Showing posts with label bangla valobasar golpo. Show all posts
Showing posts with label bangla valobasar golpo. Show all posts

ভালবাসার গল্প: হাদারাম

 


 এই যে?
-জি বলুন।
-আপনি রাতে ঘুমান না?
-মানে কি?
-মানে হচ্ছে, এই যে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে টলতে টলতে আসেন ;নিশ্চয় রাতে ঘুমানো হয়না মনে হয়?
-তা শুনে আপনার কি,আমি কি আপনাকে চিনি নাকি যে আপনাকে বলব!
-চেনার দরকার নেই, তবুও বলুন।
-আপু আপনি কে বলুনতো?সেই তখন থেকে প্যাচাল পেরে যাচ্ছেন।
-বাব্বা আপনি আবার রাগও করতে পারেন।সবসময় তো দেখি চশমা চোখে, মাথা নিচু করেই হাটেন।এই ভালো কথা আপনার সেই মোটা ফ্রেমের চশমা খানা কোথায়?আজ পড়েননি যে?
-ইচ্ছে হয়নি তাই পড়িনি।আপনার কোন সমস্যা? পাগল নাকি? এই বলে আমি হনহনিয়ে ক্লাসের দিকে পা বাড়ালাম।
একটু গিয়ে পেছন ফিরে দেখি মেয়েটি হেসে হেসে গড়িয়ে পড়ছে আর আমাকে পেছন ঘুরতে দেখেই চিৎকার করে বলল মিস্টার আহান কালকে যেন চোখে চশমা দেখি?
এতক্ষনে আমি মেয়েটির দিকে ভালভাবে লক্ষ্য করলাম।সাদা চুড়িদারে শ্যামবর্নের মেয়েটিকে কোন পরির সাথে তুলনা করলেও ভুল হবে না।কি মায়াবী একটা মুখ। আমি আর অতকিছু না ভেবে ক্লাসে চলে গেলাম।
সমস্যা কিছুই ছিল না।কিন্তু সমস্যা বাধল রাতে আমি যখন পড়ার টেবিলে বসলাম তখন। কিছুতেই যেন পড়ায় মন দিতে পাড়ছিনা।চোখের সামনে শুধু সেই শ্যামবালিকার ছবি ভাসতে লাগল। আর তার সেই কথা কানে বাজতে লাগল,”মিস্টার আহান কালকে যেন চোখে চশমা দেখি!সে রাতে আর ঘুমই হোলোনা।
রাতে এত প্রতিজ্ঞা করলাম যে আমি কালকে চশমা পড়ব না।নিজেই নিজেকে বলতে লাগলাম কোথাকার কোন মেয়ে বলেছে তার জন্যে তার কথা আমাক শোনার লাগবে নাকি? কিন্তু পরের দিন ঠিকি আমাকে চশমা চোখে দেখা গেল।
-ক্লাসের পর লাইব্রেরির পেছনে বসে ফোন চাপছিলাম।হটাৎ পেছন থেকে কেউ একজন মাথায় টোকা দিল।মেজাজ পুরা ৪২০ ডিগ্রি এঙ্গেল এ খারাপ হয়ে গেল।পেছন ফিরে যেই বকা দিতে যাব অমনি দেখি কালকের সেই মেয়ে হাসি হাসি মুখ করে আমার দিকে চেয়ে আছে।ভাবছিলাম বকা দিব কিন্তু এই মেয়ের নিষ্পাপ হাসি দেখে আমার মুখ দিয়ে আর কথাই বের হচ্ছেনা, তার ওপর এই মেয়ে আবার আমার প্রিয় রং হলুদ কালারের চুড়িদার পড়ছে।আচ্ছা এই মেয়ের কি চুড়িদারের দোকান আছে নাকি?
-এই যে মশাই কি দেখেন অমন করে হু, বলে আমার চোখ থেকে চশমাটা খুলে নিল।আমার কথামত চশমা পড়ছ তাহলে?
-আমি কারো ইচ্ছায় চশমা পড়ি নাই।আমার ইচ্ছা হইছে তাই পড়ছি।আর আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন?
-শোনো আজ থেকে আমরা বন্ধু। যদিও আমি তোমার এক ব্যাচ জুনিয়র কিন্তু আমরা তুমি করেই কথা বলব।অত আপনি আপনি করতে পারবোনা।
সেই সময়টা থেকেই ইরির সাথে বন্ধুত্ব, তখন থেকেই একসাথে ক্যাম্পাসের সোনালি সময় গুলো পার করা।তার সাজানো তুমি থেকে কবে যে আমরা তুই এ নেমেছি দুজনের কেঊ টের পাইনি।
এর মাঝে আমি একদিন তাকে জিজ্ঞেস করছিলাম যে সে প্রথমে কেন আমার সাথে এভাবে পরিচিত হয়েছে।তার ঊত্তর ছিল এরকম, গাধাদের অতকিছু জানতে হয়না।আমিও আর কিছু জানতে চাইনি।এভাবেই তিনটি বছর কেটে গেল।

–ইরি আমাকে মাঝেমাঝেই রান্না করে খাওয়ায়।আজকেও ক্যাাম্পাসে শিমুল তলায় বসে তার হাতের খিচুড়ি তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছি।
বুঝছোস ইরি, তোর হাতের খিচুড়ির সাথে আসলে কোন কিছুর তুলনা হয়না। দেখি মেয়েটা আমার দিকে ভেজা ভেজা চোখে তাকিয়ে আছে।আমি আর তাকে কিছু না বলে খাওয়ার দিকে নজর দিলাম।সেই সবে থেকেই দেখে আসতেছি আমার খাওয়ার সময় মেয়েটা অপলক আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।
-আহান শোন, বাবা না আমার বিয়ে ঠিক করেছে?
-কথাটা শুনে বুকটা যেন ছ্যাত করে উঠল।তবুও কষ্টটা লুকিয়ে বললাম ভালোতোরে।বয়স তো আর কম হোলোনা।দিন দিন তো বুড়ি হয়ে যাচ্ছিস। এবার বিয়েটা করেই ফেল।
-তুই খুশি হয়েছিস?
-খুশি হবনা কেন;তোর বিয়ে বলে কথা আর তোর বিয়েতে আমিতো নাঁচব।
-এখন থেকেই নাচ তুই বলে সে উঠে গেল।আমি এত ডাকলাম তবুও সে একবার পেছন ফিরে তাকালো না।তবে আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম মেয়েটা হাত দিয়ে তার চোখের জল মুছল।
-আমি জানি ইরি আমাকে ভালোবাসে, আর আমি এটাও জানি ইরিও আমার প্রতিটা সত্তার সাথে মিশে গেছে।
কিন্তু কোন এক অজানা কারনে দুজন দুজনকে কিছুতেই মনের কথাগুলো বলতে পারিনা।
-রাতে ঘুমুতে গেলাম কিন্তু কিছুতেই দু চোখের পাতা এক করতে পারছিলামনা। শুধু ইরির সেই ছলছল চোখ মনে পরতে লাগল;যেই চোখের ভাষা আমাকে ছুতে চায়,যেই চোখ আমার কাছ থেকে কিছু শুনতে চায়।মনের মাঝে কি এক তোলপাড় শুরু হল।না,এই মেয়েকে ছাড়া আমার কিছুতেই চলবে না।তাকে আমি অন্যের হতে দিতে পারিনা।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ৯.৩৫ বাজে।১০ টা পর্যন্ত ইরিদের হল খোলা থাকবে।আমি আর কিছু না ভেবে ইরিদের হলের দিকে দৌড় দিলাম।সেখানে গিয়ে তাকে ফোন দিলাম।কিন্তু এই মেয়ে ফোন ধরে না কেনো?দ্বিতীয় বারে সে ফোন ধরে বলল…..
-হুহ,বল
-হু কি,ফোন ধরিসনা কেন?
-কি দরকার সেটা বল(গম্ভীর ভাবে)
-একটু তোর হলের নিচে আয় তো, আমি নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
-মানে কি আহান?এই সময় কেন?আমি পারব না।
-আয় না প্লিজ!
– পারব না।

-ওপাশে ফোন কাটার শব্দ পেলাম।কিন্তু আমি জানি সে আসবে,তাকে আসতেই হবে।একটু পরেই আমার ধারনা প্রমাণিত করে তাকে মাথা নিচু করে আসতে দেখা গেল।এসেই বলল….
-কি,বল?
-কই এর আগে তো কখনও কিছু জানতে চাসনি।যখন যা করতে বলেছি তাই করেছিস।তবে অাজ কেন?
-সবসময় সবকিছু এক থাকেনা আহান।কি বলবি বল,দাড়োয়ান চাচা গেট বন্ধ করে দিবেন।
-ইরি শোন,তুই না এই বিয়েটা করিসনা।
-কেন করবোনা?
-কারন আমি তোর হাতের খিচুড়ি না খেয়ে থাকতে পারবোনা,তোকে ছাড়া থাকতে পারবোনা,তোকে অন্যের হতে দেখতে পারবোনা রে।
দেখি ইরি কেঁদে ফেলছে।এই ইরি কাঁদছিস কেন?
-সে কোন কথা না বলে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল হাদারাম,এই কথাটা বলতে তুই এতটাদিন সময় নিলি।তুই আসলেই একটা হাদারাম!কোথথাও বিয়ে করবোনা আমি।আমার সকল সুখতো তোকে ঘিরেই।
-এতক্ষনে বুজলাম আমার চোখ বেয়েও অশ্রুর ধারা নামা শুরু করছে।নামুক এই অশ্রু, মুছে নিয়ে যাক আমাদের দুজনের এতদিনের সকল অসারতা।

Bengali Hot Story With Photo | বড়দের গল্প | একান্ত গোপনে

 আজকের গল্প - একান্ত গোপনে


শিলিগুড়িতে কালই পৌছনাের খুব দরকার প্রিয়ব্রতর, ব্যবসা সংক্রান্ত একটা ব্যাপারে। কিন্তু এসপ্লানেডের দূরপাল্লার বাসগুমটিতে এসে যখন সে জানতে পারলাে শিলিগুড়িগামী শেষ রকেট বাসে একটা আসনও ফাঁকা নেই, আর শেষ রকেট বাস ছাড়তে তখন মাত্র পাঁচ মিনিট বাকী ছিল। প্রিয়ব্রত মাথায় হাত দিয়ে বসলাে, নির্ঘাত নতুন কন্ট্রাক্টটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। এখন উপায়! ঠিক এই সময়ে যেন পরিত্রাতার ভূমিকায় এসে হাজির হলাে বছর চব্বিশ-পঁচিশের এক সুন্দরী যুবতী।
টিকিট রিটার্ন কাউন্টারের সামনে এসে মেয়েটি ব্যস্ত হয়ে বলে উঠলাে, দেখুন আমার নাম মণীষা মজুমদার, আমার স্বামী দীপক বিশেষ একটা জরুরী কাজে এখানে আটকে পড়ায় শিলিগুড়ি যেতে পারছেন না। তাই ওঁর টিকিটটা ফেরত নিতে হবে। ‘শেষ মুহূর্তে টিকিট ফেরত? বুকিং ক্লার্ক রমেন খাস্তগীর একটু ইতস্তত করলাে, হঠাৎ প্রিয়ব্রতর কথা মনে পড়তেই সে কাউন্টারের সামনে তাকালো। প্রিয়ব্রতকে দেখতে পেয়ে সে চিৎকার করে বলে উঠলাে, “মশাই, এই যে মশাই শুনছেন। একটু আগে আপনি না শিলিগুড়ির একটা টিকিট চাইছিলেন? যােগাড় হয়ে গেছে। ভাড়ার টাকাটা দিয়ে টিকিটটা নিয়ে যান।
টিকিটের নাম, শুনে প্রিয়ব্রত হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলাে বটে কিন্তু টিকিটটা অন্য এক ভদ্রলােকের, ফেরত দেওয়া হচ্ছে, তবে তার স্ত্রী যাচ্ছে। প্রিয়ব্রতর আপত্তি এখানেই, বাসে মেয়েটি সারারাত তার পাশেই থাকবে। প্রবাদ আছে, ‘পথে নারী বর্জিতা!’ তাই কি করবে ভেবে পাচ্ছে না সে।
তাকে ইতস্তত করতে দেখে বুকিং ক্লার্ক এবার অস্বস্তি গলায় বলে উঠলাে, “ঠিক আছে, আপনি না নিলে অন্য ইচ্ছুক যাত্রীকে টিকিটটা দিয়ে দিচ্ছি। অন্যযাত্রী মানে বছর চল্লিশ বয়সের ষণ্ডমার্কা একটা লােককে দেখে মণীষা ঘাবড়ে যায়। সে এবার প্রিয়ব্রতর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালাে, আপনার তাে আজই শিলিগুড়ি যাওয়া খুবই জরুরী। তাহলে যাচ্ছেন না কেন? এখানে একটু থেমে মেয়েটি আবার বললাে, “ঠিক আছে, টিকিটের দাম বাসে উঠে দিলেও চলবে। এখন আমার সঙ্গে আসুন তাে। বাস এখনই ছেড়ে দেবে।
প্রিয়ব্রত আপত্তি করার আগেই মণীষা তার হাত ধরে একরকম জোর করেই তাকে টানতে টানতে বাসে নিয়ে গিয়ে তুললাে। টু-সিটেড আসন। মেয়েটি জানালার ধারে বসে প্রিয়ব্রতকে আহবান জানালাে বসুন!
“আপনার টিকিটের দামটা?
“আরে, পালিয়ে তাে যাচ্ছেন না, সামনে সারাটা রাত পড়ে রয়েছে, মণীষা হাসতে হাসতে প্রিয়ব্রতর হাত ধরে তাকে তার পাশে বসিয়ে দিলাে একরকম জোর করেই। মেয়েটির মধ্যে কি জাদু ছিল কে জানে, এবারেও সে কোনাে আপত্তি করতে পারলাে না।
কাটায় কাটায় ঠিক ন'টায় রকেট বাস ছেড়ে দিলাে।

আজকের Golpo "একান্ত গোপনে" গল্পের প্রধান চরিত্রে প্রিয়ব্রত ও মণীষা, গল্পের বিষয় - Bengali hot story আরও Bangla love story এবং Bangla jokes অথবা Bengali Shayari পড়ার জন্য আমাদের ব্লগ টিকে সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথে থাকুন, গল্পটি পড়িয়া যদি আপনার ভালো লাগিয়া থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট এবং শেয়ার করিতে ভুলিবেন না।

Bengali hot story with photo


Bangla Hot Story With Photo - বাংলা বড়দের গল্প
আজকের গল্প - একান্ত গোপনে
শিলিগুড়িতে কালই পৌছনাের খুব দরকার প্রিয়ব্রতর, ব্যবসা সংক্রান্ত একটা ব্যাপারে। কিন্তু এসপ্লানেডের দূরপাল্লার বাসগুমটিতে এসে যখন সে জানতে পারলাে শিলিগুড়িগামী শেষ রকেট বাসে একটা আসনও ফাঁকা নেই, আর শেষ রকেট বাস ছাড়তে তখন মাত্র পাঁচ মিনিট বাকী ছিল। প্রিয়ব্রত মাথায় হাত দিয়ে বসলাে, নির্ঘাত নতুন কন্ট্রাক্টটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। এখন উপায়! ঠিক এই সময়ে যেন পরিত্রাতার ভূমিকায় এসে হাজির হলাে বছর চব্বিশ-পঁচিশের এক সুন্দরী যুবতী।

টিকিট রিটার্ন কাউন্টারের সামনে এসে মেয়েটি ব্যস্ত হয়ে বলে উঠলাে, দেখুন আমার নাম মণীষা মজুমদার, আমার স্বামী দীপক বিশেষ একটা জরুরী কাজে এখানে আটকে পড়ায় শিলিগুড়ি যেতে পারছেন না। তাই ওঁর টিকিটটা ফেরত নিতে হবে। ‘শেষ মুহূর্তে টিকিট ফেরত? বুকিং ক্লার্ক রমেন খাস্তগীর একটু ইতস্তত করলাে, হঠাৎ প্রিয়ব্রতর কথা মনে পড়তেই সে কাউন্টারের সামনে তাকালো। প্রিয়ব্রতকে দেখতে পেয়ে সে চিৎকার করে বলে উঠলাে, “মশাই, এই যে মশাই শুনছেন। একটু আগে আপনি না শিলিগুড়ির একটা টিকিট চাইছিলেন? যােগাড় হয়ে গেছে। ভাড়ার টাকাটা দিয়ে টিকিটটা নিয়ে যান।

টিকিটের নাম, শুনে প্রিয়ব্রত হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলাে বটে কিন্তু টিকিটটা অন্য এক ভদ্রলােকের, ফেরত দেওয়া হচ্ছে, তবে তার স্ত্রী যাচ্ছে। প্রিয়ব্রতর আপত্তি এখানেই, বাসে মেয়েটি সারারাত তার পাশেই থাকবে। প্রবাদ আছে, ‘পথে নারী বর্জিতা!’ তাই কি করবে ভেবে পাচ্ছে না সে।

তাকে ইতস্তত করতে দেখে বুকিং ক্লার্ক এবার অস্বস্তি গলায় বলে উঠলাে, “ঠিক আছে, আপনি না নিলে অন্য ইচ্ছুক যাত্রীকে টিকিটটা দিয়ে দিচ্ছি। অন্যযাত্রী মানে বছর চল্লিশ বয়সের ষণ্ডমার্কা একটা লােককে দেখে মণীষা ঘাবড়ে যায়। সে এবার প্রিয়ব্রতর দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালাে, আপনার তাে আজই শিলিগুড়ি যাওয়া খুবই জরুরী। তাহলে যাচ্ছেন না কেন? এখানে একটু থেমে মেয়েটি আবার বললাে, “ঠিক আছে, টিকিটের দাম বাসে উঠে দিলেও চলবে। এখন আমার সঙ্গে আসুন তাে। বাস এখনই ছেড়ে দেবে।

প্রিয়ব্রত আপত্তি করার আগেই মণীষা তার হাত ধরে একরকম জোর করেই তাকে টানতে টানতে বাসে নিয়ে গিয়ে তুললাে। টু-সিটেড আসন। মেয়েটি জানালার ধারে বসে প্রিয়ব্রতকে আহবান জানালাে বসুন!
“আপনার টিকিটের দামটা?
“আরে, পালিয়ে তাে যাচ্ছেন না, সামনে সারাটা রাত পড়ে রয়েছে, মণীষা হাসতে হাসতে প্রিয়ব্রতর হাত ধরে তাকে তার পাশে বসিয়ে দিলাে একরকম জোর করেই। মেয়েটির মধ্যে কি জাদু ছিল কে জানে, এবারেও সে কোনাে আপত্তি করতে পারলাে না।
কাটায় কাটায় ঠিক ন'টায় রকেট বাস ছেড়ে দিলাে।

রাত ন'টা শীতের রাত, রাস্তা প্রায় ফাকা। রকেট বাস, রকেটের মতাে দ্রুত গতিতে ছুটে চললাে তার গন্তব্যস্থলের দিকে। ফাকা বি টি রােডে আসতেই বাসের গতি দ্বিগুণ হয়ে গেলাে। ডানলপ ব্রীজের সামনে হঠাৎ ট্রাফিকের আলােটা লাল হয়ে উঠতেই বাসের চালক দ্রুত ব্রেক কষতেই যাত্রীরা হুড়মুড়িয়ে এ ওর ঘাড়ে লুটিয়ে পড়লাে।
এদিকে প্রিয়ব্রত ও মণীষার অবস্থা তথৈবচ। দু'হাত দিয়ে প্রিয়ব্রতর গলা জড়িয়ে ধরে থরথর করে কাঁপছে মণীষা। তার বুকের কাপন তখন আছড়ে পড়ছে প্রিয়ব্রতর বুকে। ওরা কতক্ষণ যে ওভাবে জড়িয়ে বসেছিল কেউ তা জানে না।

পিছনের আসন থেকে এক ছােকরা টিপ্পনী কাটল, কি দাদা, খুব লেগেছে?
এমন একটা নােংরা মন্তব্যের উত্তর দিতে ইচ্ছে হলাে না প্রিয়ব্রতর। তার বদলে অস্ফুটে মণীষার উদ্দেশ্যে বলে উঠলাে, আরে ছাড়ুন এবার। বাসের যাত্রীরা যে দেখছে...। দেখুকগে! মণীষা আরও নিবিড় করে প্রিয়ব্রতকে জড়িয়ে ধরে কপট অভিমান করে বললাে, বাসের ঝাকুনিতে আমার লাগলাে, আর ওরা রঙ্গ-রসিকতা করছে? না ওদের কথায় কান দেবেন না।
আঘাত পেয়েছে শুনে প্রিয়ব্রতর কেমন যেন একটু মায়া হলাে মেয়েটির ওপর। তাই সে মণীষার মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলাে, কোথায় লেগেছে?
এইখানে, এই বলে প্রিয়ব্রতর ডানহাতটা ধরে নিজের বুকজোড়ার মাঝখানে চেপে ধরলাে মণীষা, ছাড়তে চাইল না।
প্রিয়ব্রত ঘাবড়ে গেলাে। বাস তখন রকেটের গতিতে আবার ছুটতে শুরু করেছিল। ওদিকে বাসের যাত্রীরা আবার আগের মতাে ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছিল তখন। প্রিয়ব্রত হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ওরা এমন রসালাে দৃশ্য দেখলে আর রক্ষে ছিল না। রাতের জার্নি বলে বাসে মাত্র দুটি আলাে জ্বলছিল, একটা গেটের মুখে, আর একটা ঠিক ওদের আসনের পেছনে। কম পাওয়ারের আলাে হলেও মেয়েটির মুখটা বেশ স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল। অন্য আসনগুলাে প্রায় অস্পষ্ট আলােয় ডুবেছিল, তাতে একটা বাড়তি সুবিধে হলাে এই যে, দূর থেকে ওদের গতিবিধি অন্য যাত্রীদের চোখেই পড়ছে না।

