Showing posts with label bangla romantic sms. Show all posts
Showing posts with label bangla romantic sms. Show all posts

Valobashar Golpo - পর্দার আড়ালে - Bengali Love Story


 -আজ সাতদিন হয়ে গেলো,তোমার কোনো খবর নেই,ফোন করলে ধরছো না!মেসেজ সিন করে রিপ্লাই দিচ্ছ না,কি ব্যাপার জয়া?
-প্লিজ আকাশ,আমি আর আমাদের সম্পর্কটাকে বয়ে নিয়ে যেতে পারছি না!কেন বুঝতে পারছো না তুমি!সম্পর্কে যখন উষ্ণতা হারিয়ে যায়,তখন তাকে অহেতুক বয়ে বেড়াবার কোনো মানে হয় না!আই,আই জাস্ট ওয়ান্ট টু ব্রেক আপ উইথ ইউ...
-ওহ!তাহলে অফিস ফ্লোরে যেসব কথা শুনতে পাচ্ছি,সেটাই সত্যি!
-তুমি ফ্লোরে কি শুনেছো আমি জানি না,জানতেও চাই না,শুধু প্লিজ আমায় ছেড়ে দাও।আই ক্যান্ট হ্যান্ডেল দিস রিলেশন এনি মোর....
-হাউ কুড ইউ?
-ও কাম অন আক্কী,ভাবটা তো এমন দেখাচ্ছ,যেন ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানো না,তোমার যা সেক্স অ্যাপীল,তোমার যা ইম্প্রেশন,একটা এক্স-ফ্যাক্টর তো তোমার মধ্যে আছেই বস!এন্ড মোস্ট ইম্পরট্যান্ট,(ফিসফিসিয়ে,আকাশের কানের কাছে এসে)ইউ আর জাস্ট অসাম ইন বেড ডার্লিং!দেখো,ক্লিয়ারলি বলে দেওয়াই ভালো,হ্যাঁ ফ্লোরে তুমি কানাঘুষোতে যা শুনছো,সেটাই ঠিক!গত মাসে বসের সঙ্গে যখন বিজনেস ট্রিপে ইউরোপ গিয়েছিলাম,হি প্রোপোসড মি!আর কোনো বোকাই এই সুযোগ হাতছাড়া করবে!রাইট?!ডোন্ট ওয়ারি ডার্লিং,বসের পি এ থেকে আমি যখন এই গোটা অফিসের এম ডি হবো,তখন তুমি থাকবে আমার প্রায়োরিটি লিস্টে সবার ওপরে!আফটার অল তুমি তো আমায় কম আনন্দ দাওনি,তাই তোমাকে...
সপাটে একটা চড় এসে পড়লো জয়ার গালে..
-ব্লাডি প্রস্টিটিউট!গো টু হেল....

ক্যাফেটেরিয়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো ওরা দুজন।জয়া বোধহয় ভাবতেও পারেনি,দু-টাকার একটা সাধারণ এমপ্লয়ী তাকে এমনভাবে সাঁটিয়ে থাপ্পড় মারতে পারে!রাগের চোটে দু-চোখ দিয়ে আগুন ঠিকরে পড়লো ওর....
রাগে-ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে আকাশ গটমট করে বেরিয়ে গেলো ওর সামনে দিয়ে....

 -ওকে!কাট ইট!এক্সিলেন্ট শট স্যার!
-প্যাক আপ?
-ইয়েস স্যার,প্যাক আপ!
-হেই বেবি!ইউ ডিড আন ওয়ান্ডারফুল জব!
-এস.আর. আই উইল কিল ইউ!এত্ত জোরে মেরেছ,কান গরম হয়ে গেছে আমার!গাল জ্বালা করছে!
-সরি ডার্লিং,আমি পুরোপুরি আকাশের ক্যারেক্টারে ঢুকে গিয়েছিলাম!বাই দা ওয়ে,হোয়াটস ইওর প্ল্যান ফর টুনাইট?
-প্ল্যান বলতে ইভনিং এ জিম,রাতে একটা ক্যালেন্ডারের ফটোশুট আছে,প্যাক আপ হবার পর দেন.....
-দেন?
-দেন....উমমমম,ফ্রি!
-গুড!
-গুড!হোয়াই?
-রাতে চলো আমার সঙ্গে,আমার একটা বন্ধুর ছেলের জন্মদিন,ফ্যামিলি ফাংশন!আমায় এটেন্ড করতেই হবে!
-হোয়াট!হোয়াট!হোয়াট!উ!সুপারস্টার এস.আর,তার কো-আর্টিস্ট-এর সঙ্গে ফ্লোরের বাইরে ঘুরে বেড়াবে?কাল তো পেজ থ্রির ফ্রন্ট পেজে চলে আসবে...
-আই কেয়ার আ ড্যাম!ইউ জাস্ট টেল মি,ইউ আর কামিং ওর নট!ইউ নো,আই ডোন্ট ফোর্স এনিওয়ান!
-চিল বেবি!অফ কোর্স আই এম কামিং....
-ওকে দেন,সি ইউ এট নাইন শার্প!
-ওকে....
-বাই হানি.....

সুপারস্টার এস.আরের সুদৃশ্য অডিটা চোখের সামনে দিয়ে সাঁ করে বেরিয়ে গেলো।

-কি করছিস গুবলু?
-হোয়াট?!
-আজ আবার নতুন একজন?
-ইসন্ট সি সো বিউটিফুল?!
-জীবনের চৌত্রিশটা বসন্ত তো পেরিয়ে এলি,এবার এসব ছাড়!লাইফে সেটেল হ!রোজ-রোজ এভাবে এক-একজনকে...
-আমি তো কাউকে ফোর্স করছি না,রিকুয়েস্টও করি না,এক্সপ্লয়েট করি না,কেউ যদি আগে আমার সঙ্গে ফ্লার্ট করতে শুরু করে,তো আমার আর একটু এগোলে প্রবলেম কি বলতো!সে দিলে আমার নিতে প্রবলেম কোথায়?ইন্ডাস্ট্রির কেউ বলতে পারবে না,কারোর অমতে আমি হাতটুকুও কোনোদিন ধরেছি বলে....
-বাট গুবলু,দিস ইস নট লাইফ আফটার অল!
-প্লিজ মলি!মায়ের মতো জ্ঞান দিস না তো!ওদিকে মা ফোন করে বলতে থাকে,এদিকে তুই!সেই ছোট্ট থেকে তোকে দেখে আসছি।গ্রো আপ লেডি,এবার তো আমার গার্জেন না হয়ে আমার বন্ধু হ....
-আমি আর আন্টি,আমরা দুজনেই তো তোর ভালো চাই বল...
-ওক্কে মেরি মা,এবার থাম!আই রিয়েলি ডোন্ট নো,তোর বর কি করে তোকে সহ্য করে মলি!এত্ত জ্ঞান দিস....
-হে হ্যান্ডসাম!
-কামিং ডার্লিং!মলি,বাই-বাই-বাই!আজ রাতের প্রচুর প্ল্যান!কাল ইভনিং এ ফোন করবো!
-বাই মল্লিকা!ফুড ওয়াজ অসাম ডিয়ার!গুড নাইট.

এস.আরের বাংলো বাড়িতে সেই রাতটা দুজনে একে-অপরের মধ্যে ডুবে রইলো।এস.আর বর্তমান সিনে-ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার!আর মিস লিলি একজন স্ট্রাগলিং মডেল!হ্যাঁ,গত বছর পর্যন্তও ছিল,কিন্তু তারপর এস.আরের ছত্রছায়ায় এসে এই বছরই প্রথম বড়ো ছবিতে কাজ করছে তারই বিপরীতে।কাজটুকু পাইয়ে দেবার জন্যই,লিলি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে এস.আরকে নিভৃতে সঙ্গ দিয়ে...

চিলড বিয়ারের তলানিটুকু এক সিপে শেষ করে ফেললো এস.আর।গলাটা শুকিয়ে কাঠ...
-স্ক্রিপ্টের ডায়লগ বলতে ইচ্ছে করছে এস.আর!লিলি বললো....
-হোয়াট!
-সিরিয়াসলি!ইউ আর জাস্ট অসাম ইন বেড....
-রিয়েলি!টেল মি সামথিং দ্যাট আই ডোন্ট নো বেবি!
-হা হা!ইউ আর সুপারকুল!
-এন্ড ইউ নো হোয়াট লিলি,ইউ আর সো বিউটিফুল!

মিষ্টি করে হেসে এস.আরের বুকের মধ্যে মুখ গুঁজলো লিলি।
-তোমার নেক্সট প্রজেক্ট কি?আমি তোমার সঙ্গে পরের প্রজেক্টেও স্ক্রিন শেয়ার করতে চাই....
-লেটস সি বেব!প্রোডিউসারের এন্ড থেকে লাস্ট ডিসিশন আসে!
-কাম অন হানি!কে না জানে,ইউ আর ইন্ডাস্ট্রি!তুমি যা বলবে তাই-ই...
ফোনটা বেজে ওঠে এস.আরের!নম্বর দেখেই ফোনটা নিয়ে কাঁচটা সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় ও...
-ইয়েস মাম্মি ডিয়ার!

প্যাডেড ব্রা-টা পরতে-পরতে লিলির চোখ চলে যায় নিজের ফোনের দিকে।ফোনটা বাংলোতে ঢোকার সময়ই সাইলেন্ট করে রেখেছিলো ও।এখন দেখলো ফোনটা রিং হয়ে কেটে গেলো।তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো,একুশটা মিসড কল হয়ে আছে।সবকটা অভির নম্বর।ছেলেটার কি কিছু হলো!পর্দাটা একটু সরিয়ে লিলি দেখলো,এস.আর. সুইমিং পুলের পাশে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত।আবার ফোনটা রিং হওয়ায় তাড়াতাড়ি ধরলো ও....
-কি হয়েছে কি!কতবার বলেছি না,শুট চলাকালীন আমায় ফোন করবে না!
-তুই কোথায় সালি!তোর ক্যালেন্ডারের ফটোশুট যেখানে হবার কথা ছিল,আমি সেই ষ্টুডিওর বাইরেই দাঁড়িয়ে আছি!কোথায় তুই!
-শিট!
-তুই নিশ্চয়ই ওই হিরো ব্যাটার বিছানা গরম করছিস?
-নইলে তোর মাল গেলার টাকা কোথা থেকে দেবো বল!শুধু একটা সিনেমায়,ক্যামেরার সামনে দুটি ডায়লগ বলে তো আর সারাজীবন পেট চলবে না!আমার আরও কাজ দরকার!আর তার জন্য যদি....
-তুই আজ বাড়ি আয় হতভাগী!তোর টাকায় আমি...
-বেশি কথা বোলো না,আমি ডিভোর্স দিয়ে দিলে তো রাস্তায় নেমে দাঁড়াতে হবে!নিজের পেট চালাবার মুরোদও তো নেই!নেহাৎ ছেলেটার কথা ভেবেই....

