন ওয়েবসাইট বা পেজটির অন্যান্য লেখা স্যাটায়ারধর্মী কি না।
আগেই বলেছি, অসৎ উদ্দেশ্যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। সেই তথ্য পুনরায় শেয়ার করা মানে দুর্বৃত্তদের সাহায্য করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোনো তথ্য সম্পর্কে নিজে নিশ্চিত না হয়ে তা শেয়ার করবেন না।

একসঙ্গে জন্মানো তিন বোন কিংবা তিন ভাই


যমজ। আগ্রহ জাগানিয়া শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো একই গর্ভজাত এবং একই সময়ে ভূমিষ্ঠ। তিন সন্তান হলে তাকে বলা হয় ‘ট্রিপলেট বেবি’। চারজন হলে ‘কোয়াড্রুলেট বেবি’। এর বেশি সন্তানও হতে পারে। 
ট্রিপলেট বেবি মানে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন সন্তান নিয়ে এই লেখা। অক্সফোর্ডের ইংরেজি-বাংলা অভিধানে (কলকাতা থেকে প্রকাশিত) ট্রিপলেট কথার মানে দেখতে পাচ্ছি ‘একই সঙ্গে জাত একই মায়ের তিনটি সন্তান’। ট্রিপলেটের বাংলা কী হবে? জানতে চাই জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান স্যারের কাছে। মনস্ক পাঠকেরা জানেন, প্রথম আলোতে স্যারের ‘আমার অভিধান’ মূল্যবান একটি রচনা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। আনিসুজ্জামান বললেন, ট্রিপলেটের বাংলা হবে ত্রেতা বা ত্রৈত।

নাতনি চাই না, মেয়েকে বাঁচানআমার বড় মেয়েও সিজারিয়ান। দুই বছর পর এই তিন কন্যা একসঙ্গে জন্ম নিল। একসঙ্গে তিন তিনটা শিশু আমার পেটে, একথা শুনে আমার মা তো মহা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তিনি চিকিৎসককে বললেন, ‘আমার মেয়েকে সুস্থ করে দেন আপনি। যেভাবেই হোক, মেয়েকে বাঁচাতে হবে আগে।’ ওরা জন্মানোর পর আমার দুই বোন বলল তাদের একটা একটা করে দিয়ে দিতে। একজন নিঃসন্তান। আরেকজন কানাডায় থিতু। তিন ছেলে তার। সবাই বড়সড়। বিয়ে থা করে সংসারী হয়েছে। সেই বোনের মেয়ের খুব শখ। খুব ঝোলাঝুলি করেছিল কোনো একজনকে নিয়ে নেওয়ার জন্য। হাসতে হাসতে কথাগুলো বললেন ট্রিপলেট বেবির মা মুনিয়া হাসান। পূর্ব গোড়ানে তাঁদের নিজস্ব বাড়ি। নাম অস্থায়ী নিবাস। কয়েক দিন আগে কথা হলো সেই তিন সন্তান মৌমিতা হাসান, মেহনাজ হাসান ও মেহরীন হাসানের সঙ্গে। বয়স তাদের ১৪ বছর। সবাই পড়ছে ক্লাস টেনে। দুইজন এক স্কুলে। অপরজনার স্কুল আলাদা। দুইজন বিজ্ঞান বিভাগে, একজন মানবিকে।
সুদক্ষ শল্যচিকিৎসায় মুনিয়া ও মেহেদী হাসান দম্পতির মুখে হাসি ফুটিয়েছিল। দূর করেছিল সব উৎকণ্ঠা। সেটা ১৪ বছর আগের কথা। শাহজাহানপুরের প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে এই তিন বোনের জন্ম হয় ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। 
মুনিয়া হাসান বললেন তাঁর ট্রিপলেট বেবি জন্ম দেওয়ার গল্প—গর্ভাবস্থায়ই ডাক্তার আমাকে জানিয়েছিলেন, প্ল্যাসেন্টা যেহেতু একটা, সুতরাং মেয়ে হলে তিনজনই মেয়ে হবে। আর যদি ছেলে হয়, তবে তিনজনই হবে ছেলে। ডাক্তারের কথাই ঠিক হলো শেষ পর্যন্ত। গর্ভাবস্থায় এক মাস আমাকে স্যালাইন নিতে হলো। একপর্যায়ে কোনো খাবারই ভালো লাগত না। আমাকে বলা হলো দুধ খেতে। দুধে সব ধরনের ভিটামিন আছে তো। সাড়ে আট মাসের সময় আমার গাইনোকলজিস্ট কনসাল্ট করলেন শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। সাব্যস্ত হলো, এখন অস্ত্রোপচার করে ওদের বের করা হলে একজনকে ইনকিউবেটরে রাখতে হবে। সেটা এড়ানোর জন্য মোট সাতটি ইনজেকশন নিতে হয় আমাকে। জন্মানোর পর সবচেয়ে ছোটজনকে নল দিয়ে খাওয়াতে হতো কিছুদিন। বুকের দুধ ওদের দিতে পারিনি। সেটা সম্ভব ছিল না তখন।
