Showing posts with label love poem bangla. Show all posts
Showing posts with label love poem bangla. Show all posts

এক পাতিল দই || Bangla love story

 


মিষ্টির দোকান থেকে দই কিনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি এমন সময় এক গাড়ী পুলিশ এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। গাড়ী থেকে নেমেই কয়েকটা পুলিশ সোজা বন্দুক আমার দিকে করে বললো, এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে এক্ষুনি বের করুন নাহলে আপনাকে গুলি করতে বাধ্য হবো। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। সকাল সকাল এ কি বিপদে পড়লাম রে বাবা। ভয়ে ভয়ে বললাম, স্যার এর মধ্যে বগুড়ার দই আছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে বললাম, স্যার আমার বিয়েশাদি হয়নাই। আপনি দয়া করে বন্দুকটা বুকের দিকে অথবা মাথার দিকে তাক করে ধরুন। ওখানে গুলি লাগলে আমি আর এই জীবনে বিয়ে করতে পারবো না। ছোটবেলা থেকে আমার বিয়ে করার খুব ইচ্ছে।

পিছন থেকে এসআই সাহেব এগিয়ে এসে বললো, মানুষের এতো ইচ্ছে থাকতে তোর এই বিয়ে করার ইচ্ছের কারণ টা কি? আমি বললাম, বিয়ের পর অনেকগুলো বাচ্চাকাচ্চা হবে। তারপর শিশুপার্কে গিয়ে এক ব্যাটার উপর প্রতিশোধ নিবো। সেদিন প্রেমিকার সাথে শিশুপার্কে গেছিলাম। এক ব্যাটা আমাদের ঢুকতে দেয়নাই। বলছে ওখানে শিশু ছাড়া ঢোকা নিষেধ।

এসআই আমার কানমলা দিয়ে বললো, পরিবার পরিকল্পনার শ্লোগান শুনিস নাই? দুইটি বাচ্চার বেশি নয়৷ একটি হলেই ভালো হয়। আমি কাচুমাচু হয়ে বললাম, স্যার বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি। সেইখানে আমার ৩-৪ বাচ্চাকাচ্চা আপনাদের কাছে বেশি হয়ে গেলো? এসআই ধমক দিয়ে বললো ,অই তুই চুপ থাক। বেশি কথা বলিস। ঐ কেউ একজন এর প্যাকেট খুলে দেখ ভিতরে কি আছে।

একজন এগিয়ে এসে প্যাকেট খুলে দেখে বললো, স্যার ভিতরে দই ছাড়া কিচ্ছু নাই।

এসআই বললো, দইটাও চেক করে দেখ। গাড়ির ভিতরে দেখ চামুচ আছে সেটা নিয়ে আয়।

কনস্টেবল একটা চামুচ এনে দই থেক এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার ফার্স্টক্লাস দই। জীবনে এমন দই খাইনাই।এসআই বললো, কি তাই নাকি? সত্যি ভালো তো?কনস্টেবল বললো, জ্বী স্যার। একদম খাটি দই।এবার আমার বিশেষ যায়গায় দিকে বন্দুক তাক করে থাকা কনস্টেবল এসআইকে বললো, স্যার বউয়ের যন্ত্রণায় বাসায় মিষ্টি খাইতে পারি না। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে ওখান থেকে এক চামুচ দই খাই? খুব খাইতে ইচ্ছে করতেছে।আরো পড়ুনঃ চুমু খাওয়ার সাতটি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন এসআই বললো, ঠিক আছে খা। তবে এক চামুচের বেশি খাবি না।এরপর সেই কনস্টেবল এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার দই খেয়ে মুখের চুলকানি বেড়ে গেছে। আরেক চামুচ খাই স্যার?

এসআই বললো, ঠিক আছে খা।এবার খেয়াল করে দেখলাম, সব পুলিশ সদস্যরাই এসআইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্থাৎ এরাও খেতে চায়।আমি দৌড়ে গিয়ে সেই কনস্টেবলের হাত থেকে দইয়ের হাঁড়ি দুইটি কেড়ে নিয়ে বললাম, স্যার আর দই দেওয়া যাবে না। আপনার দুই কনস্টেবল আমার এক হাঁড়ির অর্ধেক দই শেষ করছে। আমি আর দই দিবো না।এবার আরেক কনস্টেবল বলে উঠলো, ও ভাই আমারে এক চামুচ দই দেন না। এমন করেন কেন?আমি রেগে গিয়ে বললাম, দেখেন ভাই। আমার আব্বা আমাকে এমনেই বিশ্বাস করে না। ভাববে আমি রাস্তায় দই খেয়ে হাঁড়ি খালি করেছি। আপনারা থাকেন আমি চালালাম।এসআই সাহেব বললেন, “আজ নির্বাচন” জানো না?এসব প্যাকেট নিয়ে ঘুরলে পুলিশ সন্দেহ করবেই।যাইহোক, এটা কোথাকার দই?আমি বগুড়ার দই বলে বাসার দিকে হাঁটতে লাগলাম। একবার পিছন ফিরে দেখি সবাই আমার হাতের দইয়ের প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবছি বাসায় গিয়ে আব্বারে কি জবাব দিমু।বাসার প্রায় সামনে চলে এসেছি। দেখি গলির মোড়ে কয়েকজন পুলিশ সমস্যা দাঁড়িয়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম শেষ। এবার আর আমার দই নিয়ে বাসায় যাওয়া হবে না। কোনো চিন্তা না করেই দইয়ের প্যাকেট দুইহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে দিলাম ভৌ-দৌড়।আমি দৌড়াচ্ছি পুলিশ সদস্যরা আমার পিছে পিছে দৌড়াচ্ছে। আমি আরো জোরে দৌড়াচ্ছি। ওরাও আমার পিছু আরো জোরে দৌড়াচ্ছে। বেশকিছু দূর দৌড়ানোর পর হাল ছেড়ে দিলাম। ইতিমধ্যে উনারা আমাকে ধরে ফেললো। আবার বন্দুক আমার দিকে তাক করে বললো, সত্যি করে বল এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে?আমি বললাম, আমার জীবন থাকতে বলবো না।। এর আগেরবার যে ভুল করছি সেটা আর করবো না।একজন পুলিশ সদস্য এসে আমার কাছে থেকে দইয়ের প্যাকেট কেড়ে নিয়ে খুলে দেখে বললো, আরে এর মধ্যে তো দই।আমি বললাম, হ্যাঁ দই।উনি বললেন, তাহলে তুই দৌড়াচ্ছিলি কেন?আমি রাগ নিয়ে বললাম, আপনারা মানুষের হাতে দই দেখলেই খাওয়া শুরু করেন। এই ভয়ে দৌড় দিছি।হঠাৎ একজন পুলিশ সদস্য বললো, তোর কথা আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। চল থানায় চল।আমি থানায় দইয়ের প্যাকেট নিয়ে বসে আছি। এরমধ্যে আব্বা এসে হাজির।আব্বা- তুমি কি করছ? পুলিশ তোমাকে ধরছে কেন?আমি- আব্বা আমি পুলিশকে দই খাইতে দেই নাই। তাই আমাকে ধরে নিয়ে আসছে।আব্বা – জেলে বইসা আমার সাথে মজা করো?

আমি- আব্বা বিশ্বাস করেন আমি মজা করতেছি না।হঠাৎ সেই এসআই এসে বললো, আরে তুই এইখানে কেন? এসআই আর আব্বাকে পরের ঘটনা সব খুলে বলতেই এসআই বললো, তোকে মুক্তি দিতে পারি এক শর্তে।।আব্বা বললেন, কি শর্ত এসআই সাহেব?এসআই বললেন, দইয়ের হাঁড়ি দুটো আমাকে দিতে হবে। নাহলে সাতদিন জেল খাটতে হবে।আব্বারে বললাম, আব্বা আমার সাতদিন জেল খাটতে কোনো সমস্যা নাই। আপনি দইয়ের হাঁড়ি দুইটা নিয়ে যান।

আব্বা আমাকে ধমক দিয়ে বললো, তুই চুপ থাক হারামজাদা। এসআই সাহেব হাঁড়ি দুইটা আপনি রাখেন। তবুও আমার ছেলেরে ছাইড়া দেন।আমি আর আব্বা থানা থেকে বের হচ্ছি। এমন সময় এসআই সাহেব বললেন, কিছুদিন ধরে বউ রাগ করে শ্বশুর বাড়ি গেছে। আমার বউয়ের রাগ আবার বগুড়ার মিষ্টি দই ছাড়া ভাঙ্গানো যায় না।

থানার বাইরে আইসা আব্বাকে বললাম, আব্বা জোরে হাঁটেন। আব্বা বললেন, কেন? আমি বললাম, আপনি না বলছিলেন একটা টক দই আর একটা মিষ্টি দই নিতে। এরা তো মিষ্টি দইটা খাইছে টক দইটা নিচে আছে। এসআইয়ের বউ যখন টক দইয়ে মুখে দিবে তখন কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন?হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম আশেপাশে আব্বা নাই। কিন্তু একটু দূরে চোখ রাখতেই টের পেলাম আব্বার মতো একটা লোক দৌড়ে পালাচ্ছে।

আমিও আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দিলাম দৌড়

আজকের গল্প - আকাশ ও নাবিলার অসমাপ্ত ভালোবাসা

 


 ফেইসবুক এর প্রতি আকাশের দুর্বলতাটা বরাবরই একটু বেশী। ফেইসবুকে চ্যাট আর এটা-ওটা করেই দিন চলে যেতো তার। বন্ধুদের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে আর গল্প করেই সে সব চাইতে বেশী সময় কাটাতো। কিন্তু যখন ফেইসবুক বন্ধুরা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকতো আর যখন গল্প করার জন্য কোনো বন্ধুকে অনলাইনে পাওয়া যেতো না তখনই আকাশের জীবনে নেমে আসতো একাকীত্বের ঘোর অন্ধকার।
এইভাবেই আকাশের সময় চলে যাচ্ছিলো তার নিজস্ব গতিতে। একদিন তার এক বোনের স্ট্যাটাসে আকাশ কমেন্ট করছিল । সেই স্ট্যাটাসেই আকাশের সাথে পরিচয় হয়েছিল নাবিলার সাথে। পরিচয়ের পর থেকেই আকাশ নাবিলার জন্য মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লো। তার মনের অজান্তেই সে নাবিলাকে ভালবাসতে আরম্ভ করেছিল। কেন যেন আকাশের মনে হতো নাবিলাই আকাশের সেই স্বপ্নের রাজকন্যা যার জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।


নাবিলাকে ফেইসবুকে এক মুহূর্ত না দেখে সে থাকতে পারতো না। শুধু একদিনের জন্য নাবিলা ফেইসবুকে আসেনি। সেই দিন তো আকাশের মনের আকাশে ভয়ঙ্কর কালো মেঘ জমেছিল যা শেষ পর্যন্ত অঝোর ধারায় আকাশের দুই চোখকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো। নাবিলার প্রতি আকাশের আবেগ ও অনুভূতি দিনদিন বেড়ে যেতে লাগলো। নাবিলার কিছু আচরণ আকাশকে আরো বেশী ভালবাসতে বাধ্য করল।

কিন্তু মেয়েদের মন বোঝা যে বড় কঠিন। তাই সে দ্বিধায় ভুগতে লাগলো । নাবিলার এই সব আচরণ কি আকাশের প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ? নাকি শুধু মাত্র বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ? সেই সব ব্যাপার আকাশকে খুব ভাবিয়ে তুলেছিল। অবশেষে আকাশ সিদ্ধান্ত নিল সে তার মনের সব না বলা কথা নাবিলাকে জানাবে। তার স্বপ্নের রাজকন্যাকে একদম নিজের করে নেবে।

সেই দিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। সেই সাথে সেই দিন আকাশের মনটাও ছিল ভালো। তাই আকাশ সেই দিনই তার না বলা সব কথা নাবিলাকে ফেইসবুকে মেসেজ করে জানালো। নাবিলার উত্তরের জন্য আকাশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো। কবে সে তার রাজকন্যার মুখ থেকে সেই বহুল আকাংক্ষিত কথাটা শুনতে পাবে?
আকাশের মনে সব না জানা কথা হানা দিতে লাগলো। অবশেষে সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফেইসবুকে লগ ইন করা মাত্র দেখল নাবিলার মেসেজ। অধীর আগ্রহে ভয়ে ভয়ে ইনবক্স ওপেন করলো আকাশ। নাবিলার উত্তর ছিল ঠিক এই রকম – wow……..what a real life joke!!