কাঁচটা সরানোর শব্দ পেয়ে তাড়াতাড়ি ফোনটা কেটে দেয় লিলি।ঘরে ঢুকে এস.আর. গেঞ্জিটা গায়ে চড়ায়।
তারপর একটু হেসে লিলির দিকে চেয়ে বলে,
-সরি ডিয়ার!মা ফোন করেছিলো!তাই....
-নো নো,ইটস ওকে!
-আর তোমায়?
মুহূর্তেই রক্তশুন্য হয়ে গেলো মিস লিলির মুখ!
-আই মাস্ট সে,খুব ভালো মেনটেইন করেছো নিজেকে।তোমার পেটে মুখ ডোবানোর সময়ই আমি বুঝতে পেরেছি,তোমার বেবি আছে।মেকআপের তীব্র গন্ধ মাথা ধরিয়ে দিচ্ছিলো।স্ট্রেচ মার্কের দাগ কি এত সহজে ঢাকা যায় লিলি!তবে তুমি মিস না মিসেস জানতাম না!কিন্তু কেন এসব?অবশ্য বলতে না চাইলে,আমি জোর করবো না...
-হি ইস এ মনস্টার এস.আর!ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলাম,রোজ রাতে নেশা করে আমায় মারতো!ছেলেটা পেটে থাকতেও।থিয়েটার করার শখ ছিল বিয়ের আগেও।বিয়ের পরও একটু-আধটু মডেলিং করতে শুরু করলাম।প্রথমে ছোট পর্দা,তারপর বড়ো পর্দায় তোমার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দিলে তুমি!আর একটু সেটেলড হয়ে ছেলেটাকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে চাই এস.আর!
-ইউ আর আ মাদার লিলি!আর আমি জানি মায়ের লড়াইটা কতটা কঠিন!কিন্তু এভাবে তোমার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে,আমি তোমাকে অসম্মানিত করতে পারবো না।বন্ধু হিসেবে তুমি যখনই চাইবে,আমায় পাশে পাবে।আমি ভেবেছিলাম তুমি ইচ্ছাকৃতই আমার সঙ্গে,কিন্তু আর সম্ভব না ডিয়ার,কোনোদিন তোমার বেবি প্রিন্সের সঙ্গে দেখা হলে,তার সামনে দাঁড়াতে পারবো না যে...
-এস.আর.....
-ডোন্ট ওয়ারি!পরের প্রজেক্টে আমার সঙ্গে তুমিই থাকবে।মিস্টার দেশাইয়ের সঙ্গে কথা চলছে।আমি তোমার কথা বলে দেবো!তুমি ট্যালেন্টেড এক্টরেস।আমি জানি,এটাও ব্লকবাস্টার হিট হবে।কিন্তু এরপর কারোর সামনে মাথা নিচু করে নয়,নিজের দক্ষতায় কাজ করবে তুমি।প্রয়োজনে সবসময় আমায় পাশে পাবে।কিন্তু বিনিময়ে কিছু চাই না!প্লিজ....

লাল রঙের প্যাডেড ব্রা-টা পরে,ধবধবে সাদা ডিভানে মাথাটা নিচু করে বসে আছে লিলি।
-ইউ নো হোয়াট এস.আর...
-টেল মি ডার্লিং,হোয়াট আর ইউ থিংকিং?আজকের পর হয়তো এভাবে সেটের বাইরে আর কোনোদিন আমাদের দেখা হবে না,তো আজ বলো তুমি,আমি শুনবো...
-আজ এখানে আসার আগে পর্যন্ত ভেবেছিলাম,তুমি নাম্বার ওয়ান পারভার্ট!কিন্তু এখন বুঝতে পারছি,ইন্ডাস্ট্রির নাম্বার ওয়ান প্লেবয় হওয়া সত্ত্বেও,একটা মেয়েও তোমার বিরুদ্ধে মুখ খোলে না কেন?
-প্লেবয়!!হা হা হা!দ্যাটস ট্রু বাই দা ওয়ে....
-নো,দ্যাটস নট ট্রু!ইউ আর আ ম্যান,প্রপার....
-বেবি,এত ভারী-ভারী কথা বলে নেশাটা চটকে দিও না প্লিজ!লিসেন ডিয়ার!তুমি কার সামনে নিজেকে নগ্ন করবে,নিজের বুকের কাপড় সরাবে,সেটা সম্পূর্ণই তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার!বাট নট ইন ফ্রন্ট অফ মি,নট এনিমোর।এটা পরে নাও....

সারা সন্ধ্যে যে লাল রঙের ব্যাকলেস ড্রেসটা পরে লিলিকে দেখে,এস.আর মুগ্ধ হয়েছিল,ড্রেসটা খুলে নগ্ন শরীরটা পাবার জন্য উৎসুক হয়েছিল,সেই ড্রেসটাই এখন সযত্নে ওর হাতে ফিরিয়ে দিলো....
-আর হ্যাঁ,পিঠটা ভীষণ জ্বালা করছে,তোমার ম্যানিকিওর করা নখগুলো বেশ ভালোভাবেই বসিয়ে দিয়েছো!ড্রয়ারে এন্টিসেপটিক আর কটন আছে,লাগিয়ে দাও একটু.....
-সরি!
এস.আরের চওড়া খোলা পিঠটায় অজস্র নখের দাগ।জ্বালা করারই কথা!জামাটা পরে নিয়ে তুলোয় করে একটু ওষুধ লাগিয়ে পিঠে মাথা রাখলো লিলি...
-এস.আর!
-হুম!
-ক্যান আই হাগ ইউ?
ঘুরে বসে লিলিকে বুকে জড়িয়ে ধরলো এস.আর।ওকে জড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো লিলি।লিলির মুখটা তুলে কপালে আলতো করে চুমু খেলো এস.আর...
-একটাই জিনিস তোমার প্রাপ্য এস.আর!হিউজ রেস্পেক্ট!ইউ আর আ গুড হিউম্যান বিয়িং...
-চল ঝুটি!
-আমি বেরোই।কাল সেটে দেখা হবে!কাল তো লেট নাইট শুট,পার্টি সিকোয়েন্স।ডিস্কোতে...
-ইয়েস ডিয়ার!কাল সকালে জিম,সুইমিং,ব্রেকফাস্ট,তারপর হেব্বি ঘুম!রাজা কে জিজ্ঞেস করতে হবে,আর কোনো কিছু সিডিউলে আছে কিনা!ওহো,আর একটা শুট আছে কাল স্টুডিওতে,তাও শেষরাতে।জানলা দিয়ে সানরাইজটা নেবার কথা!তোমায় ছেড়ে আসবো লিলি?
-না থ্যাঙ্কু,তোমার ড্রাইভারকে বলে দাও,তা হলেই হবে...
-ওকে!
ব্যাগটা হাতে নিয়ে বেডরুম থেকে বেরোনোর আগে,লিলি আর একবার জাপটে ধরলো এস.আর. কে।
এস.আর. ও আলতো করে লিলির মাথার চুলগুলো একটু এলোমেলো করে দিলো।পুরুষের স্পর্শ একজন নারীর চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না।একটু আগে এই মানুষটাই বিছানায় ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফালাফালা করেছে ওর শরীরটাকে,কিন্তু এখন লিলি খুব ভালো করেই বুঝতে পারলো,এ স্পর্শে কোনো যৌনতা নেই,নেই কোনো অশালীন চাহিদা!আছে শুধু বন্ধুত্বের ভরসাটুকু....

লিলি বেরিয়ে যাবার পর,ফোনের গ্যালারি খুলে নিজের মায়ের ছবিটায় পরম ভালোবাসায় চুমু খেলো এস.আর...
-দিইনি মা,হারতে দিইনি।আজ একজন মাকে জিতিয়ে দিয়েছি!লাভ ইউ...

পরদিন ফ্লোরে প্যাক আপের পর....

লেট নাইট শুট ছিল সেদিন এস.আরের!তারপর আবার স্টুডিওতে।পরপর দুটো শুটের পর প্যাক আপ হতে-হতে সকাল হয়ে গেছে।লিলি অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে।মাথাটা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছিলো।স্পট বয় কড়া করে এক মগ কফি দিয়ে গেলো তাড়াতাড়িই।গ্রীনরুমে মেকআপ রিমুভ করতে-করতে মনে হচ্ছিলো ওর দমটাই বন্ধ হয়ে যাবে।কোনোরকমে কিছুটা মেকআপ তুলে টিস্যু পেপার হাতে নিয়েই বাইরের লম্বা ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালো এস.আর!ভেবেছিলো একটু খোলা হাওয়ায় দাঁড়াবে,কিন্তু দেখলো এদিকেও সব জানলাগুলো বন্ধ।বাইরের আলোটুকু পর্যন্ত আসছে না।নিশ্চয়ই পাশের ফ্লোরে কোনো শুটিং চলছে।কিন্তু এত আর্লি মর্নিং!কৌতূহলবশত একটু এগিয়ে গেলো ও....

-বুকের আঁচলটা আর একটু নামবে,আর একটু ঝুঁকবেন,ক্লিভেজটা ঠিকঠাক দেখা যাচ্ছে না।চিন স্লাইটলি ডাউন!কলার বোনটা আর একটু,চোখের পাতাটা নামাবেন!স্পট লাইট!রেডি!
খচাৎ করে ফটো তোলার শব্দ হলো,কিন্তু বিহাইন্ড দা ক্যামেরা আর মনিটরের সামনে বসা প্রত্যেকের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে,ছবি মনঃপূত হয়নি।হলোও তাই।আবারও পোজ দিতে হচ্ছে মেয়েটিকে...
-ফাক ম্যান,সি ইস ড্যাম হট!
-শাট আপ এন্ড কনসেনট্রেট ডুড!লেট মি ফোকাস!
-ওয়ান মিনিট!এক্সকিউজ মি লেডি,আই ডোন্ট নো,হোয়াটস ইয়োর নেম বাট...
-ঋদ্ধি,ড্রেসারকে ডাক!ড্রেসার,মেকআপ...
-নো ম্যান,লেট মি হ্যান্ডেল দিস....
-এই শাড়ির আঁচলটা আর একটু নামিয়ে,আর একটু এভাবে পেটের কাছ থেকে সরিয়ে...কিছুটা ইচ্ছাকৃতভাবেই ঋদ্ধির অবাধ্য হাতটা বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছে মেয়েটির কোমরের ভাঁজ আর অর্ধঅনাবৃত স্তন!কিন্তু মেয়েটাও বুকের বাঁদিকের শাড়ির আঁচলটা প্রাণপণে আঁকড়ে রয়েছে।লো-কাট ব্লাউজ,একপাশের আঁচল সরিয়ে হালকা ক্লিভেজ দেখানোর কথা!এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী এই শর্তেই রাজি হয়েছে সে।কিন্তু এখন বুক থেকে পুরোপুরি শাড়ি নামিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন ইনি।মেয়েটাও কিছুতেই বুকের বাঁ-দিক থেকে শাড়ির আঁচলটাকে নামাতে দেবে না....