আরও তথ্য জানতে চাই মুনিয়া হাসানের কাছে। চার মাসের সময় বলা হলো বাচ্চা হবে যমজ। ছয় মাসের সময় যখন শুনলেন ওরা তিনজন, তখন খুবই ভয় পেলেন। মুনিয়া বললেন, আমার বড় মেয়েও সিজারিয়ান। একই ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে তারও নির্ঝঞ্ঝাট জন্ম। 
তিন কন্যার নাম রাখা হলো সিঁথি, রীতি ও প্রীতি। তিন বোনে ঝগড়াঝাঁটি মাঝে মাঝে হয়। দু’জনের চেহারা ও খাদ্যরুচি প্রায় একই রকম। অন্যজন একটু আলাদা। তিন মেয়ের জন্য আগে একই ধরনের পোশাক কিনতেন। এখন কিনতে হয় আলাদা আলাদা। ওর বলে, তিনজনের ড্রেস আলাদা হলে লোকেরা আমাদের চেহারার মিল সহজে বুঝতে পারবে না। রাস্তাঘাটে ওদের চেহারার মিল দেখে লোকজনের অতিমাত্রায় কৌতূহলে ওরা অস্বস্তি বোধ করে। লোকজন হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। আমরা চট্টগ্রামে যে বাড়িতে থাকতাম, সেই বাড়িওয়ালার ছিল যমজ বাচ্চা। ওই বাড়িতে থাকতে থাকতেই আমার তিন–তিনটা বাচ্চা হলো একসঙ্গে।
তিন কন্যার বাবা মেহেদী হাসান পেশায় একজন কেমিস্ট। একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করছেন। তিনি বললেন, মেয়েরা আমার বড় লক্ষ্মী। আমি মেয়েদের ঘর সংসারের কোনো কাজ করতে দিই না। ওদের মা অবশ্য কাজ শেখাতে চায়। জোরাজুরিও করে কোনো কোনো সময়। ওদের জন্মের আগে শুধু একটা ব্যাপারেই বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম। কেউ না আবার অসুস্থ হয়ে জন্মায়। তেমন কিছু ঘটেনি। 
বেণি দোলানো তিন বোনের সঙ্গে কথা হলো। আদুরে আদুরে মিষ্টি দেখতে তিনজনাই। লাজুক স্বভাবের। ওরা আমাকে বলে, রাস্তায় লোকে যমজ যমজ বলে সব সময় মন্তব্য করে। ঠায় তাকিয়ে থাকে। এসব আমাদের মোটেও ভালো লাগে না। সে জন্য আমরা পারতপক্ষে বাড়ির বাইরে বিশেষ একটা বের হই না। বড়জন সিঁথি বড় হয়ে ডাক্তার হতে ইচ্ছুক। দ্বিতীয়জন রীতির স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হবে। একেবারে ছোটজন শিক্ষকতাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চায়। তিন বোনেরই চোখে চশমা। ওদের বাবা জানালেন, চোখের সমস্যা ওদের জন্মগত। ডাক্তার বলেছেন, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস অন্তর ওদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করাতে হবে। তা–ই আমরা করছি। তিন বোনেরই খুব পছন্দের খাবার হলো বিরিয়ানি ।
সাগরপারের তিন ভাই আসিফ নূর চৌধুরী ও নীলিমা জাহিদ সুলতান দম্পতি। এঁদের নিবাস কক্সবাজার। বিয়ের পর বাচ্চা হচ্ছিল না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা আর উদ্বেগ ছিল বেশ। একসঙ্গে তিন সন্তান মাতৃগর্ভে এল। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ হতে হলো তাদের। মাতৃজরায়ুতে অবস্থানের সময় ৭ মাস ২ দিন। মাত্র ৪ মিনিটে ডেলিভারি করানো হলো তাদের। সিজারিয়ান সেকশন। তিন জনের সম্মিলিত ওজন চার কেজি। মাটির পৃথিবীতে এসে ভালো রকম বিপদেই পড়তে হয়েছিল তাদের। ইনকিউবেটরে থাকতে হয়েছে টানা ২০ দিন। 