নাবিলার এই উত্তরকে আকাশ কি ভাবে নেওয়া যায় ভেবে পাচ্ছিলো না। আকাশ নাবিলাকে বিভিন্নভাবে বোঝালো যে এটা কোনো জোকস না। নাবিলা শেষ পর্যন্ত আকাশের মনের অবস্থা বোঝার পর কি করবে ভেবে পাচ্ছিলো না। অবশেষে নাবিলা সিদ্ধান্ত নিল আকাশকে সে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিবে।

আকাশ আবার সমস্যায় পড়ে গেলো। কি করে যে সে নাবিলাকে বোঝাবে সে তাকে অনেক অনেক বেশী ভালবাসে?? আকাশ আবার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে লাগলো। নাবিলা এর পর সে ব্যাপারে আর হ্যাঁ বা না কোনটাই বললো না।
ফেইসবুকে মেসেজ দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে এই ভাবেই আকাশ এর স্বপ্নটা একটু একটু করে বড় হতে লাগলো। দিনদিন নাবিলাকে নিয়ে আকাশের ভয়ও বেড়ে যেতে লাগলো। যদি সে তার স্বপ্নের রাজকন্যাকে হারিয়ে ফেলে। নাবিলাকে ছাড়া যে ওর জীবনটা অপূর্ণ থেকে যাবে।
এইদিকে নাবিলার প্রথম বর্ষের পরীক্ষা সন্নিকটে। নাবিলা ওর প্রথম বর্ষের পরীক্ষার জন্য এক মাস ফেইসবুক আর মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ রাখবে বলে জানালো আকাশকে। সেই কথা শুনার পর তো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আকাশ। নাবিলার কাছ থেকে সেই বার আকাশ তার ভালোবাসার কিছুটা সাড়া পেয়েছিল। সেই একমাস আকাশ খুব কষ্টের মধ্যে কাটালো। সারাক্ষন নাবিলাকে হারানোর ভয় কাজ করতো আকাশের মনে।
নাবিলার মধ্যে ওর প্রতি সামান্য অনুভূতি কাজ করছে দেখলে আকাশের মনে হতো পৃথিবীটা অনেক অনেক সুন্দর । নাবিলা একবার ফিরে তাকালে আকাশের জীবনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেতো। কিন্তু নাবিলার সামান্য অবহেলা আকাশের দুই চোখকে কান্নার জলে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো। আকাশের জীবনে নেমে আসতো অমানিশার অন্ধকার। সারারাত এটা-ওটা চিন্তা করেই আকাশ দীর্ঘ রাত পার করে দিতো। নাবিলার মুখ থেকে একটিবার ভালবাসি কথাটা শুনার জন্য মন ছটফট করতো।

ভাবতে ভাবতে আকাশের রাত কেটে যেতো। কোনো ভাবেই দুই চোখের পাতা এক করা যেতো না আকাশের । ইতিমধ্যে নাবিলার বেশ কয়েকটা পরীক্ষা শেষ হল । পরীক্ষার মাঝখানে নাবিলা আকাশের কথা ভাবতো । আকাশ কি আমাকে সত্যি ভালবাসে নাকি অন্যকিছু ? এই রকম কিছু প্রশ্ন নাবিলার মনের মধ্যে উঁকি দেয় । সেই সব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য নাবিলা সাহায্য নিলো আকাশের ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা নাবিলারই এক বান্ধবির ।

আনিকা তুই কি আমাকে একটু হেল্প করতে পারবি ? ও হে , আকাশের ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা নাবিলার সেই ফ্রেন্ড এর নাম ছিল আনিকা । নাবিলা তার মনের মধ্যে উঁকি দেওয়া প্রশ্ন গুলোর উত্তর আনিকার কাছ থেকে পেয়ে গেলো । উল্লেখ্য যে , আকাশ নাবিলাকে যে ভালবাসে সেটা আনিকা খুব ভালো ভাবেই জানতো কারণ আকাশ আনিকার সাথে নাবিলাকে ভালোলাগার অনেক কথা শেয়ার করতো । সেই সব প্রশ্নের উত্তর জানার পর নাবিলার চোখে জল এসে গেলো। নাবিলা আকাশকে মিস করতে লাগলো। সে সিদ্ধান্ত নিল পরীক্ষার পরেই সে আকাশকে তার মনের কথা জানাবে।

নাবিলা পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনতে লাগলো । এইভাবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর আকাশ একদিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো । ১০৫ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে আকাশকে ভর্তি করা হলো মেডিকেলে । ওইদিকে নাবিলা তার প্রথম বর্ষের বাকী পরীক্ষা গুলোর প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত ।


পরীক্ষার চাপে ফেইসবুকেও আসে না নাবিলা । মুঠোফোনও বন্ধ । অনেক কষ্টে নাবিলার কলেজের এক বান্ধবির মাধ্যমে নাবিলাকে আকাশের অসুস্থ হওয়ার নিউজটা জানানো হয়েছিল । জ্বর নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তার আকাশকে বেশ কিছু টেস্ট দিলো । আকাশের মা-বাবা তাকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো । টেস্ট গুলো দেওয়ার সময় ডাক্তার খারাপ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল ।


টেস্ট গুলোর রিপোর্ট হাতে আসার পর আকাশের বাবা মায়ের মাথায় পৃথিবীর আকাশটাই যেন ভেঙ্গে পড়লো। আকাশ ব্রেইন টিউমারে ভুগছিল গত এক বছর থেকে । এক বছরের মাথায় রোগটা ধরা পড়েছিল । জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ গুলো এটারই বহিঃপ্রকাশ । আকাশের কি হয়েছিল সেটা আকাশকে বলা হয় নি । কারণ সেটা শুনলে আকাশ এর মানসিক আর শারীরিক অবস্থা আরো বেশী খারাপ হয়ে যেতো ।

তাই আকাশের যে ব্রেইন টিউমার হয়েছিল সেটা আকাশকে জানানো হল না । তবে ওর বন্ধুদের জানানো হয়েছিল খুব সতর্কতার সাথে । আকাশের রিপোর্টের কথা তার বন্ধুরা শুনে কেউ কান্না থামিয়ে রাখতে পারলো না । আকাশের নিউজটা শুনার পর পরীক্ষা শেষে নাবিলা জলদি আকাশকে দেখতে এলো ।

নাবিলা আকাশের সবকিছু শুনে নিজেকে খুব অপরাধী মনে করলো । ও যে মনে মনে আকাশকে অনেক বেশী ভালবেসেছিল সে কথাও যে তাকে বলা হলো না । কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো নাবিলা । সে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলো তার জীবনের বিনিময়ে হলেও যেন আকাশের জীবন ভিক্ষা দেয় । কিন্তু নির্মম মৃত্যু আকাশকে সবার কাছ থেকে চিরদিনের জন্য কেড়ে নিলো । নাবিলা যে অনেক বেশী দেরী করে ফেলেছে সেই কথা অবশেষে সে বুঝতে পারল

ঝরা ফুলের বাসর


 

দরজাটা খোলা রেখে জামাটা চেঞ্জ করছিলাম। পেছনের থেকে কারও হাসির কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে ঘুরে তাকিয়ে হৃদ ভাইয়াকে দেখতে পেলাম।দরজার কোণ ঘেঁষে শরীর এলিয়ে দিয়ে উল্টো ঘুরে দাড়িয়ে আছে সে।আর আমি লজ্জায় মাথাটা নিচু করে আছি।কিছুক্ষণ পর যখন বুঝতে পারলাম ফোনে কথা বলে হাসছে সে।তখন একটা স্বস্তির নিশ্বাস ছেড়ে রুমের আলোটা নিভিয়ে দিলাম।জামাটা হাতিয়ে নিয়ে পেছনে ঘুরতে যাবো অমনি ভারি কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যেতে নিলাম।এমন সময় কেউ আমার কোমড়টা চেপে ধরলো।আর আমি জমে একদম শক্ত হয়ে রইলাম।কিচ্ছু বললাম না।তার নিশ্বাসগুলো পরছে একদম আমার বুকে।কোমড় থেকে উঠিয়ে হাতটা হালকা একটু উপরে আনতেই আমি ঠেলে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিলাম তাকে।সে বলে উঠলো, -আচ্ছা ফুল এতো খালি খালি লাগছে কেন? তুই কি এখন মর্ডাণ মেয়েদের মতোন ছোট ছোট কাপড় পরা শুরু করেছিস নাকি? সো ব্যাড ফুল।এটা কিন্তু একটুও আশা করিনি তোর থেকে। হৃদ ভাইয়ার মুখে এমন কথা শুনে আমি চুপসে রইলাম।মনে মনে ভাবতে লাগলাম কি বলছে এসব হৃদ ভাইয়া?

 

 সুযোগ বুঝে জামাটাও একটানে গলাতে ঢুকিয়ে দিলাম।অন্ধকারে উল্টো জামা পরে লাইটটা অন করলে আমাকে টেনে ঘুরিয়ে নিলেন নিজের দিকে।আমার মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে হৃদ ভাইয়া।বাতাসে উড়তে থাকা চুলগুলো কানে গুজে দিয়ে আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার ভালো করে দেখে নিয়ে বললেন, -না তো! তুই একটুও মর্ডাণ হোস নি। কত্ত কিউট লাগছে তোকে।উম্ম..ম্ম.. বলেই থেমে গেলো।আমাকে ছেড়ে দিয়ে দূরে এসে দাড়িয়ে রইলো। আমি ভ্রু উঁচিয়ে জানতে চাইলাম, -উম্ম..ম্ম কি? -কিছু না। আমি বিস্ময় নিয়ে আবারও জানতে চাইলাম, -কিছু না মানেটা আবার কি? হৃদ ভাইয়া এদিক ওদিক তাকিয়ে আমাকে ঘুরিয়ে আয়নার সামনে এনে দাড় করালেন।আঙুল উঁচিয়ে চোখের ইশারায় সামনের দিকে দেখিয়ে বললেন, -বারো বছর আগে তো এমন উল্টো জামা পরতি না। কথাটা শুনে চোখ তুলে আয়নাতে নিজেকে দেখে বুঝতে পারলাম আমি সত্যি অন্ধকারে জামাটা উল্টো পরে ফেলেছি।লজ্জায় আর কিছু না বলে ছুটে ঢুকে গেলাম ওয়াশরুমে। ওহহো আমার কপালটাই খারাপ।যা করতে যায় তাই উল্টো হয়ে যায়।এতো বছর পর হৃদ ভাইয়া ডাক্তার হয়ে দেশে ফিরবেন বলে কাকিমা অনেক বড় একটা পার্টির আয়োজন করেছেন আজকে।খুব সুন্দর একটা ড্রেসও দিয়েছেন আমাকে।আমার ফুটো কপাল যে একটা কাজও ঠিকভাবে করতে পারি না।ওদিকে নূর আপু! সব কাজ পার্ফেক্টভাবে করে। -কিরে ফুল হলো তোর? ওইযে নূর আপু এসে গেছে।আর আমি এখনও সাজতেও পারলাম না।এইতো এখনো সেই কথাই বলে চলেছি।উল্টো জামা পরে। -এই মেয়ে এই দরজাটা খুলবি? যাবি না তুই? দেরি হয়ে যাবে তো। দরজাটা খুলে বললাম আমি, -আপু এতো চিৎকার করো না।দেখছো তো আমি রেডি হচ্ছি।আর একটু সময় দাও আমি আসছি। আপু আমার কান টেনে ধরে বলে উঠলো, -উল্টো জামা পরে যাওয়ার প্লান করেছিস নাকি? আপুকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজাটা লক করে বললাম, ঝরা ফুলের বাসর -যাও না আপু আমি আসছি। তাড়াহুড়ো করে জামাটা ঠিক ভাবে পরে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক দিয়ে এসে দেখি পার্টির দৃশ্যই পাল্টে গেছে।এমন ডেকোরেশন বাভাগো জীবনেও দেখিনি।কত্তসুন্দর বড় বড় লাইট বসিয়েছে সারা বাড়িতে।খাবারের আইটেম গুলোও আমার পছন্দের মেনু।উরে আম্মা চকোলেটও আছে দেখি।ছোট বড় কত রকমের চকোলেট।এতো খুশি লাগছে যে কি বলবো।মনে হচ্ছে এই পার্টি আমার।যাক সবাই পার্টি করুক।আমি গিয়ে চকোলেটগুলো সাভার করিগে।