-ফাক ম্যান!দাঁতে-দাঁত চেপে মৃদু ধমকে ওঠেন এস.আর!
-স্যার আ-আপনি!
-হোয়াট দা হেল আর ইউ ডুইং ঋদ্ধি?ইউ ক্যান্ট টাচ ইওর অবজেক্ট!ডোন্ট ইউ নো দ্যাট?এন্ড সি ইস আনকম্ফোর্টেবল উইথ ইউ ঋদ্ধি,নিখিল ক্যান্ট ইউ সি দ্যাট?এবার চেঁচিয়ে ওঠেন এস.আর...
-স্যার,সরি স্যার,আমি জাস্ট মেকআপ আর ড্রেসারকেই ডাকছিলাম....
-কাজটাকে আগে সম্মান করতে শেখো ঋদ্ধি,তারপর কাজ করবে!ব্লাডি লুজারস....
-এক্সট্রিমলি সরি স্যার!
মেয়েটার দিকে একবার তাকালো এস.আর।মেয়েটা তখনও মাথা নিচু করেই বসে আছে।হয়তো ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন।যদিও দুদিনের মধ্যেই চালচলন বদলে যাবে।এসব মেয়েদের খুব ভালো করেই জানা আছে ওর।কিন্তু তবু মেয়েটার এমন অপমান ও মেনে নিতে পারলো না কিছুতেই!কফি মগটায় চুমুক দিতে-দিতে নিজের গ্রীনরুমের দিকে চলে গেলো এস.আর....

-সালা,সকালে একটা বিকেলে আর একটা মেয়ে নিয়ে ফূর্তি না করলে যার নাকি দিন গড়ায় না,সে আমায় জ্ঞান মাড়াতে আসছে!সকাল-সকাল নতুন ঝাক্কাস একটা মেয়ের সামনে প্রেস্টিজের মা-বোন এক করে ছেড়ে দিলো মাইরি!
-ছাড় না,তাড়াতাড়ি শটগুলো নে।বিকেলেই স্যারকে এডিট করে পাঠাতে হবে।আর্জেন্ট!ম্যাগাজিনের কভারের কাজ।সময় লাগবে।
-ব্লাডি...
-ঋদ্ধি!শুনতে পেলে না,আর করে খেতে হবে না....
-সালা!কি আছে বলতো বালটার মধ্যে!সব প্রোডিওসাররা একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে!
-তোর চেয়ে আমি ইন্ডাস্ট্রিতে বেশি সময় কাটিয়েছি।যতটা খেয়াল করেছি,বেশ কয়েকটা জিনিস আছে। হিরোইনরা ওনার সঙ্গে কাজ করতে খুব কম্ফোর্টেবল!
-সে তো সালা সারারাত ন্যাংটো হয়ে বিছানায় জাপটে শুয়ে এসে,পরদিন স্ক্রিনে যদি সামান্য একটু ইন্টিমেট হতে বলে সবাই পারবে!এ আর কি এমন ব্যাপার!
-বিছানায় উনি তাদের সঙ্গেই যায়,যারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়,তুই খেয়াল করিস কিনা জানি না,ইভেন ফটো তোলার সময় সামনে থেকে দেখলে মনে হবে,দুদিকে দুটো মেয়ের কোমর ধরে রয়েছে,কিন্তু পিছনে দুটো হাত কোমর থেকে অন্তত এক ইঞ্চি দূরে রেখে ফটো তোলেন উনি।আমি নিজে দেখেছি।এমনকি কোনোদিনও শুট চলাকালীন ওনাকে অ্যাডভান্টেজ নিতে দেখিনি।
এবার চুপ করে গেলো ঋদ্ধি....
-আর তার থেকেও বড়ো কথা,একটা ভিডিও বা সিনেমার একটা ক্লিপিংকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ভাইরাল করে দিয়ে,একটা লিমিটেড ক্রাউডকে সাময়িক পাগল করে,জোয়ারে গা ভাসিয়ে কিছুদিনের জন্য,যে কোনো কাউকে সুপারস্টার বানিয়ে দেওয়া যায়।কিন্তু এক্টর তৈরী করা যায় না।ওই এক্স-ফ্যাক্টরটা ভিতরে থাকতে হয়।কিন্তু একইসাথে এক্টর আর সুপারস্টার,এট দা সেম টাইম,ইস ডেডলি কম্বিনেশন!আর সেটা হলেন স্যার এস.আর!
-হুম!
-তাই ওনাকে কাঠি করে,ইন্ডাস্ট্রিতে করে খেতে পারবি না বস।তার চেয়ে মন দিয়ে কাজটা কর,মেয়েছেলে দেখলেই ওসব মাগীবাজি বাদ দে.....

ডিরেক্টরের সঙ্গে বসে কিছু শটস দেখে রোদ-চশমাটা  চোখে দিয়ে সবে ষ্টুডিও থেকে বেরোচ্ছিল এস.আর!খোলা চুলে হালকা হলুদ রঙের চুড়িদারে,কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে সেই মেয়েটিও বেরোলো।ব্যাগ থেকে একটা ব্যান্ড বের করে চুলটা আটকে নিলো।তারপর রোদ-চশমাটা বের করে চোখে পরতে যাবে,এমন সময় সামনের দিকে চেয়ে স্থির হয়ে গেলো তার দৃষ্টি...
কিন্তু পরমুহূর্তেই চোখটা নামিয়ে,রোদ-চশমাটা পরে বেরিয়ে গেলো সে।
এতদিন যে কেউ,যে কোনোভাবে এস.আরের সঙ্গে কথা বলার জন্য ব্যস্ত হয়ে থাকতো।ও নিজেও সেই ব্যাপারটাতেই অভ্যস্ত।কিন্তু এই ব্যাপারটা কি হলো!এস.আর.ভেবেছিলো,মেয়েটি হয়তো তার সঙ্গে কথা বলবে,সকালের জন্য অন্তত একবার থ্যাঙ্কু বলবে।কিন্তু কথা বলা দূরে থাক,মেয়েটি মাথা নিচু করে সোজা বেরিয়ে গেলো....

বেশ অবাক হয়ে গেলো এস.আর।ও গাড়িতে উঠে পড়লো,স্টুডিওর একেবারে গেটের বাইরে এসে  দেখলো,মেয়েটি ক্যাবে উঠে বেরিয়ে যাচ্ছে..

জিম করতে-করতে চোখের সামনে হলুদ রং ভাসছে।কাল সারারাত ঘুম নেই,সকাল থেকে কিছু খাওয়া নেই।টেকনিক্যালি কাল রাত থেকে প্রায় না খাওয়া।বেশি এক্সসারসাইজে ব্ল্যাক-আউট হবার কথা।কিন্তু চারদিকে সর্ষেফুল দেখছে কেন ও!সুইমিং করতে গিয়েও নীল জলের মধ্যে হলুদের আভা ভেসে উঠছে বারেবারে!
-ফাক ম্যান!হোয়াট দা হেল ইস হ্যাপেনিং!

নাঃ,আজ আর হবে না।জল থেকে উঠে পড়লো এস.আর!
-ও হিরো!আজ তাড়াতাড়ি উঠে পড়লি?অল ওকে?ওপরের ব্যালকনি থেকে আওয়াজ দিলো রাজা।এস.আরের ক্লোজ ফ্রেন্ড এন্ড সেক্রেটারি!
-ইয়া বাডি,ইভরিথিং ইস ফাইন!ডোন্ট ওয়ারি!

শাওয়ার নিয়ে প্রোটিন শেকটুকু গলায় ঢেলে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো এস.আর।বিকেলে একটা মিউজিক চ্যানেলে একটা মুভির প্রমোশন আছে,একটু ঘুমিয়ে নিতে হবে এখনই।একরকম জোর করেই চোখদুটো বন্ধ করলো ও।কিন্তু চোখের সামনে আবার ভেসে উঠছে সেই একজোড়া চোখ।কত প্রশ্ন যেন আবদ্ধ রয়েছে ওই চোখের গভীরে।তা ঢাকতেই যেন তড়িঘড়ি রোদ-চশমায় চোখদুটো আড়াল করলো মেয়েটি।কিন্তু কেন এত পর্দা!হলুদ ওড়নাটা অবাধ্য হাওয়ায় বেসামাল হয়ে যাচ্ছে বারেবারে।কি সুন্দর নরম একটা গন্ধ আসছে না!ওড়নাটা থেকেই কি!উগ্র পারফিউমের গন্ধে আজকাল দমবন্ধ হয়ে আসে এস.আরের।এই গন্ধটা বেশ আবিষ্ট করে রাখে।মনে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি আসে।ওড়নাটায় মুখ ডুবিয়ে পরম শান্তিতে ওই নরম গন্ধটা নিতে ইচ্ছে করে।চোখদুটো জড়িয়ে আসছে ওর।ওড়নার বদলে বেডকভারটাকেই টেনে মাথার ওপর দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো এস.আর..

Bangla love sms || Bangla romantic sms bd

 


ভালোবাসা তো যায়না টাকা দিয়ে কেনা,
ভালোবাসা তো যায়না হীরা মুক্তা দিয়ে গড়া।
দুটি মনের আকুলতায় যে বন্ধন হয়,
তাকেই তো ভালোবাসা কয় ।
@@@@@@@@@@@

তুমি আমার রঙিন স্বপ্ন শিল্পীর রঙে ছবি,
তুমি আমার ছাঁদের আলো, সকাল বেলার রবি,
তুমি আমার নদীর মাঝে একটি মাত্র কূল,
তুমি আমার ভালোবাসার শিউলি বকুল ফুল ।

মানুষ মানুষের জন্য,
পাখি আকাশের জন্য,
সবুজ প্রকিতির জন্য,
পাহাড় ঝর্নার জন্য,
ভালোবাসা সবার জন্য,
আর তুমি শুধু আমার জন্য ।

 

রাতের আকশে তাকালে দেখি লক্ষ তারার মেলা,
এক চাঁদকে ঘিরেই যেন তাদের যত খেলা,
বন্ধু অনেক পাওয়া যায় বাড়ালেই হাত,
আমার কাছে তুই যে বন্ধু ওই আকাশের চাঁদ ।

তোমার জন্য রইলো আমার সপ্নে ভেজা ঘুম
একলা থাকা শান্ত দুপুর রাত্রি নিঝুম
তোমার জন্য রইলো আমার দুস্টু চোখের ভাষা,
মনের মাঝে লুকিয়ে রাখা অনেক ভালোবাসা ।

আবার যদি বৃষ্টি নামে
আমিই তোমার প্রথম হবো,
লেপটে যাওয়া শাড়ির মত
অঙ্গে তোমার জড়িয়ে যাবো ।

যতো ভালোবাসা পেয়েছি তোমার কাছ থেকে,
দুষ্টু এই মন চায় আরো বেশী পেতে,
কি জানি তোমার মধ্যে কি আছে,
এই মন চায় তোমাকে আরো বেশী কাছে পেতে ।