তবু সাবধানের মার নেই, প্রিয়ব্রত তার হাতটা মেয়েটির বুকের ওপর থেকে তুলে নিতে গেলে মণীষা এবার আরাে জোরে চেপে ধরলাে ওর পাখীর মতাে নরম বুকের ওপরে অনুভবে বুঝলাে প্রিয়ব্রত অজান্তে তখন সে মণীষার বুকে হাত দিয়ে ফেলেছে। ব্ৰাহীন বুক। মেয়েটির স্বাস্থ্য ভীষণ ভালাে। তার ওপর বিশাল বুকের চাপে মনে হচ্ছিল ব্লাউজ না ফেটে যায়। সামনের দিকে বােতাম ব্লাউজের। ওপরের দুটি বােতাম খুলে গেছে, বুকের উপরের অনেকখানি উন্মুক্ত, আলােয় উদ্ভাসিত। সংকোচ হচ্ছিল, তাই প্রিয়ব্রত বােতাম দুটো লাগাবার চেষ্টা করতেই মণীষা তার হাত চেপে ধরে অস্ফুটে বলে উঠলাে, থাক না, আমার ও দুটো দেখতে কি তােমার খুব খারাপ লাগছে? এই দেখাে আমি তােমাকে তুমি বলে ফেললাম।

“ঠিক আছে, ও কিছু নয়।
‘না ঠিক নেই। তুমিও তাহলে আমাকে তুমি করে ডাকবে বলাে?”
মণীষা তার মনের কথাটাই বলেছিল। সেও যেন কেমন একটু একটু করে মেয়েটির প্রতি আসক্ত হয়ে উঠছিল। তাই সে আর আপত্তি করলাে না, বললাে “ঠিক আছে, তাই বলবাে। এই বলে প্রিয়ব্রত অবিন্যস্ত শালটা একহাতে তার বুকের ওপর গুছিয়ে বিছিয়ে দিলাে। ওপর হাতটা মেয়েটির বুকের ওপরেই তেমনি রাখা ছিল। এর ফলে বাসের অন্য যাত্রীরা জেগে উঠে তাদের দিকে তাকালেও তার হাতের কাজকর্ম তারা আর দেখতে পাবে না, এই ভাবে আশ্বস্ত হলাে সে। তার গতিবিধি দেখে মেয়েটি হাসলাে, স্থির চোখে তাকালাে প্রিয়ব্রতর দিকে। তুমি তাহলে এতক্ষণে সাবালক হলে?
“কি করে বুঝলে।
‘শালটা দিয়ে আমার বুক ঢেকে দিলে কেন?’ মণীষা কপট গম্ভীর মুখে বললাে, ‘একবার আমার অনুমতি নেবার প্রয়ােজন মনে করলে না?
প্রিয়ব্রত তার ব্লাউজের অবশিষ্ট বােতামগুলাে খুলতে খুলতে তেমনি রহস্য করে বললাে, এর পরেও কি তােমার অনুমতি নিতে হবে?
‘না গাে না’, মণীষা ঠোট ফোলালাে, তুমি কি ঠাট্টাও বােঝাে না?
এতে প্রিয়ব্রতর সাহস আরও বেড়ে গেলাে। ততক্ষণে ব্লাউজের সব বােতামগুলাে তার খােলা হয়ে গেছলাে। বুক পুরুষ্ট, সুগঠিত এবং সুডৌল। প্রিয়ব্রত ভালাে করে বুক দুটি তার হাতের মুঠোয় চেপে ধরে মৃদু চাপ দিতে শুরু করলাে। মণীষা হাত সরিয়ে দিলাে না।

বরং আবেগকম্পিত গলায় ফিসফিসিয়ে বললাে, আরও আরও জোরে, খুব ভাল লাগছে।” এই বলে মণীষা হঠাৎ একটা অদ্ভুত কাজ করে বসলাে, প্রিয়ব্রতর মাথাটা নিচে নামিয়ে এনে তার ঠোঁটজোড়া নিজের তপ্ত ওষ্ঠ দ্বয়ের কাছে নিয়ে এলাে। চুম্বনের জন্য মুখ তুললাে মণীষা। প্রিয়ব্রত তার মনের কথা জেনে গেছে ততক্ষণে। তাই সে তার শালটা নিজের মাথার ওপর টেনে বাকী অংশটুকু মণীষার শরীরের ওপরের অংশটুকু ঢেকে দিলাে। এখন প্রকাশ পাওয়ার মতাে ওদের শরীরের কোনাে অংশই খােলা পড়ে রইলাে না। নিশির ডাকে সম্মােহিত নারীর মতাে দেখাচ্ছিল মণীষাকে। মৃদু হাসলাে প্রিয়ব্রত, হঠাৎ আকাঙ্খিত কিছু পেয়ে যাওয়ার হাসি যেন।

এখানে এই চলন্ত বাসের মধ্যে যাত্রীরা সবই যেখানে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঘটনার এমন উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশে হঠাৎ কেমন যেন মণীষাকে ভাল লেগে গেল প্রিয়ব্রতর মণীষাকে সে আরও নিবিড় করে জড়িয়ে ধরলাে। হাতের স্পর্শে সংবহনের আরাম দিতে চাইলাে মণীষাকে। অকপট হাসিতে প্রিয়ব্রত যেন ওকে অবশ করতে চাইছে। মণীষা চুম্বনের জন্যে মুখ তুলতেই প্রিয়ব্রত ওকে ওর সেই ছােট্ট আসনে শুইয়ে ওর কোমর জড়িয়ে ধরলাে সজোরে, পােশাকের ওপর থেকেই চাপ দিলাে মণীষার তলপেটে, আর সেই অবস্থাতেই আলাে আঁধারির ছায়াঘন অবস্থায় দুটি ছায়ামূর্তি চুম্বিত হয়ে রইল।

মণীষার মনে হলাে, এই তার স্বামী। ওদিকে প্রিয়ব্রত হয়তাে কল্পনা করলাে তার বিবাহিত স্ত্রী অনুসূয়াকে, এই মুহূর্তে যাকে সে চাইছে কিন্তু পাচ্ছে না । আর এভাবেই দুটি দেহে দুটি অন্য মন তরঙ্গায়িত হলাে। বাসের সেই স্বল্পালােকে প্রিয়ব্রত মণীষার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাে, ও এখন ওর তপ্ত ঠোটে চুম্বনের প্রত্যাশী।



প্রিয়ব্রত বাসের সেই স্বল্প পরিসরে ঠেস দিয়ে নিজের শরীরের নিচে মণীষাকে শােয়ালাে, তার দেহের ওপর নিজের দেহটাকে কোনােরকমে বিছিয়ে দিয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরলাে সজোরে, শাড়িতে আবৃত মণীষার জঙঘায় এবং তলপেটে চাপ দিতে থাকলাে, আর সেই অবস্থাতেই সেই আলাে আঁধারিতে দুটি ছায়ামূর্তি চুম্বিত হয়ে রইলাে, চুম্বন যতক্ষণ না বিস্বাদ ঠেকলাে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কারাের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাইলাে না। মণীষার মনে হলাে, এই তার স্বামী বিজন, যাকে সে শরীরী সম্পর্কে পেতে চায় কিন্তু পায় না কোনাে এক কারণে। দুটি দেহে দুটি অন্য মন তরঙ্গায়িত হতে থাকলে তাদের এতদিনের না পাওয়া আকাঙক্ষা হঠাৎ ক্ষণিকের এই প্রাপ্তিযােগ তারা এখন ভরিয়ে নিতে চাইলাে কানায় কানায়।

কিন্তু তারা এও জানে যে, এই চলন্ত বাসের মধ্যে তাদের সব আকাঙ্খার পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঘটতে পারে না, সম্ভবও নয়। তবে যেটুকু পাওয়া যায় তাই যথেষ্ট, আর যা না পাবে পথের কামনা বাসনা সব পথেই ফেলে রেখে যেতে হবে। অনেকক্ষণ পরে মণীষার চোখে-মুখে একটা সুখ-তৃপ্তির ভাবফুটে উঠতে দেখা গেলাে। এবং প্রিয়ব্রতরও। প্রিয়ব্রতই প্রথমে মণীষার কমলালেবুর কোয়ার মতাে রসসিক্ত ওষ্ঠ দ্বয় থেকে নিজের ঠোটজোড়া বিচ্ছিন্ন করে শান্ত স্নিগ্ধ গলায় মিষ্টি সুরে বললাে, ‘এবার ছাড়।

‘আর একটু প্লিজ’, মণীষা এবার নিজের থেকে সক্রিয় হয়ে দু'হাতে প্রিয়ব্রতর গলা জড়িয়ে ধরে তার ঠোটজোড়া নিজের ওষ্ঠ দ্বয়ের মধ্যে পুরে চোষণে ব্রত হলাে। চোষণ অতি দ্রুত হলাে এবার, যেন চুম্বনে রসনার শেষ ফোটা সে চুষে নিতে চাইছে প্রিয়ব্রতর ওষ্ঠ দ্বয় থেকে। তারপর তখনকার মতাে একেবারে নিঃশেষ হয়ে যেতেই সে বিচ্ছিন্ন হলাে প্রিয়ব্রতর থেকে।

“কেমন লাগলাে?’ প্রিয়ব্রতর দিকে লােলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে মণীষা জিজ্ঞেস করলাে।
তােমার রসালাে ঠোট, নাকি চুম্বন!’
‘দুটোই। এই বলে হাসলাে প্রিয়ব্রত। কপট অনুযােগ করে আবার বললাে, তবে মন ভরলেও দেহ কিন্তু অপূর্ণই রয়ে গেলাে।

এখন এ পর্যন্তই থাক, পথ চলা এখনও শেষ হয়নি দীর্ঘ পথ এখনও বাকী রয়েছে। মাঝেমধ্যে সুযােগ পেলে টুকটাক প্রাপ্তিযােগ ঘটলেও ঘটতে পারে, তার বেশি কিছু নয়। যেমন এই মুহূর্তে আমি তােমাকে তােমাদের অতি প্রিয় জিনিসটা খাওয়াতে পারি। ‘সেটা কি, থামলে কেন?' প্রিয়ব্রত অধীর হয়ে বললাে, “বলাে কি সেটা? আমি কি সেটা চোখে দেখতে পারি?
“না অনুভবে বুঝে নিতে হবে,' মণীষা রহস্য করে বলে তার শালের নিচে প্রিয়ব্রতর মাথাটা আড়াল করে চেপে ধরলাে নিজের বুকের ওপর। ব্লাউজের বােতাম খােলা মণীষার বুক। শালের আড়াল হলেও মণীষার লক্ষ্য কিন্তু স্থির ছিল, প্রিয়ব্রতর মুখটা সে তার আকাঙ্খিত একটা বুকের ওপর চেপে ধরলাে।

হ্যা, মণীষার খুবই প্রিয়। চোষণে দারুণ মজা। 

 এই অভ্যাসটা পুরুষরা তাদের জন্মলগ্ন থেকে শেখে তাদের মায়েদের কাছ থেকে। মণীষার বুকে দুধ নেই, তাতে কি হয়েছে? বাড়িতে তার র-চা খাওয়ার অভ্যাস আছে, র-চায়ে চায়ের ফ্লেভারটা ভাল পাওয়া যায়। সেই রকম বুকেও বেশ মাদী মাদী গন্ধ থাকে, হাত দিতে ভাল লাগে, শুকতে ভালাে লাগে আর চুষতে সে তাে স্বর্গসুখ লাভের মতাে। প্রিয়ব্রত আর অপেক্ষা করতে পারছিল না, পালা করে মণীষার দুটি বুক বেশ আয়েস করে চুষতে শুরু করলাে। স্ফুরিতক চুম্বনে ও চোষণে রক্তবর্ণ হলাে ওষ্ঠদ্বয়, মণীষা বুক আরও চেপে ধরলাে প্রিয়ব্রতর মুখে, চোষণে বৃষ্টি পড়া। কদমের মতাে কণ্টকিত হলাে বুকযুগল।
‘আঃ, কি চমৎকার তােমার বুকজোড়া। একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রিয়ব্রত বলে উঠলাে। ‘ভাল লাগছে?' মণীষা জিজ্ঞেস করলাে।
“দারুণ!’

‘কলেজে ইকোনােমিক্সে পড়েছিলাম ‘ল অব ডিমিনিশিং-এর কথা। ভালাে জিনিষ বেশি খেলেই তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। আর নয়, ওঠো এখন, উঃ তােমার শরীরটা কি ভারি!
এই সময় পিছনের আসনের এক যাত্রীর ঘুম ভেঙে গেলাে। তার আড়মােড়া ভাঙার শব্দ হতেই মণীষা প্রিয়ব্রতকে ঠেলা দিলাে, ‘এই ওঠো, কেউ বােধহয় জেগে উঠেছে। প্রিয়ব্রত দ্রুত মণীষার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উঠে বসলাে। ‘স্যরি!’ মণীষা মুখ টিপে হাসলাে। “দুঃখ করাে না প্রিয়, পরে আমি তােমাকে সুদে আসলে পুষিয়ে দেবাে।
‘প্রমিস?
প্রিয়ব্রতর হাতে মৃদু চাপ দিয়ে মণীষা বললাে, “হ্যা, শপথ নিলাম!” মাঝরাতে বাস এসে থামলাে মালদায়। অনেকক্ষণ থামবে এখানে।
“কিছু খাবে?’ প্রিয়ব্রত জিজ্ঞেস করলাে।

‘যা খাইয়েছ, এরপর অন্য আর কিছু খাওয়ার ইচ্ছে নেই’, রহস্যময় হাসি হেসে মণীষা বললাে, এত সব খাওয়ার পরেও তােমার খিদে পেয়েছে। ‘তেমন করে খেতে দিলে কই?’ প্রিয়ব্রতও কপট অনুযােগ করতে ছাড়লাে না। “সে তােমার দুর্ভাগ্য’, পিছনের আসনের দিকে তাকিয়ে অর্থপূর্ণ হাসি হাসলাে মণীষা। মণীষা কি বলতে চাইছে তা বুঝতে অসুবিধে হলাে না প্রিয়ব্রতর। “বেশ, অন্তত এক কাপ কফি?
‘তা মন্দ হয় না, যা শীত পড়েছে, শরীরটা একটু গরম না করে নিলে নয়!

“সে কি তুমি গরম হওনি?’ মণীষার একটু আগের রসিকতার বদলা হিসেবে বললাে, ‘এত গরম খাওয়ার পরেও ‘এ গরম সে গরম নয়। মণীষাও রসিকতা করতে ছাড়লাে না। তাছাড়া কি এমন গরম করতে পারলে তুমি?
‘সুযােগ পেলে দেখাে তােমার মধ্যে কেমন আমি আগুন জ্বালিয়ে দিই। হাসতে হাসতে বললাে প্রিয়ব্রত।
তার আগে আমিই তােমার মধ্যে আগুন ছড়িয়ে দেবাে।

না তুমি তা পারবে না, প্রিয়ব্রত এবার একটা মােক্ষম রসিকতা করলাে, “দেশলাই কাঠিটা কেবল আমার কাছেই আছে, তােমার কাছে নয়!

‘দুষ্টু কোথাকার’, মণীষা কপট ধমক দিয়ে প্রিয়ব্রতর প্যান্টের ওপর মৃদু চাপ দিয়ে বললাে, এই দেশলাইকাঠির জন্য এতাে দেমাক তােমার?
‘হ্যা অবশ্যই! আর একটা কাঠিই যথেষ্ট, তােমার সারা অঙ্গে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে আমার এই দেশলাইকাঠিটা। তা জ্বালবাে নাকি?
‘না, না, দোহাই তােমার’, মণীষা তাকে থামিয়ে দিয়ে অনুরােধ করলাে, লক্ষ্মীটি, এখানে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে বসাে না, শিলিগুড়িতে চলাে, সেখানে তুমি যত খুশি আগুন জ্বালাও, আমার দেহ পুড়িয়ে ছাই করে দাও না কেন আমি কোনাে ভাবেই আপত্তি করবাে না।

‘কথা দিচ্ছ?
‘কেন, একটু আগেই তাে আমি তােমাকে কথা দিয়েছি। মণীষা বললাে।
‘ঠিক আছে, আমি তাহলে কফি আনতে চললাম,
‘হ্যা, তাই যাও।
কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে প্রিয়ব্রত এই প্রথম মণীষার পারিবারিক প্রসঙ্গে আলােচনা শুরু করতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাে, “তােমার বাড়িতে কে কে আছেন?

‘স্বামী আর দত্তক নেওয়া একটি ছেলে।
‘দত্তক নেওয়া ছেলে?’ প্রিয়ব্রত একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলাে, “কেন, তােমাদের বিবাহিত জীবনের কোনাে ফসল তুলতে পারােনি?
‘অনেক দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমার স্বামী ইমপােটেন্ট, বাবা হওয়ার অযােগ্য। “তাই বুঝি? প্রিয়ব্রত দুঃখ প্রকাশ করলাে, ‘আমি দুঃখিত।
“না, না এতে দুঃখ পাওয়ার কি আছে?' বিষগ্ন গলায় মণীষা বললাে, “এ আমার দুর্ভাগ্য। আর তাই তাে তােমার মতাে একজন ভাল বন্ধু পেয়ে আমি লােভ সামলাতে পারিনি। আমার কথা থাক, এখন তােমার কথা বলাে। তােমার বিবাহিত জীবন কি রকম বলাে।

স্ত্রীও একটি বছর তিনেকের ছেলে নিয়ে আমার সংসার বেশ সুখেই কাটছিল, কিন্তু ভগবান বােধহয় সব সুখ একসঙ্গে দেন না। তা না হলে আমার স্ত্রী হঠাৎ পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে পড়বে কেন বলনা? প্রায় এক বছর হলাে, স্ত্রীর সঙ্গে আমার শারীরিক কোনাে সংযােগ নেই। আর তাই বােধহয় আজ হঠাৎ তােমার এমন মধুর সঙ্গ পেয়ে আমি একটু বেহিসেবিপনা করে ফেলেছি।

‘না, না এটাইতাে প্রকৃতির ধর্ম, নারী পুরুষ একত্রিত হলে এমনি হয়। তুমি এমন কিছু বেহিসেবিপনা করােনি। আমার বিশ্বাস, শিলিগুড়িতে গিয়ে আমি অতৃপ্ত জীবনে আরও বেশি করে তৃপ্তি আনতে পারবাে। স্বামী নেই, ওখানে গিয়ে তুমি আমার বাড়িতেই উঠবে। আমার ছেলে বেলা এগারােটায় ফিরে আসে, আশা করি তার আগেই তােমাকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিয়ে ফেরাতে পারবাে 

সকাল হতেই রকেট বাস এসে পৌঁছলাে শিলিগুড়িতে। কালবিলম্ব না করে বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রিয়ব্রতকে সঙ্গে নিয়ে মণীষা সােজা তাদের হিলকার্ট রােডের বাড়িতে। ফিরে এলাে। তখন বেলা প্রায় নটা বাড়ি ফাকা। ছেলেকে স্কুলে নিয়ে গেছে কাজের মেয়ে শান্তি, তাকে একবারে নিয়েই ফিরবে এগারােটার পর। এই দু'ঘণ্টা, ন'টা থেকে এগারােটা তাদের মিলনের স্বর্গরাজ্য বলে মনে করলাে মণীষা।

এত বড় বাড়িতে তারা দু’ জন এখন। টয়লেট থেকে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিলাে তারা। টয়লেট থেকে বেরিয়ে এসে মৃদু হাসলাে প্রিয়ব্রত, বিজয়ীর হাসি। আর এখানে এই নির্জন বাড়ির মধ্যে হঠাৎ কেমন যেন ভালাে লেগে গেলাে মণীষার প্রিয়ব্রতকে। ওর কাছে গিয়ে ওর খােলা প্রশস্ত বুকে হাত রাখলাে, কাধের পেশীতে হাত বােলালাে, তারপর গলা জড়িয়ে ধরলাে। বাহাতের স্পর্শে সংবাহনের আরাম দিতে চাইলাে প্রিয়ব্রতকে।