নরম নরম সব আমার পছন্দের ফেভারের চকোলেট।খেয়ে সারা মুখ ভাসিয়েছি।হালকা ঝিকিমিকি আলোয় ডিজে সঙগে ড্যান্স করছে সবাই।হঠাৎ আমার সামনে এসে কেউ বসে পরলো।অন্ধকারে আবছা আলোয় মুখটাও দেখতে পারছি না।চোখদুটো হাত দিয়ে টেনে বড় করে মুখটা এগিয়ে দেখতে গেলে আমার চুলের ভাজে হাত ডুবিয়ে দিলো।হালকা আলো এসে পরলো তার মুখে।দেখতে পেলাম হৃদ ভাইয়ার মুখটা।আমি কিছু বলতে যাবো আমার ঠোঁটদুটো নিজের দুই ঠোঁটের মাঝে আবন্ধ করে ফেললো সে।আমার মুখে লেগে থাকা চকোলেট চুষে খেয়ে নিয়ে চোখের দিকে আগালো।মুচকি হেসে আস্তে করে বলল, ঝরা ফুলের বাসর
-হাত দিয়ে চোখ টেনে ধরেছিলি।তোর চোখেও চকোলেট লেগে আছে।
সঙ্গে সঙ্গে এক ধাক্কায় দূরে সরিয়ে দিয়ে হৃদ ভাইয়ের গালে বসিয়ে দিলাম এক চড়!
শার্টের কলারটা টেনে ধরে ঝাকিয়ে বললাম আমি, ঝরা ফুলের বাসর
-আপনি না ডাক্তার? আপনার চরিত্র এতো খারাপ? এতোটা নিচ মানুষিকতা? আমাকে আপনি….কি করে? ছিঃ
আমি মুখ ঘুরিয়ে নিতেই গালটা ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বললেন আমায়,

-ফুল আমার কথাটা একবার বলতে দে।
আমি নিজের স্বর্ব শক্তিটুকু দিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বললাম, ঝরা ফুলের বাসর
-ঘৃণা হচ্ছে আমার আপনাকে দেখলেই। আর কখন আমার সামনে আসবেন না।
ছুটে আমি নিজের রুমে চলে এসে দরজাটা ভেতর থেকে লক করে দিলাম।আয়নার সামনে দাড়িয়ে টিস্যু দিয়ে নিজের মুখ মুছতে লাগলাম।আর দুনিয়ায় যতো গালি আছে সব দিতে থাকলাম।কিছুক্ষণ পর দরজায় নক পরতেই পানির জগটা উঠিয়ে নিয়ে দরজা খুলেই মারলাম ছুড়ে।সম্পূর্ণ পানিটা এসে পরলো নূর আপুর মুখের উপর।
চলবে,,,

 

শূন্যতায় অস্তিত্ব !! লেখাঃ তাজরীন খন্দকার

 


শূন্যতায় অস্তিত্ব

_কেমন টিউটর রাখছো আম্মু? পড়াতে এসে দেখো মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত! যদি স্টুডেন্ট রেখে ফোনে মনোযোগ থাকে, তাহলে শিখাবে কি? শুধু শুধু এতোগুলো টাকা দাও।
পাশের রুমে এমন কথা শুনে আমি চমকালাম, হাতের ফোনটা টেবিলে রেখে শোনার চেষ্টা করলাম এরপর কি বলছে। কণ্ঠটা এই বাসায় অপরিচিত একদম, এই বাসায় দেড় মাস ধরে টিউশনি করছি কিন্তু এরকম আওয়াজের কোনো মানুষ দেখিনি৷ কথার মধ্যে প্রচন্ড রাগ বুঝা যাচ্ছে। আন্টি কিছুটা নরম স্বরে বলতে লাগলো,
___ এতদিন পরে বাসায় আসছিস, ওইদিকে কেন তাকাচ্ছিস বলতো?
সাথে সাথে একটু মেজাজের সাথে ছেলেটা উত্তর দিলো,
___মাইনে দিয়ে টিউটর রাখছো না? তাহলে ঠিকঠাক পড়াচ্ছে কিনা এগুলো খেয়াল করবেনা?
তারপর কোনো আওয়াজ শুনলাম না৷ হয়তো ভেতরের রুমে চলে গেছে। আমি ভেবেছিলাম আন্টি কিছু বলবে কিন্তু তিনি আমার সম্পর্কে পজিটিভ কিচ্ছু বললো না। এই রুমের জানালার পাশ দিয়ে অন্য রুমে যেতে হয়, উনি হয়তো পেছন থেকে আমাকে ফোন চালাতে দেখে গেছে। আমার অজান্তেই খারাপ লাগতে লাগলো। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল বারবার।
আমার স্টুডেন্ট ইয়াসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ক্লাস নাইনে পড়ে সে, কোনো কিছুই তার বুঝার বাইরে না। আমি বুঝতে পারছিলাম না এখন আমার কি বলা উচিত। ইয়াসকে আমি এই কয়দিন টাকার চুক্তিতে পড়াইনি। আমার সামনে ফাইনাল ইয়ার পরিক্ষা তারপরও ওকে আমি এতো সময় দিচ্ছি। এখন টাকার প্রসঙ্গ আসছে যেহেতু তাহলে এই টিউশনিটাই ছেড়ে দিবো।
হাত মুঠো করে আস্তে আস্তে আমি উঠে দাঁড়ালাম।
বাম দিকে আন্টির রুমে যেতে যেতে আচমকা ঝাপসা চোখে কাউকে সামনে দেখে সরে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার সাথে সাথে ছেলেটাও থেমে গেলো, শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে রুম থেকে বের হয়েছিল, আমাকে দেখে থামলো কেন বুঝতে পারলাম না। চোখ নিচু করেই অপেক্ষা করছিলাম সে চলে যায় কিনা। কিন্তু গেলোনা, উল্টো আমার এপাশ ওপাশ কিছুক্ষণ ঘুরে বলে উঠলো,

___প্রীলি তুমি এখানে?
আমি এবার খুব পরিচিত একটা স্বরের সন্ধান পেলাম। চমকে উঠে তার চেহেরার দিকে তাকিয়েই আমি শিউরে ওঠলাম, অস্পষ্টতায় ভেতরেই শব্দটা উচ্চারণ হলো, তিয়াস! একটু একটু করে সরে গিয়ে পেছনে একবার তাকিয়ে কিছু না বলেই আন্টির রুমে চলে গেলাম। গিয়ে বলে আসলাম এই টিউশনিটা করা সম্ভব নয়।
আন্টির প্রশ্নবদ্ধতায় এটাও বলেছিলো তার বড় ছেলের কথা শুনে ছেড়ে দিচ্ছি কিনা। আমি এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে নিজের পরিক্ষার বাহানায় কোনো রকম চলে আসলাম। আন্টির কোনো কথাকেও পাত্তা দিলাম না, আবার তিয়াস পেছন থেকে কিছু বলতে চাচ্ছিলো,সেটাও শুনলাম না।
রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম আর বারবার কপালের মিহি ঘামগুলো ওড়না দিয়ে মুছে দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছিলাম,ঠিক তিয়াসের মতো!
রুমে এসে ব্যাগটা রেখে বিছানার উপর সোজা হয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে রইলাম। উপরের ফ্যানের সাথে মাথাটাও যেন চক্রাকারে ঘুরছে। এতোদিন ওই বাড়িতে আছি অথচ আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি ওটা তিয়াসদের পরিবার। জানলে কখনোই আমি ওই বাড়িতে পা রাখতাম না। আমি ওই পরিবারকে দেড় মাসে চিনেছি এবং জেনেছি, কিন্তু শুধুমাত্র তিয়াসকে চিনতাম বহু বছর আগ থেকেই, তখন তার বাবা-মা পরিবার সম্পর্কে কিছু জানতাম না, জানতে চাইও নি।
সে একটুও শুধরায় নি, নাহলে টিউটরকে পাশের রুমে রেখে এরকম ব্যবহার কি করে সম্ভব?

ওইদিকে তিয়াস অনেক্ষণ যাবৎ রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ তার মনে হলো, সে এসে প্রীলিকে শুনিয়ে ফোন চালানো নিয়ে বাজেভাবে কথা বলছিল। এইজন্য প্রীলি টিউশন ছেড়ে দেওয়ার জন্য তখন তার মায়ের রুমে যায়নি তো? তিয়াস তারাহুরো করে বের হতেই দেখলো তার মা তার সামনে। তাকে দেখেই উনি বললেন,
___চল খেতে আয়। আর শুন তুই আসছিস যেহেতু আজ থেকে ইয়াসকে তুই-ই পড়াবি।
তিয়াস বিরবির করে বললো,
___তার মানে প্রীলি টিউশন ছেড়ে দিয়েছে?
তিয়াসের মা কিছুটা অবাক হয়ে বললো,
___ কিরে প্রীলি কে? লিয়ার কথা বলছিস?
তিয়াস অপ্রস্তুত হয়ে বললো,
___প্রীলিয়া থেকে আমি প্রীলি বলছি আর তুমি লিয়া বলছো। একই তো।
এবার তিয়াসের মা রোজিনা বললো,
___ছাড়বেনা তো কি করবে? এভাবে বলে কেউ? সে টাইম ধরে এক ঘন্টা, আধ ঘন্টা পড়ায় না বুঝলি? তোর ভাই যে গাধা ওরে বসে সব পড়া শিখাইয়া তারপর যায়। এতো সময় মেয়েটা কি করবে বলতো? তাই ফাঁকে ফাঁকে একটু ফোন চালাতো। একমাসের পড়ানোতেই ইয়াসের দ্বিতীয় সাময়িকের রেজাল্ট কতো ভালো হয়েছে জানিস? কালকেই রেজাল্টশিট আনলাম।

তিয়াস চোখ দুটো বন্ধ করে মাথায় একটা হাত রেখে বললো,
___ আমাকে আগে জানানো উচিত ছিল না? আমি কি জানি যে নতুন টিউটর নিছো? তাছাড়া এই মেয়ে আসছে জানলে বিশ্বাস করো, না পড়াইয়া শুধু মোবাইল চালালেও আমি চলে যাওয়ার কথা বলতাম না। উল্টো আমার পক্ষ থেকে বেশি বেতন দিয়া বলতাম বছর বছর ওকেই রাখো।
তিয়াসের মা ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
___লিয়াকে আগে থেকেই চিনতিস? নাকি দেখে ভালো লেগেছে?
তিয়াস আড়চোখে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে একটু মিটমিটিয়ে হেসে সেখান থেকে চলে গেলো। তিনি ছেলের এমন হাসিতে ধরে নিলেন লিয়াকে দেখার পরে ভালো লেগেছে হয়তো। তিয়াসের মা রোজিনাও এইকয়দিনে লিয়াকে খুব পছন্দ করেন৷ শ্যামলার মধ্যে উজ্জ্বল গায়ের রঙ লিয়ার, চোখ দুটো যেন শুধু মায়া দিয়েই সৃষ্ট হয়েছে। সে আহামরি সুন্দরী নয়। কিন্তু চিমচাম গড়ন আর মিষ্টভাষী আচরণে না চাইলেও যে কেউ মায়ায় পড়ে যাবে। প্রীলিয়া নামটা উনার কাছে কঠিন মনে হয় বলেই তিনি শেষের দিকের সহজ শব্দটা উচ্চারণ করে শুধু লিয়া ডাকেন। লিয়া ডাকতে ডাকতে এখন প্রীলিয়ার পুরো নামটাও ভুলে গেছেন। এমনিতেও তিয়াস ছাড়া সবাই-ই লিয়া বলে ডাকে।

সন্ধ্যা নেমে আসলো, আমি এখনো বিছানা থেকে উঠিনি। দুপুরে তাড়াহুড়োতে খেয়েও যাইনি। মাগরিবের আজানের সাথে সাথে আমার রুমমেট প্রভা রুমে এসে লাইটের সুইচ দিয়েই হিজাব খুলতে খুলতে পরিশ্রান্ত স্বরে বললো,
___,কিরে লিয়া অসময় ঘুমাচ্ছিস! রুমও অন্ধকার, কোনো সমস্যা হয়েছে? অসুস্থ বোধ করছিস নাকি?