আজকের এই দিন গুলো কাল সৃতি হয়ে যাবে,
মনের খাতায় কোন পাতায় লেখা হয়ে যাবে,
কালকে এই পাতা গুলো একটু উল্টে দেখো-
আবসা সব সৃতির মাঝে আমায় খুঁজে পাবে ।

সপ্নে তুমি আসো কেনো দেখা দাও না
তোমায় আমি ভালোবাসি তুমি কেনো বুঝো না,
একবার বলোনা তোমায় আমি ভালোবাসি
তাহলে স্বর্গের সুখ এনে দিতে পারি ।

যত দূরে যাওনা কেনো আছি তোমার পাশে,
তাকিয়ে দেখো আকাশ পানে, ঘুম যদি না আসে ।
কাছে আমায় পাবে তুমি হাত বাড়াবেই যেই,
যদি না পাও জানবে সেদিন আমি যে আর নেই ।

রাতে চাঁদ দিনে আলো,
কেনো তোমায় লাগে ভালো ?
গোলাপ লাল কোকিল কালো
সবার চেয়ে তুমি ভালো ।
আকাশ নীল মেঘ সাদা
গোয়াল ঘরে তুমি বাঁধা ।

তুমি যদি ৮০ বছর বাঁচো, তবে ৭২০ টা পূর্ণিমা পাবে, ১৬০ টা ঈদ পাবে,
৮০ টা জন্মদিন পাবে, ২/৩ টা সূর্য গ্রহন ও পাবে,
তবে আমার মত লাভার পাবে না ।

আমি মেঘের মত চেয়ে থাকি
চাঁদের মত হাসি
তারার মত জ্বলে থাকি
বৃষ্টির মত কাঁদি
দূর থেকে বন্ধু শুধু
তোমার কথাই ভাবি…

প্রেম মানে হৃদয়ের টান
প্রেম মানে একটু অভিমান
দুটি পাখির একটি নীড়
একটি নদীর দুটি তীর
দুটি মনের একটি আশা
তার নাম ভালোবাসা

সপ্ন আমার অনেক ছিলো বন্ধু তোমায় ঘিরে
সপ্ন দিয়ে কেনো তুমি আসলে না আর ফিরে
মন যে আমার অচিন পাখি নেই তার কোন খোঁজ
বন্ধু তোমায় মনে পড়ে সকাল সন্ধ্যা রোজ ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বর্তমানে অধিকাংশ সংসারে সুখ নেই !! সুখ নামের শব্দ’টা কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে !!

 


বর্তমানে অধিকাংশ সংসারে সুখ নেই !!
সুখ নামের শব্দ’টা কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে !!

স্ত্রী তার স্বামীর কাছে শারীরিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে !!
স্বামী তার স্ত্রীকে প্রতিটা মুহূর্তে অবহেলা অপমান করছে !!
স্ত্রী তার শ্বশুর শাশুড়ী ননদের কাছে নির্যাতিত হচ্ছে !!

স্ত্রী তার স্বামী সহ্য করতে পারে না !!
স্ত্রী তার স্বামীর কথার মূল্য দিচ্ছে না !!
স্ত্রী তার শ্বশুর শাশুড়ী ননদকে দেখতে বা সহ্য করতে পারছে না !!

আসলে অনেক সময় এসব মানসিক সমস্যার কারণে হয় !!
একজন স্বামী তার স্ত্রীকে পর করে দেয় !!
একজন স্ত্রী তার স্বামীকে পর করে দেয় !!
তারা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না !!

একটা সম্পর্কের মাঝে সুখ ফিরিয়ে আনতে হলে দুজনকে সেক্রিফাইস করতে হবে !!
একে অপরের কথা সহ্য করতে হবে !!
একে অপরের বিশ্বাস করতে হবে !!
তবেই একটা সম্পর্ক সুখ ফিরে আসবে !!

আর যদি সেক্রিফাইস না করে !!
একে অপরের বিশ্বাস না করে !!
কেউ কারোর কথা সহ্য করতে না পারে !!
সুখ নাম শব্দটা মরীচিকা হয়ে থাকবে!!
একটা সময় স্বামী+স্ত্রী পবিত্র সম্পর্কটা বিচ্ছেদে রুপ নেয় !!

এক পাতিল দই

 

মিষ্টির দোকান থেকে দই কিনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি এমন সময় এক গাড়ী পুলিশ এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। গাড়ী থেকে নেমেই কয়েকটা পুলিশ সোজা বন্দুক আমার দিকে করে বললো, এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে এক্ষুনি বের করুন নাহলে আপনাকে গুলি করতে বাধ্য হবো। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। সকাল সকাল এ কি বিপদে পড়লাম রে বাবা। ভয়ে ভয়ে বললাম, স্যার এর মধ্যে বগুড়ার দই আছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে বললাম, স্যার আমার বিয়েশাদি হয়নাই। আপনি দয়া করে বন্দুকটা বুকের দিকে অথবা মাথার দিকে তাক করে ধরুন। ওখানে গুলি লাগলে আমি আর এই জীবনে বিয়ে করতে পারবো না। ছোটবেলা থেকে আমার বিয়ে করার খুব ইচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ স্তন বড় করার উপায়

পিছন থেকে এসআই সাহেব এগিয়ে এসে বললো, মানুষের এতো ইচ্ছে থাকতে তোর এই বিয়ে করার ইচ্ছের কারণ টা কি? আমি বললাম, বিয়ের পর অনেকগুলো বাচ্চাকাচ্চা হবে। তারপর শিশুপার্কে গিয়ে এক ব্যাটার উপর প্রতিশোধ নিবো। সেদিন প্রেমিকার সাথে শিশুপার্কে গেছিলাম। এক ব্যাটা আমাদের ঢুকতে দেয়নাই। বলছে ওখানে শিশু ছাড়া ঢোকা নিষেধ।

এসআই আমার কানমলা দিয়ে বললো, পরিবার পরিকল্পনার শ্লোগান শুনিস নাই? দুইটি বাচ্চার বেশি নয়৷ একটি হলেই ভালো হয়। আমি কাচুমাচু হয়ে বললাম, স্যার বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি। সেইখানে আমার ৩-৪ বাচ্চাকাচ্চা আপনাদের কাছে বেশি হয়ে গেলো? এসআই ধমক দিয়ে বললো ,অই তুই চুপ থাক। বেশি কথা বলিস। ঐ কেউ একজন এর প্যাকেট খুলে দেখ ভিতরে কি আছে।

একজন এগিয়ে এসে প্যাকেট খুলে দেখে বললো, স্যার ভিতরে দই ছাড়া কিচ্ছু নাই।

এসআই বললো, দইটাও চেক করে দেখ। গাড়ির ভিতরে দেখ চামুচ আছে সেটা নিয়ে আয়।

কনস্টেবল একটা চামুচ এনে দই থেক এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার ফার্স্টক্লাস দই। জীবনে এমন দই খাইনাই।

এসআই বললো, কি তাই নাকি? সত্যি ভালো তো?

কনস্টেবল বললো, জ্বী স্যার। একদম খাটি দই।

এবার আমার বিশেষ যায়গায় দিকে বন্দুক তাক করে থাকা কনস্টেবল এসআইকে বললো, স্যার বউয়ের যন্ত্রণায় বাসায় মিষ্টি খাইতে পারি না। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে ওখান থেকে এক চামুচ দই খাই? খুব খাইতে ইচ্ছে করতেছে।

আরো পড়ুনঃ চুমু খাওয়ার সাতটি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

এসআই বললো, ঠিক আছে খা। তবে এক চামুচের বেশি খাবি না।

এরপর সেই কনস্টেবল এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার দই খেয়ে মুখের চুলকানি বেড়ে গেছে। আরেক চামুচ খাই স্যার?

এসআই বললো, ঠিক আছে খা।

এবার খেয়াল করে দেখলাম, সব পুলিশ সদস্যরাই এসআইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্থাৎ এরাও খেতে চায়।

আমি দৌড়ে গিয়ে সেই কনস্টেবলের হাত থেকে দইয়ের হাঁড়ি দুইটি কেড়ে নিয়ে বললাম, স্যার আর দই দেওয়া যাবে না। আপনার দুই কনস্টেবল আমার এক হাঁড়ির অর্ধেক দই শেষ করছে। আমি আর দই দিবো না।

এবার আরেক কনস্টেবল বলে উঠলো, ও ভাই আমারে এক চামুচ দই দেন না। এমন করেন কেন?

আমি রেগে গিয়ে বললাম, দেখেন ভাই। আমার আব্বা আমাকে এমনেই বিশ্বাস করে না। ভাববে আমি রাস্তায় দই খেয়ে হাঁড়ি খালি করেছি। আপনারা থাকেন আমি চালালাম।

এসআই সাহেব বললেন, “আজ নির্বাচন” জানো না?এসব প্যাকেট নিয়ে ঘুরলে পুলিশ সন্দেহ করবেই।যাইহোক, এটা কোথাকার দই?

আমি বগুড়ার দই বলে বাসার দিকে হাঁটতে লাগলাম। একবার পিছন ফিরে দেখি সবাই আমার হাতের দইয়ের প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবছি বাসায় গিয়ে আব্বারে কি জবাব দিমু।

বাসার প্রায় সামনে চলে এসেছি। দেখি গলির মোড়ে কয়েকজন পুলিশ সমস্যা দাঁড়িয়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম শেষ। এবার আর আমার দই নিয়ে বাসায় যাওয়া হবে না। কোনো চিন্তা না করেই দইয়ের প্যাকেট দুইহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে দিলাম ভৌ-দৌড়।

আমি দৌড়াচ্ছি পুলিশ সদস্যরা আমার পিছে পিছে দৌড়াচ্ছে। আমি আরো জোরে দৌড়াচ্ছি। ওরাও আমার পিছু আরো জোরে দৌড়াচ্ছে। বেশকিছু দূর দৌড়ানোর পর হাল ছেড়ে দিলাম। ইতিমধ্যে উনারা আমাকে ধরে ফেললো। আবার বন্দুক আমার দিকে তাক করে বললো, সত্যি করে বল এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে?

আমি বললাম, আমার জীবন থাকতে বলবো না।। এর আগেরবার যে ভুল করছি সেটা আর করবো না।

একজন পুলিশ সদস্য এসে আমার কাছে থেকে দইয়ের প্যাকেট কেড়ে নিয়ে খুলে দেখে বললো, আরে এর মধ্যে তো দই।

আমি বললাম, হ্যাঁ দই।

উনি বললেন, তাহলে তুই দৌড়াচ্ছিলি কেন?