প্রিয়ব্রত হাসছে। কপট হাসিতে প্রিয়ব্রত যেন ওকে অবশ করে দিতে চাইছে। মণীষা ভাবছে, এই সময় হঠাৎ যদি ওর স্বামী এসে হাজির হয় ওদের এভাবে মিলিত হতে দেখে দেখুক। একটা ক্লীবকে ও আর ভয় পাবে না, ও এখন ওর মনের মানুষের সন্ধান পেয়ে গেছে। প্রিয়ব্রতকে কথা দিয়েছে ও। কথা রাখতে উদ্যোগী হলাে মণীষা। যেন ওর পুরুষ কৌমার্য হরণ করছে এমনভাবে প্রিয়ব্রতকে সজোরে নিজের দিকে অকর্ষণ করলাে মণীষা, ওকে ঘর্ষণ করলাে নিজের দেহে, তারপর প্রিয়ব্রতর পরনের পােশাক টেনে খুললাে, হাত দিয়ে অনুভব করলাে ওর উদ্যতা রিরংসার ফলা, ছাড়লাে না মুঠোয় ধরে রইলাে।
প্রিয়ব্রত অস্ফুটে বলে উঠলাে, “কি সুন্দর বুক তােমার মণীষা!” আর তােমার এই সােনারকাঠিটাও কম সুন্দর নয় প্রিয়ব্রত, দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে আমার স্বামীরটার থেকে দ্বিগুণ, যেকোনাে মেয়ের কাছে এটা লােভনীয়।

প্রিয়ব্রতর সারা শরীর টান-টান হয়ে উঠেছে। সত্যিকার পুরুষমানুষ। উপযুক্ত শৃঙ্গার আবিষ্কার করতে চায় প্রিয়ব্রত। টের পেয়েছে মণীষার তৃপ্তি-সাধন খুব সহজ নয়। তাই শৃঙ্গারে ওকে অবশ না করলে শুধু সােনারকাঠির স্পর্শে ওর রাগমােচন হবে না। ওর দেহ বেয়ে খানিকটা নামলাে প্রিয়ব্রত মণীষার বুকের অগ্রভাগে মণ্ডলীকার কালাে দাগযুক্ত জায়গায় মুখ রাখলাে, লেহন করলাে বুক, উৎফুল্ল বুকের খানিকটা মাংস দুই পাটির সবগুলাে দাঁত দিয়ে বৃত্তাকারে গ্রহণ করে মৃদু চাপ দিলাে।

এক বুক থেকে প্রিয়ব্রতর মাথাটা তুলে আর এক বুকে আনলাে মণীষা এবং বললাে, এটাকেও একুট দেখাে! মণীষার নিঃশ্বাসে হাল্কা, নাকের পাটা ফুলছে, কথা জড়িয়ে আসছে, কোমল নীচের অংশ আদ্র হচ্ছে। মণীষার নাভিমূলে হাত বুলােলাে প্রিয়ব্রত। একটু একটু করে আরও নিচে উরুসন্ধিতে উত্তাপ অনুভব করলাে, হাতের স্পর্শে দুই উরু প্রসারিত করলাে মণীষা।

আবেগকম্পিত গলায় বললাে, আর পারছিনে। নিতম্ব ওপর দিকে বার বার ঠেলে তুলতে মণীষা ওর ত্রিভুজে বিদ্ধ করাতে চাইছে প্রিয়ব্রতর সােনার কাঠি, দু'হাতে ওর পুরুষকঠিন পশ্চাদভাগ টেনে আনছে নিজের কাকালের দিকে। প্রিয়ব্রত বেশ বুঝতে পারছে মণীষার চোখ মুখ উগ্র সঙ্গমেচ্ছায় বিস্তারিত, স্নায়ুমণ্ডলী উত্তেজিত। উত্তুঙ্গ উত্তেজনার মুহূর্তে দু’হাত মণীষার কোমর জড়িয়ে ধরেচাপ দিয়ে ওকে ওপরের দিকে টানলাে প্রিয়ব্রত, যুক্ত হলাে দেহে দেহে প্রবিষ্ট হলাে মণীষার মধ্যে। মণীষা অধীর আনন্দে বলে উঠলাে, ‘আ’!
কি সুন্দর তােমার ত্রিভুজ মণীষা।
ভাল লাগছে? আরও জোরে...।

কিন্তু প্রিয়ব্রত তাড়াহুড়াে করছে না, দেহে দেহে দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে নিস্ক্রিয় প্রিয়ব্রত আবেশে চোখ বুজে উপভােগ করছে। ওদিকে মণীষা আর স্থির থাকতে পারছে না। কেমন নির্লজ্জের মতাে বললাে, “ওঃ আর একটু, আর একটু...'

এবার সক্রিয় হলাে প্রিয়ব্রত এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই ওর উত্তাপে জারকরস বিন্দু বিন্দু হয়ে ঝরে পড়তে থাকলাে মণীষার দেহের অভ্যন্তরে। দুজনেরই এক সঙ্গে রাগমােচন হলাে। আর অবসন্ন দুটি দেহে ওই অবস্থায় পড়ে রইলাে আরও কিছুক্ষণ। মণীষার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টয়লেট গিয়ে ঢুকলাে প্রিয়ব্রত, মণীষাও অনুসরণ করলাে ওকে। এ ওর মিলনজনিত সমস্ত ক্লেদ, ময়লা ধুয়ে মুছে সাফ করে দিলাে। টয়লেট থেকে বেরিয়ে এসে প্রিয়ব্রত ঘড়ির দিকে তাকালাে, সাড়ে দশটা। বললাে, ‘তােমার ছেলের ফেরার সময় হয়ে এলাে, এবার যাই।

‘আবার কবে দেখা হবে?’ মণীষার চোখে আকুতির ছায়া পড়ে।
‘আবার দেখা কেন, এই তাে ভালাে, মৃদু হেসে প্রিয়ব্রত বললাে, পথের দেখা পথেই তো শেষ হলে ভালাে হয়, তাই না।
মণীষা ফ্যালফ্যাল করে প্রিয়ব্রতর গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলাে। কি উত্তর দেবে ও? এই মুহূর্তে ওর সারা দেহ-মনে প্রিয়ব্রতর সুখ-স্মৃতি জড়িয়ে আছে, অন্য কথা ভেবে সেটা ও মুছে দিতে চাইলাে না।

 

বর্তমানে অধিকাংশ সংসারে সুখ নেই !! সুখ নামের শব্দ’টা কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে !!

 


বর্তমানে অধিকাংশ সংসারে সুখ নেই !!
সুখ নামের শব্দ’টা কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে !!

স্ত্রী তার স্বামীর কাছে শারীরিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে !!
স্বামী তার স্ত্রীকে প্রতিটা মুহূর্তে অবহেলা অপমান করছে !!
স্ত্রী তার শ্বশুর শাশুড়ী ননদের কাছে নির্যাতিত হচ্ছে !!

স্ত্রী তার স্বামী সহ্য করতে পারে না !!
স্ত্রী তার স্বামীর কথার মূল্য দিচ্ছে না !!
স্ত্রী তার শ্বশুর শাশুড়ী ননদকে দেখতে বা সহ্য করতে পারছে না !!

আসলে অনেক সময় এসব মানসিক সমস্যার কারণে হয় !!
একজন স্বামী তার স্ত্রীকে পর করে দেয় !!
একজন স্ত্রী তার স্বামীকে পর করে দেয় !!
তারা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না !!

একটা সম্পর্কের মাঝে সুখ ফিরিয়ে আনতে হলে দুজনকে সেক্রিফাইস করতে হবে !!
একে অপরের কথা সহ্য করতে হবে !!
একে অপরের বিশ্বাস করতে হবে !!
তবেই একটা সম্পর্ক সুখ ফিরে আসবে !!

আর যদি সেক্রিফাইস না করে !!
একে অপরের বিশ্বাস না করে !!
কেউ কারোর কথা সহ্য করতে না পারে !!
সুখ নাম শব্দটা মরীচিকা হয়ে থাকবে!!
একটা সময় স্বামী+স্ত্রী পবিত্র সম্পর্কটা বিচ্ছেদে রুপ নেয় !!

ভালবাসার গল্প – দেনমোহরের অংক

 

আমার বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চুড়ান্ত হয়ে যাবার পর দেনমোহরের অংক নিয়ে ঝামেলা হওয়াতে ভেঙ্গে গিয়েছিল। বান্ধবীদের কারো কারো ক্ষেত্রে এরকম হতে শুনেছি কিন্তু কল্পনায়ও ভাবিনি আমার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটতে পারে। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রথমবার দেখা হবার পর হতে শাহেদের সাথে আমার মোবাইলে নিয়মিত কথা হত। দুই পরিবারের কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু সম্পর্কটা ভাঙ্গার আগে কেউ আমার মতামত জানার প্রয়োজনও বোধ করেনি৷
মোবাইলের এড্রেস বুক খুলে শাহেদ নামটার দিকে তাকিয়ে আছি। আঙুলের একটা চাপ দিলেই শাহেদ নামটা এড্রেস বুক হতে মুছে যাবে। আসলেই কি যাবে? প্রেমে পড়ার জন্য যথেষ্ট সময় হয়ত নয় কিন্তু ভাল লাগার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। বিয়ের পর কোথায় বেড়াতে যাব সেই পরিকল্পনাও হয়ে গিয়েছিল। ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি দেনমোহর নিয়ে ঝামেলা বাধবে।
আব্বু আম্মুকে কিছু বলতেও পারছি না। আমার বড় বোনের বিয়ে হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে। আব্বু আমার জন্য ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছিলেন। শাহেদের বাবা মা নাকি ৬ লাখ বলেছেন। এত কম অংক শুনে আমার মামা খালা, ফুপুরা সবাই ভেটো দিয়েছেন। এই বিয়ে হবে না ব্যস। বড় আপু এসে সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিয়ে গেল, আমাকে জিজ্ঞেসও করল না। এই সমাজে মেয়েদের মতামতের কোন মূল্য নেই।
মোবাইলটা বাজছে। একটা অপরিচিত নাম্বার। সাধারণত ধরিনা, আজ কি মনে করে ধরলাম। একজন ভদ্রমহিলার গলা ভেসে এলো,
– হ্যালো কে দিনা?
– জি, আপনি…
– আমি শাহেদের মা, তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাইছিলাম।
– জি বলেন, শুনছি…৷
– শাহেদ তো সহজে কাউকে পছন্দ করে না। তিন চারটা প্রস্তাব মানা করার পর তোমাকে পছন্দ করেছে। আসলে আমারও তোমাকে খুব ভাল লেগেছে মা। সমস্যা হয়েছে দেনমোহর নিয়ে, তুমি কিছু শুনেছ?
– জি আন্টি। আপুর দেনমোহর ১৫ লাখ তো, আব্বুরা বলছে অন্তত ২০ লাখ হতে হবে। এটা মুরুব্বিদের ব্যাপার, আমি আর কিছু জানি না।
– আচ্ছা, শুনো। তবুও তোমাকে একটু বুঝিয়ে বলি যেহেতু তোমার জীবনের ব্যাপার আর এই আর্থিক নিরাপত্তাটাও তোমার। এই যে ইদানিং সবার খুব উঁচু অংকে দেনমোহর ফিক্স হয়, এই টাকাগুলো কি আদায় হয়? বিয়ের আগে কি টাকাটা দেয়? অনেকে এমনকি বিয়ের পরেও দেয় না৷ অনেকে ডিভোর্স মামলা করেও এই উঁচু দেনমোহর আদায় করতে পারেনি, ঠিক না?
– আমার ঠিক জানা নেই আন্টি, তবে শুনিনি পেতে।
– শাহেদের বেতন হল ৬০ হাজার মত। ২০ লাখ টাকা হল ওর ৩ বছরের বেতন। এত টাকা ও চুরি না করলে কোথা থেকে পাবে? বয়স তো মাত্র ত্রিশ, চাকুরিতে ঢুকেছে বছর তিনেক হল। নিজের টাকায় বিয়ে করতে চায় তাই এতদিন টাকা জমিয়েছে। শুরুতে বেতনও কম ছিল। ও দেনমোহর পরিশোধ করবে বলে ৬ লাখ টাকা আলাদা করে রেখেছে, বাসর রাতে বউকে চেক দিয়ে দিবে। আমাদের কোন দাবী দাওয়া নেই মা। শাহেদ নিজের বেডরুম ফার্নিচারও কিনে ফেলেছে, ও শ্বশুরবাড়ি হতে কিছু নিবে না। বরযাত্রীও বেশী আসবে না, তাই তোমার আব্বুরও বেশী কষ্ট হবে না। তুমি নিশ্চয়ই চাও না, বিয়ে করে শাহেদ বিশাল একটা চাপ বা ঋণের মধ্যে পড়ে যাক? আর শাহেদের সম্ভবত প্ল্যান আছে আগামীবছর তোমাকে নিয়ে হজ করার। দেনমোহর হতে তোমার খরচ তুমি বহন করবে, অর্থাৎ নিজের টাকায় হজ করে আসবে। বাকিটুকু তোমার সেভিংস। হ্যালো দিনা, শুনছ? তোমাকে আমাদের খুব ভাল লেগেছে তাই এতকিছু শেয়ার করলাম। তোমার মামা ফোন করে মানা করে দেয়ার পরও কথাগুলো বললাম। ভাল থেক। নিজের যত্ন নিও।
মন্ত্রমুগ্ধের মত ভদ্রমহিলার কথা শুনছিলাম। কি সুন্দর প্ল্যান।
আধঘন্টা প্রায় অবশ হয়ে বসে রইলাম। মন স্থির করতে দশ মিনিট সময় লাগল। ড্রইং রুমে আব্বু, আম্মু, মামা, মামী, আপুসহ দশ বারোজন আড্ডা দিচ্ছেন। সবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার একটুও গলা কাঁপল না।
– আব্বু, আমি শাহেদকে বিয়ে করব। ৬ লাখ দেনমোহরে আমার আপত্তি নেই। তোমরা ব্যবস্থা কর।
সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। আমাকে কেউ কখনো এভাবে কথা বলতে দেখেনি। কেউ ভাবেনি, দিনা নিজের বিয়ের কথা নিজেই বলতে পারে। আমি আর কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রুমে চলে এলাম। অল্প করে আম্মুর গলা শুনলাম, বলছে নির্লজ্জ মেয়ে!
এর ঠিক তিন সপ্তাহ পর শাহেদের সাথে আমার বিয়েটা হয়ে গেল। পরে শুনেছি, অন্যদের বাধার মুখে আব্বু আমার পক্ষ নিয়েছিলেন। বলেছেন, আমার এই মেয়েটা কখনো কিছু চায় না। ওর এই ইচ্ছাটা আমি চাই না অপূর্ণ থাকুক। পরে অন্য সম্পর্কে কষ্ট পেলে সারাজীবন দোষারোপ করতে পারে। তাছাড়া ছেলেপক্ষের কোন দাবীদাওয়া নেই, শাহেদকেও যথেষ্ট ভাল লেগেছে সবার৷ শুধু দেনমোহরের জন্য ভেঙ্গে দেয়া ঠিক হবে না, যখন ওরা পুরো দেনমোহর অগ্রিম পরিশোধ করবে বলছে।
এরমধ্যে আমার হবু শাশুড়ি বেশ কবার কল দিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি আন্টি ডেকে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম।
বিয়ের দিন আমাকে শাহেদের হাতে তুলে দেয়ার সময় হঠাৎ কোথা থেকে প্রচন্ড আবেগ ভর করেছিল। অশ্রুতে মুখের মেকাপ লেপ্টে গিয়েছিল। আম্মুকে জড়িয়ে ধরে ছাড়তে চাইনি একদম। আমি আম্মুর আদরের ছোট মেয়ে, কখনো আম্মুকে ছাড়া থাকিনি। এখন হতে কিভাবে থাকব তাও জানি না। শুধু মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে যেতে হবে, কে যে এই অদ্ভুত নিয়ম করেছে। উল্টোটাও তো হতে পারত। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে প্রতিদিনই একবার করে বাসায় চলে আসব।
বিয়ের পরদিন, আমার শাশুড়ি ডেকে বললেন,
– দেখ দিনা, আমি চাই না আমাদের সম্পর্ক গতানুগতিক বউ শাশুড়ি টাইপ হোক। এই বাসায় মানুষ মাত্র ৪ জন। তোমার শ্বশুর, আমি, তোমার ননদ মিলি আর শাহেদ। আমি তোমাকে বাকি তিনজনের দুর্বলতাগুলো শিখিয়ে দিব। ওগুলো একটু যত্ন নিয়ে ফলো করলে কয়েক মাসে দেখবে তুমি সবার খুব প্রিয় হয়ে গিয়েছ, পারবে না?
– জি আন্টি।
উনি অদ্ভুত চোখে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর হাসলেন,
– আন্টি ডাকতে পার, সমস্যা নেই। আম্মা ডাক মন হতে না এলে অপরিচিত কাউকে জোর করে ডাকার দরকার নেই।
শুরুর কয়েকদিন, মেহমান আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবদের ভিড়ে কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। আর প্রতি সপ্তাহজুড়ে অন্তত তিনটা দাওয়াত। বাবার বাড়ির দূরত্ব মাত্র আধঘন্টার, প্রতি সপ্তাহেই অন্তত দুবার মায়ের কোলে গিয়ে শুয়ে থাকতাম।
ফেসবুকে শাশুড়িদের নিয়ে ভয়াবহ সব গল্প আর অভিজ্ঞতা পড়েছি। কয়েকটা পড়ে তো আতংকে আমার হাত-পা কাঁপত। না জানি কপালে কি দুর্দশা লেখা আছে। আমার শাশুড়ির কয়েকটা দিক আমার খুব ভাল লেগেছে। গল্পেগুলোর সাথে উনার কোন মিল নেই। উনি আমাদের রুমে কখনো নক না করে আসেন না। আর ছুটির দিনে দুপুরে যখন শাহেদকে জড়িয়ে ধরে একটু ঘুমাই, উনি কখনো নক করেন না। বিকেলে আমরা বাইরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।
আমাকে কিছু বুদ্ধি শিখিয়ে দিয়েছেন। শ্বশুর কিরকম চা- বিস্কিট পছন্দ করেন, সকাল দশটার পর পত্রিকা পড়ার সময় মনোযোগ দিয়ে উনার রাজনৈতিক এনালিসিস শুনে কিভাবে মাথা নাড়তে হবে বাধ্য ছাত্রীর মত, মাথায় কাপড় দিয়ে সামনে গেলে আদর বেশী পাব, মিলির জামা কাপড় স্ত্রি করে পরার অভ্যাস, ছুটির দিন সকালে মশলা দিয়ে চা খেতে ভালবাসে, পাশের মার্কেটে ফুড কোর্টে গিয়ে দই ফুচকা খাওয়া প্রিয় আউটিং আর প্রিয় শপিং হল পার্স কেনা৷ মিলির সংগ্রহে অন্তত ৪৭ টা পার্স আছে বিভিন্ন রঙ আর ডিজাইনের। আর শাহেদ নিজে অগোছালো হলেও চারপাশে সবকিছু গোছালো দেখতে ভালবাসে। এই কাজটা এতদিন আমার শাশুড়ি করে এসেছেন। সপ্তাহে দুইদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া অভ্যাস। এই আড্ডা নিয়ে বিরক্ত করা কিংবা মানা করা যাবে না৷ নিজ হতে ছেড়ে দিলে ভিন্ন কথা।
শুধু মাথা নেড়ে বললেন,
– শাহেদের সিগারেট খাওয়া আমি ছাড়াতে পারিনি। তুমি দেখ পার কিনা। তবে শুরুতেই এটা নিয়ে ঝামেলা বাধিও না। সময় নিয়ে সম্পর্ক আরো মজবুত হলে তারপর।
বললাম,
– আন্টি অন্যদেরগুলো তো শুনলাম। আপনার দুর্বলতা কি?
আন্টি হেসে উড়িয়ে দিলেন,
– পারলে তুমি খুঁজে বের কর। দেখি কেমন মেয়ে তুমি।
রান্নাঘরের আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখে একদিন বললেন,
– দেখ মা, আমি জানি তোমার পছন্দের কিছু রান্না করতে ইচ্ছা করে। আমি কিন্তু তোমাদের বাসার রান্না খেয়েছি। হলুদ, মরিচ বেশী দেয়, একটু ঝাল। আমাদের বাসার স্টাইল কিন্তু আলাদা। শাহেদ আর ওর বাবা খেতে পারবেন না। তুমি আপাতত চা নাস্তা বানাও, কয়েক মাসে বাসার রান্নার স্বাদ বুঝে গেলে তখন করতে পারবে।
শাহেদ অফিসে গেলে সময় কাটে না। ছাদ হতে আসা বাসার কাপড়্গুলো ভাঁজ করে রাখতে দেখে আন্টি বললেন,
– এগুলা করার জন্য মানুষ আছে। তোমার হাতে এখন সময় আছে। মাস্টার্স এ ভর্তি হয়ে যাও, একবার মা হয়ে গেলে আর মেয়েদের নিজের জন্য সময় থাকে না, তখন শুধুই অন্যদের জন্য বাঁচতে ইচ্ছা করে। পড়ালেখাটা একটানে শেষ করে ফেল। এই ভুলটা আমি করেছিলাম, মাস্টার্স আর করা হয়নি। পড়া শেষ করে কিছুদিন জব এক্সপেরিয়েন্সও নিতে পার। মেয়েদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত হওয়া জরুরী। এই যে দেখ আমি পরনির্ভরশীল, উপার্জনের কোন ক্ষমতা নেই। তবে আমি যতদিন শক্ত আছি ঘরের দায়িত্ব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। নাতি নাতনিও বড় করতে পারব, তোমার মায়ের হেল্প লাগবে না। ও মা, নাতি নাতনির কথা শুনে মেয়ের গাল দেখি লাল নীল বেগুনি হয়ে যাচ্ছে হিহিহি। আরে এক্ষুনি নিতে হবে বলিনি তো…।
লজ্জা পেয়ে পালিয়ে বাঁচলাম। আন্টি কিন্তু মুখে বলেই ভুলে যাননি, সত্যিই মাস্টার্স ভর্তির ফর্ম আনিয়ে শাহেদকে দিয়ে জমাও করিয়ে দিলেন। নাহ, এই মহিলা ছাড়ার পাত্র না একেবারেই। বছরখানেক বিয়ের আনন্দে কাটাবো ভেবেছিলাম। বেড়াবো, ঘুরব, হইচই করব। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাস পেরিয়েছে আর নতুন সেমিস্টারে ক্লাস শুরু হবে এক মাস পরেই। আবার বই নিয়ে বসতে হবে ভাবলেই গায়ে জ্বর আসছে।
ইদানিং ভাবলে অবাক লাগে, আম্মুর কাছে যাওয়া অনেক কমে গিয়েছে। শুরুর দিকে সপ্তাহে দুবার, কমতে কমতে এখন মাসে দুবারও যাওয়া হয় না। কথাবার্তা ফোনেই সেরে নেই। প্রতিদিনই আম্মুর কল আসে তবে আমাদের সংসার নিয়ে কিছুই জানতে চান না। বলেছেন, এদিকের কথা ওদিকে আর ওদিকের কথা এদিকে যাতে না করি। আমার মাঝে মাঝে বলার জন্য পেট ফুলে যায় কিন্তু কিছু একটা বলতে চাইলেই আম্মু থামিয়ে দেন। বলেন, বড় হয়েছে এবার তুমি ম্যানেজ কর। বিয়ের আগে অনেক শিখিয়েছি। আমাকে বাধ্য হয়ে অনেক কিছু আন্টির কাছে জানতে চাইতে হয়।
মাঝে অবশ্য দুই তিনবার উনার সাথে তর্ক বেঁধে গিয়েছিল। রাগ করে আম্মুর কাছে চলে গিয়েছিলাম। আম্মু ঘন্টাখানেক পাশে বসিয়ে আদর করে দিয়ে আবার ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। কদিন থাকতে চাইলেও পাত্তা দেননি। শাহেদ ফ্রি থাকলে এসে নিয়ে গিয়েছে আর ব্যস্ত থাকলে আব্বু এসে নামিয়ে দিয়ে গেছে। এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসায় লজ্জা লাগছিল কিন্তু আন্টির আচরণে ভুলে যেতেও সময় লাগেনি।
দুপুরে আমরা কেউ ঘুমাই না। আন্টি একটা টার্কিশ সিরিয়াল দেখেন। দেখতে দেখতে আমিও সেই সিরিয়ালের ভক্ত হয়ে গেলাম। বেডরুমে টিভি থাকলেও আন্টির সাথে ড্রইংরুমে বসেই দেখি। অনেক বিষয়ে তখন আন্টির সাথে আলাপ হয়। পরিবার, সমাজ, সম্পর্ক নিয়ে উনার অভিজ্ঞতা আর ব্যাখ্যা আমাকে মুগ্ধ করে।
কদিনের জন্য আমাদের বাসায় গিয়েছিলাম, আব্বুর প্রেশারটা বেড়েছে। শাহেদ এসে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে, থাকেনি। সেদিন রাতে ফোনে বলল, আন্টির বেশ জ্বর। সমস্যা নেই, প্যারাসিটামল দিয়েছে ঠিক হয়ে যাবে। পরদিন রাত এগারোটার দিকে জানাল, আন্টির ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। ক্লিনিকে ভর্তি করেছে, শরীর বেশ দুর্বল। প্লাটিলেট এক লাখের নিচে চলে এসে এসেছে, আরো নামলে হয়ত লাইফ সাপোর্ট আছে এমন হসপিটালে ট্রান্সফার করাতে হবে।
আমার বুকটা মুচড়ে উঠল। আব্বু পাশেই ছিলেন। কথাবার্তা উনার কানেও গিয়েছে কিছুটা। আমার মুখভঙ্গি দেখেই আব্বু উঠে গায়ে শার্ট চড়ালেন।
– চল মামনি, তোমাকে হসপিটালে নামিয়ে দিয়ে আসি।
আমাকে ব্যাগসহ নামিয়ে আব্বু আর দাঁড়ালেন না। বললেন, তোমার আম্মুকে নিয়ে সকালে আসব। শরীর বেশী ভাল নেই।
কেবিনে ঢুকে ব্যাগ রেখে শাহেদের পাশে বসলাম। এর আগে এতরাতে কখনো হাসপাতালে আসিনি। কারো জন্য রাত জাগিনি। আব্বু আম্মু হাসপাতালে ভর্তি থাকলে খালা, আপু আর অন্যরা সামলেছে। আমি দিনে ডিউটি করে বাসায় চলে যেতাম। শাহেদের হাত ধরে মিনতি করে বললাম,
– তোমার অফিস আছে সকালে। রাতে আমি থাকব আন্টির পাশে। তুমি এখন যাও। সকালে অফিসে যাবার সময় নাস্তা আর আমার কিছু কাপড় নামিয়ে দিও। মিলি প্যাক করে দিবে, ওকে বুঝিয়ে বলব কল করে।
আন্টি ঘুমাচ্ছেন। সাদা চাদরে শরীরটা গলা পর্যন্ত আবৃত। উনার ডান হাত ধরে পাশে চেয়ার টেনে বসলাম। অন্য হাতে স্যালাইন চলছে।
বিয়ের দিন হতে সব স্মৃতি মনে পড়ছে। কিভাবে মায়ের মত আগলে রেখেছেন শুরু হতেই। নতুন সংসার কিছুই জানতাম না, কিছুই বুঝতাম না। উনার বুদ্ধি পরামর্শ মত চলে আমি এখন শাহেদের প্রিয় ওয়াইফ, মিলির প্রিয় ভাবী আর শ্বশুরের প্রিয় বৌমা। মনে হতে লাগল এই ভদ্রমহিলা ছাড়া এই সংসারে আমি চোখে পুরোই অন্ধকার দেখব। উনাকে আমার আরো বহুবছর পাশে দরকার, আমার অভিভাবক হয়ে, মা হয়ে ছায়া দেয়ার জন্য।
কখন আমার কপোল বেয়ে অশ্রুর ধারা নেমেছে টের পাইনি। ফোঁটায় ফোঁটায় সেগুলো আন্টির হাতের উপর পড়ছিল। আমি কখনো ভাবিনি, এত অল্প পরিচয়ে মাত্র কয়েক মাসে, রক্তের সম্পর্ক নেই এমন কোন মহিলা আমার অস্তিত্ব, পরিচয় আর আবেগকে এমনভাবে ছাপিয়ে যাবেন।
উনি কখন চোখ খুলেছেন তাও দেখিনি। মৃদু হাসলেন আমাকে দেখে,
– কি রে মা, কাঁদছ কেন…
– আম্মা, আপনি আমাদের ফেলে এত তাড়াতাড়ি যেতে পারবেন না। আমি আপনাকে কোথাও যেতে দিব না।
– আমি কোথাও যাব না রে পাগলী মেয়ে। আরো অনেক বছর এই মেয়েটার সেবা নেয়া বাকি। আমার দুর্বলতা জিজ্ঞেস করেছিলে না? তোমরাই আমার দুর্বলতা। তুমি কি খেয়াল করেছ তুমি আজ প্রথম আমাকে “আম্মা” ডেকেছ। এইদিনটার জন্য আমার অনেক অপেক্ষা ছিল। ডেঙ্গুটা দেখি শাপে বর হল।
অশ্রুসিক্ত চোখে হেসে ফেললাম,
– নিয়েন সেবা দেখি কত বছর পারেন।
চারদিন পর আম্মা কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেন, ব্যাগ গুছিয়ে একসাথে আম্মাকে নিয়েই বাসায় ফিরলাম