আমি এক হাত ভর করে আস্তে করে উঠে এলোপাতাড়ি হয়ে থাকা চুলগুলোকে খোঁপা করে গিয়ে ভাতের পাতিল তুলে দেখলাম সকালের রান্না ভাত একদম ভিজে উঠেছে। এগুলো ফেলে দিয়ে ভাত বসালাম।
হাতমুখ ধুয়ে এসে দেখলাম প্রভা তার খুব কাছের একজন ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে। প্রভা যখন তার এই ছেলে বন্ধুটার খুব প্রশংসা করে আমি কেন জানি অসহ্য একটা অনূভুতি আঁচ করি। তারপরও কোনো রকম এই বিষয়টা এড়িয়ে যাই। আমার কাছে ছেলে আর মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব শব্দটা খুব বিষাক্ত লাগে। আজকে ওর কথার মাঝেই আমি বলে উঠলাম,
___ প্রভা এই শহরটা অনেক ছোট নারে?
প্রভা ফোনের স্ক্রিন সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
___ ছোট মনে হয় তোর? আজ পর্যন্ত বাসা, ইউনিভার্সিটি, আর দুইটা টিউশন ছাড়া কোথাও গিয়েছিস? কীভাবে জানিস এই শহর ছোট?
আমি মুখ মুছতে মুছতে ওর দিকে তাকিয়ে কৃত্রিম একটা হাসি দিয়ে বললাম,
___ কথা বল তোর ফ্রেন্ডের সাথে।
সন্ধ্যারাতেই খেয়েদেয়ে পড়তে বসলাম। প্রচুর পড়ালেখা করতে হবে। পারিবারিক কাঠামোর বাইরে নিজের একটা পরিচয় বানানো আমার জন্য আবশ্যক।
মন বসছিলো না, তাও জোর করে পড়ার চেষ্টা করছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই ফোনের রিং বেজে ওঠলো। আমি স্ক্রিনে তাকাতেই চমকে উঠলাম, স্টুডেন্টের মা, মানে তিয়াসের মায়ের নাম্বার থেকে ফোন। এর আগে উনার নাম্বার থেকে অসংখ্য ফোন এসেছে কিন্তু আজকের মতো এমনভাবে চমকাইনি। ফোন রিসিভ করতে আমার হাত কাঁপছিলো। ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে আন্টি বলতে লাগলো,
___লিয়া তুমি আমাকে এতো দিনেও চিনলেনা? আজ পর্যন্ত আমি কি কখনো তোমাকে মন্দ বলেছি? তোমার পরিক্ষা থাকলে তুমি সময় নিবে, তারপর পরবর্তীতে আবার পড়াবে৷ কিন্তু হুট করে টিউশন ছেড়ে দিবার সিদ্ধান্ত কেন নিলে? তিয়াসের কথার উপরে রাগ করে তো? তাহলে কাল আসো, ওকে দিয়ে সরি বলাবো।
আমি থতমত খেয়ে বললাম

___ না না আন্টি সরি বলতে হবে না। তাছাড়া উনি তো খুব মেধাবী, কিছুদিন উনি পড়াক। তারপর চলে গেলে নাহয় আমি আসার চেষ্টা করবো।
ওপাশে কিছুক্ষণ বিরবির করে শব্দ হলো, তারপর আন্টি বললো,
___আচ্ছা তা বুঝলাম। কিন্তু তিয়াস তোমাকে সরি বলতে চায়। তুমি কি ওর সাথে দেখা করতে পারবে?
আন্টির কথা শুনে আমি আশ্চর্য থেকেও আশ্চর্য হলাম। তিনি কিনা মা হয়ে ছেলেকে দিয়ে একটা অচেনা মেয়েকে সরি বলানোর সুপারিশ করছেন। আমার কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি ঠিকাছে বলে কেটে দিলেও আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তার মানে কি তিয়াস আমার ব্যপারে ওর মা’কে সব বলে দিয়েছে?
যদি বলে দিয়ে থাকে তাহলে আমি এই মুখ নিয়ে কি করে আর আন্টির সামনে যাবো?
আন্টি আমাকে খুব ভালো জানেন, তিনি কি করে মানতে পারবেন আমার ভুলের জন্য হয়ে যাওয়া এতকিছু?
না না আমি কিছুতেই আবার অতীত ফিরিয়ে আনবোনা। সব ভুলে গেছি আমি, আমারই ভুল ছিলো, তাই সেসব ভুলগুলোকে ৪ বছরের ন্যায় এবারও আমাকেই শুধরাতে হবে। আমি আবার উধাও হয়ে যাবো৷
পেছনের দরজার সামনে গিয়ে বারান্দায় দেখলাম প্রভা এখনো কথা বলছে। একটা বিরক্তির নিঃশ্বাস নিয়ে শুয়ে পড়লাম। পরেরদিন সকাল সকাল প্রভাকে বললাম,
___ প্রভা এখান থেকে একটু দূরে কোথাও নতুন বাসা খুঁজবো, আর আমি সেখানে তোকে নিয়ে থাকবোনা। পরিক্ষার কয়েকটা মাসই তো, তারপর সেবারের মতো এবারও শহর ছেড়ে পালাবো।
প্রভা কিছুই বুঝলো না। শুধু হা হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।
দুইদিনের মাথায় নতুন বাসায় উঠে গেলাম৷ এখন দুটো টিউশনিই ছেড়ে দিতে হলো। নতুন টিউশনির সন্ধান করবো কাল। এই বাসা থেকে কলেজ মাইলখানেক দূরে। হোক দূরে তবুও দূরেই থাকতে চাই।
আগের নাম্বার অফ করে দিয়েছি সেদিনই, এখন নতুন নাম্বার তুলে বাবাকে ফোন দিলাম।
ফোন রিসিভ করার সাথে সাথেই বাবার কণ্ঠে আজ ভীষণ উৎফুল্লতার রেশ পেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম,
___ বাবা তুমি ভালো আছো?
বাবা আমার এই প্রশ্নের জবাব না দিয়েই বললো,
___,নাম্বার কি করে রেখেছিস। শুন মা তুই আজকেই বাড়িতে আয় না।
কিছুটা অবাক হয়ে বললাম,
___ তুমি জানোনা আমি কতটা ব্যস্ত? আমি পরিক্ষার পরে তবেই আসবো।
প্রতিত্তোরে বাবা বললো,
___তোর দাদুর শরীরটা খারাপ। তোকে দেখতে চাইছে। আয় না লিয়া!
আমি জোরে একটা শ্বাস ছেড়ে বললাম,
___ আচ্ছা! শূন্যতায় অস্তিত্ব !! লেখাঃ তাজরীন খন্দকা

দুপুরের আগে আগেই রওয়ানা দিলাম। পৌঁছাতে বিকেল প্রায়। স্টেশনে নামতেই দেখি আমার ছোট ভাই, আমার চাচাতো ভাই,আর তাদের কয়েকটা বন্ধুবান্ধব আমাকে এগিয়ে নিতে দাঁড়িয়ে আছে।
আমাকে দেখেই ব্যাগ নিয়ে ওরা সামনে এগুতে লাগলো৷ আজ পর্যন্ত কোনোদিনও আমাকে কেউ স্টেশন থেকে এগিয়ে নিতে আসেনি৷ তখনও কিছু বুঝতে পারিনি,
কিন্তু বাড়ির দরজায় পা রাখতেই আমার টনক নড়লো, বাড়িঘরের এতো মানুষ আমাকে ভীড় করার কারণ কি? সবাই হাসিমুখে যেন কোনো নতুন বঁধুকে বরণ করতে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি মা’কে ডেকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করতেই পাশের বাসার ভাবী বলে উঠলো,
___ লিয়া কাল তোমার গায়ে হলুদ। বিরাট পরিবার থেকে সমন্ধ বুঝলে? তাইতো এতো মানুষ এসেছে তোমাকে দেখার জন্য। আমাদের লিয়া তো মেজর এহসান মাহবুবের পুত্রবধূ হচ্ছে!
এতক্ষণ আমি হা হয়ে শুনছিলাম, কিন্তু ভাবীর শেষ কথাটা শুনে আমার সারা শরীর শক্ত হয়ে গেলো। আমি শুধু রোবটের মতো তাকিয়েই ছিলাম সবার দিকে। এর মধ্যে আম্মু এগিয়ে এসে আমার হাত ধরে বললো,
___ দরজার মধ্যে মেয়েটাকে এসব বলার কি দরকার বলোতো। ভেতরে আসতে দাও না , তারপর যা বলার বলো।
আমি এতো চেনা ঘরটার মধ্যে আজকে প্রবেশ করেও কেন জানি অচেনা অচেনা অনূভুতি পাচ্ছিলাম। কেউ না জানিয়ে আমার জীবনের এতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো! তারপর এতোগুলো বছর যার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম ,তার কাছেই সপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত? কিন্তু সে কেন এটা করতে চাচ্ছে?