আমি রাগ নিয়ে বললাম, আপনারা মানুষের হাতে দই দেখলেই খাওয়া শুরু করেন। এই ভয়ে দৌড় দিছি।

হঠাৎ একজন পুলিশ সদস্য বললো, তোর কথা আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। চল থানায় চল।

আমি থানায় দইয়ের প্যাকেট নিয়ে বসে আছি। এরমধ্যে আব্বা এসে হাজির।

আব্বা- তুমি কি করছ? পুলিশ তোমাকে ধরছে কেন?

আমি- আব্বা আমি পুলিশকে দই খাইতে দেই নাই। তাই আমাকে ধরে নিয়ে আসছে।

আব্বা – জেলে বইসা আমার সাথে মজা করো?

আমি- আব্বা বিশ্বাস করেন আমি মজা করতেছি না।

হঠাৎ সেই এসআই এসে বললো, আরে তুই এইখানে কেন? এসআই আর আব্বাকে পরের ঘটনা সব খুলে বলতেই এসআই বললো, তোকে মুক্তি দিতে পারি এক শর্তে।।

আব্বা বললেন, কি শর্ত এসআই সাহেব?

এসআই বললেন, দইয়ের হাঁড়ি দুটো আমাকে দিতে হবে। নাহলে সাতদিন জেল খাটতে হবে।

আব্বারে বললাম, আব্বা আমার সাতদিন জেল খাটতে কোনো সমস্যা নাই। আপনি দইয়ের হাঁড়ি দুইটা নিয়ে যান।

আব্বা আমাকে ধমক দিয়ে বললো, তুই চুপ থাক হারামজাদা। এসআই সাহেব হাঁড়ি দুইটা আপনি রাখেন। তবুও আমার ছেলেরে ছাইড়া দেন।

আমি আর আব্বা থানা থেকে বের হচ্ছি। এমন সময়
এসআই সাহেব বললেন, কিছুদিন ধরে বউ রাগ করে শ্বশুর বাড়ি গেছে। আমার বউয়ের রাগ আবার বগুড়ার মিষ্টি দই ছাড়া ভাঙ্গানো যায় না।

থানার বাইরে আইসা আব্বাকে বললাম, আব্বা জোরে হাঁটেন। আব্বা বললেন, কেন? আমি বললাম, আপনি না বলছিলেন একটা টক দই আর একটা মিষ্টি দই নিতে। এরা তো মিষ্টি দইটা খাইছে টক দইটা নিচে আছে। এসআইয়ের বউ যখন টক দইয়ে মুখে দিবে তখন কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন?

হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম আশেপাশে আব্বা নাই। কিন্তু একটু দূরে চোখ রাখতেই টের পেলাম আব্বার মতো একটা লোক দৌড়ে পালাচ্ছে।

আমিও আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দিলাম দৌড়………

আবর্তন !! লেখাঃ তাজরীন খন্দকার

 আবর্তন


 

অরুণ আমার পেটে তোমার বাচ্চা,অথচ তুমি আমার জীবনটা নষ্ট করে আবার বিয়ে করতে চলেছো?
কীভাবে ভুলে গেলে আমাদের তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক এবং এক বছর আগে কোর্টে বিয়ে হওয়ার কথা?
অরুণের বিয়ের আসরে হঠাৎ দৌঁড়ে এসে হাঁফাতে হাঁফাতে কথাগুলো বললো একটা অচেনা মেয়ে। যাকে কিনা এখানে উপস্থিত কেউই চিনেনা।
কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে বরের সামনে বসেছিলেন ,ঠিক সেসময় সেখানে এই অচেনা মেয়ের আগমন, যার দাবি হলো এই বর তার স্বামী হয় এবং তাদের একবছর আগে বিয়ে হয়েছে৷ অপরিচিত সেই মেয়েটা হাতে বিয়ের কাগজপত্র নিয়ে জোরে জোরে চিৎকার করে সামনে যারা আছে সবাইকে দেখাচ্ছে,আর বলছে ___এই বিয়ে যেভাবেই হোক যেন ভেঙে দেন প্লিজ। বুঝার চেষ্টা করুন, এখানে যদি কোনো রকম বিয়ে হয় তাহলে আমার এবং আমার বাচ্চার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আমার জানা ছিল না অরুণ আমাকে এভাবে ঠকাতে পারে। সে আমাকে বলেছিল তার পরিবারকে ৬ মাসের মধ্যে যেভাবেই হোক রাজী করিয়ে আমাকে তার ঘরে তুলবে,কিন্তু তার আগেই সে আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করার জন্য চলে এসেছে। আমি ভাবতে পারছিনা কিছু!
মেয়েটা রীতিমতো সবার হাতেপায়ে ধরে হাউমাউ করে অনুরোধ করতেছে। অরুণের পরিবারের লোকজন পারছেনা এই মূহুর্তে এই অসম্মান থেকে বাঁচতে মাটির নিচে লুকিয়ে যায়! তাদের ছেলে তাদের না জানিয়ে কি করে এমন একটা জগণ্য কাজ করতে পারে!
ইতোমধ্যে এই ব্যপারটা সারাময় রটে গেলো।
সেটা এই বিয়ের কণেবেশে অন্তপুরে বসে থাকা চন্দ্রার কানে পৌঁছাতেই তার গা হিম হয়ে এলো, কিছুক্ষণের জন্য সে একদম স্থির হয়ে ছিল, আর তার চোখ দুটো মূহুর্তেই লাল হয়ে পানিতে টলমল করছে, মুখে কোনো শব্দ বেরুচ্ছেনা, হাত একটা আরেকটার হালকা উপর নড়ছে । হঠাৎই সে লাল বেনারসি শাড়ী আর ঘোমটা টেনে এক দৌঁড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো ।

একদম বাইরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালো, আর দেখলো এক জায়গায় সবাই জড়ো হয়ে আছে এবং সেখান থেকে তর্কাতর্কির খুব জোরে জোরে শব্দ আসছে, চন্দ্রা বুঝতে পারলো সেই মেয়েটার সাথেই হয়তো কথা বলছে সবাই। চন্দ্রা সামনে এগুনোর জন্য যে-ই পা বাড়াবে তখনি তাকে পেছন থেকে কেউ আটকে ফেললো। পেছনে তাকানোর আগেই সামনে একজনের চোখে আর চোখবিদ্ধ হলো, সবার ভীড় থেকে যে চোখজোড়া তার দিকে অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে। চন্দ্রা পেছনে আটকানো হাতটাকে ছিটকে সরিয়ে দরজার একদম বাইরে চলে আসলো। ততক্ষণে সেখানের সবার দৃষ্টি এসে পড়লো চন্দ্রার দিকে। আবর্তন
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে অরুণের চোখ ভিজে আছে কিন্তু সেখানে এই মূহুর্তে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো কোনো শক্তি তার নেই। চন্দ্রা ডান হাতের আঙুলটা উপরে সামনে ধরে ঠিক অরুণের দিকে লক্ষ্য করে কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে, ভাঙা স্বরে জোরে জোরে বলতে লাগলো,,
___ একটা মানুষ এতো নিচ কীভাবে হয়? কীভাবে পারে এতো নিখুঁতভাবে প্রতারণা করতে?
এই এই! আপনিই না সেদিন বলেছিলেন, চন্দ্রা তোমার আর আমার নামের মধ্যে একটা দারুণ মিল আছে, অরুণ নামের অর্থ সূর্য, আর আমার নামের অর্থ চাঁদ! চাঁদ যেমন সূর্যের আলোয় নিজেকে আধারে আলোকিত করে, তেমনি আপনার ভালোবাসায় আমাকেও সারাজীবন আলোকিত করে রাখবেন! বলেছিলেন না? কেন বলেছিলেন এগুলো, কেন ? কেন আমার এতো স্বপ্ন আশাকে ভেঙে চুরমার করে দিলেন! কি দোষ ছিল আমার?
বিয়ের আসর থেকে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরে একটা মেয়ের জীবনে কেমন ধ্বস নেমে আসতে পারে, আপনার ধারণা আছে? আমি আপনাকে কখনোই ক্ষমা করবোনা,কখনোই না।
চন্দ্রার কথা শুনে এখানে সবাই মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে রইলো, কেউ কেউ চোখ মুছতেছে, শুধু অরুণ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে শুনে যাচ্ছে। চন্দ্রা এখান থেকে ভেতরে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েও আবার অরুণের দিকে তাকালো, অরুণ হাত নাড়িয়ে বলতে চাচ্ছে এসবের কিছুই সে জানেনা,কিন্তু চন্দ্রা তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চেঁচিয়ে বললো, ___আপনার এই পাপী মুখ আমাকে দেখাবেন না। আমি আপনাকে আর কখনোই দেখতে চাইনা। ঘৃণা করি আপনাকে! বলেই এক দৌঁড়ে চন্দ্রা ভেতরে চলে গেলো। বিয়েটা ভেঙে গেলো, অরুণ কোনো একটা মুখের কথাও বলতে পারলোনা। চারপাশ থেকে মানুষজন ছি ছি কর‍তে লাগলো। তার পরিবারের লোকজন তাকে যাচ্ছেতাই বকে যাচ্ছে। কোনো রকম সেখান থেকে মাফ চেয়ে বরপক্ষ কণেবিহীন গাড়ী নিয়ে খালি হাতে ফেরত যাচ্ছে। অরুণের তখনি মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো, কাউকে বিশ্বাস করাতে পারছেনা সত্যিই সে নির্দোষ! এমন গন্ডগোলের ভীড়ে অরুণ সেই মেয়েটাকেও আর খুঁজে পেলোনা আর।
কারো চোখের দিকে তাকাতে পারছেনা, খুব ক্ষেপে আছে সবাই। আবর্তন
গাড়ীতে বসে অরুণ উপরে তাকিয়ে নিজেকে শক্ত করলো। চন্দ্রার সাথে বিয়ের তারিখ হওয়ার পরে মাত্র তিনবার ফোনে কথা হয়েছে, এর আগে অসংখ্য পাত্রী দেখেছে অরুণ কিন্তু কাউকেই তার জীবনসঙ্গী হিসেবে যোগ্য মনে করতে পারেনি। কিন্তু চন্দ্রাকে দেখার পর পরই তার মনে হয়েছিল তারা একে অপরের জন্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ কাঙ্খিত সেই চাওয়াকে পাওয়ার শুরুতেই হারানোর ভয়াবহ ব্যথার পাথর বেঁধে ফিরতে হচ্ছে। সে জানেনা এটা কেমন চক্রান্ত ছিল! সত্যিই কি চন্দ্রাকে সে হারাবে এটা ভাবতেই অরুণের বুক কেঁপে ওঠছে।