তিন ভাইয়ের নাম যথাক্রমে আকিক নূর চৌধুরী, আমল নূর চৌধুরী ও আলাপ নূর চৌধুরী। তারা এখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ে। সবার জন্ম ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি। ওদের বাবা আসিফ নূর একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থাপক। মা চাকরি করতেন ব্র্যাকে। তিন ছেলেকে লালন-পালনের জন্য চাকরি ছাড়তে হয়েছে।
আসিফ নূর তিন পুত্র অর্থাৎ ট্রিপলেট বেবি সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানালেন। তাঁদের আর কোনো সন্তান নেই। ওদের জন্মের চার মাস আগে জানা গেল তিনজনের কথা। তিন ছেলের জন্ম হয়েছে চট্টগ্রামের রয়্যাল হসপিটালে। মা এ সংবাদ শুনে খুবই খুশি হয়েছিলেন। তখন তার পক্ষে বোঝা সম্ভব ছিল না যে কত বড় দায়দায়িত্ব কাঁধে বর্তাচ্ছে। আসিফ নূর বললেন, ‘আমি তখন ছিলাম ঢাকায়। ফোনে খবরটা জেনে বেশ উৎফুল্ল হই। নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে হয়। আমিও দায়িত্বের ব্যাপকতা ও চ্যালেঞ্জটা গোড়ার দিকে অতটা আঁচ করতে পারিনি। একসঙ্গে তিন বাচ্চা বড় করা চাট্টিখানি কথা নয়। তাতে মায়ের কষ্টটাই সবচাইতে বেশি। ওরা মায়ের বুকের দুধ পান করে বড় হয়েছে। পালাক্রমে ওরা মায়ের দুধ পান করত। জন্মের ক্রমানুসারে ওদের মধ্যেকার বড় ছোট নির্ধারণ করেছি। তিনজন দেখতে হুবহু এক নয় বলে সুবিধা হয়েছে।’ 
এই তিন ভাইকে লালন–পালনে কোনো সমস্যা হয় কি? আসিফ নূর বলেন, একটু গাদাগাদি হয় বৈকি! যথাযথভাবে মানুষ করার ব্যাপারটি বেশ ব্যয়বহুলও বটে। ওদের কোনো বড় ভাই কিংবা বোন থাকলে বেশ হতো। এরা তিনজন তো সমানে সমান। একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কে কাকে মানবে? দিনমান ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকে। এই ঝগড়া অবশ্য তাদের নিত্যদিনের খেলার অংশই হয়ে গেছে। 
তিন ভাইয়ের মধ্যে আবার মিলমিশও কম না। একজন আরেকজনকে না দেখে থাকতে পারে না। একসঙ্গে থাকে সব সময়। দল বেঁধে স্কুলে যায়। খেলাধুলা করে। খাদ্যরুচিও এক নয় তাদের। তিন ভাই–ই যেটা পছন্দ করে, তা হলো মুরগি ও বড় চিংড়ি মাছ। অন্য খাবারের বেলায় একেক জনের পছন্দ একেক রকম। দুইজন নিজের হাতে খেতে পারে। একেবারে ছোটজন এখনো মায়ের হাতে খায়। জামাকাপড় সব সময়ই যে এক রকম দিতে হয়, সেটা না। তিনজনের পছন্দের রংও আলাদা। তারা তিনজনই শিল্পী। ছবি আঁকতে ভালোবাসে। সবকিছুকেই তারা রং দিয়ে বিচার করতে ভালোবাসে। যেমন একজন বলল, ‘বাবা তোমার মোটরসাইকেল কি গুন্ডারা নিয়ে গেছে?’ রসিকপ্রবর পিতৃদেব জানতে চাইলেন, ‘গুন্ডার রং কী হবে বলো তো?’ চটপট উত্তর দেয় তারা, গুন্ডার রং হবে চকলেট। চিত্রশিল্পী উত্তম সেনকে একবার তারা প্রশ্ন করেছিল, আচ্ছা কাকু, বলেন তো দুঃখের রং কী? উত্তম সেন উত্তর দিয়েছিলেন, দুঃখের রং হলো ছাই।
নীলিমা জাহিদ সুলতান বললেন, ‘লোকজন বলে, আপা আমরা একটাকেই পালতে পারি না। আর আপনার তো তিন তিনটা! তিনজন নিয়ে আমার কষ্টও বেশি। এরা ঝগড়াঝাঁটি করে, সামলানো মুশকিল। আবার মিলেমিশেও থাকে। পরস্পরের জন্য টান আছে খুব। যৌথ পরিবার আমাদের। তিন বাচ্চার জন্মের পর ব্র্যাকের চাকরিটা আমাকে ছাড়তে হয়েছে।’
মা–বাবা কার প্রতি টান বেশি ওদের? আসিফ নূর এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাবা-মা দু’জনের জন্যেই টান আছে ওদের। তিন ভাই টিভিতে খেলা দেখতে পছন্দ করে। প্রিয় খেলা ক্রিকেট, ফুটবল আর রেসলিং। ট্যাবে তারা গেমস খেলেও সময় কাটায়। তিনজনের মধ্যে বেশ ভালো দোস্তি রয়েছে। পড়াশোনায় তিনজনই মোটামুটি ভালো।