এক পাতিল দই

 

মিষ্টির দোকান থেকে দই কিনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি এমন সময় এক গাড়ী পুলিশ এসে দাঁড়ালো আমার সামনে। গাড়ী থেকে নেমেই কয়েকটা পুলিশ সোজা বন্দুক আমার দিকে করে বললো, এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে এক্ষুনি বের করুন নাহলে আপনাকে গুলি করতে বাধ্য হবো। ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। সকাল সকাল এ কি বিপদে পড়লাম রে বাবা। ভয়ে ভয়ে বললাম, স্যার এর মধ্যে বগুড়ার দই আছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে বললাম, স্যার আমার বিয়েশাদি হয়নাই। আপনি দয়া করে বন্দুকটা বুকের দিকে অথবা মাথার দিকে তাক করে ধরুন। ওখানে গুলি লাগলে আমি আর এই জীবনে বিয়ে করতে পারবো না। ছোটবেলা থেকে আমার বিয়ে করার খুব ইচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ স্তন বড় করার উপায়

পিছন থেকে এসআই সাহেব এগিয়ে এসে বললো, মানুষের এতো ইচ্ছে থাকতে তোর এই বিয়ে করার ইচ্ছের কারণ টা কি? আমি বললাম, বিয়ের পর অনেকগুলো বাচ্চাকাচ্চা হবে। তারপর শিশুপার্কে গিয়ে এক ব্যাটার উপর প্রতিশোধ নিবো। সেদিন প্রেমিকার সাথে শিশুপার্কে গেছিলাম। এক ব্যাটা আমাদের ঢুকতে দেয়নাই। বলছে ওখানে শিশু ছাড়া ঢোকা নিষেধ।

এসআই আমার কানমলা দিয়ে বললো, পরিবার পরিকল্পনার শ্লোগান শুনিস নাই? দুইটি বাচ্চার বেশি নয়৷ একটি হলেই ভালো হয়। আমি কাচুমাচু হয়ে বললাম, স্যার বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির বেশি। সেইখানে আমার ৩-৪ বাচ্চাকাচ্চা আপনাদের কাছে বেশি হয়ে গেলো? এসআই ধমক দিয়ে বললো ,অই তুই চুপ থাক। বেশি কথা বলিস। ঐ কেউ একজন এর প্যাকেট খুলে দেখ ভিতরে কি আছে।

একজন এগিয়ে এসে প্যাকেট খুলে দেখে বললো, স্যার ভিতরে দই ছাড়া কিচ্ছু নাই।

এসআই বললো, দইটাও চেক করে দেখ। গাড়ির ভিতরে দেখ চামুচ আছে সেটা নিয়ে আয়।

কনস্টেবল একটা চামুচ এনে দই থেক এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার ফার্স্টক্লাস দই। জীবনে এমন দই খাইনাই।

এসআই বললো, কি তাই নাকি? সত্যি ভালো তো?

কনস্টেবল বললো, জ্বী স্যার। একদম খাটি দই।

এবার আমার বিশেষ যায়গায় দিকে বন্দুক তাক করে থাকা কনস্টেবল এসআইকে বললো, স্যার বউয়ের যন্ত্রণায় বাসায় মিষ্টি খাইতে পারি না। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে ওখান থেকে এক চামুচ দই খাই? খুব খাইতে ইচ্ছে করতেছে।

আরো পড়ুনঃ চুমু খাওয়ার সাতটি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

এসআই বললো, ঠিক আছে খা। তবে এক চামুচের বেশি খাবি না।

এরপর সেই কনস্টেবল এক চামুচ মুখে দিয়েই বললো, স্যার দই খেয়ে মুখের চুলকানি বেড়ে গেছে। আরেক চামুচ খাই স্যার?

এসআই বললো, ঠিক আছে খা।

এবার খেয়াল করে দেখলাম, সব পুলিশ সদস্যরাই এসআইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্থাৎ এরাও খেতে চায়।

আমি দৌড়ে গিয়ে সেই কনস্টেবলের হাত থেকে দইয়ের হাঁড়ি দুইটি কেড়ে নিয়ে বললাম, স্যার আর দই দেওয়া যাবে না। আপনার দুই কনস্টেবল আমার এক হাঁড়ির অর্ধেক দই শেষ করছে। আমি আর দই দিবো না।

এবার আরেক কনস্টেবল বলে উঠলো, ও ভাই আমারে এক চামুচ দই দেন না। এমন করেন কেন?

আমি রেগে গিয়ে বললাম, দেখেন ভাই। আমার আব্বা আমাকে এমনেই বিশ্বাস করে না। ভাববে আমি রাস্তায় দই খেয়ে হাঁড়ি খালি করেছি। আপনারা থাকেন আমি চালালাম।

এসআই সাহেব বললেন, “আজ নির্বাচন” জানো না?এসব প্যাকেট নিয়ে ঘুরলে পুলিশ সন্দেহ করবেই।যাইহোক, এটা কোথাকার দই?

আমি বগুড়ার দই বলে বাসার দিকে হাঁটতে লাগলাম। একবার পিছন ফিরে দেখি সবাই আমার হাতের দইয়ের প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবছি বাসায় গিয়ে আব্বারে কি জবাব দিমু।

বাসার প্রায় সামনে চলে এসেছি। দেখি গলির মোড়ে কয়েকজন পুলিশ সমস্যা দাঁড়িয়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম শেষ। এবার আর আমার দই নিয়ে বাসায় যাওয়া হবে না। কোনো চিন্তা না করেই দইয়ের প্যাকেট দুইহাত দিয়ে শক্ত করে ধরে দিলাম ভৌ-দৌড়।

আমি দৌড়াচ্ছি পুলিশ সদস্যরা আমার পিছে পিছে দৌড়াচ্ছে। আমি আরো জোরে দৌড়াচ্ছি। ওরাও আমার পিছু আরো জোরে দৌড়াচ্ছে। বেশকিছু দূর দৌড়ানোর পর হাল ছেড়ে দিলাম। ইতিমধ্যে উনারা আমাকে ধরে ফেললো। আবার বন্দুক আমার দিকে তাক করে বললো, সত্যি করে বল এই প্যাকেটের মধ্যে কি আছে?

আমি বললাম, আমার জীবন থাকতে বলবো না।। এর আগেরবার যে ভুল করছি সেটা আর করবো না।

একজন পুলিশ সদস্য এসে আমার কাছে থেকে দইয়ের প্যাকেট কেড়ে নিয়ে খুলে দেখে বললো, আরে এর মধ্যে তো দই।

আমি বললাম, হ্যাঁ দই।

উনি বললেন, তাহলে তুই দৌড়াচ্ছিলি কেন?

আমি রাগ নিয়ে বললাম, আপনারা মানুষের হাতে দই দেখলেই খাওয়া শুরু করেন। এই ভয়ে দৌড় দিছি।

হঠাৎ একজন পুলিশ সদস্য বললো, তোর কথা আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। চল থানায় চল।

আমি থানায় দইয়ের প্যাকেট নিয়ে বসে আছি। এরমধ্যে আব্বা এসে হাজির।

আব্বা- তুমি কি করছ? পুলিশ তোমাকে ধরছে কেন?

আমি- আব্বা আমি পুলিশকে দই খাইতে দেই নাই। তাই আমাকে ধরে নিয়ে আসছে।

আব্বা – জেলে বইসা আমার সাথে মজা করো?

আমি- আব্বা বিশ্বাস করেন আমি মজা করতেছি না।

হঠাৎ সেই এসআই এসে বললো, আরে তুই এইখানে কেন? এসআই আর আব্বাকে পরের ঘটনা সব খুলে বলতেই এসআই বললো, তোকে মুক্তি দিতে পারি এক শর্তে।।

আব্বা বললেন, কি শর্ত এসআই সাহেব?

এসআই বললেন, দইয়ের হাঁড়ি দুটো আমাকে দিতে হবে। নাহলে সাতদিন জেল খাটতে হবে।

আব্বারে বললাম, আব্বা আমার সাতদিন জেল খাটতে কোনো সমস্যা নাই। আপনি দইয়ের হাঁড়ি দুইটা নিয়ে যান।

আব্বা আমাকে ধমক দিয়ে বললো, তুই চুপ থাক হারামজাদা। এসআই সাহেব হাঁড়ি দুইটা আপনি রাখেন। তবুও আমার ছেলেরে ছাইড়া দেন।

আমি আর আব্বা থানা থেকে বের হচ্ছি। এমন সময়
এসআই সাহেব বললেন, কিছুদিন ধরে বউ রাগ করে শ্বশুর বাড়ি গেছে। আমার বউয়ের রাগ আবার বগুড়ার মিষ্টি দই ছাড়া ভাঙ্গানো যায় না।

থানার বাইরে আইসা আব্বাকে বললাম, আব্বা জোরে হাঁটেন। আব্বা বললেন, কেন? আমি বললাম, আপনি না বলছিলেন একটা টক দই আর একটা মিষ্টি দই নিতে। এরা তো মিষ্টি দইটা খাইছে টক দইটা নিচে আছে। এসআইয়ের বউ যখন টক দইয়ে মুখে দিবে তখন কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন?

হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম আশেপাশে আব্বা নাই। কিন্তু একটু দূরে চোখ রাখতেই টের পেলাম আব্বার মতো একটা লোক দৌড়ে পালাচ্ছে।

আমিও আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দিলাম দৌড়………

পূর্ব রোদ !! লেখাঃ আমিশা নূর

 


যখন আমার বয়স ছিলো দশ বছর তখন পূর্বের সাথে বিয়েটা হয়।পূর্বের মা আর মামুনি দুজন বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো।উনাদের ফ্রেন্ডশিপ রক্ষার্থে বলি হতে হয় পূর্ব আর আমাকে।ছোট বেলা থেকে পূর্বের সাথে আমার সাপ-নেউলের সম্পর্ক।আমাদের পরিবার ভেবেছিলো আমরা বড় হয়ে বিয়ের জন্য রাজী হবো না।একজন আরেকজন ঘৃণা করবো।তই আমাদের বিয়ে নামক বন্ধনে আবব্ধ করে দেয় ছোট বেলায়।তখন আমরা বিয়ে কী সেটা বুঝতাম না।আর না ভালোবাসা নামক কোনো শব্দের সাথে পরিচয় হয়।পূর্ব আমার থেকে দুবছরের বড়।আমার এসএসসি পরিক্ষা শেষ হওয়ার পর একেবারের জন্য শ্বশুর বাড়ি পাঠানো হয়।মা-বাবা আমাদের দুজনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একসাথে করে দেয়।কিন্তু আমাদের ঝগড়া আরো বেড়ে যায়।

সে কী ঝগড়া পূর্বের সাথে!এমন একটা দিনও বাদ পড়েনি যেদিন ঝগড়া হয়নি।মাঝেমধ্যে তো রাতে পূর্ব বাড়িতে ফিরতো না।তখন আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতাম।খাওয়া থেকে ঘুমানো পর্যন্ত ঝগড়াঝাঁটি-রাগারাগি করতাম।কী নিয়ে ওর প্রতি আমার এতো রাগ বুঝে উঠতে পারি না।জন্মের পর থেকে কোনোদিনও ভালো করে কথাই বলিনি।শ্বশুরবাড়িতে দুবছর কাটানোর পরও পূর্বের প্রতি কোনোদিনও আমার অন্যরকম অনুভূতি আসেনি।বরং আমাদের ঝগড়াঝাটিতে পূর্বের মা মানে আমার আম্মি অসুস্থ হয়ে 

পড়লো।এতেও আমাদের কোনো পরিবর্তন হয় নিই।দু’জন দুজনকে দোষ দিতে থাকি ছোট-খাটো বিষয়ে। বৃষ্টির দিনে রান্নাঘরে খিচুড়ি আর মাংসের ভোনা করছিলাম।বাইরে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে।আর এসময় খিচুড়ির সাথে গরুর মাংসের কালো ভোনা খেতে বাড়ির সবাই অনেক ভালোবাসে।আম্মি সুস্থ থাকলে উনিই করতেন কিন্তু সকাল থেকে আম্মির জ্বর বেড়ে গেছে।আর খিচুড়ি খেতে আম্মি বেশিই পছন্দ করেন।তাই ধেরি না করে কাজে লেগে পড়লাম। পূর্ব রোদ হঠাৎ কলিং বেলের শব্দ পেয়ে আমি দরজা খুলতে গেলাম।বাবাই এসেছে হয়তো।কারণ পূর্ব হলে একাধারে বেল বজাতো।দরজা খুলতেই বর্ষাকালের ভেজা মাঠির গন্ধ নাকে বেঁধে গেলো।চোখ বন্ধ করে সেই সুবাশ অনুভব করলাম।আমার চোখের সামনে বাবাই তুড়ি বাজিয়ে বললো, “হয়েছে মাঠির গন্ধ নেওয়া?আমাকে ঢুকতে দিবি?” “আসো।” বাড়ির ভিতর ডুকে বাবাই বললো, “আমার অতি আদরের পুত্তুর কই?” “তোমার আদের ছেলে কোথায় সেটা আমি জানবো?খবর রাখি আমি তার?কোন মেয়ের সাথে ফষ্টিনষ্টি করছে সেটা সে জানে।আমাকে কেনো জিজ্ঞেস করো তোমরা জানিনা।….” মাথার রক্ত উঠে গেলো বাবাইের প্রশ্নে।যার সাথে কোনোদিন ভালো করে কথায় বললাম তার খবর আমি জানবো কীভাবে?বাবাই’য়ের সাথে আর কথা না বলে আমি রান্না ঘরে চলে এলাম।আর বাবাই আম্মির সাথে কথা বলতে গেলো।