কিন্তু নাহ তাকে হেরে গেলে চলবেনা,সেতো জানে সে সত্যিই কিছু করেনি। তাকে এখানে ফাঁসানো হয়েছে। আর এটা তাকে যেভাবেই হোক প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু কে এমন করতে পারে? যে মেয়েটা আসছিল তাকেও তো অরুণ চিনেনা, আবার সে যে কাবিনপত্র নিয়ে আসলো সেখানেও অরুণের সাক্ষর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো। অরুণের জানামতে তার কোনো শত্রু থাকতে পারেনা, আবার এমনো নয় যে তার কোনো প্রাক্তন প্রেমিকা ছিল। সে কখনো প্রেম করার সুযোগই পায়নি। বছরের পর বছর একগাদা বই নিয়ে তার জীবনের এতগুলো সময় নির্বাহিত হয়েছে। আর সেই জন্যই আজ তার ভালো একটা চাকরি আছে,সম্মান আছে। তবে আজকের কান্ডে তার সারাজীবনের সঞ্চিত সম্মানটা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। সে জানেনা কি থেকে এখন কি শুরু করবে, আর সবার ভুল ভাঙাবে! তবে সে হাল ছাড়বেনা। মনে মনে শপথ করেছে যে করেই সত্যটা সবার সামনে আনবে এবং সে চন্দ্রাকেই বিয়ে করবে। আবর্তন

অন্যদিকে চন্দ্রা নিজের ঘরে সেই দুপুর থেকে দরজা লাগিয়ে বসে আছে। তাকে এভাবে ঘরে দরজা লাগিয়ে রাখতে দেখে সবাই চিন্তায় পড়ে গেলো। শুধুমাত্র তার ভাবী ছাড়া সবাই-ই কেমন জানি ছুটাছুটি করছে, চন্দ্রার মা তো পুরো পাগল প্রায় অবস্থা। এভাবে মেয়েটার বিয়ে ভেঙে গেলো, কে জানে তার মেয়ের ভবিষ্যৎে কি অপেক্ষা করছে! কিন্তু চন্দ্রার সেই ভাবীটা উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করছে কিছুই হবেনা। যা হয়েছে হয়তো মঙ্গলের জন্যই হয়েছে। নাহলে এমন একটা ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে বিষয়টা জানলে কতোই না দেরি হয়ে যেতো।
চন্দ্রার মা বিষয়টা বুঝতে পেরে কিছুটা আশ্বস্ত হলেন। আবর্তন
এদিকে সবাইকে বুঝাতে বুঝাতে চন্দ্রার ভাবী প্রায় হাঁফিয়ে উঠেছে।
এতকিছু হয়ে যাওয়ার পরে কেউ চন্দ্রার সাথে কথা বলতে যায়নি। কারণ সেটার সুযোগই পায়নি কেউ। অবশেষে ভাবী গিয়ে চন্দ্রার দরজার উপর কড়া নাড়লেন।
পুরো তিন মিনিট পর চন্দ্রা একটা গম্ভীর ভাব নিয়ে দরজা খোলে সামনে নিজের ভাবীকে দেখে জোরে হেসে উঠে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বললো,
___ভাবী তুমি? আমি তো ভাবছি অন্য কেউ!
চন্দ্রার ভাবী মুখ বাঁকিয়ে বললো, আবর্তন

___কেন আমি না হলে কি শুরু করে দিতে অভিনয়? তুমিও পারো বোন। আচ্ছা মানলাম এসব সংলাপ দেওয়া সহজ কিন্তু চোখে পানি আসে কীভাবে বুঝাবে?
চন্দ্রা তার ভাবীর মুখ চেপে ধরে বললো, ___ আস্তে ভাবী আস্তে, কেউ শুনে ফেলবে তো!
চলবে…

আজকের গল্প - আকাশ ও নাবিলার অসমাপ্ত ভালোবাসা

 


 ফেইসবুক এর প্রতি আকাশের দুর্বলতাটা বরাবরই একটু বেশী। ফেইসবুকে চ্যাট আর এটা-ওটা করেই দিন চলে যেতো তার। বন্ধুদের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে আর গল্প করেই সে সব চাইতে বেশী সময় কাটাতো। কিন্তু যখন ফেইসবুক বন্ধুরা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকতো আর যখন গল্প করার জন্য কোনো বন্ধুকে অনলাইনে পাওয়া যেতো না তখনই আকাশের জীবনে নেমে আসতো একাকীত্বের ঘোর অন্ধকার।
এইভাবেই আকাশের সময় চলে যাচ্ছিলো তার নিজস্ব গতিতে। একদিন তার এক বোনের স্ট্যাটাসে আকাশ কমেন্ট করছিল । সেই স্ট্যাটাসেই আকাশের সাথে পরিচয় হয়েছিল নাবিলার সাথে। পরিচয়ের পর থেকেই আকাশ নাবিলার জন্য মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লো। তার মনের অজান্তেই সে নাবিলাকে ভালবাসতে আরম্ভ করেছিল। কেন যেন আকাশের মনে হতো নাবিলাই আকাশের সেই স্বপ্নের রাজকন্যা যার জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।


নাবিলাকে ফেইসবুকে এক মুহূর্ত না দেখে সে থাকতে পারতো না। শুধু একদিনের জন্য নাবিলা ফেইসবুকে আসেনি। সেই দিন তো আকাশের মনের আকাশে ভয়ঙ্কর কালো মেঘ জমেছিল যা শেষ পর্যন্ত অঝোর ধারায় আকাশের দুই চোখকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো। নাবিলার প্রতি আকাশের আবেগ ও অনুভূতি দিনদিন বেড়ে যেতে লাগলো। নাবিলার কিছু আচরণ আকাশকে আরো বেশী ভালবাসতে বাধ্য করল।

কিন্তু মেয়েদের মন বোঝা যে বড় কঠিন। তাই সে দ্বিধায় ভুগতে লাগলো । নাবিলার এই সব আচরণ কি আকাশের প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ? নাকি শুধু মাত্র বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ? সেই সব ব্যাপার আকাশকে খুব ভাবিয়ে তুলেছিল। অবশেষে আকাশ সিদ্ধান্ত নিল সে তার মনের সব না বলা কথা নাবিলাকে জানাবে। তার স্বপ্নের রাজকন্যাকে একদম নিজের করে নেবে।

সেই দিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। সেই সাথে সেই দিন আকাশের মনটাও ছিল ভালো। তাই আকাশ সেই দিনই তার না বলা সব কথা নাবিলাকে ফেইসবুকে মেসেজ করে জানালো। নাবিলার উত্তরের জন্য আকাশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো। কবে সে তার রাজকন্যার মুখ থেকে সেই বহুল আকাংক্ষিত কথাটা শুনতে পাবে?
আকাশের মনে সব না জানা কথা হানা দিতে লাগলো। অবশেষে সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফেইসবুকে লগ ইন করা মাত্র দেখল নাবিলার মেসেজ। অধীর আগ্রহে ভয়ে ভয়ে ইনবক্স ওপেন করলো আকাশ। নাবিলার উত্তর ছিল ঠিক এই রকম – wow……..what a real life joke!!

নাবিলার এই উত্তরকে আকাশ কি ভাবে নেওয়া যায় ভেবে পাচ্ছিলো না। আকাশ নাবিলাকে বিভিন্নভাবে বোঝালো যে এটা কোনো জোকস না। নাবিলা শেষ পর্যন্ত আকাশের মনের অবস্থা বোঝার পর কি করবে ভেবে পাচ্ছিলো না। অবশেষে নাবিলা সিদ্ধান্ত নিল আকাশকে সে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিবে।

আকাশ আবার সমস্যায় পড়ে গেলো। কি করে যে সে নাবিলাকে বোঝাবে সে তাকে অনেক অনেক বেশী ভালবাসে?? আকাশ আবার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে লাগলো। নাবিলা এর পর সে ব্যাপারে আর হ্যাঁ বা না কোনটাই বললো না।
ফেইসবুকে মেসেজ দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে এই ভাবেই আকাশ এর স্বপ্নটা একটু একটু করে বড় হতে লাগলো। দিনদিন নাবিলাকে নিয়ে আকাশের ভয়ও বেড়ে যেতে লাগলো। যদি সে তার স্বপ্নের রাজকন্যাকে হারিয়ে ফেলে। নাবিলাকে ছাড়া যে ওর জীবনটা অপূর্ণ থেকে যাবে।
এইদিকে নাবিলার প্রথম বর্ষের পরীক্ষা সন্নিকটে। নাবিলা ওর প্রথম বর্ষের পরীক্ষার জন্য এক মাস ফেইসবুক আর মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ রাখবে বলে জানালো আকাশকে। সেই কথা শুনার পর তো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আকাশ। নাবিলার কাছ থেকে সেই বার আকাশ তার ভালোবাসার কিছুটা সাড়া পেয়েছিল। সেই একমাস আকাশ খুব কষ্টের মধ্যে কাটালো। সারাক্ষন নাবিলাকে হারানোর ভয় কাজ করতো আকাশের মনে।
নাবিলার মধ্যে ওর প্রতি সামান্য অনুভূতি কাজ করছে দেখলে আকাশের মনে হতো পৃথিবীটা অনেক অনেক সুন্দর । নাবিলা একবার ফিরে তাকালে আকাশের জীবনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেতো। কিন্তু নাবিলার সামান্য অবহেলা আকাশের দুই চোখকে কান্নার জলে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো। আকাশের জীবনে নেমে আসতো অমানিশার অন্ধকার। সারারাত এটা-ওটা চিন্তা করেই আকাশ দীর্ঘ রাত পার করে দিতো। নাবিলার মুখ থেকে একটিবার ভালবাসি কথাটা শুনার জন্য মন ছটফট করতো।

ভাবতে ভাবতে আকাশের রাত কেটে যেতো। কোনো ভাবেই দুই চোখের পাতা এক করা যেতো না আকাশের । ইতিমধ্যে নাবিলার বেশ কয়েকটা পরীক্ষা শেষ হল । পরীক্ষার মাঝখানে নাবিলা আকাশের কথা ভাবতো । আকাশ কি আমাকে সত্যি ভালবাসে নাকি অন্যকিছু ? এই রকম কিছু প্রশ্ন নাবিলার মনের মধ্যে উঁকি দেয় । সেই সব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য নাবিলা সাহায্য নিলো আকাশের ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা নাবিলারই এক বান্ধবির ।

আনিকা তুই কি আমাকে একটু হেল্প করতে পারবি ? ও হে , আকাশের ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা নাবিলার সেই ফ্রেন্ড এর নাম ছিল আনিকা । নাবিলা তার মনের মধ্যে উঁকি দেওয়া প্রশ্ন গুলোর উত্তর আনিকার কাছ থেকে পেয়ে গেলো । উল্লেখ্য যে , আকাশ নাবিলাকে যে ভালবাসে সেটা আনিকা খুব ভালো ভাবেই জানতো কারণ আকাশ আনিকার সাথে নাবিলাকে ভালোলাগার অনেক কথা শেয়ার করতো । সেই সব প্রশ্নের উত্তর জানার পর নাবিলার চোখে জল এসে গেলো। নাবিলা আকাশকে মিস করতে লাগলো। সে সিদ্ধান্ত নিল পরীক্ষার পরেই সে আকাশকে তার মনের কথা জানাবে।