Bangla Cute Love Story (রাগি বর আর দুষ্টু বউ Part_1) Romantic Love Story

 


এই যে মি: দেখে চলতে পারেননা।মেয়ে দেখলেই গায়ে পরতে ইচ্ছে করে --রাত বলে উঠলো।

(পরিচয় দেওয়া যাক এই আমাদের গল্পের নায়িকা রাত।দেখতে মাশাআল্লাহ । 12 এ পড়ে ।কিন্তু সেই লেভেলের দুষ্টু।পরে সব বুঝতে পারবেন।গল্পে ফেরা যাক)

দীনা:আহ।।রাত বাদ দেতো । এখান থেকে চল।(দীনা রাতের best friend)
রাত: না দাঁড়া।বেটাকে শায়েস্তা করে তবে ছাড়ব।।বেটা তালকানা খাটাশ।দেখে চলতে পারে না 😡

 

অপরিচিত: দেখুন I am sorry.আমি সত্যি দেখতে পাইনি।😦
রাত:দেখতে পাননি মানে টাকি।চোখ কি মানিব্যাগে নিয়ে হাঁটেন ?😡
অপরিচিত: দেখুন আপনি কিন্তু বেশিই বলছেন।বললাম তো আমি দেখতে পাইনি।
রাত: তা ঠিক ।এরকম তালগাছের মতো লম্বা । হলে হবে টাকি😁
অপরিচিত: এই মেয়ে কি বললে😠😠
রাত: এ বেটা দেখি কানেও কম শোনে 😕
অপরিচিত: What nonsense is this??😠😠
রাত: হায় আল্লাহ ।।এতো দেখি এনাকন্ডার মতো রাগছে 😱
অপরিচিত: এই তুমি পাগল নাকি😬
রাত: কী বললেন আমি পাগল !😱 এতো বড় সাহস।।বেটা তালগাছের এনাকন্ডা।।তোকেতো আমি মেরেই.......
দীনা: আহ রাত চল এখান থেকে।(রাতকে টানতে টানতে)
রাত: ছাড় আমাকে।।এই তালগাছের এনাকন্ডাকেতো আমি বাঁশ গাছে ঝুলিয়ে পেটাবো😡

অপরিচিত: দেখি এইটুকু একটা মেয়ে তুমি কি করতে পারো। I will see u 😡😡
দীনা:দেখুন plz আপনি কিছু মনে করবেন না । ও একটু এরকম দুষ্টু।রাত চল এখান থেকে ।।(রাতকে টানতে টানতে)

তারপর

হ্যালো......এটা কি দীপার নাম্বার

 


 

 হ্যালো......এটা কিদীপার নাম্বার?-নাম্বার ভালোমতদেখেফোন দিতে পারেননা!সাত-সকালে ঘুম টানষ্ট করছেন!-Sorry...ঘুমের ডিস্টার্বকরার জন্য।-That's o.k...এটা বলেই ফোনটারেখে দিলো নুহান।সারারাত বই পড়েভোরের দিকেঘুমিয়েছিলনুহান তাই সকালেঅহেতুক একটা ফোনেরজন্যতার ঘুম ভাঙ্গাতে সেভীষণ বিরক্ত।একটামেয়ে ফোন দিয়েছে তোকী হয়েছে? নুহানেরকাছে এটা বিশেষ কোনকিছু না।সেমেয়েদেরকে এড়িয়েচলে।তাকে এই পর্যন্ত৩টা মেয়েপ্রোপোজ করেছে,আরসে তিনটা মেয়েকেইরিফিউজ করেছে।তারধারনা ভার্সিটির ৩য়বর্ষ ছাড়া প্রেম করাযাবে না কারণ এর আগেপ্রেম করলেভার্সিটির ৩য় বর্ষেউঠার আগেইকবি হতে হবে।

বর্তমানে সে যেহেতুভার্সিটির ১ম বর্ষেসেহেতু কোন মেয়েকেসে পাত্তা দেয় না।বিরক্তি নিয়েবিছানা থেকে উঠলোনুহান।আজকে ভার্সিটিবন্ধ তাই আজকে সেতারবাসাতেই থাকবে।ঘুমথেকে উঠেইপ্রতিদিনকার মতোরবীন্দ্র সঙ্গীতশুনছে আরচিন্তা করছে কীকরবে।হঠাৎ তার মনেপড়লোযে তিন গোয়েন্দারএকটা বই পড়া বাকী।তাইসে বইটি নিয়েবারান্দায় গেলো পড়তে।কিন্তুপড়ায় কেন জানি তারমন বসাতে পারছে না।বার বার বিপরীতপাশের বিল্ডিং এরতারমুখমুখী ফ্ল্যাটেরবারান্দার দিকেতাকাচ্ছে।সে নিজেকেই প্রশ্নকরছে কেনো?গতকালকেপর্যন্তও সেবারান্দাটির দিকেতাকাতেবিরক্ত লাগত কারনসে বারান্দায় যতবারিযেত বারান্দিটিতেএকটি মেয়ে দাঁড়ানোথাকত।কিন্তু আজকেবারান্দাটিতে মেয়েটিনেই।এই জন্য কি সেবারান্দাটিতে বার বারতাকাচ্ছে? 

এইকথাগুলো যখন সেচিন্তাকরছিলো তখনিমেয়েটি বারান্দায়আসলো।মেয়েটি যখনইবারান্দায় আসলোতখনইবারান্দাটির দিকেতাকাতে তার বিরক্তলাগা শুরু করল।না,আজকে আর তারবই পড়া হবেনা তাই সে তার রুমেরভিতর চলে গেলো।রুমেরভিতর গিয়ে সে চিন্তাকরছে তার মনে কেনএইরকম চিন্তা হচ্ছে।নুহানের শখসাইকোলজিনিয়ে পড়া।বন্ধুমহলেসাইকোলজিস্টহিসেবেতার সুনাম রয়েছে।কিন্তু সে তার নিজেরসাইকোলজি নিজেইএখন বুঝতে পারছে না।তাই সে সিধান্ত নিলভার্সিটির সোহেলভাইকে তার সমস্যারকথা বলবে কারনভার্সিটিতে প্রেমবিষয়ক কোন সমস্যাহলেসবাই তাকে বলে।পরের দিন ভার্সিটিতেগিয়ে সৌভাগ্যক্রমেসোহেল ভাই কে পেল।সোহেল ভাইকে তারসমস্যার কথা বলল।-তোমার কি বারান্দায়গেলে মেয়েটাকেদেখতে মন চায়?-ব্যাপারটা তা না।কিন্তু না দেখলেকেমনজানি লাগে?-

আর বলা লাগবে না।বুছতে পারছি তুমিতারপ্রেমে পরেছো.........-কি যে বলেন।আমিভার্সিটির ৩য় বর্ষছাড়াপ্রেম করব না।-প্রেম কোন নির্দিষ্টসময় বলে আসে না।প্রেমযেকোন সময় আসতেপারে।সোহেল ভাইয়ের শেষকথাটা তার মনে ধরে।সারাদিন সে কথাটি সেচিন্তা করে।দুইদিন পর বারান্দায়ঃ- এই যে শুনছেন।-আমাকে বলছেন?-হুম-জি বলেন।-আপনার সাথে কথাবললে কি বিরক্তহবেন?-না,বলেন।-আপনার নাম কি?-নূপুর।আপনার?-নুহান।কী করেন?-ইন্টার 2nd year।আপনি?-ভার্সিটি 1st year.এইভাবে তাদের মধ্যেশুরু হয় কথা.........কিছুদিন পর হয় ভালবন্ধুত্ত...............১ বছর পর...নূপুর নুহানেরভার্সিটিতে ভর্তিহয়।নূপুর আর"নুহান এখন best friend।এদিকে নুহানপ্রতিদিনপ্রতিমূহুর্তে তারমনেরসাথে যুদ্ধ করে।একবার মনে হয় সেনূপুরকেভালবাসে আর একবারতার নীতির উপর সেথাকতে চায়।এভাবেদোটানায় চলছে তারদিন।অবশেষে সেসোহেল ভাইয়ের শেষকথাটা মানে এবংসিদ্ধান্ত নেয় নূপুরকেপ্রোপোজ করবে।কিন্তুকবে? সিধান্ত নিলনূপুরের জন্মদিনেপ্রোপোজ করবে।নূপুরের জন্মদিনেভার্সিটিতে...-নূপুর একটা কথাবলবো।-একটা কেন?হাজারটাবলো।-I love you-তোমার মাথা নষ্টহয়েছে?-না,আমি সুস্থমস্তিষ্কে বলছি Ilove you- But I don't love you- কেন?-কারন তুমি সবসময়নিজেকে নিয়ে চিন্তাকরো।অন্যজনেরfeelings তুমি বুঝতেপারো না।You are a selfish.- তুমি এগুলো কিবলতেছো?- যা বলতেছি তা সত্য।এক বছর আগে আমিতোমাকে দেখার জন্যবারান্দায় যেতাম।মনেআছে এক বছর আগেএকটা মেয়ে তোমাকেফোন দিয়েছিল আরতুমি তার সাথেকিভাবেকথা বলছ?কেনবলেছ??কারণ তুমিমেয়েদেরকে পাত্তাদাও না।মেয়েদেরকেসম্মান দিতে তুমিপারো না।-কিন্তু?-কোন কিন্তু না.........এই বলে নূপুর হাঁটা শুরুকরল......আর নুহান তার চলারপথের দিকে তাকিয়েথাক্ল...আর তার চোখদিয়ে পানি পরতেলাগলো......২ ঘন্টা পর...নুহান হাতিরঝিলেরএকটা লেকের ধারেবসেকাদছে...সে যতই তারভুল বুঝতে পারছেততোইতার কান্নার পরিমাণবাড়ছে.........এইসময় তারমোবাইল এ মেসেজআসলো নূপুরের নাম্বারথেকে...'পিছনে তাকাও'নুহান পিছনে তাকালোএবং দেখলো যে নূপুরহাতে তার পছন্দেরকদম ফুল এবং নূপুর গালবেয়ে অশ্রুগুলো সবুজঘাসের উপর পড়েরোদেরআলোয় চকচক করছে।নুহান কিছু বলারআগেইনূপুর তার সামনে এসেফুল দিয়ে তার হাতেদিয়ে বলল,'দুই ঘন্টাতোমাকে কষ্ট দেওয়ারজন্য আমাকে মাফকরে দাও।আমিতোমাকেতোমার ভুল ধরিয়েদেওয়ার জন্য মিথ্যাবলেছি।আসলে আমিতোমাকে অনেক অনেকভালবাসি।'নুহান কিছু বলতেযাওয়ার আগেই নূপুরতার হাতদিয়ে নুহানের ঠোঁটস্পর্শ করেবলল,'তোমারকিছু বলা লাগবে না।তোমার চোখ দেখেআমিবলতে পারি তুমি কিবলবা।তোমাকে ছেড়েথাকতে এই ২ ঘন্টাতোমার থেকে বেশীআমিকষ্ট পেয়েছি'৪ বছর পর...নুহান আর নূপুরেরবিয়ের অনুষ্ঠানচলছে...নূপুরযখন তার পরিবারথেকেঅশ্রুসিক্তভাবেবিদায় নিয়ে গাড়িতেউঠলো...নুহান তার চোখমুছে দিয়ে বলল।'এইখুশির দিনে কান্না না।তোমার কারনেই এইখুশির মূহুর্তটা দেখতেপারছি।সেই দিন দুইঘন্টা তুমি যদিআমাকেনা কাদাতে তাহলেহয়তো এই খুশির দিনদেখতে পারতাম নাসমাপ্তহ্যালো......এটা কিদীপার নাম্বার?-নাম্বার ভালোমতদেখেফোন দিতে পারেননা!সাত-সকালে ঘুম টানষ্ট করছেন!-Sorry...ঘুমের ডিস্টার্বকরার জন্য।-That's o.k...এটা বলেই ফোনটারেখে দিলো নুহান।সারারাত বই পড়েভোরের দিকেঘুমিয়েছিলনুহান তাই সকালেঅহেতুক একটা ফোনেরজন্যতার ঘুম ভাঙ্গাতে সেভীষণ বিরক্ত।একটামেয়ে ফোন দিয়েছে তোকী হয়েছে? নুহানেরকাছে এটা বিশেষ কোনকিছু না।সেমেয়েদেরকে এড়িয়েচলে।তাকে এই পর্যন্ত৩টা মেয়েপ্রোপোজ করেছে,আরসে তিনটা মেয়েকেইরিফিউজ করেছে।তারধারনা ভার্সিটির ৩য়বর্ষ ছাড়া প্রেম করাযাবে না কারণ এর আগেপ্রেম করলেভার্সিটির ৩য় বর্ষেউঠার আগেইকবি হতে হবে।বর্তমানে সে যেহেতুভার্সিটির ১ম বর্ষেসেহেতু কোন মেয়েকেসে পাত্তা দেয় না।বিরক্তি নিয়েবিছানা থেকে উঠলোনুহান।আজকে ভার্সিটিবন্ধ তাই আজকে সেতারবাসাতেই থাকবে।ঘুমথেকে উঠেইপ্রতিদিনকার মতোরবীন্দ্র সঙ্গীতশুনছে আরচিন্তা করছে কীকরবে।হঠাৎ তার মনেপড়লোযে তিন গোয়েন্দারএকটা বই পড়া বাকী।তাইসে বইটি নিয়েবারান্দায় গেলো পড়তে।কিন্তুপড়ায় কেন জানি তারমন বসাতে পারছে না।বার বার বিপরীতপাশের বিল্ডিং এরতারমুখমুখী ফ্ল্যাটেরবারান্দার দিকেতাকাচ্ছে।সে নিজেকেই প্রশ্নকরছে কেনো?গতকালকেপর্যন্তও সেবারান্দাটির দিকেতাকাতেবিরক্ত লাগত কারনসে বারান্দায় যতবারিযেত বারান্দিটিতেএকটি মেয়ে দাঁড়ানোথাকত।কিন্তু আজকেবারান্দাটিতে মেয়েটিনেই।এই জন্য কি সেবারান্দাটিতে বার বারতাকাচ্ছে? এইকথাগুলো যখন সেচিন্তাকরছিলো তখনিমেয়েটি বারান্দায়আসলো।মেয়েটি যখনইবারান্দায় আসলোতখনইবারান্দাটির দিকেতাকাতে তার বিরক্তলাগা শুরু করল।না,আজকে আর তারবই পড়া হবেনা তাই সে তার রুমেরভিতর চলে গেলো।রুমেরভিতর গিয়ে সে চিন্তাকরছে তার মনে কেনএইরকম চিন্তা হচ্ছে।নুহানের শখসাইকোলজিনিয়ে পড়া।বন্ধুমহলেসাইকোলজিস্টহিসেবেতার সুনাম রয়েছে।কিন্তু সে তার নিজেরসাইকোলজি নিজেইএখন বুঝতে পারছে না।তাই সে সিধান্ত নিলভার্সিটির সোহেলভাইকে তার সমস্যারকথা বলবে কারনভার্সিটিতে প্রেমবিষয়ক কোন সমস্যাহলেসবাই তাকে বলে।পরের দিন ভার্সিটিতেগিয়ে সৌভাগ্যক্রমেসোহেল ভাই কে পেল।সোহেল ভাইকে তারসমস্যার কথা বলল।-তোমার কি বারান্দায়গেলে মেয়েটাকেদেখতে মন চায়?-ব্যাপারটা তা না।কিন্তু না দেখলেকেমনজানি লাগে?-আর বলা লাগবে না।বুছতে পারছি তুমিতারপ্রেমে পরেছো.........-কি যে বলেন।আমিভার্সিটির ৩য় বর্ষছাড়াপ্রেম করব না।-প্রেম কোন নির্দিষ্টসময় বলে আসে না।প্রেমযেকোন সময় আসতেপারে।সোহেল ভাইয়ের শেষকথাটা তার মনে ধরে।সারাদিন সে কথাটি সেচিন্তা করে।দুইদিন পর বারান্দায়ঃ- এই যে শুনছেন।-আমাকে বলছেন?-হুম-জি বলেন।-আপনার সাথে কথাবললে কি বিরক্তহবেন?-না,বলেন।-আপনার নাম কি?-নূপুর।আপনার?-নুহান।কী করেন?-ইন্টার 2nd year।আপনি?-ভার্সিটি 1st year.এইভাবে তাদের মধ্যেশুরু হয় কথা.........কিছুদিন পর হয় ভালবন্ধুত্ত...............১ বছর পর...নূপুর নুহানেরভার্সিটিতে ভর্তিহয়।নূপুর আর"নুহান এখন best friend।এদিকে নুহানপ্রতিদিনপ্রতিমূহুর্তে তারমনেরসাথে যুদ্ধ করে।একবার মনে হয় সেনূপুরকেভালবাসে আর একবারতার নীতির উপর সেথাকতে চায়।এভাবেদোটানায় চলছে তারদিন।অবশেষে সেসোহেল ভাইয়ের শেষকথাটা মানে এবংসিদ্ধান্ত নেয় নূপুরকেপ্রোপোজ করবে।কিন্তুকবে? সিধান্ত নিলনূপুরের জন্মদিনেপ্রোপোজ করবে।নূপুরের জন্মদিনেভার্সিটিতে...-নূপুর একটা কথাবলবো।-একটা কেন?হাজারটাবলো।-I love you-তোমার মাথা নষ্টহয়েছে?-না,আমি সুস্থমস্তিষ্কে বলছি Ilove you- But I don't love you- কেন?-কারন তুমি সবসময়নিজেকে নিয়ে চিন্তাকরো।অন্যজনেরfeelings তুমি বুঝতেপারো না।You are a selfish.- তুমি এগুলো কিবলতেছো?- যা বলতেছি তা সত্য।এক বছর আগে আমিতোমাকে দেখার জন্যবারান্দায় যেতাম।মনেআছে এক বছর আগেএকটা মেয়ে তোমাকেফোন দিয়েছিল আরতুমি তার সাথেকিভাবেকথা বলছ?কেনবলেছ??কারণ তুমিমেয়েদেরকে পাত্তাদাও না।মেয়েদেরকেসম্মান দিতে তুমিপারো না।-কিন্তু?-কোন কিন্তু না.........এই বলে নূপুর হাঁটা শুরুকরল......আর নুহান তার চলারপথের দিকে তাকিয়েথাক্ল...আর তার চোখদিয়ে পানি পরতেলাগলো......২ ঘন্টা পর...নুহান হাতিরঝিলেরএকটা লেকের ধারেবসেকাদছে...সে যতই তারভুল বুঝতে পারছেততোইতার কান্নার পরিমাণবাড়ছে.........এইসময় তারমোবাইল এ মেসেজআসলো নূপুরের নাম্বারথেকে...'পিছনে তাকাও'নুহান পিছনে তাকালোএবং দেখলো যে নূপুরহাতে তার পছন্দেরকদম ফুল এবং নূপুর গালবেয়ে অশ্রুগুলো সবুজঘাসের উপর পড়েরোদেরআলোয় চকচক করছে।নুহান কিছু বলারআগেইনূপুর তার সামনে এসেফুল দিয়ে তার হাতেদিয়ে বলল,'দুই ঘন্টাতোমাকে কষ্ট দেওয়ারজন্য আমাকে মাফকরে দাও।আমিতোমাকেতোমার ভুল ধরিয়েদেওয়ার জন্য মিথ্যাবলেছি।আসলে আমিতোমাকে অনেক অনেকভালবাসি।'নুহান কিছু বলতেযাওয়ার আগেই নূপুরতার হাতদিয়ে নুহানের ঠোঁটস্পর্শ করেবলল,'তোমারকিছু বলা লাগবে না।তোমার চোখ দেখেআমিবলতে পারি তুমি কিবলবা।তোমাকে ছেড়েথাকতে এই ২ ঘন্টাতোমার থেকে বেশীআমিকষ্ট পেয়েছি'৪ বছর পর...নুহান আর নূপুরেরবিয়ের অনুষ্ঠানচলছে...নূপুরযখন তার পরিবারথেকেঅশ্রুসিক্তভাবেবিদায় নিয়ে গাড়িতেউঠলো...নুহান তার চোখমুছে দিয়ে বলল।'এইখুশির দিনে কান্না না।তোমার কারনেই এইখুশির মূহুর্তটা দেখতেপারছি।সেই দিন দুইঘন্টা তুমি যদিআমাকেনা কাদাতে তাহলেহয়তো এই খুশির দিনদেখতে পারতাম নাসমাপ্ত