“শরীর কেমন লাগছে এখন?”
“আলহামদুলিল্লাহ!পূর্ব কোথায়?সকাল থেকে দেখিনি।”
“আমিও তো দেখলাম না।রোদ থেকে জিজ্ঞেস করাই ভাষণ শুনিয়ে দিলো।”
দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চিন্তিত স্বরে চাঁদনি বললো”আচ্ছা সূর্য ওদের বিয়ে দিয়ে কী আমরা খুব বড় ভূল করেছি?কেউ কাউকে দুচোখে দেখতেই পারে না।জানিনা ওদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।”
আফসোসের সুরে কথাগুলো বলে পূর্বের মা চাঁদনি চোখ বুঁজে নিলো।উনারা ভেবেছিলেন বিয়ে দিলে হয়তো ওদের মধ্যে যে দূরত্ব আছে সেটা কমে যাবে।কিন্তু হলো তার উল্টো।বাড়িতে প্রতিদিন ঝগড়া লেগেই থাকে।সূর্য মোহাম্মদ মনেমনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন।উনার কানে চেচামেচি ভেসে আসছে।তারমানে পূর্ব এসেছে।কে জানে এখন আবার কোন কান্ড করলো?চাঁদনি উঠার চেষ্টা করলে সূর্য বললো,
“চাঁদনি আমি গিয়ে দেখছি।তুমি শুয়ে থাকো।”
“আচ্ছা।”


“তোকে কতবার বলছি বেল একবার দিবি।হাজার বার বেল দিস কেন?হরিচন্দন!”
“আমার বাড়ি,আমার কলিং বেল,আমি যেমন ইচ্ছে করবো।তুই কে?এতো নাক ঢোকাস কেন?”
“কতোবার বলেছি তোকে ভদ্র ভাষায় কথা বলবি।অশিক্ষিত হরিচন্দন!..”
“নিজে কতো শিক্ষিত?তোকে বলছি না আমি তুই-তোকারি করবি না।!”
“হাজার বার করবো।তুই কোন দেশের প্রেসিডেন্ট যে তোকে সম্মান দিতে হবে?”
“আমার বাড়ির প্রেসিডেন্ট আমি।”
“আইছে!হনুমানের মতো চেহেরা নিয়ে প্রেসিডেন্ট হতে।”
“তুই আমাকে আবার ঐ নামে ডাকিস? আজকেই বাড়িতে চলে যাবো।”
“যা না তো।ধরে রাখছে কে তোরে?ব্যাগ গুছিয়ে দিবো?
“চুপ করো তোমরা!বাড়িতে একটা মানুষ অসুস্থ সেটা কী ভূলে গেছো?পূর্ব তোমাকে তোমার মা ডাকছে।”
সূর্য মোহাম্মদের কথা শুনে দুজনে নরম হয়ে এলাম।কিন্তু পূর্বের উপর থেকে এক বিন্দু রাগও কমলো না।দুজন-দুজনের দিকে ঘৃণার দৃষ্টি নিয়ে স্থান ত্যাগ করলাম।আমার স্বাদের কালো ভোনা হয়তো পুড়ে গেলো হয়তো!


। পূর্ব রোদ
” মা তুমি ডিসিশন নাও।এই বাড়ি হয় ঐ মেয়েটি থাকবে নয়তো আমি।”
“এমন করিস কেন বাবা?কী দোষ মেয়েটার?”
“ও হ্যা।কী দোষ মেয়েটার?ঐ মেয়েটা তো তোমাকে কালো জাদু করেছে!তাই না?নিজের ছেলের দোষ দেখবে এখন।”
“পূর্ব তোমার মা হয় উনি।গলা নিচু করে কথা বলো।”
“সরি বাবা।কিন্তু মেয়েটাকে আমার মোটেও সহ্য করতে পারছি না।”
“মেয়েটা মানে কে?তোমার ওয়াইফ হয় সে।”

“মানি না আমি এই বিয়ে।তোমরা আমাকে জোর করে ঐ মেয়ে আচলে বেঁধে রেখেছো।”
আড়িপেতে বাবাই,পূর্ব আর আম্মির কথা শুনছি।বাবাইকে পূর্ব একটু-আধটু ভয় পাই।এতে আমার সুবিধা বেশি।যখন-তখন সত্যি মিথ্যা বলে বাবাইয়ের বকা শুনাতে পারি।আমার তো এখন লুঙ্গি ডান্স দিতে ইচ্ছে করছে।যখন যা করতে মন চাই তখন তা করে ফেলায় শ্রেয়।আম্মিকে খাবার খাওয়াতে এসেছিলাম।কিন্তু এখন আমার ডান্স করতে মন চাইছে তাই খিচুড়ির প্লেটটা রান্না ঘরে রেখে পূর্বের রুমে গেলাম লুঙ্গি খুঁজতে।রুমে গিয়ে দেখলাম সব কিছু সুন্দরভাবে গুছানো।দেখেই আমার গা জ্বলে উঠলো।আমি মেয়ে হয়ে আমার রুম গোছানো না।আর এই হরিচন্দন ছেলে হয়ে?মাথার মধ্যে একটা সুন্দর বুদ্ধি বাসা বাঁধায় সবকিছু দু’মিনিটের মধ্যে এলেমেলো করে লুঙ্গি নিয়ে আমার রুমে চলে আসলাম।সাউন্ড বক্সে ফুল ভলিউমে “লুঙ্গি ডান্স” গানটা ছেড়ে,সান গ্লাস চোখে দিয়ে লুঙ্গিটা পড়ে নিলাম।
“লুঙ্গি ডান্স,লুঙ্গি ডান্স,লুঙ্গি ডান্স,লুঙ্গি ডান্স!”

নাচতে নাচতে যখন হাঁপিয়ে এলাম তখন চুপিচুপি লুঙ্গিটা পূর্বের বিছানায় রেখে এলাম।পূর্বের রুমে কোনোকিছু ঠিক নেই এখন।আমার তো ভেবেই হাসি পাচ্ছে যে রুম দেখে হরিচন্দনের রিয়েকশন কেমন হবে।চুপচাপ ভালো মেয়ে সেজে আম্মির জন্য খাবার নিয়ে গেলাম।এখন আমাকে দেখলে সবাই ভাববে ভদ্র মেয়ে আমি!
“আম্মি বারোটা বাজতে চললো।উঠো হালকা কিছু খেয়ে ঔষুধ খাবে।”
পূর্ব প্লেটের দিকে তাকিয়ে দেখছে কী রান্না করেছি।আজ অবধি কোনোদিন আমার রান্না পূর্ব মুখে দেয়নি।কিন্তু যেভাবে লোভার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মনে হয় চোখ দিয়েই খেয়ে ফেলবে।হঠাৎ বললো,
“কোন পেত্নী জাদু দিয়ে রেঁধেছে কে জানে।ছিঃ কী বাঝে গন্ধ!ওয়াক!ওয়াক!”
আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পূর্ব রুম ত্যাগ করলো।রাগের চোটে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলাম কিন্তু বাবাই থামিয়ে দিলো।আমিও আর কিছু বললাম না কারণ আসল মজা তো একটু পর হবে।আম্মিকে খাওয়ানো শেষ করে আমি বেরিয়ে আসছিলাম।দরজা খুলতে পাচ ফুট আট ইঞ্চি লম্বার ষাঁড়ের মাথায় ব্যাথা পেলাম।
“গেলো রেএএএ।আর এতো যত্নে গড়া কিউট কপালটা ষাঁড়ের মাথায় লেগে মান-সম্মান সব হারালো।”
ব্যাথা পাওয়া যায়গায় হাত দিয়ে কচলাতে কচলাতে চোখ তুলে আবারো বললাম,
“তুই চোখে দেখোস না?কারে ধার দিয়া আইলি তোর চোখ?”
“চুপ!তুই আমার রুমে গেছিলি?”
“তোর রুমে যেতে আমার ঠেকা পরে নাই।তোর রুমে যাইতাম কেন আমি?”
পূর্বের রুমে আমি কোনোদিন যায় না।তাই পূর্বের কাছে কোনো প্রমান নেই ওর রুমের ঐ দশা আমি করলাম।
“তাইলে কে গেছিলো আমার রুমে?সকালে সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছিলাম আর এখন দেখি সব এলেমেলো।”
“তুই রুম গোছানো শুরু করেছিস কবে থেকে?”আধশোয়া অবস্থায় আম্মি প্রশ্ন করলো।সাথে সাথে বাবাই আর আমি ফিক করে হেসে দিলাম।কারন পূর্ব নিজের রুম কোনোদিন গোছায় নিই।সবসময় আম্মি গুছিয়ে রাখতো।গত কয়েকদিন ধরে আম্মি অসুস্থ থাকায় এখন সে নিজে গুছিয়েছে।
“মা আমি সত্যি রুম গুছিয়ে রেখেছিলাম।” পূর্ব রোদ
“তাহলে এলোমেলো কে করবে?রোদ তো সকাল থেকে রান্না করে।আর আমি বাইর থেকে আসলাম তোর আসার আগে।”
“আমি জানি সব এই জাদুমন্ত্রী’র কাজ।কোনো এক ফাঁকে গিয়ে করেছে।”
“মোটেও আমার দোষ দিবি না।তোর রুমে যায় না আমি।”
“লুঙ্গি বের করছে কে আমার রুম থেকে?এক বছর আগে পরতাম আমি লুঙ্গি।সব তুই করছিস।”
“বাবাই তোমার ছেলেকে বুঝিয়ে দাও কোনো মেয়ে লুঙি পরে না।ধ্যাত আমারই টাইম ওয়েস্ট হচ্ছে পাবনার পাগলের সাথে কথা বলে।সরো তো..সরো.”
পূর্বকে ডিঙিয়ে আমি ড্রয়িংরুমে চলে এলাম। আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম পূর্ব রেগেমেগে আমার রুমে যাচ্ছে।নিশ্চয় আমার জিনিসপত্র এলোমেলো করতে যাচ্ছে।আমি পায়ের উপর পা দিয়ে পূর্বের পরের কাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম।



পূর্ব রোদের রুমে গিয়ে দেখে সব কিছু আগে থেকে এলোমেলো।রেগে গিয়ে পূর্ব পাশের ফুলদানি ভেঙ্গে ফেললো।মাঝেমধ্যে পূর্বের ইচ্ছে করে রোদকে খুন করে ফেলতে কিন্তু তার বাবা-মার জন্য তার ইচ্ছাকে চেপেরেখেছে।কেনো যে রোদের সাথে তার বিয়েটা হলো?পূর্ব মনে মনে ঠিক করে নিলো সে পালিয়ে যাবে।
(চলবে)
@ পূর্ব রোদ 🌿
#আমিশা_নূর
বি.দ্রঃভূলক্রটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।কার কাকে ভালো লেগেছে জানাবেন।#রোদ নাকি #পূর্ব

আজকের গল্প - আকাশ ও নাবিলার অসমাপ্ত ভালোবাসা

 


 ফেইসবুক এর প্রতি আকাশের দুর্বলতাটা বরাবরই একটু বেশী। ফেইসবুকে চ্যাট আর এটা-ওটা করেই দিন চলে যেতো তার। বন্ধুদের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে আর গল্প করেই সে সব চাইতে বেশী সময় কাটাতো। কিন্তু যখন ফেইসবুক বন্ধুরা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকতো আর যখন গল্প করার জন্য কোনো বন্ধুকে অনলাইনে পাওয়া যেতো না তখনই আকাশের জীবনে নেমে আসতো একাকীত্বের ঘোর অন্ধকার।
এইভাবেই আকাশের সময় চলে যাচ্ছিলো তার নিজস্ব গতিতে। একদিন তার এক বোনের স্ট্যাটাসে আকাশ কমেন্ট করছিল । সেই স্ট্যাটাসেই আকাশের সাথে পরিচয় হয়েছিল নাবিলার সাথে। পরিচয়ের পর থেকেই আকাশ নাবিলার জন্য মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লো। তার মনের অজান্তেই সে নাবিলাকে ভালবাসতে আরম্ভ করেছিল। কেন যেন আকাশের মনে হতো নাবিলাই আকাশের সেই স্বপ্নের রাজকন্যা যার জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।


নাবিলাকে ফেইসবুকে এক মুহূর্ত না দেখে সে থাকতে পারতো না। শুধু একদিনের জন্য নাবিলা ফেইসবুকে আসেনি। সেই দিন তো আকাশের মনের আকাশে ভয়ঙ্কর কালো মেঘ জমেছিল যা শেষ পর্যন্ত অঝোর ধারায় আকাশের দুই চোখকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো। নাবিলার প্রতি আকাশের আবেগ ও অনুভূতি দিনদিন বেড়ে যেতে লাগলো। নাবিলার কিছু আচরণ আকাশকে আরো বেশী ভালবাসতে বাধ্য করল।

কিন্তু মেয়েদের মন বোঝা যে বড় কঠিন। তাই সে দ্বিধায় ভুগতে লাগলো । নাবিলার এই সব আচরণ কি আকাশের প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ? নাকি শুধু মাত্র বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ? সেই সব ব্যাপার আকাশকে খুব ভাবিয়ে তুলেছিল। অবশেষে আকাশ সিদ্ধান্ত নিল সে তার মনের সব না বলা কথা নাবিলাকে জানাবে। তার স্বপ্নের রাজকন্যাকে একদম নিজের করে নেবে।

সেই দিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। সেই সাথে সেই দিন আকাশের মনটাও ছিল ভালো। তাই আকাশ সেই দিনই তার না বলা সব কথা নাবিলাকে ফেইসবুকে মেসেজ করে জানালো। নাবিলার উত্তরের জন্য আকাশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো। কবে সে তার রাজকন্যার মুখ থেকে সেই বহুল আকাংক্ষিত কথাটা শুনতে পাবে?
আকাশের মনে সব না জানা কথা হানা দিতে লাগলো। অবশেষে সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফেইসবুকে লগ ইন করা মাত্র দেখল নাবিলার মেসেজ। অধীর আগ্রহে ভয়ে ভয়ে ইনবক্স ওপেন করলো আকাশ। নাবিলার উত্তর ছিল ঠিক এই রকম – wow……..what a real life joke!!

নাবিলার এই উত্তরকে আকাশ কি ভাবে নেওয়া যায় ভেবে পাচ্ছিলো না। আকাশ নাবিলাকে বিভিন্নভাবে বোঝালো যে এটা কোনো জোকস না। নাবিলা শেষ পর্যন্ত আকাশের মনের অবস্থা বোঝার পর কি করবে ভেবে পাচ্ছিলো না। অবশেষে নাবিলা সিদ্ধান্ত নিল আকাশকে সে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিবে।

আকাশ আবার সমস্যায় পড়ে গেলো। কি করে যে সে নাবিলাকে বোঝাবে সে তাকে অনেক অনেক বেশী ভালবাসে?? আকাশ আবার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে লাগলো। নাবিলা এর পর সে ব্যাপারে আর হ্যাঁ বা না কোনটাই বললো না।
ফেইসবুকে মেসেজ দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে এই ভাবেই আকাশ এর স্বপ্নটা একটু একটু করে বড় হতে লাগলো। দিনদিন নাবিলাকে নিয়ে আকাশের ভয়ও বেড়ে যেতে লাগলো। যদি সে তার স্বপ্নের রাজকন্যাকে হারিয়ে ফেলে। নাবিলাকে ছাড়া যে ওর জীবনটা অপূর্ণ থেকে যাবে।
এইদিকে নাবিলার প্রথম বর্ষের পরীক্ষা সন্নিকটে। নাবিলা ওর প্রথম বর্ষের পরীক্ষার জন্য এক মাস ফেইসবুক আর মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ রাখবে বলে জানালো আকাশকে। সেই কথা শুনার পর তো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আকাশ। নাবিলার কাছ থেকে সেই বার আকাশ তার ভালোবাসার কিছুটা সাড়া পেয়েছিল। সেই একমাস আকাশ খুব কষ্টের মধ্যে কাটালো। সারাক্ষন নাবিলাকে হারানোর ভয় কাজ করতো আকাশের মনে।
নাবিলার মধ্যে ওর প্রতি সামান্য অনুভূতি কাজ করছে দেখলে আকাশের মনে হতো পৃথিবীটা অনেক অনেক সুন্দর । নাবিলা একবার ফিরে তাকালে আকাশের জীবনটা অনেক সুন্দর হয়ে যেতো। কিন্তু নাবিলার সামান্য অবহেলা আকাশের দুই চোখকে কান্নার জলে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো। আকাশের জীবনে নেমে আসতো অমানিশার অন্ধকার। সারারাত এটা-ওটা চিন্তা করেই আকাশ দীর্ঘ রাত পার করে দিতো। নাবিলার মুখ থেকে একটিবার ভালবাসি কথাটা শুনার জন্য মন ছটফট করতো।

ভাবতে ভাবতে আকাশের রাত কেটে যেতো। কোনো ভাবেই দুই চোখের পাতা এক করা যেতো না আকাশের । ইতিমধ্যে নাবিলার বেশ কয়েকটা পরীক্ষা শেষ হল । পরীক্ষার মাঝখানে নাবিলা আকাশের কথা ভাবতো । আকাশ কি আমাকে সত্যি ভালবাসে নাকি অন্যকিছু ? এই রকম কিছু প্রশ্ন নাবিলার মনের মধ্যে উঁকি দেয় । সেই সব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য নাবিলা সাহায্য নিলো আকাশের ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা নাবিলারই এক বান্ধবির ।

আনিকা তুই কি আমাকে একটু হেল্প করতে পারবি ? ও হে , আকাশের ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা নাবিলার সেই ফ্রেন্ড এর নাম ছিল আনিকা । নাবিলা তার মনের মধ্যে উঁকি দেওয়া প্রশ্ন গুলোর উত্তর আনিকার কাছ থেকে পেয়ে গেলো । উল্লেখ্য যে , আকাশ নাবিলাকে যে ভালবাসে সেটা আনিকা খুব ভালো ভাবেই জানতো কারণ আকাশ আনিকার সাথে নাবিলাকে ভালোলাগার অনেক কথা শেয়ার করতো । সেই সব প্রশ্নের উত্তর জানার পর নাবিলার চোখে জল এসে গেলো। নাবিলা আকাশকে মিস করতে লাগলো। সে সিদ্ধান্ত নিল পরীক্ষার পরেই সে আকাশকে তার মনের কথা জানাবে।

নাবিলা পরীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনতে লাগলো । এইভাবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর আকাশ একদিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো । ১০৫ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে আকাশকে ভর্তি করা হলো মেডিকেলে । ওইদিকে নাবিলা তার প্রথম বর্ষের বাকী পরীক্ষা গুলোর প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত ।


পরীক্ষার চাপে ফেইসবুকেও আসে না নাবিলা । মুঠোফোনও বন্ধ । অনেক কষ্টে নাবিলার কলেজের এক বান্ধবির মাধ্যমে নাবিলাকে আকাশের অসুস্থ হওয়ার নিউজটা জানানো হয়েছিল । জ্বর নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তার আকাশকে বেশ কিছু টেস্ট দিলো । আকাশের মা-বাবা তাকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো । টেস্ট গুলো দেওয়ার সময় ডাক্তার খারাপ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল ।


টেস্ট গুলোর রিপোর্ট হাতে আসার পর আকাশের বাবা মায়ের মাথায় পৃথিবীর আকাশটাই যেন ভেঙ্গে পড়লো। আকাশ ব্রেইন টিউমারে ভুগছিল গত এক বছর থেকে । এক বছরের মাথায় রোগটা ধরা পড়েছিল । জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ গুলো এটারই বহিঃপ্রকাশ । আকাশের কি হয়েছিল সেটা আকাশকে বলা হয় নি । কারণ সেটা শুনলে আকাশ এর মানসিক আর শারীরিক অবস্থা আরো বেশী খারাপ হয়ে যেতো ।

তাই আকাশের যে ব্রেইন টিউমার হয়েছিল সেটা আকাশকে জানানো হল না । তবে ওর বন্ধুদের জানানো হয়েছিল খুব সতর্কতার সাথে । আকাশের রিপোর্টের কথা তার বন্ধুরা শুনে কেউ কান্না থামিয়ে রাখতে পারলো না । আকাশের নিউজটা শুনার পর পরীক্ষা শেষে নাবিলা জলদি আকাশকে দেখতে এলো ।

নাবিলা আকাশের সবকিছু শুনে নিজেকে খুব অপরাধী মনে করলো । ও যে মনে মনে আকাশকে অনেক বেশী ভালবেসেছিল সে কথাও যে তাকে বলা হলো না । কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো নাবিলা । সে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলো তার জীবনের বিনিময়ে হলেও যেন আকাশের জীবন ভিক্ষা দেয় । কিন্তু নির্মম মৃত্যু আকাশকে সবার কাছ থেকে চিরদিনের জন্য কেড়ে নিলো । নাবিলা যে অনেক বেশী দেরী করে ফেলেছে সেই কথা অবশেষে সে বুঝতে পারল

ঝরা ফুলের বাসর


 

দরজাটা খোলা রেখে জামাটা চেঞ্জ করছিলাম। পেছনের থেকে কারও হাসির কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে ঘুরে তাকিয়ে হৃদ ভাইয়াকে দেখতে পেলাম।দরজার কোণ ঘেঁষে শরীর এলিয়ে দিয়ে উল্টো ঘুরে দাড়িয়ে আছে সে।আর আমি লজ্জায় মাথাটা নিচু করে আছি।কিছুক্ষণ পর যখন বুঝতে পারলাম ফোনে কথা বলে হাসছে সে।তখন একটা স্বস্তির নিশ্বাস ছেড়ে রুমের আলোটা নিভিয়ে দিলাম।জামাটা হাতিয়ে নিয়ে পেছনে ঘুরতে যাবো অমনি ভারি কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে যেতে নিলাম।এমন সময় কেউ আমার কোমড়টা চেপে ধরলো।আর আমি জমে একদম শক্ত হয়ে রইলাম।কিচ্ছু বললাম না।তার নিশ্বাসগুলো পরছে একদম আমার বুকে।কোমড় থেকে উঠিয়ে হাতটা হালকা একটু উপরে আনতেই আমি ঠেলে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিলাম তাকে।সে বলে উঠলো, -আচ্ছা ফুল এতো খালি খালি লাগছে কেন? তুই কি এখন মর্ডাণ মেয়েদের মতোন ছোট ছোট কাপড় পরা শুরু করেছিস নাকি? সো ব্যাড ফুল।এটা কিন্তু একটুও আশা করিনি তোর থেকে। হৃদ ভাইয়ার মুখে এমন কথা শুনে আমি চুপসে রইলাম।মনে মনে ভাবতে লাগলাম কি বলছে এসব হৃদ ভাইয়া?