নাবিলা পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনতে লাগলো । এইভাবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর আকাশ একদিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো । ১০৫ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে আকাশকে ভর্তি করা হলো মেডিকেলে । ওইদিকে নাবিলা তার প্রথম বর্ষের বাকী পরীক্ষা গুলোর প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত ।


পরীক্ষার চাপে ফেইসবুকেও আসে না নাবিলা । মুঠোফোনও বন্ধ । অনেক কষ্টে নাবিলার কলেজের এক বান্ধবির মাধ্যমে নাবিলাকে আকাশের অসুস্থ হওয়ার নিউজটা জানানো হয়েছিল । জ্বর নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তার আকাশকে বেশ কিছু টেস্ট দিলো । আকাশের মা-বাবা তাকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো । টেস্ট গুলো দেওয়ার সময় ডাক্তার খারাপ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল ।


টেস্ট গুলোর রিপোর্ট হাতে আসার পর আকাশের বাবা মায়ের মাথায় পৃথিবীর আকাশটাই যেন ভেঙ্গে পড়লো। আকাশ ব্রেইন টিউমারে ভুগছিল গত এক বছর থেকে । এক বছরের মাথায় রোগটা ধরা পড়েছিল । জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ গুলো এটারই বহিঃপ্রকাশ । আকাশের কি হয়েছিল সেটা আকাশকে বলা হয় নি । কারণ সেটা শুনলে আকাশ এর মানসিক আর শারীরিক অবস্থা আরো বেশী খারাপ হয়ে যেতো ।

তাই আকাশের যে ব্রেইন টিউমার হয়েছিল সেটা আকাশকে জানানো হল না । তবে ওর বন্ধুদের জানানো হয়েছিল খুব সতর্কতার সাথে । আকাশের রিপোর্টের কথা তার বন্ধুরা শুনে কেউ কান্না থামিয়ে রাখতে পারলো না । আকাশের নিউজটা শুনার পর পরীক্ষা শেষে নাবিলা জলদি আকাশকে দেখতে এলো ।

নাবিলা আকাশের সবকিছু শুনে নিজেকে খুব অপরাধী মনে করলো । ও যে মনে মনে আকাশকে অনেক বেশী ভালবেসেছিল সে কথাও যে তাকে বলা হলো না । কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো নাবিলা । সে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলো তার জীবনের বিনিময়ে হলেও যেন আকাশের জীবন ভিক্ষা দেয় । কিন্তু নির্মম মৃত্যু আকাশকে সবার কাছ থেকে চিরদিনের জন্য কেড়ে নিলো । নাবিলা যে অনেক বেশী দেরী করে ফেলেছে সেই কথা অবশেষে সে বুঝতে পারল

Bangla Cute Love Story (রাগি বর আর দুষ্টু বউ Part_1) Romantic Love Story

 


এই যে মি: দেখে চলতে পারেননা।মেয়ে দেখলেই গায়ে পরতে ইচ্ছে করে --রাত বলে উঠলো।

(পরিচয় দেওয়া যাক এই আমাদের গল্পের নায়িকা রাত।দেখতে মাশাআল্লাহ । 12 এ পড়ে ।কিন্তু সেই লেভেলের দুষ্টু।পরে সব বুঝতে পারবেন।গল্পে ফেরা যাক)

দীনা:আহ।।রাত বাদ দেতো । এখান থেকে চল।(দীনা রাতের best friend)
রাত: না দাঁড়া।বেটাকে শায়েস্তা করে তবে ছাড়ব।।বেটা তালকানা খাটাশ।দেখে চলতে পারে না 😡

 

অপরিচিত: দেখুন I am sorry.আমি সত্যি দেখতে পাইনি।😦
রাত:দেখতে পাননি মানে টাকি।চোখ কি মানিব্যাগে নিয়ে হাঁটেন ?😡
অপরিচিত: দেখুন আপনি কিন্তু বেশিই বলছেন।বললাম তো আমি দেখতে পাইনি।
রাত: তা ঠিক ।এরকম তালগাছের মতো লম্বা । হলে হবে টাকি😁
অপরিচিত: এই মেয়ে কি বললে😠😠
রাত: এ বেটা দেখি কানেও কম শোনে 😕
অপরিচিত: What nonsense is this??😠😠
রাত: হায় আল্লাহ ।।এতো দেখি এনাকন্ডার মতো রাগছে 😱
অপরিচিত: এই তুমি পাগল নাকি😬
রাত: কী বললেন আমি পাগল !😱 এতো বড় সাহস।।বেটা তালগাছের এনাকন্ডা।।তোকেতো আমি মেরেই.......
দীনা: আহ রাত চল এখান থেকে।(রাতকে টানতে টানতে)
রাত: ছাড় আমাকে।।এই তালগাছের এনাকন্ডাকেতো আমি বাঁশ গাছে ঝুলিয়ে পেটাবো😡

অপরিচিত: দেখি এইটুকু একটা মেয়ে তুমি কি করতে পারো। I will see u 😡😡
দীনা:দেখুন plz আপনি কিছু মনে করবেন না । ও একটু এরকম দুষ্টু।রাত চল এখান থেকে ।।(রাতকে টানতে টানতে)

তারপর

একটি রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প


 

 বারান্দায় দাড়িঁয়ে রাতুল।ঘরে তার এইমাত্র বিয়ে করা নতুন বউ। আসলে সে বুঝতে পারছে না,কি দিয়ে বউয় সাথে কথা বলা শুরু করবে।খুব নার্ভাস! -অই ভাইয়া,তুমি এখানে কি? তোমার রুমে যাও না! -না রে! রুমে যাব না।আজকে তোর সাথে থাকব। -এ মা! কেন ভাইয়া? ভাবী কে ভয় লাগে? -দূর নাহ! কি …কিসের ভয়? -তো! তোতলাও ক্যা? -কই? কই তোতলাইছি?আর এত্ত কথা বলছ কেন? যা থাকব না তোর সাথে! -আরে! ভাইয়া …… রাতুল ছোট ভাইয়ের রুম থেকে বেরিয়ে গেল! মাথা গরম অবস্থায় কখন যে সে তার নিজের রুমে চলে এল,টেরও পেল না। রাতুল কে দেখতে পেয়ে ফারিয়া একটু নড়েচড়ে বসল।ফারিয়া হলো রাতুলের সদ্য বিয়ে করা বউ,যার সাথে কথা বলার ভয়ে রাতুল বারান্দা থেকে রুমে রুমে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাসার সবাই চিন্তিত!রাতুল আসলে করছে কি?? রাতুল ভয়ে ভয়ে ফারিয়ার পাশে গেল!

  ফারিয়ার চেয়েও সে বেশি লজ্জা পাচ্ছে! -এহহহমম!! রাতুলের গলা ঝাকাঁনো শুনে ফারিয়া চমকে গেল! এইটা আবার কি? রাতুলও খানিকটা বিস্মিত! এটা কি বের হলো গলা থেকে!! -ফা..ফা..ফারিয়া! -জ্বি! -ভা..ভা..ভালো আছ তুমি? (ফারিয়ার জ্বি শুনে রাতুল আরো ভড়কে গেছে!) -জ্বি,আছি! আপনি এভাবে ঘামতেছেন কেন? রাতুলও অবাক! ঘরে এসি চলছে,কিন্তু সে ঘামছে কেন?? তবু সে কোন মতে উত্তর দিল- -ক..ক..কই না তো! -আপনি কি তোতলান? -নাহ,একদম না! -হুম।কিন্তু এখন তোতলাচ্ছেন কেন? -আসলে হয়েছে কি আমি একটু নার্ভাস ফিল করতেছি! -ওমা,কেন? -আসলে এটা আমার প্রথম বিয়ে তো! তাই… রাতুলের কথা শুনে ফারিয়া হাসছে! খুব জোরে হাসছে সে!রাতুলের বিস্ময়ের ঘোর কটছে না।এত সুন্দর করেও মানুষ হাসতে পারে?রাতুলের হাসি দেখায় ছেদ পড়ল ফারিয়ার কথায়– -কেন? আপনি কি ৪ টা বিয়ে করবেন? (হা হা হা!) -হুম? (ফারিয়ার কথা রাতুল খেয়াল করতে পারে নি!) -কিছু না! এত্ত বোকা কেন আপনি? -আমি বোকা? কিন্তু সবাই তো বলে,আমার বুদ্ধি সুদ্ধি নাকি অনেক ভালো! -নাহ,আপনি হলেন বোকারাম! -ওহ,তাই? রাতুল এখন আর ভয় পাচ্ছে না! তবে সে ফারিয়ার কথায় চমকাচ্ছে! ফারিয়া মেয়েটা এমনভাবে কথা বলছে য তারা প্রেম করে বিয়ে করেছে! 

-জ্বি।আচ্ছা,আপনি কখনো প্রেম করেছেন? -নাহ,না তো! তুমি? -হুম করেছিলাম।২ দিনও টিকে নি। -আহা রে! কেন? কি হল ছেলেটার? -উনি মারা গেছে! -ইন্নালিল্লাহ! নাম কি ছিল তার? -আরে আমার দাদাজান আর কি! ফারিয়ার কথা শুনে রাতুল হাসিতে গড়াগড়ি খাওয়ার উপক্রম। -ওহ,আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে! -আপনি কি দাদাজানের মৃত্যুতে বেশি খুশি? -খুশি? হ্যা আবার না! -ওমা।এটা কেমন কথা! -তোমার প্রাক্তন প্রেমিক বেচেঁ থাকলে আমি তো তোমাকে পেতা না! -তা অবশ্য ঠিক! রাতুল এখন ফারিয়াকে বিস্মিত করতে পারছে! -ফারিয়া? -জ্বি। -ভালোবাসার মানে বুঝ? -জ্বি না।আপনি শিখাবেন? -হুম।কেন নাহ? রাতুল ভালোবাসার পাঠদান করছে আর ফারিয়া বাধ্য ছাত্রীর মত মনযোগ দিয়ে শুনছে। রাত বাড়ছে আর বাড়ছে নবদম্পতির প্রেমালাপ! দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হোক সে রাত আর দীর্ঘ হোক তাদের প্রেমালাপ…❤❤❤  ভালো থাকুক ভালোবাসা

পিশাচ || bangla story



- খালাম্মা, কাইল রাইতে খালু আমারে.... 

- তুই যাবি এখান থেকে!! 

অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালাম সালমার দিকে। সকাল থেকে এই নিয়ে চারবার শুনলাম কথাটা। ভেবেছে কি ওর কথা বিশ্বাস করবো?? আমার সহজ সরল স্বামীটাকে ফাঁসাতে চাইছে। সোসাইটিতে একটা বদনাম হওয়ার আগেই বেতন দিয়ে বিদায় করে দিলাম সালমাকে। বের করে দেয়ার সময় ওর করুণ মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়াই লাগলো। তারপরও নিষ্ঠুরের মতো মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলাম। 

অনেক কষ্টে একটা কাজের মেয়ে পেয়েছিলাম। বুঝিনা কেন আমার বাসায় কাজের বুয়া বেশিদিন টিকে না ?? অথচ অন্যান্য ফ্ল্যাটের ভাবিদের থেকে আমি বেশি টাকা বেতন দেই। 

দুইমাস আগে হাসনা নামের একজন কাজের মেয়ে ছিল। খুব ভাল কাজ করতো মেয়েটা। কিছুদিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছিলাম, মামাতো ভাইয়ের বিয়েতে। আসিফ যেতে পারেনি,অফিসে অনেক কাজ ছিল তো তাই। এসে দেখি মেয়েটা নেই। অাসিফ বললো, মেয়েটা নাকি মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করেছিলো তাই সে তাকে বাসা থেকে বের করে। তা বেশ করেছে। আমার স্বামী অনেক নীতিবান, অন্যায় সে সহ্যই করে না। কিন্তু পাশের ফ্ল্যাটের ভাবিদের এসব সহ্য হয় না, তাইতো শুধু আমার স্বামীর নামে কুৎসা রটিয়ে বেড়ায়। বলে কিনা, যেদিন আমি বাসায় ছিলাম না সেই রাতে তারা আমাদের বাসায় চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দরজা খুলে দেখে এলোমেলো কাপড়ে হাসনা আমাদের ঘর থেকে দৌড়ে বেরোচ্ছে আর আসিফকে শাসাচ্ছে, "খালাম্মারে সব কইয়া দিমু আপনে আমার লগে কি করছেন... " আসিফ ওকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা তখন আসিফের নামে প্রতিবেশীদের কাছে যতসব আজেবাজে কথা বলতে থাকে। যদিও আমি ওসব মোটেও বিশ্বাস করিনি, কারণ আমার স্বামী ফেরেশতার মতো। 

সেদিন ছেলেদেরকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখি এক জায়গায় মহিলাদের জটলা। মহুয়ার আম্মুকে দেখলাম মুখ থমথমে। উনার সাথে আমার অনেক দিনের ভাব। গিয়ে জিগ্যেস করলাম, "কি হয়েছে ভাবি??" উনি আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেন, লবণ শেষ হয়ে গিয়েছিল তাই আমাদের বাসায় তার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মহুয়াকে পাঠিয়েছিলেন একবাটি লবণের জন্য। বাসায় তখন আসিফ ছাড়া আর কেউ ছিল না। তখন নাকি আসিফ মহুয়াকে.... 

আমি রাগে ক্ষোভে চিৎকার করে উঠলাম, "থামেন!! আর একটা কথা ও বলবেন না। আমাদের দুটি ছেলে কোন মেয়ে নাই এজন্য আসিফ মেয়ে বাচ্চাদের অনেক আদর করে। মহুয়াকে ও নিজের মেয়ের মতোই আদর করে। আর আপনি কিনা ওর নামে এমন নোংরা কথা বলছেন!!... "

সেই থেকে মহুয়ার আম্মুর সাথে আমার মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আমার চরিত্রবান স্বামীর নামে এত বড় অপবাদ!! 

আমার ছোট বোন দিবা ভার্সিটি এডমিশনের জন্য ঢাকা এসেছে। আমার বাসায় থেকেই পরীক্ষা দিবে। সেদিন কিচেনে রান্না করার সময় দিবা এসে ইতস্তত করতে থাকে। 

- কিরে কিছু বলবি?? 

- আপু দুলাভাইর আচরণ কেমন যেন, আমার ভালো লাগে না। যখন তখন শুধু গায়ে হাত দেয়, জড়িয়ে ধরে... 

আমি হেসে উড়িয়ে দিলাম, 

- আরে ধুর, তুই না কিসব ভাবিস!!! আসিফ তোকে ছোট বোনের মত ভাবে তাই একটু জড়িয়ে ধরে। তুই অত নেগেটিভ ভাবে নিস না তো!! 

সেদিন রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। দেখি আসিফ পাশে নেই। বেডরুমের সাথেই এটাচড বাথরুম, সেখানে ও নেই। এত রাতে ও কোথায় যাবে??  আসিফের নাম ধরে ডাকলাম। ও হন্তদন্ত হয়ে রুমে ঢুকলো। 

- কোথায় গিয়েছিলে?? 

- পা.. পানি খেতে.... 

- পানি খেতে মানে?? সাইড টেবিলেই তো জগ গ্লাস রাখা।

- খেয়াল করিনি

বলে ও কাঁথা মুড়িয়ে শুয়ে পড়লো। 

কিচেনের লাইট অন নাকি দেখার জন্য রুম থেকে বেরিয়ে দেখি কিচেনের লাইট অফ কিন্তু দিবার রুমের লাইট অন। ও কি পড়ছে এখনও?? 

দিবার রুমে গিয়ে দেখলাম ও খাটে বসে আছে। 

- কিরে এখন ও ঘুমাসনি?? 

বলে ওর কাঁধে হাত রাখলাম। থরথর করে কাঁপছে ও। কোন কথা বলছে না, আমার দিকে চেয়ে ও দেখলো না। লাইট অফ করে দিয়ে চলে এলাম আমি। 

সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। আজকে দিবার অবস্থা দেখে সুমাইয়ার কথা মনে পড়ে গেল।  বছর দুয়েক আগের কথা। ৭/৮ বছরের সুমাইয়া নামের একটা কাজের মেয়ে ছিল। কিচেনের ফ্লোরে ঘুমাতো ও। প্রতিরাতেই পানি খাওয়ার নাম করে আসিফ কিচেনে যেতো। ওর কষ্ট হয় ভেবে বেডের পাশে সাইড টেবিলে জগ গ্লাস রেখে দিলাম। একদিন ঘুম ভেঙে দেখি আসিফ পাশে নেই। কিচেনের লাইট জ্বলছে বলে দেখতে গেলাম। গিয়ে দেখি সুমাইয়া গুটিসুটি মেরে বসে আছে, কাঁদছে। সামনে আসিফ দাঁড়িয়ে। আমাকে দেখে চমকে গেল। আমি সুমাইয়ার মাথায় হাত রাখলাম, 

- কি হয়েছে কাঁদছিস কেন?? 

ও থরথর করে কাঁপছিল দিবার মতো। কথা বলল না, শুধু অঝোরে কাঁদছে। আমি আসিফের দিকে তাকালাম। 

- কি হয়েছে ওর?? 

- ফ্রিজ থেকে কেক চুরি করে খাচ্ছিল। দিয়েছি এক থাপ্পড়। ওকে সকালে বিদায় করে দিও। আমি যেন অফিস থেকে এসে ওকে না দেখি। 

বলে আসিফ রুমে চলে গেল। 

সকালে উঠেই একজন লোক দিয়ে সুমাইয়াকে ওর গ্রামে পাঠিয়ে দিলাম। যদিও খুব মায়া লাগছিল, কিন্তু আসিফ বলেছে। না পাঠালে ও মাইন্ড করবে। সবাই বলে আমি নাকি স্বামী ভক্ত, অন্ধের মতো ওকে বিশ্বাস করি। যে যা বলুক, আমার কি!! 

এতদিন আমার মনে কোন প্রশ্ন জাগেনি। কিন্তু আজকে মাথায় হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সারা রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি। 

সকালে ছেলেদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম আসিফ, দিবা যার যার রুমে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। তাই আর কাউকে ডিস্টার্ব করলাম না। বাইরে থেকেই মেইন ডোর লক করে দিলাম। 

সাধারণত আমি চার ঘন্টা পর স্কুল ছুটি হলে একবারেই ছেলেদের নিয়ে বাসায় ফিরি। কিন্তু আজকে আসার সময় বাচ্চাদের বেতন বই ভুলে নিয়ে আসিনি। তাই বাচ্চাদেরকে স্কুলে দিয়েই চলে এলাম বাসায়। চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুলে যেই ভেতরে ঢুকবো অমনি দিবার চিৎকার শুনতে পেলাম। জুতো সহ দৌড়ে গেলাম দিবার রুমে। ঢুকে যা দেখলাম, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। 

আসিফ আমাকে দেখে আঁতকে উঠলো। ততক্ষণে আমার রক্ত মাথায় চড়ে গেছে। পায়ের স্যান্ডেলটা খুলে ওকে এলোপাতাড়ি পেটাতে লাগলাম। যতক্ষণ না স্যান্ডেলটা ছিঁড়লো ততক্ষণ পর্যন্ত ওকে পেটাতে থাকলাম। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের সব মানুষ ছুটে এলো। মহুয়ার আম্মু এসে আমার হাত থেকে ছেঁড়া স্যান্ডেলটা ফেলে দিলেন, 

- ভাবি, শান্ত হয়ে বসেন। কি হয়েছে আমাদেরকে বলেন। 

আমি মহুয়ার আম্মুর গায়ে ঢলে পড়লাম, 

- ভাবি, আমি আপনার প্রতি অন্যায় করেছি, আমাকে মাফ করে দিয়েন। এই জানোয়ারটাকে অন্ধ বিশ্বাস করে কত বড় পাপই না আমি করেছি!! ওরে আমি ছাড়বো না... 

বলে ছেঁড়া স্যান্ডেলটা তুলে নিয়ে আবার ওর নাকে মুখে পেটাতে লাগলাম। থানায় ফোন করে পুলিশ আনলাম। ওর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করলাম। যতজনকে ও নির্যাতন করেছে সবার পক্ষ হয়ে আমি লড়বো। 

দিবাকে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য হসপিটালে আনা হয়েছে। সাথে মহুয়ার বাবা মা ও আছেন। উনারা না থাকলে আমি এতকিছু করতে পারতাম না। তাঁদের মুখের দিকে তাকাতেও আমার লজ্জা করছে। 

পেছন থেকে কেউ একজন সালাম দিলো। ঘুরে তাকিয়ে দেখি সালমা। ও এই হসপিটালে আয়ার কাজ করে। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম, 

- আমাকে মাফ করে দিস, আমি তোর প্রতি অনেক অন্যায় করেছি। 

- আমি কিছু মনে রাখি নাই গো খালাম্মা... 

বলে ও অঝোরে কাঁদতে লাগলো। 

সালমাকে রাজি করালাম আসিফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে। হাসনাকে ও খুঁজে বের করবো। সুমাইয়ার বাড়িতে ও যাবো। আমি ওদের সবাইকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিবো। যত যাই হোক, আমি ওদের পক্ষে লড়বো। 

আল্লাহর কাছে শুধু অভিযোগ করতাম, কেন আল্লাহ আমাকে একটা মেয়ে সন্তান দিলো না। কিন্তু আজকে আমি আল্লাহর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া জানাই যে তিনি আমাকে কোন মেয়ে সন্তান দেননি। কারণ এসব মানুষরূপী পিশাচদের কাছে অন্যের মেয়ে কেন নিজের মেয়ে ও নিরাপদ নয়!!

( সমাপ্ত )

লেখা : আফরিন শোভা