পিশাচ || bangla story



- খালাম্মা, কাইল রাইতে খালু আমারে.... 

- তুই যাবি এখান থেকে!! 

অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালাম সালমার দিকে। সকাল থেকে এই নিয়ে চারবার শুনলাম কথাটা। ভেবেছে কি ওর কথা বিশ্বাস করবো?? আমার সহজ সরল স্বামীটাকে ফাঁসাতে চাইছে। সোসাইটিতে একটা বদনাম হওয়ার আগেই বেতন দিয়ে বিদায় করে দিলাম সালমাকে। বের করে দেয়ার সময় ওর করুণ মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়াই লাগলো। তারপরও নিষ্ঠুরের মতো মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলাম। 

অনেক কষ্টে একটা কাজের মেয়ে পেয়েছিলাম। বুঝিনা কেন আমার বাসায় কাজের বুয়া বেশিদিন টিকে না ?? অথচ অন্যান্য ফ্ল্যাটের ভাবিদের থেকে আমি বেশি টাকা বেতন দেই। 

দুইমাস আগে হাসনা নামের একজন কাজের মেয়ে ছিল। খুব ভাল কাজ করতো মেয়েটা। কিছুদিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছিলাম, মামাতো ভাইয়ের বিয়েতে। আসিফ যেতে পারেনি,অফিসে অনেক কাজ ছিল তো তাই। এসে দেখি মেয়েটা নেই। অাসিফ বললো, মেয়েটা নাকি মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করেছিলো তাই সে তাকে বাসা থেকে বের করে। তা বেশ করেছে। আমার স্বামী অনেক নীতিবান, অন্যায় সে সহ্যই করে না। কিন্তু পাশের ফ্ল্যাটের ভাবিদের এসব সহ্য হয় না, তাইতো শুধু আমার স্বামীর নামে কুৎসা রটিয়ে বেড়ায়। বলে কিনা, যেদিন আমি বাসায় ছিলাম না সেই রাতে তারা আমাদের বাসায় চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দরজা খুলে দেখে এলোমেলো কাপড়ে হাসনা আমাদের ঘর থেকে দৌড়ে বেরোচ্ছে আর আসিফকে শাসাচ্ছে, "খালাম্মারে সব কইয়া দিমু আপনে আমার লগে কি করছেন... " আসিফ ওকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা তখন আসিফের নামে প্রতিবেশীদের কাছে যতসব আজেবাজে কথা বলতে থাকে। যদিও আমি ওসব মোটেও বিশ্বাস করিনি, কারণ আমার স্বামী ফেরেশতার মতো। 

সেদিন ছেলেদেরকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখি এক জায়গায় মহিলাদের জটলা। মহুয়ার আম্মুকে দেখলাম মুখ থমথমে। উনার সাথে আমার অনেক দিনের ভাব। গিয়ে জিগ্যেস করলাম, "কি হয়েছে ভাবি??" উনি আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেন, লবণ শেষ হয়ে গিয়েছিল তাই আমাদের বাসায় তার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মহুয়াকে পাঠিয়েছিলেন একবাটি লবণের জন্য। বাসায় তখন আসিফ ছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন নাকি আসিফ মহুয়াকে.... 

আমি রাগে ক্ষোভে চিৎকার করে উঠলাম, "থামেন!! আর একটা কথা ও বলবেন না। আমাদের দুটি ছেলে কোন মেয়ে নাই এজন্য আসিফ মেয়ে বাচ্চাদের অনেক আদর করে। মহুয়াকে ও নিজের মেয়ের মতোই আদর করে। আর আপনি কিনা ওর নামে এমন নোংরা কথা বলছেন!!... "

সেই থেকে মহুয়ার আম্মুর সাথে আমার মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আমার চরিত্রবান স্বামীর নামে এত বড় অপবাদ!! 

আমার ছোট বোন দিবা ভার্সিটি এডমিশনের জন্য ঢাকা এসেছে। আমার বাসায় থেকেই পরীক্ষা দিবে। সেদিন কিচেনে রান্না করার সময় দিবা এসে ইতস্তত করতে থাকে। 

- কিরে কিছু বলবি?? 

- আপু দুলাভাইর আচরণ কেমন যেন, আমার ভালো লাগে না। যখন তখন শুধু গায়ে হাত দেয়, জড়িয়ে ধরে... 

আমি হেসে উড়িয়ে দিলাম, 

- আরে ধুর, তুই না কিসব ভাবিস!!! আসিফ তোকে ছোট বোনের মত ভাবে তাই একটু জড়িয়ে ধরে। তুই অত নেগেটিভ ভাবে নিস না তো!! 

সেদিন রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। দেখি আসিফ পাশে নেই। বেডরুমের সাথেই এটাচড বাথরুম, সেখানে ও নেই। এত রাতে ও কোথায় যাবে??  আসিফের নাম ধরে ডাকলাম। ও হন্তদন্ত হয়ে রুমে ঢুকলো। 

- কোথায় গিয়েছিলে?? 

- পা.. পানি খেতে.... 