 

 সুযোগ বুঝে জামাটাও একটানে গলাতে ঢুকিয়ে দিলাম।অন্ধকারে উল্টো জামা পরে লাইটটা অন করলে আমাকে টেনে ঘুরিয়ে নিলেন নিজের দিকে।আমার মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে হৃদ ভাইয়া।বাতাসে উড়তে থাকা চুলগুলো কানে গুজে দিয়ে আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার ভালো করে দেখে নিয়ে বললেন, -না তো! তুই একটুও মর্ডাণ হোস নি। কত্ত কিউট লাগছে তোকে।উম্ম..ম্ম.. বলেই থেমে গেলো।আমাকে ছেড়ে দিয়ে দূরে এসে দাড়িয়ে রইলো। আমি ভ্রু উঁচিয়ে জানতে চাইলাম, -উম্ম..ম্ম কি? -কিছু না। আমি বিস্ময় নিয়ে আবারও জানতে চাইলাম, -কিছু না মানেটা আবার কি? হৃদ ভাইয়া এদিক ওদিক তাকিয়ে আমাকে ঘুরিয়ে আয়নার সামনে এনে দাড় করালেন।আঙুল উঁচিয়ে চোখের ইশারায় সামনের দিকে দেখিয়ে বললেন, -বারো বছর আগে তো এমন উল্টো জামা পরতি না। কথাটা শুনে চোখ তুলে আয়নাতে নিজেকে দেখে বুঝতে পারলাম আমি সত্যি অন্ধকারে জামাটা উল্টো পরে ফেলেছি।লজ্জায় আর কিছু না বলে ছুটে ঢুকে গেলাম ওয়াশরুমে। ওহহো আমার কপালটাই খারাপ।যা করতে যায় তাই উল্টো হয়ে যায়।এতো বছর পর হৃদ ভাইয়া ডাক্তার হয়ে দেশে ফিরবেন বলে কাকিমা অনেক বড় একটা পার্টির আয়োজন করেছেন আজকে।খুব সুন্দর একটা ড্রেসও দিয়েছেন আমাকে।আমার ফুটো কপাল যে একটা কাজও ঠিকভাবে করতে পারি না।ওদিকে নূর আপু! সব কাজ পার্ফেক্টভাবে করে। -কিরে ফুল হলো তোর? ওইযে নূর আপু এসে গেছে।আর আমি এখনও সাজতেও পারলাম না।এইতো এখনো সেই কথাই বলে চলেছি।উল্টো জামা পরে। -এই মেয়ে এই দরজাটা খুলবি? যাবি না তুই? দেরি হয়ে যাবে তো। দরজাটা খুলে বললাম আমি, -আপু এতো চিৎকার করো না।দেখছো তো আমি রেডি হচ্ছি।আর একটু সময় দাও আমি আসছি। আপু আমার কান টেনে ধরে বলে উঠলো, -উল্টো জামা পরে যাওয়ার প্লান করেছিস নাকি? আপুকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজাটা লক করে বললাম, ঝরা ফুলের বাসর -যাও না আপু আমি আসছি। তাড়াহুড়ো করে জামাটা ঠিক ভাবে পরে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক দিয়ে এসে দেখি পার্টির দৃশ্যই পাল্টে গেছে।এমন ডেকোরেশন বাভাগো জীবনেও দেখিনি।কত্তসুন্দর বড় বড় লাইট বসিয়েছে সারা বাড়িতে।খাবারের আইটেম গুলোও আমার পছন্দের মেনু।উরে আম্মা চকোলেটও আছে দেখি।ছোট বড় কত রকমের চকোলেট।এতো খুশি লাগছে যে কি বলবো।মনে হচ্ছে এই পার্টি আমার।যাক সবাই পার্টি করুক।আমি গিয়ে চকোলেটগুলো সাভার করিগে।

নরম নরম সব আমার পছন্দের ফেভারের চকোলেট।খেয়ে সারা মুখ ভাসিয়েছি।হালকা ঝিকিমিকি আলোয় ডিজে সঙগে ড্যান্স করছে সবাই।হঠাৎ আমার সামনে এসে কেউ বসে পরলো।অন্ধকারে আবছা আলোয় মুখটাও দেখতে পারছি না।চোখদুটো হাত দিয়ে টেনে বড় করে মুখটা এগিয়ে দেখতে গেলে আমার চুলের ভাজে হাত ডুবিয়ে দিলো।হালকা আলো এসে পরলো তার মুখে।দেখতে পেলাম হৃদ ভাইয়ার মুখটা।আমি কিছু বলতে যাবো আমার ঠোঁটদুটো নিজের দুই ঠোঁটের মাঝে আবন্ধ করে ফেললো সে।আমার মুখে লেগে থাকা চকোলেট চুষে খেয়ে নিয়ে চোখের দিকে আগালো।মুচকি হেসে আস্তে করে বলল, ঝরা ফুলের বাসর
-হাত দিয়ে চোখ টেনে ধরেছিলি।তোর চোখেও চকোলেট লেগে আছে।
সঙ্গে সঙ্গে এক ধাক্কায় দূরে সরিয়ে দিয়ে হৃদ ভাইয়ের গালে বসিয়ে দিলাম এক চড়!
শার্টের কলারটা টেনে ধরে ঝাকিয়ে বললাম আমি, ঝরা ফুলের বাসর
-আপনি না ডাক্তার? আপনার চরিত্র এতো খারাপ? এতোটা নিচ মানুষিকতা? আমাকে আপনি….কি করে? ছিঃ
আমি মুখ ঘুরিয়ে নিতেই গালটা ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বললেন আমায়,

-ফুল আমার কথাটা একবার বলতে দে।
আমি নিজের স্বর্ব শক্তিটুকু দিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বললাম, ঝরা ফুলের বাসর
-ঘৃণা হচ্ছে আমার আপনাকে দেখলেই। আর কখন আমার সামনে আসবেন না।
ছুটে আমি নিজের রুমে চলে এসে দরজাটা ভেতর থেকে লক করে দিলাম।আয়নার সামনে দাড়িয়ে টিস্যু দিয়ে নিজের মুখ মুছতে লাগলাম।আর দুনিয়ায় যতো গালি আছে সব দিতে থাকলাম।কিছুক্ষণ পর দরজায় নক পরতেই পানির জগটা উঠিয়ে নিয়ে দরজা খুলেই মারলাম ছুড়ে।সম্পূর্ণ পানিটা এসে পরলো নূর আপুর মুখের উপর।
চলবে,,,

 

শূন্যতায় অস্তিত্ব !! লেখাঃ তাজরীন খন্দকার

 


শূন্যতায় অস্তিত্ব

_কেমন টিউটর রাখছো আম্মু? পড়াতে এসে দেখো মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত! যদি স্টুডেন্ট রেখে ফোনে মনোযোগ থাকে, তাহলে শিখাবে কি? শুধু শুধু এতোগুলো টাকা দাও।
পাশের রুমে এমন কথা শুনে আমি চমকালাম, হাতের ফোনটা টেবিলে রেখে শোনার চেষ্টা করলাম এরপর কি বলছে। কণ্ঠটা এই বাসায় অপরিচিত একদম, এই বাসায় দেড় মাস ধরে টিউশনি করছি কিন্তু এরকম আওয়াজের কোনো মানুষ দেখিনি৷ কথার মধ্যে প্রচন্ড রাগ বুঝা যাচ্ছে। আন্টি কিছুটা নরম স্বরে বলতে লাগলো,
___ এতদিন পরে বাসায় আসছিস, ওইদিকে কেন তাকাচ্ছিস বলতো?
সাথে সাথে একটু মেজাজের সাথে ছেলেটা উত্তর দিলো,
___মাইনে দিয়ে টিউটর রাখছো না? তাহলে ঠিকঠাক পড়াচ্ছে কিনা এগুলো খেয়াল করবেনা?
তারপর কোনো আওয়াজ শুনলাম না৷ হয়তো ভেতরের রুমে চলে গেছে। আমি ভেবেছিলাম আন্টি কিছু বলবে কিন্তু তিনি আমার সম্পর্কে পজিটিভ কিচ্ছু বললো না। এই রুমের জানালার পাশ দিয়ে অন্য রুমে যেতে হয়, উনি হয়তো পেছন থেকে আমাকে ফোন চালাতে দেখে গেছে। আমার অজান্তেই খারাপ লাগতে লাগলো। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল বারবার।
আমার স্টুডেন্ট ইয়াসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ক্লাস নাইনে পড়ে সে, কোনো কিছুই তার বুঝার বাইরে না। আমি বুঝতে পারছিলাম না এখন আমার কি বলা উচিত। ইয়াসকে আমি এই কয়দিন টাকার চুক্তিতে পড়াইনি। আমার সামনে ফাইনাল ইয়ার পরিক্ষা তারপরও ওকে আমি এতো সময় দিচ্ছি। এখন টাকার প্রসঙ্গ আসছে যেহেতু তাহলে এই টিউশনিটাই ছেড়ে দিবো।
হাত মুঠো করে আস্তে আস্তে আমি উঠে দাঁড়ালাম।
বাম দিকে আন্টির রুমে যেতে যেতে আচমকা ঝাপসা চোখে কাউকে সামনে দেখে সরে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার সাথে সাথে ছেলেটাও থেমে গেলো, শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে রুম থেকে বের হয়েছিল, আমাকে দেখে থামলো কেন বুঝতে পারলাম না। চোখ নিচু করেই অপেক্ষা করছিলাম সে চলে যায় কিনা। কিন্তু গেলোনা, উল্টো আমার এপাশ ওপাশ কিছুক্ষণ ঘুরে বলে উঠলো,

___প্রীলি তুমি এখানে?
আমি এবার খুব পরিচিত একটা স্বরের সন্ধান পেলাম। চমকে উঠে তার চেহেরার দিকে তাকিয়েই আমি শিউরে ওঠলাম, অস্পষ্টতায় ভেতরেই শব্দটা উচ্চারণ হলো, তিয়াস! একটু একটু করে সরে গিয়ে পেছনে একবার তাকিয়ে কিছু না বলেই আন্টির রুমে চলে গেলাম। গিয়ে বলে আসলাম এই টিউশনিটা করা সম্ভব নয়।
আন্টির প্রশ্নবদ্ধতায় এটাও বলেছিলো তার বড় ছেলের কথা শুনে ছেড়ে দিচ্ছি কিনা। আমি এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে নিজের পরিক্ষার বাহানায় কোনো রকম চলে আসলাম। আন্টির কোনো কথাকেও পাত্তা দিলাম না, আবার তিয়াস পেছন থেকে কিছু বলতে চাচ্ছিলো,সেটাও শুনলাম না।
রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম আর বারবার কপালের মিহি ঘামগুলো ওড়না দিয়ে মুছে দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছিলাম,ঠিক তিয়াসের মতো!
রুমে এসে ব্যাগটা রেখে বিছানার উপর সোজা হয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে রইলাম। উপরের ফ্যানের সাথে মাথাটাও যেন চক্রাকারে ঘুরছে। এতোদিন ওই বাড়িতে আছি অথচ আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি ওটা তিয়াসদের পরিবার। জানলে কখনোই আমি ওই বাড়িতে পা রাখতাম না। আমি ওই পরিবারকে দেড় মাসে চিনেছি এবং জেনেছি, কিন্তু শুধুমাত্র তিয়াসকে চিনতাম বহু বছর আগ থেকেই, তখন তার বাবা-মা পরিবার সম্পর্কে কিছু জানতাম না, জানতে চাইও নি।
সে একটুও শুধরায় নি, নাহলে টিউটরকে পাশের রুমে রেখে এরকম ব্যবহার কি করে সম্ভব?

ওইদিকে তিয়াস অনেক্ষণ যাবৎ রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ তার মনে হলো, সে এসে প্রীলিকে শুনিয়ে ফোন চালানো নিয়ে বাজেভাবে কথা বলছিল। এইজন্য প্রীলি টিউশন ছেড়ে দেওয়ার জন্য তখন তার মায়ের রুমে যায়নি তো? তিয়াস তারাহুরো করে বের হতেই দেখলো তার মা তার সামনে। তাকে দেখেই উনি বললেন,
___চল খেতে আয়। আর শুন তুই আসছিস যেহেতু আজ থেকে ইয়াসকে তুই-ই পড়াবি।
তিয়াস বিরবির করে বললো,
___তার মানে প্রীলি টিউশন ছেড়ে দিয়েছে?
তিয়াসের মা কিছুটা অবাক হয়ে বললো,
___ কিরে প্রীলি কে? লিয়ার কথা বলছিস?
তিয়াস অপ্রস্তুত হয়ে বললো,
___প্রীলিয়া থেকে আমি প্রীলি বলছি আর তুমি লিয়া বলছো। একই তো।
এবার তিয়াসের মা রোজিনা বললো,
___ছাড়বেনা তো কি করবে? এভাবে বলে কেউ? সে টাইম ধরে এক ঘন্টা, আধ ঘন্টা পড়ায় না বুঝলি? তোর ভাই যে গাধা ওরে বসে সব পড়া শিখাইয়া তারপর যায়। এতো সময় মেয়েটা কি করবে বলতো? তাই ফাঁকে ফাঁকে একটু ফোন চালাতো। একমাসের পড়ানোতেই ইয়াসের দ্বিতীয় সাময়িকের রেজাল্ট কতো ভালো হয়েছে জানিস? কালকেই রেজাল্টশিট আনলাম।

তিয়াস চোখ দুটো বন্ধ করে মাথায় একটা হাত রেখে বললো,
___ আমাকে আগে জানানো উচিত ছিল না? আমি কি জানি যে নতুন টিউটর নিছো? তাছাড়া এই মেয়ে আসছে জানলে বিশ্বাস করো, না পড়াইয়া শুধু মোবাইল চালালেও আমি চলে যাওয়ার কথা বলতাম না। উল্টো আমার পক্ষ থেকে বেশি বেতন দিয়া বলতাম বছর বছর ওকেই রাখো।
তিয়াসের মা ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
___লিয়াকে আগে থেকেই চিনতিস? নাকি দেখে ভালো লেগেছে?
তিয়াস আড়চোখে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে একটু মিটমিটিয়ে হেসে সেখান থেকে চলে গেলো। তিনি ছেলের এমন হাসিতে ধরে নিলেন লিয়াকে দেখার পরে ভালো লেগেছে হয়তো। তিয়াসের মা রোজিনাও এইকয়দিনে লিয়াকে খুব পছন্দ করেন৷ শ্যামলার মধ্যে উজ্জ্বল গায়ের রঙ লিয়ার, চোখ দুটো যেন শুধু মায়া দিয়েই সৃষ্ট হয়েছে। সে আহামরি সুন্দরী নয়। কিন্তু চিমচাম গড়ন আর মিষ্টভাষী আচরণে না চাইলেও যে কেউ মায়ায় পড়ে যাবে। প্রীলিয়া নামটা উনার কাছে কঠিন মনে হয় বলেই তিনি শেষের দিকের সহজ শব্দটা উচ্চারণ করে শুধু লিয়া ডাকেন। লিয়া ডাকতে ডাকতে এখন প্রীলিয়ার পুরো নামটাও ভুলে গেছেন। এমনিতেও তিয়াস ছাড়া সবাই-ই লিয়া বলে ডাকে।

সন্ধ্যা নেমে আসলো, আমি এখনো বিছানা থেকে উঠিনি। দুপুরে তাড়াহুড়োতে খেয়েও যাইনি। মাগরিবের আজানের সাথে সাথে আমার রুমমেট প্রভা রুমে এসে লাইটের সুইচ দিয়েই হিজাব খুলতে খুলতে পরিশ্রান্ত স্বরে বললো,
___,কিরে লিয়া অসময় ঘুমাচ্ছিস! রুমও অন্ধকার, কোনো সমস্যা হয়েছে? অসুস্থ বোধ করছিস নাকি?

আমি এক হাত ভর করে আস্তে করে উঠে এলোপাতাড়ি হয়ে থাকা চুলগুলোকে খোঁপা করে গিয়ে ভাতের পাতিল তুলে দেখলাম সকালের রান্না ভাত একদম ভিজে উঠেছে। এগুলো ফেলে দিয়ে ভাত বসালাম।
হাতমুখ ধুয়ে এসে দেখলাম প্রভা তার খুব কাছের একজন ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে। প্রভা যখন তার এই ছেলে বন্ধুটার খুব প্রশংসা করে আমি কেন জানি অসহ্য একটা অনূভুতি আঁচ করি। তারপরও কোনো রকম এই বিষয়টা এড়িয়ে যাই। আমার কাছে ছেলে আর মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব শব্দটা খুব বিষাক্ত লাগে। আজকে ওর কথার মাঝেই আমি বলে উঠলাম,
___ প্রভা এই শহরটা অনেক ছোট নারে?
প্রভা ফোনের স্ক্রিন সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
___ ছোট মনে হয় তোর? আজ পর্যন্ত বাসা, ইউনিভার্সিটি, আর দুইটা টিউশন ছাড়া কোথাও গিয়েছিস? কীভাবে জানিস এই শহর ছোট?
আমি মুখ মুছতে মুছতে ওর দিকে তাকিয়ে কৃত্রিম একটা হাসি দিয়ে বললাম,
___ কথা বল তোর ফ্রেন্ডের সাথে।
সন্ধ্যারাতেই খেয়েদেয়ে পড়তে বসলাম। প্রচুর পড়ালেখা করতে হবে। পারিবারিক কাঠামোর বাইরে নিজের একটা পরিচয় বানানো আমার জন্য আবশ্যক।
মন বসছিলো না, তাও জোর করে পড়ার চেষ্টা করছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই ফোনের রিং বেজে ওঠলো। আমি স্ক্রিনে তাকাতেই চমকে উঠলাম, স্টুডেন্টের মা, মানে তিয়াসের মায়ের নাম্বার থেকে ফোন। এর আগে উনার নাম্বার থেকে অসংখ্য ফোন এসেছে কিন্তু আজকের মতো এমনভাবে চমকাইনি। ফোন রিসিভ করতে আমার হাত কাঁপছিলো। ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে আন্টি বলতে লাগলো,
___লিয়া তুমি আমাকে এতো দিনেও চিনলেনা? আজ পর্যন্ত আমি কি কখনো তোমাকে মন্দ বলেছি? তোমার পরিক্ষা থাকলে তুমি সময় নিবে, তারপর পরবর্তীতে আবার পড়াবে৷ কিন্তু হুট করে টিউশন ছেড়ে দিবার সিদ্ধান্ত কেন নিলে? তিয়াসের কথার উপরে রাগ করে তো? তাহলে কাল আসো, ওকে দিয়ে সরি বলাবো।
আমি থতমত খেয়ে বললাম

___ না না আন্টি সরি বলতে হবে না। তাছাড়া উনি তো খুব মেধাবী, কিছুদিন উনি পড়াক। তারপর চলে গেলে নাহয় আমি আসার চেষ্টা করবো।
ওপাশে কিছুক্ষণ বিরবির করে শব্দ হলো, তারপর আন্টি বললো,
___আচ্ছা তা বুঝলাম। কিন্তু তিয়াস তোমাকে সরি বলতে চায়। তুমি কি ওর সাথে দেখা করতে পারবে?
আন্টির কথা শুনে আমি আশ্চর্য থেকেও আশ্চর্য হলাম। তিনি কিনা মা হয়ে ছেলেকে দিয়ে একটা অচেনা মেয়েকে সরি বলানোর সুপারিশ করছেন। আমার কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি ঠিকাছে বলে কেটে দিলেও আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তার মানে কি তিয়াস আমার ব্যপারে ওর মা’কে সব বলে দিয়েছে?
যদি বলে দিয়ে থাকে তাহলে আমি এই মুখ নিয়ে কি করে আর আন্টির সামনে যাবো?
আন্টি আমাকে খুব ভালো জানেন, তিনি কি করে মানতে পারবেন আমার ভুলের জন্য হয়ে যাওয়া এতকিছু?
না না আমি কিছুতেই আবার অতীত ফিরিয়ে আনবোনা। সব ভুলে গেছি আমি, আমারই ভুল ছিলো, তাই সেসব ভুলগুলোকে ৪ বছরের ন্যায় এবারও আমাকেই শুধরাতে হবে। আমি আবার উধাও হয়ে যাবো৷
পেছনের দরজার সামনে গিয়ে বারান্দায় দেখলাম প্রভা এখনো কথা বলছে। একটা বিরক্তির নিঃশ্বাস নিয়ে শুয়ে পড়লাম। পরেরদিন সকাল সকাল প্রভাকে বললাম,
___ প্রভা এখান থেকে একটু দূরে কোথাও নতুন বাসা খুঁজবো, আর আমি সেখানে তোকে নিয়ে থাকবোনা। পরিক্ষার কয়েকটা মাসই তো, তারপর সেবারের মতো এবারও শহর ছেড়ে পালাবো।
প্রভা কিছুই বুঝলো না। শুধু হা হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।
দুইদিনের মাথায় নতুন বাসায় উঠে গেলাম৷ এখন দুটো টিউশনিই ছেড়ে দিতে হলো। নতুন টিউশনির সন্ধান করবো কাল। এই বাসা থেকে কলেজ মাইলখানেক দূরে। হোক দূরে তবুও দূরেই থাকতে চাই।
আগের নাম্বার অফ করে দিয়েছি সেদিনই, এখন নতুন নাম্বার তুলে বাবাকে ফোন দিলাম।
ফোন রিসিভ করার সাথে সাথেই বাবার কণ্ঠে আজ ভীষণ উৎফুল্লতার রেশ পেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম,
___ বাবা তুমি ভালো আছো?
বাবা আমার এই প্রশ্নের জবাব না দিয়েই বললো,
___,নাম্বার কি করে রেখেছিস। শুন মা তুই আজকেই বাড়িতে আয় না।
কিছুটা অবাক হয়ে বললাম,
___ তুমি জানোনা আমি কতটা ব্যস্ত? আমি পরিক্ষার পরে তবেই আসবো।
প্রতিত্তোরে বাবা বললো,
___তোর দাদুর শরীরটা খারাপ। তোকে দেখতে চাইছে। আয় না লিয়া!
আমি জোরে একটা শ্বাস ছেড়ে বললাম,
___ আচ্ছা! শূন্যতায় অস্তিত্ব !! লেখাঃ তাজরীন খন্দকা

দুপুরের আগে আগেই রওয়ানা দিলাম। পৌঁছাতে বিকেল প্রায়। স্টেশনে নামতেই দেখি আমার ছোট ভাই, আমার চাচাতো ভাই,আর তাদের কয়েকটা বন্ধুবান্ধব আমাকে এগিয়ে নিতে দাঁড়িয়ে আছে।
আমাকে দেখেই ব্যাগ নিয়ে ওরা সামনে এগুতে লাগলো৷ আজ পর্যন্ত কোনোদিনও আমাকে কেউ স্টেশন থেকে এগিয়ে নিতে আসেনি৷ তখনও কিছু বুঝতে পারিনি,
কিন্তু বাড়ির দরজায় পা রাখতেই আমার টনক নড়লো, বাড়িঘরের এতো মানুষ আমাকে ভীড় করার কারণ কি? সবাই হাসিমুখে যেন কোনো নতুন বঁধুকে বরণ করতে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি মা’কে ডেকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করতেই পাশের বাসার ভাবী বলে উঠলো,
___ লিয়া কাল তোমার গায়ে হলুদ। বিরাট পরিবার থেকে সমন্ধ বুঝলে? তাইতো এতো মানুষ এসেছে তোমাকে দেখার জন্য। আমাদের লিয়া তো মেজর এহসান মাহবুবের পুত্রবধূ হচ্ছে!
এতক্ষণ আমি হা হয়ে শুনছিলাম, কিন্তু ভাবীর শেষ কথাটা শুনে আমার সারা শরীর শক্ত হয়ে গেলো। আমি শুধু রোবটের মতো তাকিয়েই ছিলাম সবার দিকে। এর মধ্যে আম্মু এগিয়ে এসে আমার হাত ধরে বললো,
___ দরজার মধ্যে মেয়েটাকে এসব বলার কি দরকার বলোতো। ভেতরে আসতে দাও না , তারপর যা বলার বলো।
আমি এতো চেনা ঘরটার মধ্যে আজকে প্রবেশ করেও কেন জানি অচেনা অচেনা অনূভুতি পাচ্ছিলাম। কেউ না জানিয়ে আমার জীবনের এতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো! তারপর এতোগুলো বছর যার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম ,তার কাছেই সপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত? কিন্তু সে কেন এটা করতে চাচ্ছে?

Bangla Cute Love Story (রাগি বর আর দুষ্টু বউ Part_1) Romantic Love Story

 


এই যে মি: দেখে চলতে পারেননা।মেয়ে দেখলেই গায়ে পরতে ইচ্ছে করে --রাত বলে উঠলো।

(পরিচয় দেওয়া যাক এই আমাদের গল্পের নায়িকা রাত।দেখতে মাশাআল্লাহ । 12 এ পড়ে ।কিন্তু সেই লেভেলের দুষ্টু।পরে সব বুঝতে পারবেন।গল্পে ফেরা যাক)

দীনা:আহ।।রাত বাদ দেতো । এখান থেকে চল।(দীনা রাতের best friend)
রাত: না দাঁড়া।বেটাকে শায়েস্তা করে তবে ছাড়ব।।বেটা তালকানা খাটাশ।দেখে চলতে পারে না 😡

 

অপরিচিত: দেখুন I am sorry.আমি সত্যি দেখতে পাইনি।😦
রাত:দেখতে পাননি মানে টাকি।চোখ কি মানিব্যাগে নিয়ে হাঁটেন ?😡
অপরিচিত: দেখুন আপনি কিন্তু বেশিই বলছেন।বললাম তো আমি দেখতে পাইনি।
রাত: তা ঠিক ।এরকম তালগাছের মতো লম্বা । হলে হবে টাকি😁
অপরিচিত: এই মেয়ে কি বললে😠😠
রাত: এ বেটা দেখি কানেও কম শোনে 😕
অপরিচিত: What nonsense is this??😠😠
রাত: হায় আল্লাহ ।।এতো দেখি এনাকন্ডার মতো রাগছে 😱
অপরিচিত: এই তুমি পাগল নাকি😬
রাত: কী বললেন আমি পাগল !😱 এতো বড় সাহস।।বেটা তালগাছের এনাকন্ডা।।তোকেতো আমি মেরেই.......
দীনা: আহ রাত চল এখান থেকে।(রাতকে টানতে টানতে)
রাত: ছাড় আমাকে।।এই তালগাছের এনাকন্ডাকেতো আমি বাঁশ গাছে ঝুলিয়ে পেটাবো😡

অপরিচিত: দেখি এইটুকু একটা মেয়ে তুমি কি করতে পারো। I will see u 😡😡
দীনা:দেখুন plz আপনি কিছু মনে করবেন না । ও একটু এরকম দুষ্টু।রাত চল এখান থেকে ।।(রাতকে টানতে টানতে)

তারপর

একটি রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প


 

 বারান্দায় দাড়িঁয়ে রাতুল।ঘরে তার এইমাত্র বিয়ে করা নতুন বউ। আসলে সে বুঝতে পারছে না,কি দিয়ে বউয় সাথে কথা বলা শুরু করবে।খুব নার্ভাস! -অই ভাইয়া,তুমি এখানে কি? তোমার রুমে যাও না! -না রে! রুমে যাব না।আজকে তোর সাথে থাকব। -এ মা! কেন ভাইয়া? ভাবী কে ভয় লাগে? -দূর নাহ! কি …কিসের ভয়? -তো! তোতলাও ক্যা? -কই? কই তোতলাইছি?আর এত্ত কথা বলছ কেন? যা থাকব না তোর সাথে! -আরে! ভাইয়া …… রাতুল ছোট ভাইয়ের রুম থেকে বেরিয়ে গেল! মাথা গরম অবস্থায় কখন যে সে তার নিজের রুমে চলে এল,টেরও পেল না। রাতুল কে দেখতে পেয়ে ফারিয়া একটু নড়েচড়ে বসল।ফারিয়া হলো রাতুলের সদ্য বিয়ে করা বউ,যার সাথে কথা বলার ভয়ে রাতুল বারান্দা থেকে রুমে রুমে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাসার সবাই চিন্তিত!রাতুল আসলে করছে কি?? রাতুল ভয়ে ভয়ে ফারিয়ার পাশে গেল!

  ফারিয়ার চেয়েও সে বেশি লজ্জা পাচ্ছে! -এহহহমম!! রাতুলের গলা ঝাকাঁনো শুনে ফারিয়া চমকে গেল! এইটা আবার কি? রাতুলও খানিকটা বিস্মিত! এটা কি বের হলো গলা থেকে!! -ফা..ফা..ফারিয়া! -জ্বি! -ভা..ভা..ভালো আছ তুমি? (ফারিয়ার জ্বি শুনে রাতুল আরো ভড়কে গেছে!) -জ্বি,আছি! আপনি এভাবে ঘামতেছেন কেন? রাতুলও অবাক! ঘরে এসি চলছে,কিন্তু সে ঘামছে কেন?? তবু সে কোন মতে উত্তর দিল- -ক..ক..কই না তো! -আপনি কি তোতলান? -নাহ,একদম না! -হুম।কিন্তু এখন তোতলাচ্ছেন কেন? -আসলে হয়েছে কি আমি একটু নার্ভাস ফিল করতেছি! -ওমা,কেন? -আসলে এটা আমার প্রথম বিয়ে তো! তাই… রাতুলের কথা শুনে ফারিয়া হাসছে! খুব জোরে হাসছে সে!রাতুলের বিস্ময়ের ঘোর কটছে না।এত সুন্দর করেও মানুষ হাসতে পারে?রাতুলের হাসি দেখায় ছেদ পড়ল ফারিয়ার কথায়– -কেন? আপনি কি ৪ টা বিয়ে করবেন? (হা হা হা!) -হুম? (ফারিয়ার কথা রাতুল খেয়াল করতে পারে নি!) -কিছু না! এত্ত বোকা কেন আপনি? -আমি বোকা? কিন্তু সবাই তো বলে,আমার বুদ্ধি সুদ্ধি নাকি অনেক ভালো! -নাহ,আপনি হলেন বোকারাম! -ওহ,তাই? রাতুল এখন আর ভয় পাচ্ছে না! তবে সে ফারিয়ার কথায় চমকাচ্ছে! ফারিয়া মেয়েটা এমনভাবে কথা বলছে য তারা প্রেম করে বিয়ে করেছে! 

-জ্বি।আচ্ছা,আপনি কখনো প্রেম করেছেন? -নাহ,না তো! তুমি? -হুম করেছিলাম।২ দিনও টিকে নি। -আহা রে! কেন? কি হল ছেলেটার? -উনি মারা গেছে! -ইন্নালিল্লাহ! নাম কি ছিল তার? -আরে আমার দাদাজান আর কি! ফারিয়ার কথা শুনে রাতুল হাসিতে গড়াগড়ি খাওয়ার উপক্রম। -ওহ,আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে! -আপনি কি দাদাজানের মৃত্যুতে বেশি খুশি? -খুশি? হ্যা আবার না! -ওমা।এটা কেমন কথা! -তোমার প্রাক্তন প্রেমিক বেচেঁ থাকলে আমি তো তোমাকে পেতা না! -তা অবশ্য ঠিক! রাতুল এখন ফারিয়াকে বিস্মিত করতে পারছে! -ফারিয়া? -জ্বি। -ভালোবাসার মানে বুঝ? -জ্বি না।আপনি শিখাবেন? -হুম।কেন নাহ? রাতুল ভালোবাসার পাঠদান করছে আর ফারিয়া বাধ্য ছাত্রীর মত মনযোগ দিয়ে শুনছে। রাত বাড়ছে আর বাড়ছে নবদম্পতির প্রেমালাপ! দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হোক সে রাত আর দীর্ঘ হোক তাদের প্রেমালাপ…❤❤❤  ভালো থাকুক ভালোবাসা

*** লাল রঙা ডায়েরি *** ---ফওজিয়া পারভীন।।

 


 খুব ছোট বেলায় বিয়ের পিড়িতে বসেছিলাম বাবা-মায়ের কথায়।বয়স তখন ১৪ বছর।আর যে মানুষটার সাথে আমার পথ চলা শুরু হয় উনার তখন ২৫ বছর।বর্তমানে আমরা দুজনেই বুড়ো-বুড়ির কাতারে চলে গেছি।কিন্তু আমাদের ভালোবাসার কমতি হয়নি।এখনো উনি আমাকে ফওজিয়া কে সংক্ষেপ করে ফৌজু বলে ডাকেন। আর আমি,ফাইয়াজের বাবা অথবা রাত্রির বাবা বলে ডাকি।
.
আমার যখন বিয়ে হয় তখন প্রেম- ভালোবাসা তো দূরের কথা বিয়ে মানে কি সেটাই বুঝতাম না। লাল টুকটুকে শাড়ি পরে শুধুমাত্র বিয়ের দিন চুপচাপ ছিলাম।তাও অনেক কষ্টে।আমার খালাতো-চাচাতো ভাইবোনরা খেলছে দেখে আমারও খুব ইচ্ছে করছিলো খেলতে।
.
বিয়ের দিন শ্বশুড় বাড়ি এসে সব কান্নাকাটি বন্ধ করে দিলাম।নতুন জায়গায় নতুন বাড়িতে বেড়াতে আসছি মনে হচ্ছিলো তাই। আর ফাইয়াজের বাবার রোমান্টিক চোখের ভাষাটা তখন না বুঝলেও এখন মনে করে লজ্জা পাই, ভালোও লাগে।
.
আমার শ্বাশুড়ি আম্মার সাথে রান্না শিখতে আমি যখন রান্নাঘরে যেতাম বেচারা তখন কারণে অকারণে রান্নাঘরের আশপাশে ঘুরঘুর করতো।আমি না তাকালে মুখ দিয়ে শব্দ করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা সবসময়। বেচারার ভালোবাসা তখনও বোঝার ক্ষমতা আমার হয় নি। উনার স্পর্শে সুড়সুড়ি লাগতো।বেচারা কতদিন মেঝেতে পা ঘষে ঘষে সংকেত দিয়ে আমায় ডাকতো।মাথায় দুষ্টমির কারণে সাড়া না দিয়ে উনাকে ভেংচি দিতাম।কত বড় পাগলিটাই না ছিলাম তখন।
.
দেখতে দেখতে সংসার জীবনের দু'টো বছর কাটিয়ে দিলাম।এরই মধ্যে আমাদের কোল জুড়ে ফাইয়াজ এলো।আমার চঞ্চলতা কমে গেল।আস্তে আস্তে সংসার,স্বামী, সন্তানের মাঝে নিজেকে মানিয়ে গুছিয়ে নিলাম।আর উনার ভালোবাসাটাও বুঝতে শিখে গেলাম। আসলে একজন নারীর মা হওয়া যে তার জীবনকে কতটা বদলাতে পারে তা আমি তখন বুঝতে পারি।
.
ফাইয়াজকে নিয়ে সে কি মাতামাতি সবার!আমার সেদিকে খেয়াল।কিন্তু উনি আমাদের মা-ছেলের সমান খেয়াল রাখতেন।কিছুক্ষণ পর পর বলতেন_ফৌজু, কেমন লাগছে তোমার? কি খাবে বলো?
সে কি উৎকন্ঠা উনার!আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতাম উনাকে।আর উনি পাগলি বউটা বলে আমার নাকটা টেনে দিতেন।
.
দেখতে দেখতে আমাদের মেয়ে সন্তান আসে ঘর আলো করে।উনি নিজেই বলেন রাত্রি ডাকবো আমাদের মেয়েকে। ততোদিনে আমার শ্বাশুড়ি আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে যান।রাত্রি তখন ৪ মাসের ফুটফুটে বাচ্ছা। ওর তখন খুব অসুখ হয়। সবকিছু একা সামলে উঠতে পারছিলাম না। রান্নাচড়ানো হলো দেরিতে।সেদিন উনার অফিসের কাজে মাথা গরম ছিলো,আর রাগ ঝাড়লেন আমার উপর।কষে একটা থাপ্পড় ও দিয়েছিলেন। খুব কষ্ট লাগছিলো তখন। মনে মনে শুধু একটাই কথা উপরওয়ালাকে বলেছি,ভালোবাসা-সংসার কেনইবা আমাকে বুঝতে শিখালে আর আজ কেনইবা এতো অপমান আর কষ্ট দিলে।
.
সেদিনের পর যতদিন সে কষ্টের অভিমান চেপে ছিলাম,ততোদিন উনাকে নাম ধরে আতিক সাহেব বলে ডাকতাম। পরে যখন উনি আমার অভিমান ভাংঙ্গালেন তখন সুখে কেঁদেছিলাম।
.
আমাদের ফাইয়াজ এখন অনার্স করছে আর রাত্রি ইন্টারে পড়ছে।কিন্তু সংসারের টানাপোড়ন এ উনার আর আমার ভালোবাসায় কোন কমতি পড়েনি।
.
জীবনের এতোগুলো বছরের সারসংক্ষেপ লিখেছি আমার লাল রঙা ডায়েরিতে।আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী। আমার লাল রঙা ডায়েরিটা আজ উনাকে উপহার দিলাম।পাগলটা খুশিতে সে কি কান্না!আজ আমারও চোখ ভর্তি জল তবে সেটা কষ্টের নয়,সেটা ভালোবাসার সুখের নোনাজল।।

পিকিউলিয়ার কন্ডাক্টর সিনড্রোম


আমার বিয়ে বেশিদিন হয়নি, কিন্তু এর মধ্যেই আমি গণ্ডগোলের গন্ধ আঁচ করতে পেরেছি। আমার বউয়ের নাম ইন্দিরা। ওর একটা অদ্ভুত রোগ আছে, যেটা বিয়ের আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে কেউ জানায়নি। বিয়ের কিছুদিন পর নিজে থেকেই জানতে পেরেছি। রোগের নামও অদ্ভুত, পিকিউলিয়ার কন্ডাক্টর সিনড্রোম। মানে, আমার বউ থেকে থেকে বাসের কন্ডাক্টরের মতো আচরণ করে। অবচেতন মনেই। সেটাও আমি বুঝতে পেরেছি।

প্রথম যেদিন টের পেলাম, সেদিন আমাদের ফুলশয্যা। আমি ঠিক করেছিলাম ওকে সহজ হওয়ার জন্য সময় দেব। ফুলশয্যার রাতে দু-একটি কথা বলেই ঘুমিয়ে পড়ব। সারা দিনের খাটাখাটুনিতে দুজনেই ক্লান্ত থাকব। সেটাই বরং ভালো হবে। আমি সেই মতো সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দরজায় ছিটকিনি তুলে দিয়ে বিছানায় বউয়ের পাশে এসে বসলাম। কোনো কথা খুঁজে না পেয়ে শেষে বললাম—‘তুমি নিশ্চয়ই ক্লান্ত হয়ে আছ?’