- পানি খেতে মানে?? সাইড টেবিলেই তো জগ গ্লাস রাখা।

- খেয়াল করিনি

বলে ও কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়লো। 

কিচেনের লাইট অন নাকি দেখার জন্য রুম থেকে বেরিয়ে দেখি কিচেনের লাইট অফ কিন্তু দিবার রুমের লাইট অন। ও কি পড়ছে এখনও?? 

দিবার রুমে গিয়ে দেখলাম ও খাটে বসে আছে। 

- কিরে এখন ও ঘুমাসনি?? 

বলে ওর কাঁধে হাত রাখলাম। থরথর করে কাঁপছে ও। কোন কথা বলছে না, আমার দিকে চেয়ে ও দেখলো না। লাইট অফ করে দিয়ে চলে এলাম আমি। 

সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। আজকে দিবার অবস্থা দেখে সুমাইয়ার কথা মনে পড়ে গেল।  বছর দুয়েক আগের কথা। ৭/৮ বছরের সুমাইয়া নামের একটা কাজের মেয়ে ছিল। কিচেনের ফ্লোরে ঘুমাতো ও। প্রতিরাতেই পানি খাওয়ার নাম করে আসিফ কিচেনে যেতো। ওর কষ্ট হয় ভেবে বেডের পাশে সাইড টেবিলে জগ গ্লাস রেখে দিলাম। একদিন ঘুম ভেঙে দেখি আসিফ পাশে নেই। কিচেনের লাইট জ্বলছে বলে দেখতে গেলাম। গিয়ে দেখি সুমাইয়া গুটিসুটি মেরে বসে আছে, কাঁদছে। সামনে আসিফ দাঁড়িয়ে। আমাকে দেখে চমকে গেল। আমি সুমাইয়ার মাথায় হাত রাখলাম, 

- কি হয়েছে কাঁদছিস কেন?? 

ও থরথর করে কাঁপছিল দিবার মতো। কথা বলল না, শুধু অঝোরে কাঁদছে। আমি আসিফের দিকে তাকালাম। 

- কি হয়েছে ওর?? 

- ফ্রিজ থেকে কেক চুরি করে খাচ্ছিল। দিয়েছি এক থাপ্পড়। ওকে সকালে বিদায় করে দিও। আমি যেন অফিস থেকে এসে ওকে না দেখি। 

বলে আসিফ রুমে চলে গেল। 

সকালে উঠেই একজন লোক দিয়ে সুমাইয়াকে ওর গ্রামে পাঠিয়ে দিলাম। যদিও খুব মায়া লাগছিল, কিন্তু আসিফ বলেছে। না পাঠালে ও মাইন্ড করবে। সবাই বলে আমি নাকি স্বামী ভক্ত, অন্ধের মতো ওকে বিশ্বাস করি। যে যা বলুক, আমার কি!! 

এতদিন আমার মনে কোন প্রশ্ন জাগেনি। কিন্তু আজকে মাথায় হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সারা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি। 

সকালে ছেলেদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম আসিফ, দিবা যার যার রুমে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। তাই আর কাউকে ডিস্টার্ব করলাম না। বাইরে থেকেই মেইন ডোর লক করে দিলাম। 

সাধারণত আমি চার ঘন্টা পর স্কুল ছুটি হলে একবারেই ছেলেদের নিয়ে বাসায় ফিরি। কিন্তু আজকে আসার সময় বাচ্চাদের বেতন বই ভুলে নিয়ে আসিনি। তাই বাচ্চাদেরকে স্কুলে দিয়েই চলে এলাম বাসায়। চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুলে যেই ভেতরে ঢুকবো অমনি দিবার চিৎকার শুনতে পেলাম। জুতো সহ দৌড়ে গেলাম দিবার রুমে। ঢুকে যা দেখলাম, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। 

আসিফ আমাকে দেখে আঁতকে উঠলো। ততক্ষণে আমার রক্ত মাথায় চড়ে গেছে। পায়ের স্যান্ডেলটা খুলে ওকে এলোপাতাড়ি পেটাতে লাগলাম। যতক্ষণ না স্যান্ডেলটা ছিঁড়লো ততক্ষণ পর্যন্ত ওকে পেটাতে থাকলাম। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের সব মানুষ ছুটে এলো। মহুয়ার আম্মু এসে আমার হাত থেকে ছেঁড়া স্যান্ডেলটা ফেলে দিলেন, 

- ভাবি, শান্ত হয়ে বসেন। কি হয়েছে আমাদেরকে বলেন। 

আমি মহুয়ার আম্মুর গায়ে ঢলে পড়লাম, 

- ভাবি, আমি আপনার প্রতি অন্যায় করেছি, আমাকে মাফ করে দিয়েন। এই জানোয়ারটাকে অন্ধ বিশ্বাস করে কত বড় পাপই না আমি করেছি!! ওরে আমি ছাড়বো না... 

বলে ছেঁড়া স্যান্ডেলটা তুলে নিয়ে আবার ওর নাকে মুখে পেটাতে লাগলাম। থানায় ফোন করে পুলিশ আনলাম। ওর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করলাম। যতজনকে ও নির্যাতন করেছে সবার পক্ষ হয়ে আমি লড়বো। 

দিবাকে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য হসপিটালে আনা হয়েছে। সাথে মহুয়ার বাবা মা ও আছেন। উনারা না থাকলে আমি এতকিছু করতে পারতাম না। তাঁদের মুখের দিকে তাকাতেও আমার লজ্জা করছে। 

পেছন থেকে কেউ একজন সালাম দিলো। ঘুরে তাকিয়ে দেখি সালমা। ও এই হসপিটালে আয়ার কাজ করে। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম, 

- আমাকে মাফ করে দিস, আমি তোর প্রতি অনেক অন্যায় করেছি। 

- আমি কিছু মনে রাখি নাই গো খালাম্মা... 

বলে ও অঝোরে কাঁদতে লাগলো। 

সালমাকে রাজি করালাম আসিফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে। হাসনাকে ও খুঁজে বের করবো। সুমাইয়ার বাড়িতে ও যাবো। আমি ওদের সবাইকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিবো। যত যাই হোক, আমি ওদের পক্ষে লড়বো। 

আল্লাহর কাছে শুধু অভিযোগ করতাম, কেন আল্লাহ আমাকে একটা মেয়ে সন্তান দিলো না। কিন্তু আজকে আমি আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া জানাই যে তিনি আমাকে কোন মেয়ে সন্তান দেননি। কারণ এসব মানুষরূপী পিশাচদের কাছে অন্যের মেয়ে কেন নিজের মেয়ে ও নিরাপদ নয়!!

( সমাপ্ত )

লেখা : আফরিন শোভা

পুরুষকে পাগলের মতো ভালবাসতে চায় যেসব নারীরা!

ডেস্ক রিপোর্ট : সময়ের সাথে সাথে বেড়ে চলেছে প্রেম করার প্রবণতাও। আর এজন্য প্রয়োজন একজনকে অন্যজনের মন জয় করা। এক্ষেত্রে পুরুষের মন জয় করা যতটা সোজা ততটায় যেন কষ্ট নারীর মন জয় করা। তবে কাজটা কিন্তু মোটেও কঠিন নয়। এজন্য প্রয়োজন কিছু টেকনিক। এক নজরে দেখে নিন ৫টি টিপস যেটা মেনে চললে পছন্দের নারী সঙ্গিনী পাগলের মত ভালবাসতে চায়-

১) ফিটফাট থাকুন:
নারীরা দীর্ঘদেহী পুরুষ পছন্দ করেন বটে, তবে উচ্চতাই শেষ কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। আসল বিষয় হলো নারী বুঝতে চায় আপনি নিজের যত্ন নিতে, ফিটফাট থাকতে পারছেন কি না। তাঁরা ভাবেন, যে পুরুষ নিজের দেখভাল করতে পারেন না, তিনি আমার দেখভাল করবেন কী করে?
সুতরাং, আলুথালু পোশাক, এলোমেলো চুল, নখ না কাটা বা ময়লা থাকা, মোজায় গন্ধ, ময়লা শার্ট বা জিনসের উদাসীনতার দিন শেষ। হালের নারীরা এসব একেবারেই পছন্দ করেন না। নারীর মন পেতে হলে এসব খামখেয়ালিপনা আজই ছাড়ুন।
২) নিজের রুচি তুলে ধরুন:
দামি ব্র্যান্ডের জামা-জুতো হতে হবে বিষয়টা মোটেও এমন নয়। আর যদি একটার সঙ্গে বেমানান আরেকটা এই ব্র্যান্ডের শার্ট, ওই ব্র্যান্ডের জুতো, সেই ব্র্যান্ডের জিনস হয় তাহলে তা আপনাকে দেখেই দৌড়ে পালাতে পারে যে কেউ। তাই সাধারণ দোকান থেকে কেনা হলেও পোশাকে-আশাকে নিজের রুচি পছন্দটা তুলে ধরুন। আর খেয়াল রাখুন তা যেন আপনার শারীরিক গড়ন আর গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই হয়। নিজের একটা স্টাইল গড়ে তুলুন।আপনাকে বুঝতে হবে, আপনি যেমন নারীদের ‘সন্ন্যাসিনী’ সেজে থাকা পছন্দ করেন না, ঠিক তেমনি আধুনিক নারীরাও ‘অফিস টাইপ’ পোশাকের পুরুষদের পছন্দ করেন না।
৩) মুখে হাসি ফোটান:
রসবোধ থাকাটা যে কারও জন্যই উঁচুমানের গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কাঙ্ক্ষিত পুরুষের চরিত্রে নারীরা এটা খোঁজেন। প্রাত্যহিক জীবনে এমনিতেই বহু ঝুট-ঝামেলা নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে থাকার মতো যথেষ্টই কারণ থাকে নারীদের। তাই একজন মনমরা টাইপ সঙ্গী তাঁদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তাই নিজে হাসুন, তাঁর মুখেও হাসি ফোটাতবে খেয়াল রাখতে হবে ঠাট্টা-তামাশা করতে গিয়ে সব সময়ই অন্য কাউকে খাটো করা, আঘাত করা মোটেই কাজের কথা না। অনেক নারীই এটা রীতিমতো অপছন্দ করেন। আর যে পুরুষ হাসিমুখে নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেন, নিজেকে নিজেই মশকরা করতে পারেন, তাঁর প্রতি নারীদের আকর্ষণ কতটা তীব্র সে বিষয়ে আমরা কিছু বলব না, আপনি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখুন।
৪) তাঁকে বুঝতে দিন যে আপনি যত্নবান:
নারীরা সব সময়ই বারবারই এটা নিশ্চিত হতে চান যে তাঁকে কেউ ভালোবাসছেন, তাঁর খেয়াল রাখছেন। তাঁর হাত ধরে হাঁটা, সুযোগ পেলে একসঙ্গে সূর্যাস্ত দেখা—হোক তা বারান্দায় দুই মিনিটের জন্য, মাঝেমধ্যেই জড়িয়ে ধরা, রাস্তা পেরোনোর সময় তাঁর খেয়াল রাখার মতো কাজগুলোকে মোটেই অবহেলা করবেন না। আপনার এসব ছোট ছোট অভ্যাস থেকে অনেক কিছুই বোঝা যায়। কখনো কখনো রাস্তায়, বেড়াতে গিয়ে সবার সামনে তাঁর হাত ধরে হাঁটা মানে আপনি তাঁকে নিয়ে গর্বিত। তবে এ চর্চা যেন হয় জড়তাহীন, সাবলীল আর আতিশয্য বর্জিত।
৫) চোখে চোখ পড়েছে:
যখনই তাঁর চোখে চোখ রেখে তাকান। মিষ্টি করে একবার হাসুন। ভালোবাসার চোখে সরাসরি তাঁর চোখে তাকালে একজন নারী যে অনুভূতি পান তার তুলনা করা দুষ্কর। আপনার ওই চাহনিতে নিজেকে লাখে একজন মনে হতে পারে তাঁর। আর মাঝেমধ্যেই চোখে চোখ রেখে তাকানোটা জরুরি। কেননা, অনেক কথায় যা হয় না, চোখের ভাষায় সেটা বলা হয়ে যেতে পারে।