ইন্দিরা মাথা নাড়ল। আমিই আবার বললাম, ‘তাহলে শুয়েই পড়ো, নাকি?’ ইন্দিরা বোধ হয় বুঝল যে ওরও দু-একটি কথা বলা উচিত। ও ইতস্ততভাবে বলল, ‘না না, কথা বলুন না।’

আমি এক মিনিট ভেবে বললাম, ‘তুমি সহজ হতে পারো আমার সঙ্গে। আমাকে আপনি করে বলতে হবে না। আমাকে তোমার বন্ধু ভাবতে পারো নিঃসন্দেহে। আমার সঙ্গে ইয়ার্কি মারতে পারো। মানে ফ্রাংক হতে পারো।’

ইন্দিরা লাজুক মুখেই আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বলে উঠল, ‘কই আপনারটা দেখি।’

এই আমি যে আমি এতক্ষণ ফ্রাংক হওয়ার ব্যাপারে এত কথা বললাম, সেই আমিও লজ্জা পেয়ে গেলাম। কোনো রকম বললাম, ‘মানে আজকেই! মানে এত তাড়াতাড়ি না করলেও হবে।’

ইন্দিরা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়ল। আমি জেগে রইলাম। অনেকক্ষণ অপেক্ষায় থেকে শেষে হতাশ হয়ে ভোর ৪টার সময় ঘুমাতে গিয়েছিলাম। তখন কি আর জানতাম ইন্দিরা আমার কাছে টিকিট চাইছিল, অন্য কিছু না। যাকগে। আমার তাড়া ছিল না বাপু।

তখনো কিছু আন্দাজ করতে পারিনি। ইন্দিরা আমার সঙ্গে তেমন কথা বলত না। ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলত। মাঝেমধ্যে মনে হতো আমার বউ হয়তো বোবা। তাতে অবশ্য আমার খুব একটা অসুবিধা হচ্ছিল না।

মুখ খোলে না, খোলে না, কিন্তু যেদিন মুখ খুলল সেদিন গোটা বাড়িতে হৈচৈ পড়ে গেল। প্রথমেই বলে রাখি, আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি। এই নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির যুগে যখন সবাই আলাদা আলাদা কক্ষপথে নিজস্ব পেয়ার তৈরি করে ইলেকট্রনের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন আমার বাবা আর জেঠা সিদ্ধান্ত নেয়, তারা একসঙ্গে থাকবে আমাদের পৈতৃক ভিটায়। আমিও তাই আমার জেঠতুতো দাদার সঙ্গেই বড় হয়েছি। আমাদের মধ্যে বেশ মিলমিশ। ভালোবাসা।

যা হোক, কথা থেকে সরে যাচ্ছি। আমাদের এই পুরনো বাড়িতে একটাই সমস্যা, আর সেটা হলো বাথরুম। গোটা বাড়িতে মাত্র দুটি বাথরুম। একটি বাড়ির বাইরের দিকে। সেটায় খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাই না। বাড়ির মধ্যে যে বাথরুমটি আছে, সেটাই সবাই ব্যবহার করি। ইন্দিরা সেদিন স্নান করতে ঢুকছিল, হঠাত্ আমার জেঠা পেটে হাত দিয়ে ছুটতে ছুটতে এসে বলে, ‘বউমা, তুমি একটু বাইরেরটায় যেতে পারবে? আমার ভীষণ ইমার্জেন্সি।’

আমার জেঠা সরল মানুষ। সরল মনেই কথাটা বলেছিল। সে আর কী করে জানবে আমার বউ প্রত্যুত্তরে ‘আচ্ছা’ না বলে বলবে, ‘চলুন চলুন,  ভেতরে চলুন। আরো একজনের জায়গা হবে।’

কথাটা শুনেই তো আমার জেঠা অবাক হয়ে গেল।

এই ঘটনাটা আমাদের বাড়িতে আমাশয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ল। জেঠা এরপর আর কোনো দিনই ইন্দিরার মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখায়নি। বেশ কয়েক দিন আড়ালে ছিল। ইন্দিরাও দরজায় খিল তুলে বসেছিল। সবাই আড়ালে কথা বলতে শুরু করেছিল। ব্যাপারটা আমার খারাপ লাগল। ইন্দিরার সঙ্গে আমার অল্প দিনের পরিচয় হলেও সে আমার বউ। তা ছাড়া ইন্দিরা এ রকমভাবে বললই বা কেন! সেটা জানাও প্রয়োজন। আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে সরাসরি ওকে প্রশ্ন করলাম, ‘আচ্ছা তুমি সত্যিই জ্যাঠাকে ওই কথাটা বলেছ?’

ইন্দিরা নিরুত্তর।

আমি আবার প্রশ্ন করলাম, ‘কেন বলেছ?’

এবার একটু কড়াভাবে। বুঝলাম ও ঘামতে শুরু করেছে। তবুও কোনো উত্তর দিল না। আমি থাকতে না পেরে গলাটা আরেকটু তুলে দিলাম, ‘বলবে কী কিছু?’

দেখলাম ইন্দিরার চোখে জল চলে এসেছে। ও ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি ইচ্ছা করে বলিনি। এটা আমার একটা রোগ।’

‘রোগ?’ আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম, ‘তোমার বাথরুমে যেতে গেলে সঙ্গে কাউকে লাগে? আমাকে বলতে। জ্যাঠাকে কেন বলতে গেলে?’

ইন্দিরা কেঁদে উঠল, ‘আস্তে, আস্তে, লেডিস আছে।’

আমি চমকে উঠলাম। ঘরের বাইরে থাকা আমার মা আরো চমকে উঠল। মায়ের হাত থেকে গরম চায়ের কাপ পড়ে গিয়ে ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে গেল। আমাদের কথা এগোল না আর। কিন্তু আমার মনে সন্দেহ দানা বেঁধে গেল, কিছু একটা আছে। আমাকে জানতে হবে। ঠিক করলাম একেবারে কম্পানিতে গিয়েই খোঁজ নেব, ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্টটা কী, কারণ আমি তো ‘হ্যান্ডেল উইথ কেয়ার’ করেছি।

তাই সে মুহূর্তে আর কিছু বললাম না। ইন্দিরাকে শান্ত করলাম। ওর গায়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম, ‘আচ্ছা তোমাকে আর কিছু বলতে হবে না। আমি বুঝতে পেরেছি। আমি জ্যাঠামণিকে বুঝিয়ে বলে দেব।’

দুদিন পরে শ্বশুরবাড়িতে গেলাম। আমাকে দেখে শ্বশুরমশাইয়ের কপালে ভাঁজ দেখা দিল। আমি সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, ‘আপনার মেয়ের রোগটা কী বলুন তো।’

শ্বশুরমশাই এড়িয়ে যেতে চাইলেন, ‘কী রোগ থাকবে? কিছু তো নেই। তুমি বসো। আমি ইন্দিরার মাকে চা করে আনতে বলি।’

আমি শ্বশুরমশাইয়ের হাত ধরে তাঁকে বসিয়ে দিলাম, ‘পরিষ্কার করে বলুন তো ব্যাপারটা কী। আপনার মেয়ে নিজে আমাকে বলেছে ওর রোগ আছে। কী রোগ সেটা বলেনি। বাড়িতে এমনিতেই অনেক ক্যাচাল হয়ে গেছে। আপনি আর কথা ঘোরাবেন না প্লিজ।’

শ্বশুরমশাই বুঝলেন, পালানোর আর পথ নেই। তিনি আমতা আমতা করে আমাকে সব বললেন। শুনে তো আমার মাথায় হাত। এ রকম আবার হয় নাকি? এ তো প্রথম শুনছি। কেউ থেকে থেকে বাস কন্ডাক্টরের মতো হয়ে যায়! আমি ঘটনাগুলো মনে করার চেষ্টা করলাম। দুয়ে দুয়ে চার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাও এ আবার কি অদ্ভুত রোগ রে বাবা।’

আমি হাজারটা চিন্তা করতে করতে যখন বাড়ি ফিরি তখন দেখি পুরো বাড়ি সুনসান। জ্যাঠারা কেউ বাড়িতে নেই। বাবাও নেই। শুধু এক কোণে আমার মা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। আমি ব্যাগ নামিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মা কী হয়েছে গো? কাউকে দেখছি না।’

মা কটমট করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সবাই অর্পিতাকে নিয়ে নার্সিং হোমে গেছে।’

‘বউদি নার্সিং হোমে’, আমি চমকে উঠলাম, ‘কী হয়েছে?’

মা ফোঁস করে উঠল, ‘কী আবার হবে। তোমার ওই গুণধর বউয়ের জন্য এবার আমাদের বাড়িতে আগুন লাগবে।’

আমি ঢোক গিললাম, ‘কেন, ইন্দিরা আবার কী করল?’

মা যেন আরো খেপে গেল, ‘কী করেছে? অর্পিতা ছাদে রেলিংয়ে ভর দিয়ে কাপড় মেলছিল। তোমার বউ হঠাত্ করে আমার সামনেই ওকে ডেকে বলল, ‘বাঁয়ে বাঁয়ে’। বেচারী অর্পিতা বাঁ দিকে কাত হতেই ধড়াম করে ছাদ থেকে পড়ে গেল। কে জানে কতগুলো হাড় ভেঙেছে!’

আমি আঁতকে উঠলাম। মাকে কী করে বলব, তোমার বউমা জাত কন্ডাক্টর। চুপচাপ কেটে পড়েছি ওখান থেকে।

আপাতত ভাড়া বাড়িতে আছি। বাবা ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। একটা ফ্ল্যাট খুঁজছি। এখানেও বেশিদিন থাকা যাবে না। দুদিন আগেই আমার বউ বাড়িওয়ালীকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘কোথায় নামবেন দিদি?

টানা ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা

করোনা ভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্য ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। এর আগে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ও পরে ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটিও যোগ হবে। এ ছাড়া ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি এ ছুটির সঙ্গে যোগ হবে।


তবে এ ছুটি কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবার জন্য প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী নিয়োজিত হবে।
সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আজ সোমবার এ ধরনের মোট ১০টি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব জানান, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে তাঁদের পৃথকভাবে বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ দফার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১০ সিদ্ধান্তের মধ্য রয়েছে গণপরিবহন চলাচল সীমিত রাখা, সব রকম সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে নিম্ন আয়ের কোনো ব্যক্তি শহরে জীবনযাপনে অক্ষম হলে সরকার তাঁকে ঘরে ফেরা কর্মসূচির অধীনে নিজ গ্রাম বা ঘরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকেরা ব্যবস্থা নেবেন।

আমি, তুমি মিলে আমরা : সাদিয়া রহমান দৃষ্টি



সারারাত ঘুম হয়নি। নতুন বিয়ে হয়েছে। বিয়েটা পরিবার থেকেই হয়েছে।দেড় মাস হলো বিয়ে হয়েছে আর সেদিন থেকেই ঘুমাতে পারিনা। অথচ এই বিয়ে নিয়ে কত্ত স্বপ্ন দেখতাম!! ছিমছাম, সুঠাম দেহের হ্যান্ডসাম রাজপুত্রের মতো দেখতে একটা ছেলের সাথে আমার বিয়ে হবে। কত রোমান্টিক কথা বলবে, একসাথে কত্ত মধুর স্মৃতি, কত্ত জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাবে!!

তার সাথে রাত জাগারও প্ল্যান ছিল। কিন্তু সেই রাত জাগা আর এখনকার রাত জাগার মধ্যে অনেক তফাৎ। ইচ্ছে ছিল আমরা একসাথে রাতের বেলা বেলকনিতে বসে কফি খাবো আর জোৎস্না দেখবো, কোন কোন দিন রাতে ছাদে শুয়ে শুয়ে চাঁদের আলো গায়ে মাখবো, হয়তোবা কখনো কখনো তারা গুনবো। একটা সিনেমা সিনেমা ফিলিংস থাকবে।। কিন্তু কি পেলাম আমি?? পেলাম তো এক ভুড়িওয়ালা কালো চামড়ার বিরক্তিকর লোককে, যে সারারাত নাক ডেকে ডেকে ঘুমোয়। ঘুমের ঘোরে সে অনবরত হাত পা ছুঁড়তে থাকে। আমাকে সে মাঝে মাঝে এমন ভাবে কোলবালিস বানিয়ে ঘুমোয় যে আমার নিঃশ্বাস আটকে যেতে চায়।।।আর আমাকে জেগে থাকতে হয়। প্রথম প্রথম খুব মেজাজ খারাপ হতো, রাগ লাগতো নিজের ভাগ্যের উপর। কিন্তু এখন আর একটুও খারাপ লাগেনা। দিন যাচ্ছে আর মনে হচ্ছে এই বিষয়টা আমি ইনজয় করছি। দিনকে দিন আমার ধারণা, ভালো লাগা- খারাপ লাগার ধরণ চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে।



- দাঁড়াও দাঁড়াও এত প্রশ্ন একসাথে করলে উত্তর দেবো কি করে?? এক গ্লাস পানি দাও আগে।। আর হ্যাঁ শোন পানিতে বরফ দিও একটু।
- আমি পানি নিতে এগুতে এগুতে বললাম দরজাটা লাগিয়ে দিন।। তারপর একগ্লাস নরমাল পানি দিলাম তাকে।।
- একি পানিতে বরফ দাওনি? পানিটা তো গরম হয়ে আছে।। ওইটা খেয়ে তৃপ্তি হবেনা।
- না হলে না হবে। ভুলে গেলেন কয়েকদিন আগে ঠান্ডা পানি খেয়ে কি অবস্থা হয়েছিল?? আজব যেটা খেলে সমস্যা হয় সেটা খান কেন??
-ওরে বাবা! ঠিকআছে ঠান্ডা পানি আর খাবোনা যাও। কিন্তু আমার বৌ-টা রাগ করলে তো আরো সুন্দর লাগে?? দেখি একটু কাছে আসো তো!
- আহ্!! কি করছেন কি বলুন তো? ভীমরতি ধরেছে নাকি?? যান ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি চা বানাচ্ছি।।
- ঠিক আছে! যাচ্ছি। ইয়ে মানে বলছিলাম কি চায়ে একটু চিনি বেশী দিও কেমন??
এই লোকটাকে প্রথম প্রথম খুব বেশি বিরক্ত লাগতো, যদিও মুখে প্রকাশ করিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে মনে হয় একটু একটু ভালো ও লাগছে। নাহ একটু না, অনেক বেশী ভালো লাগছে। প্রথম প্রথম যেগুলা অসহ্য লাগতো এখন সেগুলাই ভালো লাগছে। আচ্ছা আমি কি ওনার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি নাকি??

-এই যে নিন আপনার চা।। আদা চা করেছি আর হ্যাঁ, চিনি ছাড়া। এটাই খেয়ে নিন। আপনার এখন থেকে কিছু কিছু জিনিস কন্ট্রোল করতে হবে। এ নিয়ে আর কোন কথা বলা যাবেনা।

- ইয়ে এক চামুচ তো দিতে পারো তাইনা?

- এক চিমটি ও না। ওটাই খেয়ে নিন। এখন বলুন তো এত্ত আগে কেন আসলেন আজকে?? কিছু হয়েছে??

-আজ একটা কাহিনী ঘটেছে। আমার এক কলিগের বড় বোনের জন্য রক্তের দরকার ছিল। কোথাও পাচ্ছিলনা, আর আমার সাথে মিলে গেলো তাই আমি ডোনেট করলাম। এই জন্য আজ বস ছুটি দিয়ে দিল।

- মানে কি? আপনি ব্লাড ডোনেট করে এসেছেন? আর আমি কিছুই জানিনা? আমাকে বলার প্রয়োজন মনে করেননি??

- না, তা না। আসলে ভাবলাম তুমি যদি টেনশন করো!

- বয়েই গেছে আমার টেনশন করতে। আচ্ছা স্যালাইন খেয়েছেন? আর ডাব খেয়েছেন কি? বাসায় তো কোনটাই নেই।

- আচ্ছা এতো অস্থির হচ্ছো কেন?? স্যালাইন খাইনি তবে জুস দিয়েছিল জুস খেয়েছি। আর আসার সময় একটা ডাব খেয়েছি।।

- ধুর! জুস খেয়ে কি হবে? সব কেমিক্যাল।ডাব টা কাজে লাগবে। দাড়ান এককাজ করি! পানি, চিনি আর লবণ দিয়ে স্যালাইন বানিয়ে আনি। আর একটা ডিম সেদ্ধ আনি।

-এই শোন শোন, এখন দরকার নেই। আসো, আমার পাশে একটু বসো, গল্প করি।।

- বসতে পারবোনা। আপনি ওয়েট করুন, আমি আসছি এখনি।

- ডিম সেদ্ধ, আর স্যালাইন বানিয়ে এনে দেখি "ও" ঘুমিয়ে পড়েছে। ওকে জাগাতে ইচ্ছা করছেনা। কেন জানিনা ওর ঘুমানো দেখতে ভালো লাগছে। মানুষটার উপর কেন জানিনা মায়া পড়ে গেছে। কালো একটা মানুষ যে এত্ত সুন্দর হতে পারে আগে বুঝিনি। কালো অনেক মানুষ আছে যারা অনেক সুন্দর হয়। কিন্তু তারা কেউ আমার বরের মতো সুন্দর না। কি আজব যেই মানুষটাকেই কয়েকদিন আগে কুৎসিত মনে হতো তাকেই আজ সবচেয়ে সুন্দর পুরুষ মনে হয়। তাকে কেউ খারাপ বললে সহ্য করতে পারিনা। আচ্ছা এটাই কি প্রেম?প্রেমে পড়েছি আমি?? কেন জানিনা ইচ্ছা করছে ওর কোলবালিশ হয়ে যাই। ও ঘুমোবে আর আমি দেখবো।।

কখন যেন ঘুমিয়ে গেছিলাম নিজেও জানিনা। উঠে দেখি ২.৩৮ বাজে। কয়েক সেকেন্ড মনে হলো সব ভূলে গেছি। তারপর মনে হলো সোহান তো বাড়িতে আছে। একি! দুপুরে তো রান্নাই করিনি আজকে। ও খাবে কি?? আমি কখন কি করবো? এমনিতে সকালে মানুষটাকে রাতের বাঁসি রুটি-তরকারি খেয়ে অফিসে যেতে হয়েছে। আবার দুপুরেও একটু খাবার রান্না করে দিতে পারলামনা?? কিন্তু ও- ই বা কোথায় গেলো? রান্না ঘরের দিকে গিয়ে দেখি মশায় রান্না করছেন।

- ওমা! একি!! আপনি? কি করছেন? আমাকে ডাকেননি কেন??

- তুমি ঘুমিয়ে পরেছিলে। তাই ডাকিনি। টি- টেবিলে স্যালাইন আর ডিম রাখা ছিল খেয়ে নিয়েছি। তারপর ভাবলাম আজ তোমাকে না ডাকি। একদিন না হয় আমি রান্না করে খাওয়াই নিজের বৌ- কে। ব্যাচেলর থাকতে তো মাঝে মাঝেই রান্না করে বন্ধুরা মিলে খেতাম।

-মনে মনে যে খুশি হয়েছি সেটা কিছুতেই প্রকাশ করা যাবেনা। আমি একটু চেঁচিয়ে বললাম, আপনি তো সব কিছু অগোছালো করে দিলেন। আমার সব কাজ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কে করতে বলেছে আপনাকে এসব? আমাকে ডাকলেই তো হতো।।

- সবসময় আমি- তুমি, আমি- তুমি ভাবো কেন বলতো? আমরা ভাবতে পারোনা? আমি তুমি আলাদা না ভেবে দুইটা যোগ করে আমরা ভাববে কেমন? শোন দুইজন মিলে গুছিয়ে রাখবো।। আর তোমার থেকে আমি অনেক বড়। আমি তোমার স্বামী। মনে মনে যে খুশি হয়েছো এইটা প্রকাশ করতে দোষের কিছু নেই। ছোট মেয়ে ছোট মেয়ের মতই থাকবা। এখন এদিকে আসো, দেখো তো রান্না কেমন হয়েছে? ভাত, মুরগীর মাংস আর ডাল। চলবেনা??

- রান্নাটা মজা হয়েছে। কিন্তু চলবেনা।

- কেন? আর কিছু লাগতো?

- নাহ আসলে চলবেনা কারণ দৌঁড়াবে। মজা করালাম একটু আর কি।।

- (শব্দ করে হেসে) হুম মাঝে মাঝে মজা করবা। ভালো লাগে আমার। চল খেতে বসি অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে।

ও নিজেই খাবার সার্ভ করছিল, তখন খেয়াল করলাম হাতে একটু ফোসকা উঠেছে।
- একি? রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে ফেলেছেন? বাহ্ খুব ভালো।৷ আমাকে ডাকলে সমস্যা কোথায় ছিল? লেকচার তো ভালোই দিলেন, আমি তুমি মিলে আমরা। কিন্তু নিজের বেলায় আলাদা তাইনা?

- ও কিছু না। সামান্য একটু........

- চুপ। দাড়ান মলম লাগিয়ে দিচ্ছি। আর শুনুন আমি খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে। ওই হাত দিয়ে খেতে হবেনা।

- কিহ্!! সত্যি? তাহলে তো আমি ১০০ বার হাত পুড়িয়ে ফেলতে রাজি আছি।

- অমনি না?? থামুন। আর একটা ও কথা বলবেননা ।

আজকের দিনটা ও শেষ হয়ে গেলো। রাতে শুয়ে ছিলাম দুইজনই। আমি ওনাকে বললাম - শুনুন, একটা কথা বলবো??

- হ্যাঁ বলো।

- না থাক।

- না না বল।

- না কিছুনা।

সে হঠাৎ আমার মাথাটা তার বুকের মধ্যে নিয়ে বলল ভালোবাসি কথাটা অতটাও কঠিন না পাগলীটা। তাছাড়া আমি তোমার স্বামী। আমাকে যখন যা খুশি তাই বলতে পারো। এত সংকোচ করোনা।।

- আমি আর কোন কথা বলিনি৷ চোখ টা বন্ধ করে থাকলাম। হয়তো আজো ঘুম হবেনা। এই জেগে থাকাটা ফিল্মের মতো না৷ কিন্তু এতে সত্যিকারের ভালোবাসা আছে। তাই এটা আরো বেশী সুন্দর। আগে বুঝতামনা। কিন্তু এখন ঠিকি বুঝি। ভালোবাসি "ও"কে। এরমধ্যেই " ও" ঘুমিয়ে গেছে। নাক ডাকা শুরু হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে হাত পা ছুঁড়বে কিছুক্ষণের মধ্যেই ৷ ওর ভূড়ি আমার শরীর স্পর্শ করে আছে। কিন্তু আমার খুব ভালো লাগছে৷ ওর গায়ের গন্ধ ভালো লাগছে।৷ জেগে থেকে ওর ঘুম দেখতে ভালো লাগছে ।।

গল্পঃ আমি, তুমি মিলে আমরা
লেখাঃ সাদিয়া রহমান দৃষ্টি