বিয়ের আগে যেসব কথা জানা অনেক জরুরি

ডেস্ক রিপোর্ট : জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে সবাই একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে নিয়ে সংসার পাততে চান। তবে বিয়ে মানুষের জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত।

সম্পর্কের শুরুর দিকে সবারই মনে হয় আমার সঙ্গী ঠিক আমার মতো, তার সঙ্গে আমার কত মিল!
দুজন চোখে চোখ রেখে ভালোবাসার মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে করতে ভুলেই যান সম্পর্কের এক পর্যায়ে গিয়ে এই মানুষটিকেই মনে হতে পারে সম্পূর্ণ অচেনা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, যখন মানুষ প্রেমে পড়ে, তখন তার মস্তিষ্কে বয়ে যায় ডোপামিন নামের এক রাসায়নিক পদার্থের বন্যা, যা তাকে খুবই আনন্দিত এবং সুখী অনুভব করায়।
চেনা সঙ্গী যখন অচেনা
প্রেমের শুরুটা এমনই হয়। তখন ভালোবাসার মানুষটির চরিত্রের জটিল দিকগুলো আমাদের চোখে পড়ে না। কিন্তু দুজন মানুষের মধ্যেকার পার্থক্যগুলো উঠে আসে সম্পর্কের বয়স ৬ মাস থেকে দেড় বছরে গড়ালে। প্রথম যেদিন ঝগড়া হয়, সেদিনই মানুষ বুঝতে পারে তার ‘পারফেক্ট’ সঙ্গীটি আসলে ‘পারফেক্ট’ নন, বরং তার মতোই ভুলত্রুটিতে গড়া মানুষ।
বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার অর্থ হল কারো সঙ্গে সারাজীবন থাকার পরিকল্পনা করা। জীবনের এই বড় সিদ্ধান্তটি নেয়ার আগে সঙ্গীর সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা খুবই প্রয়োজন। তাড়াহুড়া না করে বরং একে অপরকে আরেকটু ভাল করে চেনার জন্য সময় নিলে ভবিষ্যতে মন ভাঙার কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন করুন
সঙ্গীকে প্রশ্ন করুন, যদি আপনারা ভিন্ন ধরনের সামাজিক বা পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে এসে থাকেন তাহলে এই বিভেদ কিভাবে মেটাবেন? এ ধরনের প্রশ্নগুলো সামনে এলেই সঙ্গীকে নতুন করে জানতে শুরু করবেন আপনি। একে অপরকে সম্পূর্ণরূপে জানা তো একদিনের ব্যাপার নয়, এটি এমন এক প্রক্রিয়া যা সারাজীবন ধরে চলবে।
বর্তমান সময়ে পরিবার গঠনের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছে ব্যাপকভাবে, অনেকেই আছেন যারা সন্তান গ্রহণ করতে চান না। অনেক সময়ই দেখা যায়, সন্তানের প্রসঙ্গ আসার পরপরই ভেঙ্গে যায় সুখের সংসার।
বিয়ের আগে এই ধরনের বিষয়গুলো সুরাহা করে না নিলে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে যদি জানতে পারেন সঙ্গীর সঙ্গে আপনার চিন্তাভাবনার ফারাকটা অনেক বেশি, তাহলে কেমন হবে বলুন তো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আপনার সঙ্গী এমন কোনো সিদ্ধান্তে আপনার সঙ্গে একমত পোষণ না করেন, তাহলেই সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। অনেক সময়ই পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা সঙ্গীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে, একটু ধৈর্য ধরেই দেখুন না!
প্রশ্নের পরিধি বাড়ান
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বিস্তৃতি অনেক বেশি, যার অন্যতম উপাদান হল যৌনজীবন। সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করুন, যৌনজীবন নিয়ে আলোচনা করতে কি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি?
যদিও মধুচন্দ্রিমার সময়টুকু স্বামী-স্ত্রী তাদের জীবনের অনেক কিছুর আগাম হিসাবনিকাশ করে নেন, তবে কিছু ব্যাপার আগেই সমাধান করা ভাল। যেমন, সন্তান জন্মের পর প্রথম কয়েক বছর কিভাবে সংসার সামলানো হবে? আজকাল বেশীরভাগ নারীই চাকরিজীবী হয়ে থাকেন, এক্ষেত্রে মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে সংসার সামলাতে আগ্রহী নাও হতে পারেন কেউ কেউ। তাহলে উপায় কি? সমাধান করে নিন আগেভাগেই।
প্রসঙ্গ যখন টাকাপয়সা
আয় করছেন দুজনেই, তবে অবিবাহিত জীবনের অর্থনৈতিক কাঠামোটা কিন্তু একেবারেই আলাদা। বিয়ের পর যখন সবকিছুই হয়ে উঠবে ‘যৌথ’, সেক্ষেত্রে টাকাপয়সার ভাগাভাগিটা কেমন হবে? দুজনের কি কোনো যৌথ ব্যাংক হিসাব থাকবে? এসব হিসাবনিকাশ বিয়ের আগে করে ফেললে পরে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হবে না।
পরিবার-পরিজন
বাঙালীর রীতি অনুযায়ী যৌথ পরিবারে থাকার চল এখন নেই বললেই চলে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিয়ের পর বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে নিজেদের ছোট্ট সংসার পাতেন নতুন দম্পতি। তবে উভয় পক্ষের বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব কিন্তু থেকেই যায়।
শ্বশুরবাড়ির প্রতি দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন তা নিশ্চিত করে নিন এখনই। পুত্রবধূ কিংবা মেয়ের জামাই হিসেবে কতটা দায়িত্ব আপনি পালন করতে আগ্রহী তা সঙ্গীকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে রাখুন। বিয়ের পরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কতখানি রাখতে চান তাও আলোচনা করুন।
মনে রাখবেন
দুজনের মতামতে ভিন্নতা থাকা মানেই সম্পর্কের ইতি নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভাল থাকলে সম্পর্ক আরো মজবুত এবং গভীর হয়। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সঙ্গীকে আরো ভাল করে জানার চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে সময় নিন।

স্কুল জীবনের ভালোবাসা

love of school live

ক্লাসে ম্যাডাম ঢুকেই বলল, " রাকিব তুই নাকি সাদিয়াকে
প্রেমপত্র দিছিস! সাদিয়া তোর প্রেমপত্র পড়ে অজ্ঞান
হয়ে গেছে।" ম্যাডামের কথা শুনে রাকিব এর কলিজা শুকিয়ে
গেলো। সাদিয়া ম্যাডামের একমাত্র মেয়ে। ডাইনী মায়ের
একমাত্র আদরের সন্তান। ম্যাডাম আবার বলল, "কিরে তুই
উত্তর দিচ্ছিস না কেন"? ভয়ে রাকিবয়ের পায়ে কাঁপাকাঁপি শুরু
হয়ে গেলো। যেকোনো সময় প্যান্ট নষ্ট করে ফেলার মতন
অবস্থা।
জীবনে কখনো ম্যাডামের ক্লাসে পড়া দিয়েছি বলে মনে
পড়ে না। ম্যাডাম এমনিতেই আমাকে দেখতে পারে না।
তার উপর তার মেয়েকে প্রেমপত্র দিয়েছি, সেটা পড়ে
বেচারি অজ্ঞান। ম্যাডাম আমার অবস্থা আজ কি করবে
সেটা বুঝার বাকি রইলো না। মনে মনে বিপদের দোয়া
পড়ছি আর নিজের বুকে ফুঁ দিচ্ছি। আল্লাহ এবারের মতন
আমাকে বাঁচাও এরপর থেকে সাদিয়াকে নিজের বোনের
চোখে দেখবো।
ম্যাডাম আস্তে আস্তে এগিয়ে এলো আমার দিকে।ক্লাসের
সবাই সার্কাস দেখার অপেক্ষায় আমার দিকে তাকিয়ে
আছে। ম্যাডাম আমার কাছে এসে চিঠিটা আমার হাতে
দিয়ে বলল, " পড়ে শোনা"। ম্যাডামের কথা শুনে এবার গলা
পর্যন্ত শুকিয়ে কাঠ। আমি লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে
আছি। ম্যাডার তার ডাইনী কণ্ঠে চিৎকার করে উঠে বলল,
"এক্ষণ পড়ে শোনা বলছি।"
আমি চিঠি হাতে নিয়ে পড়া শুরু করলাম।
কলিজার বোঁটা সাদিয়া,
কেমন আছো তুমি? জানি তুমি ভালো নেই। তোমার ডাইনী মা
৪৫ মিনিটের ক্লাসে আমাদের যে অবস্থা করে! আল্লাহ
জানে সারাদিন তোমার উপর ঐ ডাইনীটা কতো নির্যাতন
চালায়। তুমি বললে আমি উনার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
প্রথমদিন তোমাকে দেখেই আমার বুক কেঁপে উঠেছিল। সেই
কাঁপুনিতে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের কিছু অংশ কেঁপে
উঠে। অথচ মানুষজন বলে সেটা নাকি ভূমিকম্পের কারণে।
কাউকে বিশ্বাস করাতেই পারিনি ওটা আমারি বুকের
ভূমিকম্প।
তুমি জানো সারাদিন শুধু আমি তোমার কথা ভাবি। এতো
ভাবনা যদি আমি গণিতের প্রতি দিতাম তাহলে
আইনস্টাইনের মতন আমারো পকেটে দুইচারটা নোবেল
থাকতো। কিন্তু দেখো আমি নোবেলের কথা চিন্তা না করে
শুধু তোমার কথা চিন্তা করি। কিন্তু তোমার ডাইনী মায়ের
জন্য চিন্তাটাও ঠিকমতন করতে পারি না। হঠাৎ করে
তোমার মা আমার চিন্তার মধ্যে এসে আমাকে লাঠিপেটা
করে আর বলে " ঐ তুই আমার মেয়েকে নিয়ে চিন্তা করিস
কেন?"
সেইদিন স্বপ্নে দেখি তোমাকে নিয়ে চাঁদে যাচ্ছি
হানিমুন করতে। রকেটে আমি আর তুমি লুকোচুরি খেলছি।
এরমধ্যে কোথা থেকে যেন তোমার মা এসে রকেটের ইঞ্জিন
বন্ধ করে দিয়ে বলে, " এবার খেলা হবে।"
বিশ্বাস করো সাদিয়া, তোমার কথা মনে হইলেই এই হৃয়দের
মধ্যে এনার্জি বাল্ব জ্বলে উঠে। তুমি আবার ভেবো না আমি
৩০০ টাকার এনার্জি বাল্ব ১০০ টাকায় কিনেছি শুধুমাত্র
কোম্পানির প্রচারের জন্য।
আমি ফিলিপ্স বাল্বের কথা বলেছি। যা দিবে তোমাকে
শতভাগ আলো ও দীর্ঘদিনের গ্যারান্টি।
সাদিয়া বিশ্বাস করো এই মনে!!...."
হঠাৎ ধপাস করে কিছু পরে যাওয়ার শব্দ পেলাম। সামনে
তাকিয়ে দেখি ম্যাডাম অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে।
সবাই মিলে দৌড়াদৌড়ি করে ম্যাডামকে তুলে ডাক্তার
ডাকতে গেলাম।
ম্যাডামের জ্ঞান ফিরলে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম আমাকে
ডেকে পাঠালেন। উনি বললেন," তুমি নাকি ম্যাডামের
মেয়ে সাদিয়াকে চিঠি দিয়েছ। কি ছিল সেই চিঠিতে
দেখি চিঠিটা আমাকে দেও।" আমি ভয়ে ভয়ে প্রিন্সিপ্যাল
ম্যাডাম কে বললাম "আগে এখানে ডাক্তারকে ডাক দেন
ম্যাডাম।"